ভারত-মালদ্বীপ ফাইনাল

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্বাগতিক বাংলাদেশ নেই। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের উন্মাদনাও শেষ। যেটুকু ছিল তা ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের জন্যই। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সেই লড়াইয়ে হেসেছে ভারত। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ১১ বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত আসরের ফাইনালে উঠেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ২০০৩ সালে ব্যর্থ হলেও এই নিয়ে টানা সাতবার সাফের ফাইনাল খেলছে ভারত। ১৫ সেপ্টেম্বর ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ। প্রথম সেমিফাইনালে দ্বীপ দেশটি ৩-০ গোলে নেপালকে উড়িয়ে দিয়েছে। 'টস-ভাগ্যে' সেমিতে ওঠা মালদ্বীপের হয়ে জোড়া গোল করেন ইব্রাহিম ওয়াহেদ। অন্য গোলটি করেন আকরাম আব্দুল ঘানি।

বিকেলের বৃষ্টিতে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। সেই মাঠে দ্বিগুণ কষ্ট করতে হয়েছে দু'দলের খেলোয়াড়দের। উত্তাপের ম্যাচ বলে কথা। প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে টান টান উত্তেজনায়। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ভারত-পাকিস্তান লড়াইটা জমে ওঠে। শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকা ভারত অলআউট ফুটবল খেলে। পাকিস্তান বেছে নেয় রক্ষণাত্মক কৌশল। মাঝে মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেন সাদ্দাম হোসেনরা। তবে শুরুর দিকে একচেটিয়া খেলে ভারত। ম্যাচের ২৫ মিনিটে লিড নিতে পারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢোকা ফারুক হাজির মাইনাস খুঁজে নেয় মনভির সিংকে। পাকিস্তান গোলরক্ষক ইউসুফ ইজাজ বাটের গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন এ ফরোয়ার্ড। এক মিনিট পর আশিক করুনিয়ানের শট কর্নারের বিনিময়ে প্রতিহত করেন পাকিস্তান গোলরক্ষক। এর পরও আক্রমণ শানায় ভারত; কিন্তু গোল পায়নি। প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিট আধিপত্য ছিল পাকিস্তানের। গোল করার মতো কয়েকটি আক্রমণ করে হুয়ান অ্যান্তোনিও নোগুয়েরোর দল। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে ইনডাইরেক্ট ফ্রি কিক পায় পাকিস্তান। এক ডিফেন্ডারের ব্যাক পাস হাত দিয়ে ধরেন ভারত গোলরক্ষক ভিশাল কায়েথ। তবে তাতে গোল করতে পারেনি পাকিস্তান। পাঁচ মিনিট পর বক্সের খুব কাছ থেকে হাসান বশিরের নেওয়া ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন ভারতের গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে অতিরিক্ত সময়ে অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেনের ক্রস খুঁজে নেয় বশিরকে, তার হেড পোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে হতাশা নেমে আসে পাকিস্তান শিবিরে।

অভিজ্ঞতায় এগিয়ে পাকিস্তান। তুলনামূলক বিচারে ভারতীয় দলটা তরুণ। অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে সাফ খেলতে আসে তারা। তারুণ্যনির্ভর ভারতের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত পেরে ওঠেনি তিন বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরা পাকিস্তান। বিরতির পরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন মনভির সিং। ৪৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে আশিকের ক্রস পায়ের আলতো টোকায় বল জালে পাঠান তিনি। ৬৯ মিনিটে আবারও মনভির সিং। সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের ডান প্রান্ত থেকে তার নেওয়া শট খুঁজে নেয় জাল। মনভিরের এটা তৃতীয় আন্তর্জাতিক গোল। প্রথমটি করেছিলেন মালদ্বীপের বিপক্ষে। তার জোড়া গোলেই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেয়। ৮৪ মিনিটে আবারও ভারতের গোল উৎসব। আশিকের ক্রসে বদলি ফরোয়ার্ড সুমিত পাসের হেড চলে যায় জালে। এই গোলের পর দু'দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতিতে জড়ান। রেফারি পকেট থেকে লাল কার্ড বের করেন। পাকিস্তানের মহসিন আলি এবং ভারতের লালজিজুয়ালা লাল কার্ড দেখলে বাকি সময়ে একজন কম নিয়ে খেলতে হয় দু'দলকে। ৮৮ মিনিটে পাকিস্তানের হাসান বশির এক গোল পরিশোধ করলেও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেননি। খেলার শেষ হওয়ার পর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর আনন্দ ভারতের, বিপরীতে প্রথমবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া পাকিস্তানিরা হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com