পাঠকের গল্প

দুই পুরুষ

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৮      

হমাঈন উদ্দিন মৃধা



মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেল লাকির। নিঝুম রাতে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আসছে কানে। নিদ্রাহীনতায় ছটফট করছে সে। পাশে শুয়ে সেজান অঘোরে ঘুমাচ্ছে। ড্রিম লাইটের আবছা আলোয় তার মুখটা বাচ্চা ছেলের মতো লাগছে। লাকি নিষ্পলক তাকিয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় রবিন নামে এক বড় ভাইয়ের প্রেমে পড়েছিল লাকি। রবিন একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিল তার দারুণ প্রভাব।

দুই বছরের সম্পর্কের ফলে তারা অতি সন্নিকটে চলে আসে। বিষয়টি লাকির মা-বাবা মেনে নিতে পারেননি। বাবা-মায়ের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সে একদিন রবিনের হাত ধরে পালিয়ে যায়। রবিন তাকে নিয়ে একটি হোটেলে ওঠে। রাতে একসঙ্গে থাকতে চায়; কিন্তু লাকি বাধা দেয়, 'না, আমাদের এখনও বিয়ে হয়নি।' রবিন মায়াভরা চোখে এগিয়ে আসে। দুই ঠোঁটে চুমু খায়। লাকি বাধা দেয় না বরং অভূতপূর্ব এক আনন্দে তার মন-প্রাণ নেচে ওঠে।

পরের দিন বিকেল বেলা। রবিন একজন বৃদ্ধাসহ হোটেলে ঢোকে। বলে, 'লাকি, আমার দাদিমা। তিনি এই শহরেই থাকেন, আমার এক চাচার বাসায়। তুমি দাদিমার সঙ্গে চাচার বাসায় যাও। আমি রাত্রি বেলা আসছি।'

লাকির ভয় লাগছিল। তারপরও সে রবিনের কথা ফেলতে পারেনি।

বৃদ্ধা তাকে একটি ছোট্ট কামরায় নিয়ে আসে। বলে, 'এ রুমটাই তোমার জন্য বরাদ্দ।' 'আমার জন্য বরাদ্দ মানে?' সে বুঝতে পারে কোনো কঠিন জালে সে আটকা পড়েছে। তার অবুঝ ভালোবাসা বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। নিজেকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করায় সে; কারণ, যার সঙ্গে এতটা বছর সম্পর্ক করে এসেছে তাকে সে মোটেই চিনতে পারেনি।

পরের দিন সকাল বেলা। এক খদ্দের নিয়ে বৃদ্ধা হাজির; কিন্তু বৃদ্ধার নির্দেশ মতো কাজ করেনি বলে লাকির ওপর ঝড়ের তাণ্ডব নেমে আসে। চলে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। এরপর সেজান আসে তার রুমে। খদ্দের হয়ে। লাকির চোখ দুটি আবার জলে টলমল করে ওঠে। সেজান তার দিকে এগিয়ে আসে। লাকি বলে, 'প্লিজ, আমাকে ক্ষমা করুন।' তবুও এগিয়ে আসে সেজান। লাকি দু'হাতে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে তাকে পেছনে ঠেলে দেয়। থমকে দাঁড়ায় সেজান।

কোমল কণ্ঠে বলে, 'তুমি এখানে কত দিন হলো এসেছো?'

: আসিনি। গত পরশু আমাকে ফাঁদে ফেলে আনা হয়েছে। লাকি কাঁপা কণ্ঠে জবাব দেয়।

- আমি তোমার বড় ভাইয়ের মতো। আমাকে সব খুলে বলো। আমি তোমাকে সাহায্য করব।

বর্ণনা শুনে সেজান তার পুলিশ বন্ধু রিপনকে ফোন দেয়। তার হস্তক্ষেপে মুক্তি পায় লাকি। মুক্ত বিহঙ্গের মতো হাঁফ ছাড়ে সে। কৃতজ্ঞতায় তার চোখ দুটি চিকচিক করে ওঠে। সেজানকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষাটুকুও সে হারিয়ে ফেলে।

সেজান লাকির বাবার মোবাইলে ফোন দেয়। লাকির বাবা সাফ জানিয়ে দেন, লাকি নামে কোনো মেয়ে তাদের নেই এবং কখনও ছিল না।

সেজান জানতে চায়, 'তুমি এখন কোথায় যাবে?' অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে লাকির চোখে মুখে। বলে, 'জানি না।' বুক ফেটে কান্না আসে লাকির। সেজান লাকির চোখে চোখ রাখে। লাকি চোখ অবনত করে। সেজান তার হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে, 'চলো বাকি জীবনটা একসঙ্গে বাঁচি।'

পুরনো সেই কথা ভাবতে ভাবতে লাকির চোখে অশ্রু চলে আসে। সে ঘুমন্ত সেজানের পায়ের কাছে মুখ ঠেকিয়ে কাঁদতে থাকে।

হত্রিশাল, ময়মনসিং

পরবর্তী খবর পড়ুন : শরণার্থী শিবির থেকে

আসছে ভোট, প্রস্তুত ইসি

আসছে ভোট, প্রস্তুত ইসি

একাদশ সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা এবং ...

আজ শুভ বিজয়া দশমী

আজ শুভ বিজয়া দশমী

সব পূজামণ্ডপের বাতাসেই এখন বিষাদের ছায়া। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘরে ...

দেখা হবে গানেই

দেখা হবে গানেই

আইয়ুব বাচ্চুকে আর চোখে দেখব না; তার গান শুনব খোলা ...

খাসোগির সন্ধানে 'জঙ্গলে তল্লাশি' পুলিশের

খাসোগির সন্ধানে 'জঙ্গলে তল্লাশি' পুলিশের

সৌদি রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগির অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে ...

প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ে ডিসেম্বরেই

প্রিয়াঙ্কা-নিকের বিয়ে ডিসেম্বরেই

১০ বছরের ছোট মার্কিন সংগীত শিল্পী নিক জোনাসের সঙ্গে বাগদান ...

১০০ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি

১০০ আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জোট সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নিচ্ছে ক্ষমতাসীন ...

জসীমের উচ্ছেদ খেলায় নিঃস্ব মানুষ ফেরত চায় জমি

জসীমের উচ্ছেদ খেলায় নিঃস্ব মানুষ ফেরত চায় জমি

কালিয়াকৈরে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম ছিল বনখেকো জসীম ইকবাল। পরে তার ...

তৃতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

তৃতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

তৃতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত ...