বগুড়ায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৮      

বগুড়া ব্যুরো



বগুড়ায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের দুর্যোগজনিত ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিগত চারদলীয় দলীয় জোট সরকারের সময়ে নেওয়া এ প্রকল্পের মাধ্যমে জেলায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ঋণ হলেও আদায় হয়েছে মাত্র দেড় কোটি টাকা। এই ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও ঋণ গ্রহীতারা সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করায় প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস জানায়, ২০০৪-০৫ অর্থবছর থেকে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য ঋণ নেওয়ার ছয় মাস পর থেকে ৪ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ ধরে জেলায় দুই দফায় চার কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রথম দফায় জেলার বন্যা এলাকা সারিয়াকান্দি, ধুনট, সোনাতলা ও গাবতলী উপজেলায় আটটি ইউনিয়নে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পর ওই অর্থবছরেই এই টাকা বিতরণ করা হয়। পরের অর্থবছরে জেলার আরও সাতটি উপজেলার জন্য দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই টাকাও বিতরণ করা হয় ২০০৬-০৭ অর্থবছরের মধ্যে। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার ছয় মাস পর থেকে কিস্তি দেওয়া শুরু করে এক বছরের মধ্যে ঋণ গ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করার পর আবারও নতুন করে বেশি পরিমাণ ঋণ নিতে পারবেন। কিন্তু এ প্রকল্পটির ক্ষেত্রে বাস্তবে হয়েছে উল্টো। যারা ঋণ নিয়েছে তাদের বেশিরভাগই তার কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করেননি। ফলে আদায় হয়েছে মাত্র এক কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। জানা গেছে, ২০০৭ সালের পর থেকে ঋণের আর কোনো কিস্তি আদায় করা সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পটি চালু করার একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ঋণ উত্তোলন ও প্রদানের ক্ষেত্রে জনবল সংকটসহ ঋণ গ্রহীতাদের সঠিক নাম-ঠিকানা এবং টাকার পরিমাণের সঠিক হিসাব সংশ্নিষ্ট দপ্তরে না থাকায় প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, এই খাতের টাকা ঋণ হিসেবে বিতরণের সময় দলীয় সুপারিশে বেশিরভাগ দলীয় লোকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছিল। যে কারণে দলীয় দোহাই দিয়ে এবং দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নেওয়া ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করা হয়নি। এর মধ্যে যেমন জেলার সোনাতলা উপজেলার তেকানী-চুকাইনগর ইউনিয়নে বিতরণ করা ৩০ লাখ টাকা ঋণের একটি টাকাও আদায় হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওই ইউনিয়নের চারদলীয় জোটের সময়কার চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আশরাফ উদ্দিন দলীয় লোকজন ছাড়াও আত্মীয়স্বজনের মাঝে এই ঋণ বিতরণ করেছেন। সে সময় ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটিও অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মামলা করতে বাধ্য হন। এ রকম জেলার বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মের ঘটনায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্নিষ্ট দপ্তরে। এর পর থেকেই মূলত ঋণ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শাহারুল ইসলাম মো. আবু হেনা বলেন, প্রকল্পটি দরিদ্রদের জন্য ভালো ছিল; কিন্তু ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ থাকায় ও কিস্তি পরিশোধ না করায় এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পটি চালু করতে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনবল সংকট ও আগের ঋণ গ্রহীতাদের হদিস না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।
আতাউরকে নিয়ে বিব্রত বিএনপি

আতাউরকে নিয়ে বিব্রত বিএনপি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএন-সিসি) নির্বাচন স্থগিতাদেশ দেওয়ার রিট আবেদনকারী ...

এত অস্ত্র বৈধ নাকি অবৈধ

এত অস্ত্র বৈধ নাকি অবৈধ

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে না হতেই বৈধ-অবৈধ অস্ত্র দেখা যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ...

শান্তি চায় নাগরিক সমাজ

শান্তি চায় নাগরিক সমাজ

নারায়ণগঞ্জকে যারা সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে, মঙ্গলবারের ঘটনাও ...

এই 'অভিজ্ঞতা' দিয়ে কী করবে চট্টগ্রাম বন্দর

এই 'অভিজ্ঞতা' দিয়ে কী করবে চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবালকে বদলি ...

আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিভেদে সুযোগ নিতে চায় জাপা

আওয়ামী লীগ-বিএনপি বিভেদে সুযোগ নিতে চায় জাপা

নৌকার আসন হিসেবে পরিচিত হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) ...

 'মানুষ বিপদে পড়ার ভয়ে প্রতিবাদ করছে না'

'মানুষ বিপদে পড়ার ভয়ে প্রতিবাদ করছে না'

ক্রমশ মানুষ কথা বলা বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিবাদ করছে না ...

ভাড়া বিমানে খাবার পৌঁছালো রেস্টুরেন্ট

ভাড়া বিমানে খাবার পৌঁছালো রেস্টুরেন্ট

আবাসস্থলের আশেপাশে পছন্দের রেস্টুরেন্টের কোনো শাখা না থাকায়, অথবা ডেলিভারি ...

পদ্মায় আরেকটি স্প্যান বসছে রোববার

পদ্মায় আরেকটি স্প্যান বসছে রোববার

পদ্মা সেতুতে আরেকটি স্প্যান বসানো হবে আগামী রোববার। সেতুর জাজিরা ...