কেউ কথা রাখেনি

০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাইফুল্লাহ মনসুর ইসহাক

ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে খাম্বা আবুল গ্রামের বাড়ি ছুটলেন। রাস্তায় অস্বস্তির সময় পার করে গ্রামে পৌঁছেই স্বস্তির ঠিকানা টেঙ্গা মামা টি-স্টলে হাজির হলেন। উদ্দেশ্য এলাকার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা করা। খাম্বা আবুলকে দেখেই লম্বা বিলাল, মুরগা জামাল, ত্যাড়া ইদ্রিস এগিয়ে এলো।

-'আরে আবুইল্লা, কত দিন পর দেখি!'

-'সবাই ভালো আছিস তোরা।'

-'আমাদের আর ভালো থাকা! এই আছি কোনো রকম।'

-'আচ্ছা ঠিক আছে, আমি বাড়ি গেলাম বিকেলে তালতলায় দেখা করিস তোরা; কথা আছে।'

এই বলে খাম্বা আবুল বাড়ি চলে গেলেন। বিকেলবেলা সবাই তালতলায় জড়ো হলো। খাম্বা আবুল তার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবাইকে বললেন। এবার ঈদে তারা কক্সবাজার বেড়াতে যাচ্ছেন। সবাই সম্মতি দিল। জনপ্রতি কত টাকা খরচ হবে তার হিসাব হলো। যাওয়ার জন্য ঈদের পরের দিন ঠিক করা হলো।

ঈদের দিন কোরবানি আর আত্মীয়ের বাড়িতে গরুর মাংস বিলি করতে করতে ক্লান্ত আবুল বিছানায় চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঘুম আর আসে কোথা থেকে? খাম্বা আবুলের মাথায় সারাক্ষণ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ঢেউ খেলা করতে লাগল। একে একে সবাইকে ফোন করে নিশ্চিত হলেন সবাই আগামীকাল কক্সবাজার যাচ্ছে। পর দিন সকালে আবুল সাজগোছ করে দামি বডি স্প্রে লাগিয়ে লম্বা বিলালকে ফোন করলেন।

-'কিরে, বের হয়েছিস?'

-'আরে রাখ তোর কক্সবাজার! এদিকে আমার জান যায়!'

-'বলিস কি? কী হইছে তোর?'

-'এ নিয়ে ৩২ বার যাওয়া-আসা!'

-'৩২ বার মানে?'

-'ও খোদা ... আরে গাধা লিকুইড যাচ্ছে!'

লম্বা বিলালের অসুখে ব্যথিত হয়ে খাম্বা আবুল মুরগা জামালকে ফোন দিলেন।

-'কিরে বের হইছিস?'

-'আরে রাখ তোর বের হওয়া! বউয়ের শ্বাসকষ্ট উঠছে রে আবুইল্লা!'

এবার দ্বিগুণ শোকে পাথর হয়ে খাম্বা আবুল ত্যাড়া ইদ্রিসকে ফোন দিলেন। ঠিক তখনই ওপার থেকে এক মেয়ে বলে দিল-

-'এই মুহূর্তে আপনার কাঙ্ক্ষিত নাম্বারে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না! একটু পর আবার ডায়াল করুন।'

অতঃপর ব্যথায় কাতর হয়ে খাম্বা আবুল পড়ে রইলেন। এখন কী করবেন কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না। হতাশায় একাকার হয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রথমে অসুস্থ লম্বা বিলালকে দেখে আসবেন।

বাড়ির রাস্তা পার হয়ে খাম্বা আবুল যা দেখলেন তা তার মেনে নিতে সত্যিই কষ্ট হলো। ত্যাড়া ইদ্রিস তালতলার পুকুর পাড়ে বসে চুটিয়ে প্রেম করছে! তিনি কিছু না বলে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে তালতলা পাড়ি দিল। তালতলা পার হয়ে কিছু পথ এগোলেই রেললাইন। রেললাইনে পা দিতেই আবুল যা দেখলেন তাতে তার চোখ ছানাবড়া! মুরগা জামাল তার বউয়ের হাত ধরে বাতাস খাচ্ছে! আবুল বিড়বিড় করে বললেন- 'এই তোর বউয়ের শ্বাসকষ্ট?'

এখানেও নীরবতা পালন করে খাম্বা আবুল অবশেষে অসুস্থ লম্বা বিলালের বাড়িতে হাজির হলেন। এখানে আবুল যা দেখল তাতে তার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গেল। লম্বা বিলাল তার বাল্যকালের সব বান্ধবীকে দাওয়াত করে খাওয়াচ্ছে অথচ তাকে বলাই হয়নি! কেউ কথা রাখেনি! রাগ-ক্ষোভ-অভিমানে একাকার হয়ে খাম্বা আবুল কক্সবাজারের প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকায় পাড়ি জমালেন।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com