সেই ক্রোয়েশিয়ার একি হাল

১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপ সাফল্যের সঙ্গে মহাদেশীয় লীগের ম্যাচের তুলনা হয় না, যে কারণে 'মধুচন্দ্রিমা সমাপ্তি'ও বলা যাচ্ছে না। তবে বিশ্বকাপের রানার্সআপ সাফল্য যেমন সত্য, ক্রোয়েশিয়ার জন্য সত্য এখন নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হারও। রাশিয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া স্পেনের কাছে ক্রোয়াটরা বিধ্বস্ত হয়েছে ০-৬ গোলের বিশাল ব্যবধানে। জল্গাতকো দালিচের দল এতটাই চূর্ণ হয়েছে যে স্পেন চেষ্টা করলে ব্যবধান আরও দ্বিগুণও হয়ে যেতে পারত। উয়েফা নেশন্স লীগে স্পেনের বড় জয়ের রাতে হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে বেলজিয়াম। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা রোমেলু লুকাকু, এডেন হ্যাজার্ডরা ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন আইসল্যান্ডকে।

ঘরের মাঠে স্পেন যে আধডজন গোলে জিতেছে, তার মূলে মার্কো অ্যাসেনসিওর কৃতিত্ব। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড গোল করেছেন মোটে একটি, কিন্তু অ্যাসিস্ট করেছেন আরও তিনটিতে। গোল পেয়েছেন সার্জিও রামোস, ইসকো, সাউল নিগুয়েজ, রদ্রিগো মোরেনোরাও। একটি গোল হয়েছে আত্মঘাতী। স্প্যানিশ শহর এলচের ম্যানুয়েল মার্টিনেজ ভ্যালেরো স্টেডিয়ামে খেলার শুরু থেকে আক্রমণে এগিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। প্রথম ২৩ মিনিটের মধ্যে গোলের দারুণ দুটি সুযোগও পেয়েছিলেন ইভান সানতিনি ও ইভান পেরিসিচ। গোল যে হয়নি, তা তো স্কোরলাইনেই স্পষ্ট। ২৪তম মিনিট থেকেই স্পেনের আধিপত্যের শুরু। দানি কারভাহালের দারুণ এক ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে প্রথম গোলটি করেন সাউল। তিন দিন আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করেছিলেন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে খেলা এই মিডফিল্ডার। বিরতির আগে ক্রোয়াটদের জালে আরও দুই গোল ঢোকে অ্যাসেনসিওর কল্যাণে। ৩৩ মিনিটের সময় ২৫ গজ দূর থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে পরাস্ত করেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক লভরে কালিনিচকে। এর দুই মিনিট বাদেই পরের গোলটি হয় কালিনিচের আত্মঘাতী। বাঁ দিক থেকে বিপজ্জনকভাবে দৌড়ে এসে গোলপোস্ট বরাবর শট নিয়েছিলেন অ্যাসেনসিও। বারে লেগে ফিরে যাওয়ার মুহূর্তে বল কালিনিচের হাতে লেগে ঢুকে যায়। প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়া ক্রোয়েশিয়াও দ্বিতীয়ার্ধে সমানসংখ্যক গোল হজম করে। ৪৯ মিনিটে রদ্রিগো, ৫৭ মিনিটে রামোস আর ৭০ মিনিটের সময় ইসকো গোল করেন। ম্যাচের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলেও ততক্ষণে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হার নিশ্চিত হয়ে যায় ক্রোয়াটদের। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের কাছে ৫-১ গোলে হারার পর পাঁচ গোলই হজম করল তারা এই প্রথম। মাত্র দুই মাস আগে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা একটি দলের এত বড় হার করুণভাবে পোড়াচ্ছে দালিচকে। এই লুকা মডরিচ, ইভান রাকিটিচ আর পেরিসিচদের নিয়েই তো বড় বড় বাধা টপকে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছিলেন। পরিবর্তন তো বলতে কেবল অবসর নেওয়া মারিও মানজুকিচ আর গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাচিচের অনুপস্থিতি। ক্রোয়েশিয়া কোচ মানছেন, স্পেনের বিপক্ষে তার দল বিশ্বকাপের ছায়াও হতে পারেনি, 'এতগুলো হজম করা ছোটখাটো ব্যাপার নয়। আমাদের এ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে। ওদের প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের পরই আমরা ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছি। বিরতির সময় কথা বলেও খেলোয়াড়দের আর উজ্জীবিত করা যায়নি।' উয়েফা নেশন্স লীগে ক্রোয়েশিয়ার পরের ম্যাচ ১২ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এর চার দিন পর ইংলিশরা খেলবে স্পেনের বিপক্ষে।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com