১০ শতাংশ কর ছাড় পাচ্ছেন ব্রোকাররা

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সমকাল প্রতিবেদক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত শেয়ার বিক্রির ওপর মূলধনী মুনাফায় বড় ধরনের কর ছাড় পাচ্ছেন ব্রোকাররা। তবে এ অর্থ তিন বছরের জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের শর্ত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ ক্ষেত্রে কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার কথা বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রজতজয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী ব্রোকারদের অনেক দিনের এ দাবি পূরণের ঘোষণা দেন।

গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সাংহাই ও সেনজেনের কাছে ২৫ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা হয়। এ জন্য তারা দেশের প্রধান শেয়ারবাজারকে ৯৪৭ কোটি টাকা দিয়েছে। এ অর্থ ডিএসইর প্রতিটি ব্রোকার পাবেন, যেটির ওপর মূলধনী মুনাফার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উৎসে ১৫ শতাংশ করে কেটে রাখা হবে। তবে গতকাল অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী তারা ১০ শতাংশ করছাড় পাবেন। কৌশলগত শেয়ার বিক্রির আলোচনা শুরুর পর থেকে ডিএসই মূলধনী মুনাফায় করছাড় চেয়ে আসছে। তারা দু'বছরের জন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের শর্তে করছাড় চায়। বিএসইসিও এ বিষয়ে সুপারিশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ব্রোকাররা যে অর্থ পাবেন, তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে করছাড় দেওয়া হবে। এ জন্য অবশ্য তিনি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্ত হয়েছে চীনের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ। তাদের কাছে শেয়ার বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাওয়া মাত্র কর ব্যাপক হারে কমিয়ে দেওয়া হবে।

মুহিত বলেন, এ কর ৫ শতাংশ করে দেওয়া হবে; তবে শর্ত হলো- তা আগামী তিন বছরের জন্য সিকিউরিটিজ মার্কেটে রাখতে হবে। এ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হচ্ছে, শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করা এবং একটি আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরা। গতকাল থেকেই এ ঘোষণা কার্যকর হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য সব কাগজপত্র তৈরি হয়ে আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ কমিশনের বয়স ২৫ বছর। ইতিমধ্যে দুটি বিপর্যয় পর্যবেক্ষণ হয়েছে। এ ধস ভালোভাবেই বোঝা গেছে। তবে ২০১৮ সালে এখন তৃপ্তিবোধ করা যেতে পারে। এর কারণ হলো বর্তমান শেয়ারবাজার সত্যিকার অর্থে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং এর অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

ডিএসইর ব্রোকাররা আগে জানিয়েছিলেন, করছাড় পেলে চীনাদের কাছ থেকে পাওয়া ৯৪৭ কোটি টাকার প্রায় পুরোটা বিনিয়োগ হবে। ছাড় না পেলেও এর বড় অংশ বিনিয়োগে আসবে। কেননা, প্রধান এ শেয়ারবাজারের ২৩৮ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০০ প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানায় রয়েছে।

ব্রোকারদের আগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কর কাটা না হলে প্রতি ব্রোকার পাবেন প্রায় তিন কোটি ৯৮ লাখ টাকা। আর ১৫ শতাংশ কর কাটা হলে সর্বনিম্ন তিন কোটি ৩৮ লাখ থেকে সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা পাবেন ব্রোকাররা।

ডিএসইর পুরো শেয়ারের মালিক ব্রোকাররা। তবে ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী ব্রোকারদের নামে ৪০ শতাংশ শেয়ার দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০ শতাংশ ব্লক রয়েছে। এ ৬০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে অর্থ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে বিক্রি করা হয়। বাকি ৩৫ শতাংশ পরে আইপিও প্রক্রিয়ায় বিক্রি শেষে ওই অর্থও ব্রোকারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এর আগে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান সমকালকে জানিয়েছিলেন, উৎসে কর কাটা হলেও এনবিআরকে এ অর্থ হস্তান্তরে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় পাওয়া যাবে। তার আগে করছাড় মিললে কেটে রাখা অর্থ ব্রোকারদের ফেরত দেওয়া হবে।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com