নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙন

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদনদী হারিয়ে যাচ্ছে এবং নাব্য সংকটে নদনদীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন। অন্যদিকে নদীভাঙনে সর্বহারা হচ্ছে মানুষ। মঙ্গলবার সমকালে একটি সচিত্র প্রতিবেদনে প্রকাশ, পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, বাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বড় বড় স্থাপনা। গত দুই মাসের অব্যাহত ভাঙনে শরীয়তপুর, শিবচর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিভিন্ন এলাকা অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে। নদীভাঙন বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো সমস্যা নয়। এ দেশের নদীপাড়ের মানুষ দীর্ঘকাল ধরেই এই বিপর্যয়ের শিকার। নদীভাঙনে ইতিমধ্যে অনেক সম্পন্ন পরিবারও পথে বসেছে। আমাদের দেশের উদ্বাস্তু-ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই নদীভাঙনের শিকার। গ্রামীণ দারিদ্র্যের অন্যতম কারণও এই নদীভাঙন। একটি পরিসংখ্যানে প্রকাশ, প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ মানুষ নদীভাঙনের শিকার হয়। প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি প্রতি বছর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

অব্যাহত নদীভাঙন ছিন্নমূল মানুষের শহরমুখী জনস্রোত ক্রমবর্ধমান হারে স্ম্ফীত করে চলেছে। শুধু বর্ষা মৌসুমেই নয়, নদী ভাঙছে শুকনো মৌসুমেও। নদীভাঙনের বহুবিধ কারণের মধ্যে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব, অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বালু উত্তোলন, দখল, নাব্য হ্রাস ইত্যাদি অন্যতম। এসব কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নদনদীর তলদেশে এক ধরনের ঘূর্ণির সৃষ্টি হচ্ছে। এই ঘূর্ণি রূপ নেয় ভাঙনে। অপরিকল্পিত নদীশাসনও ভাঙনের অন্যতম কারণ। নদনদীর নাব্য ফিরিয়ে দিতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি নদীশাসনে নিতে হবে বৈজ্ঞানিক পন্থা। শুধু পদ্মার ভাঙনই নয়, এই সমস্যা বলতে গেলে কমবেশি সারাদেশেই বিদ্যমান। নদীভাঙন মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য তাৎক্ষণিক, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়নে আরও গভীর মনোযোগ দরকার। নদীভাঙন রোধে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন আছে। নদীভাঙনের শিকার বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নদীভাঙনের সমস্যা এবং এ থেকে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় আমাদের দেশে এক রূঢ় বাস্তবতা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন অব্যাহত নজরদারি ও বাস্তবোচিত পদক্ষেপ।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com