দখল ও দূষণে মাছশূন্য হয়ে পড়ছে চলনবিল

পাবনা

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা

দখল ও দূষণে দেশি জাতের মাছের বিচরণক্ষেত্র হ্রাস আর নির্বিচার নিধনে ক্রমেই মাছশূন্য হয়ে পড়ছে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ মৎস্যভাণ্ডার চলনবিল। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভয়াশ্রম গড়ে তোলা ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, সুস্বাদু দেশীয় মাছের প্রাচুর্যে যে বিলের সুখ্যাতি ছিল দেশজুড়ে, সেই চলনবিল এখন প্রায় মাছশূন্য। গত ৩০ বছরে উৎপাদন কমেছে ৬৩ শতাংশ। গাঙচিংড়ি, খরশলা, দাড়কিনা, গজার, গোরকিয়া, লেটুকি, বাঁশপাতা, ফাতাশি, নান্দিনা, বউ, ভাঙ্গনা, ঘোড়া, মহাশোল, তিলাশোল, রেনুয়াসহ অসংখ্য মাছের নাম উঠেছে বিলুপ্তির খাতায়। বিলুপ্তির পথে দেশি কৈ, মাগুর, ভেদাসহ বিভিন্ন প্রজাতি। ভরা মৌসুমে মিলছে না মাছ। চরম দুর্দশায় দিন কাটছে বংশপরম্পরায় মাছ ধরে আসা জেলে পরিবারগুলোর।

পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জের ৬২টি ইউনিয়ন এবং ৮টি পৌরসভা নিয়ে চলবিলের অবস্থান। পূর্ব-পশ্চিমে এর দৈর্ঘ্য ৫১ কিলোমিটার এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রস্থ সাড়ে ২২ কিলোমিটার। এ ৮টি উপজেলার গ্রাম সংখ্যা ১৬শ এবং লোকসংখ্যা ২০ লাখের অধিক। এর মধ্যে প্রায় বিশ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার রয়েছে। অন্যদিকে নন্দকুশা, গুমানি ও বড়াল নদী বিশাল এই চলনবিল অঞ্চলকে দু'ভাগে বিভক্ত করেছে। প্রতি বছর এ বিল থেকে টন টন মাছ ধরা পড়ে, যা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবৈধ সোঁতি, কারেন্ট ও বাদাই জাল দিয়ে চলে ডিমওয়ালা মাছ নিধন করা এবং কালো জাতীয় দেশীয় মাছ অবাধে নিধন করায় চলনবিলে মাছের উৎপাদন ভয়াবহ আকারে কমে গেছে। প্রাকৃতিক জলাধার সেচে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও তা মানছে না কেউ। মানুষের নির্মম লালসায় মারা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হলে মাছের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়বে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ আর তথাকথিত কৃষি বিপ্লবের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রতিক্রিয়ায় গত ৩০ বছরে হারিয়ে গেছে এই চলনবিলের অন্তত ৪০ প্রজাতির দেশীয় মাছ, যা শতকরা প্রায় ৬৩ শতাংশ।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com