আরও ৬ বছর মেয়াদ বাড়িয়ে কেনা হচ্ছে ৭০ রেল ইঞ্জিন

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন

শুধু বেতন-ভাতা পরিশোধ করেই ছয় বছর পার করেছে ৭০টি মিটারগেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) ক্রয় প্রকল্প। মেয়াদ বাড়িয়েও ২০১১ সালে শুরু হওয়া রেলের এ প্রকল্পের আওতায় ক্রয়সহ অন্য কোনো কাজ হয়নি। তবে এ সময় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্তাব্যক্তিদের সাড়ে তিন কোটি টাকা বেতন দিতে হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পের কাজ শেষ করতে আরও ছয় বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি উচ্চমূল্য এবং উচ্চ সুদে ৭০টি ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব দিয়েছে রেলওয়ে। প্রকল্পের অন্যান্য খাতের ব্যয় বাদ দিয়ে শুধু ইঞ্জিন কেনার জন্য ব্যয় ধরা ছিল এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী ব্যয় বেড়ে হচ্ছে এক হাজার ৯২২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন একে উচ্চ ব্যয় বলে অভিহিত করেছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৭ শতাংশ সুদে দুই হাজার ৪৪ কোটি টাকা উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়া হচ্ছে।

শুরুতে এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল এক হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা। নতুন প্রস্তাবে সম্ভাব্য ব্যয় দুই হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা। প্রকল্প প্রস্তাবের ওপর তৈরি করা এক প্রতিবেদনে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, উচ্চ সুদ এবং উচ্চমূল্যে লোকোমোটিভ না কিনে সরকারি অর্থায়নে কেনাই যৌক্তিক হবে। জনবল খাতে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও এখন তা ১২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়েও যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছে কমিশন। সুদের হার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব জাহিদুল হক সমকালকে বলেন, রেলওয়ের জন্য ৭০ লোকোমোটিভ কেনা হবে কোরিয়ান দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া বাণিজ্যিক ঋণে। এ ঋণের সুদহারের সঙ্গে কমিটমেন্ট ফি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ফিসহ বিভিন্ন ফি দিতে হয়। সব মিলিয়ে ঋণহার ৬ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ইআরডি এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ২০১১ সালের আগস্টে একনেকে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদিত হয়। শেষ করার কথা ছিল ২০১৭ সালের জুনে। পরে এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। শর্ত ছিল সরবরাহকারী ঋণ বা অন্য যে কোনো সহজ শর্তে ঋণে সংগ্রহের প্রচেষ্টা নিতে হবে। অনুমোদনের পর ২০১১ সালে প্রথমবার দরপত্র আহ্বান করে দরদাতা পাওয়া যায়নি। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে দ্বিতীয়বার দরপত্রে একই ঘটনা ঘটে। এরপর ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলে স্পেনের বুসলো ইসপানা এসএ এবং কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান হুন্দাই রোটেম কোম্পানি অংশ নেয়। পরে মূলায়নের ভিত্তিতে কোরিয়ান কোম্পানিকে এ প্রকল্পের জন্য বিবেচনা করা হয়। দরদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে রেলওয়ের মোট ২৭৫টি লোকোমোটিভ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮১ মিটার গেজ এবং ৯৪টি ব্রডগেজ। এসব লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক জীবনী ক্ষমতা ২০ বছর। কিন্তু ১৪২টি লোকোমোটিভের এ ক্ষমতা এরই মধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com