উপহারের ভিন্নমাত্রা

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'উপহার'- চার বর্ণের এই শব্দের মাঝে লুকিয়ে আছে হাসি-আনন্দ আর সুখ স্মৃতির হাতছানি। উৎসব-পার্বণ কিংবা বিভিন্ন দিবসে প্রিয়জনকে উপহার দিয়ে তার খুশি মুখ দেখতে কে না চায়! সময়ের আবর্তে উপহারসামগ্রীর ক্ষেত্রে এসেছে পরিবর্তন। বৈচিত্র্যময় উপহার সামগ্রী আর উপহারের মাধ্যমে প্রিয় মানুষটির মুখে হাসি ফোটানোর গল্প নিয়ে প্রচ্ছদ লিখেছেন গোলাম কিবরিয়া

উপহার দিতে কে না পছন্দ করে! ছোট্ট একটি উপহার সম্পর্কের মাঝে গভীরতা বাড়াতে পারে অনেক। আর সে উপহার যদি হয় মনের মতো, তাহলে তো কথাই নেই।

জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী, ভ্যালেন্টাইন ডে'সহ বিভিন্ন উৎসবে আমরা প্রিয়জনকে উপহার দিয়ে থাকি।

সাধারণত সম্পর্কের ধরন বুঝে উপহার নির্বাচন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে বয়স ও রুচি খুব গুরুত্বপূর্ণ।

উপহারের দাম কখনও বড় বিষয় নয়। ভালোবেসে কাউকে কিছু দেওয়াটাই বড় কথা। আপনার ক্ষুদ্র একটি উপহার অনেক সময় অনেক দামি উপহারের চেয়ে বেশি আনন্দ দিতে পারে প্রিয় মানুষটিকে।

তবে উপহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিবসটি বিবেচনায় রাখাটা জরুরি। যেমন- ভালোবাসা দিবসে উপহার হিসেবে ফুল যেন না হলেই নয়। ফুলের পাশাপাশি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ বড়দের জন্য মগ, চাবির রিং, বই, কার্ড, রঙিন মোম, গিফট বক্স উপহার হিসেবে দেওয়া যায়।

শিশুদের বেলায় চকোলেট, গল্পের বই, রঙবেরঙের পোশাক হতে পারে ভালো উপহার। উৎসবের দিনে প্রিয়জনকে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে দিতে পারেন। শুধু উৎসব উপলক্ষেই যে প্রিয় মানুষকে উপহার দিতে হবে তা ঠিক নয়। মাঝে মাঝে উৎসব বা বিশেষ দিনের বাইরেও উপহার দিয়ে চমক দিতে পারেন আপনার কাছের মানুষকে। উপহার যদি একান্তই দিতে না পারেন বিশেষ দিনে তবু প্রিয় মানুষটিকে শুভেচ্ছা জানাতে ভুলবেন না। ঈদ মানেই আনন্দ। অতীতের সব দুঃখ ভুলে সবাই মেতে ওঠে ঈদ আনন্দে। ঈদ পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়িয়ে দেয়। আর এই সম্পর্ক বাড়ানোর জন্য বা ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির জন্য প্রিয়জন বা কাছের কাউকে দেওয়া হয় ঈদকার্ড। কিন্তু কালের গর্ভে যেন ঈদ হারিয়ে গেছে বাঙালির ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যম 'ঈদকার্ড'। কিন্তু এখন প্রায় সবাই ই- মেইল, মেসেঞ্জার, ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপে জানান ঈদের শুভেচ্ছা। তাই এখন নেই 'ঈদকার্ড'। আনন্দ বাড়াতে উপহারের জুড়ি নেই। সাজ থেকে শুরু করে সবকিছুতে থাকে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। উপহারের ক্ষেত্রেই-বা এর ব্যতিক্রম হবে কেন।

ঢাকা শহরে বড় বড় শপিংমল থেকে শুরু করে রাস্তার অলিগলিতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন গিফটশপ। এগুলোতে উপহারসামগ্রীর দাম ও ধরনের রয়েছে বৈচিত্র্য। নিউমার্কেটের গিফট অ্যান্ড পার্টি শপে হার্ডশিপ ১২০ থেকে ৭০০, হার্ডশিপের টেডিবিয়ার ২০০ থেকে ৩০০০, গিফট বক্স ৫০ থেকে ২০০, গিফট ব্যাগ ৫০ থেকে ২৫০, ঘড়ি ৩৮০ থেকে ১০০০, লাইটার ৩৫০ থেকে ৮৫০, বিভিন্ন উৎসবের নাম লেখা শোপিস ৩৮০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া এখানে পাওয়া যায় জুয়েলারি আইটেম। হলমার্কে পাওয়া যায় বিভিন্ন রঙবেরঙের কার্ড, তাজমহল, লাভ ক্যান্ডেল, অর্নামেন্টস, মগ, টেডিবিয়ার। কার্ড গ্যালারিতে পাওয়া যায় জোড়া ডল ৮০০ থেকে ২০০০, উৎসবের নাম লেখা মগ ৪৫০ থেকে ৬৫০, স্টোন বসানো লাভ লেখা ফ্রেম ১৩০০, চাবির রিং ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়।

এসব গিফট শপ ছাড়াও ১ টু ৯৯ এবং ১ টু ১০০০ গিফট শপ থেকেও কিনতে পারেন আপনার আপনজনের জন্য পছন্দের গিফট আইটেম।

-মাটির তৈজসপত্র

মাটির তৈরি বাসনে খাবার আর মাটির জগে পানি পরিবেশন করলেন অতিথিদের সামনে। অতিথিরাও আপনার নান্দনিক পরিবেশনায় অভিভূত। বাঙালি উৎসবের আমেজ পুরোটাই তুলে আনলেন। শুধু নিজের ঘরেই কেন, চাইলে বাংলা নববর্ষের উপহার হিসেবে কাউকে দিতে পারেন মাটির জগ, কলসি, থালাবাসন কিংবা চা পানের সরঞ্জাম।

-শীতলপাটি

গরমের সময় যে শীতলপাটি বেশ স্বস্তি দিতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে শীতলপাটি বেশ ভালোভাবেই জড়িত। শীতলপাটি হতে পারে পহেলা বৈশাখের যথাযথ উপহার।

-মুখোশ

ঘর সাজাতে মুখোশের ব্যবহার বেশ প্রচলিত। এটা খুঁজে পেতেও খুব কষ্ট করতে হয় না।

-পানের বাটা

ভরপুর খাওয়াদাওয়া শেষে এক খিলি পান খেতে বেশ ভালোই লাগার কথা। আর সেই পান যদি পরিবেশন করা হয় নান্দনিক কোনো বাটায়, তবে কেমন হয়? শুধু নিজের জন্যই নয়, উপহার হিসেবেও কাউকে দিতে পারেন পানের বাটা।

-তালপাতার পাখা

বাংলা ঐতিহ্যে অনেকাংশেই জড়িয়ে তালপাতার পাখা। চাইলে উপহার হিসেবে দিতে পারেন তালপাতার পাখাও। উৎসবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বটে।

-পাটের শিকা

বাঙালি উৎসবের সঙ্গে মিল রেখে যদি উপহার হিসেবে কাউকে কিছু দিতে চান, তবে পাটের শিকা বেশ ভালো উপহারই, যা বিশেষ দিনে প্রিয়জনের ঘর সাজানোর কাজে লাগবে।

-নকশিকাঁথা

বাংলার ঐতিহ্যে অনেকাংশেই জড়িয়ে নকশিকাঁথা। কোনো চিন্তা না করেই কিনে ফেলতে পারেন নকশিকাঁথা। কেননা এখন বেডশিট হিসেবেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে নকশিকাঁথা। তাই উৎসবের সঙ্গে মিল রেখে উপহার হিসেবে দিতে পারেন নকশিকাঁথা।

-হারিকেন

ভাবছেন, আলোর জন্য এখন কি আর হারিকেনের দ্বারস্থ হতে হয়? কিন্তু গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে আছে হারিকেন। তাই হয়তো ব্যবহারের জন্য না হলেও আকর্ষণীয় শোপিস হিসেবেও উপহার দিতে পারেন প্রিয়জনকে।

-অন্যান্য

রিকশা শোপিস, মাটির তৈরি জামাই-বউ পুতুল, গরুর গাড়ি, নতুন বউ, ঘণ্টা, ছোট ছোট হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন খেলনা উপহার দিতে পারেন। এসব খেলনা যেমন সংস্কৃতিটাকে তুলে ধরে, তেমনি ঘর সাজানোর নান্দনিক উপকরণও বটে।

প্রিয়জনের জন্য উপহার যদি নিজ হাতেই তৈরি করা যায়, তবে কেমন হয়? কেনা উপহারের চেয়ে ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক হবে সেই উপহার, এটা নিশ্চিত! সবটুকু ভালোবাসা উজাড় করে অতি যত্নে হাতে বানানো উপহারটি আপনার প্রিয় মানুষকে মুগ্ধ করবেই।

-কাচের জারে উপহার

একটি কাচের স্বচ্ছ জারে ফেইরি লাইট রাখুন। এটি এক ধরনের এলইডি লাইট, যা ব্যাটারিতে চলে। জারের মুখ বন্ধ করে দিন। চাইলে কাচের বয়াম রঙ করে সাজিয়েও উপহার দিতে পারেন। অথবা কাচের বয়াম সুন্দর করে ডিজাইন করে ভেতরে চকোলেট অথবা অন্যান্য উপহারসহ প্রিয়জনকে চমকে দিন।

-হাতে তৈরি কার্ড

মডেল পেপার, রঙিন কাগজ, কাঁচি, স্কেল, আঠা ও পেনসিল হাতের কাছে থাকলেই ঝটপট বানিয়ে ফেলতে পারেন ভালোবাসা দিবসের কার্ড। কার্ড বানিয়ে সাজিয়ে নিন ইচ্ছমতো। ইউটিউবে পেয়ে যাবেন কার্ড বানানোর অসংখ্য টিউটরিয়াল।

-ফ্রেমে বাঁধানো উপহার

কাগজ কেটে পছন্দমতো নকশা করে ফ্রেমে বাঁধিয়ে নিন। হয়ে গেল ভিন্নধর্মী উপহার!

-র‌্যাপিং পেপার

গিফট যাই হোক না কেন, র‌্যাপিং পেপারটি যদি হয় নিজের হাতে বানানো, তবে নিশ্চয় বেশ হয়? পেপার হার্টের আকৃতি করে কেটে রঙিন কাগজ অথবা গ্লিটার দিয়ে নকশা করে বানিয়ে ফেলুন প্রিয়জনের উপহার মোড়ানোর পেপার।

-ভালোবাসা দিবসের জন্য বিশেষ খাবার

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে চমৎকার কেক বানিয়ে ফেলতে পারেন। অথবা হার্টের আকৃতির বিস্কুট বানিয়েও পরিবেশন করতে পারেন প্রিয় মানুষের সামনে।

-কৃত্রিম বাগান

কাচের ছোট জারে সাদা পাথর ও কৃত্রিম গাছ লাগিয়ে বানিয়ে ফেলুন সুন্দর একটি বাগান। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে চমকে দিন ব্যতিক্রমী উপহারটি দিয়ে।

-চকলেটভর্তি ফুলদানি

দুই লেয়ারের কাচের ফুলদানি কিনে বাইরের লেয়ারটি ছোট রঙিন চকলেট দিয়ে ভরে ফেলুন। ভেতরের অংশে সুগন্ধি কোনো ফুল গুঁজে হাতে তুলে দিন প্রিয়জনের।

-ব্যাগ

একটি সাদা কাপড়ের ব্যাগ নিন। মোটা কাগজ হার্ট আকৃতি করে কেটে মাঝ বরাবর শক্ত করে ধরুন। পেনসিলের পেছনের অংশ লাল অ্যাক্রেলিক রঙে চুবিয়ে ডটের আকৃতি করে চারপাশ দিয়ে আঁকুন। আঁকা শেষ হলে কাগজটি উঠিয়ে ফেলুন। দেখুন কেমন চমৎকার নকশা হয়েছে ব্যাগে! এবার ব্যাগের ভেতরে যে কোনো গিফটসহ উপহার দিন প্রিয়জনকে।

-ব্যানার

রঙিন কাগজ হার্ট আকৃতির করে কেটে সুতা দিয়ে গেঁথে টাঙিয়ে দিন ঘরে। প্রিয়জন চমকে যাবেই!

উপহারের কথা লিখে শেষ করা যাবে না। যার জন্য যাই কিনুন না কেন, সেটাই হবে তার কাছে সবচেয়ে আনন্দময় এবং পছন্দনীয়। প্রিয়জনের শখের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তাকে তার শখ চর্চার জন্যও কিছু একটা উপহার দিতে পারেন।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com