সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগীটিকে বাঁচানো যাবে তো?

প্রকাশ: ১৮ মে ২০১৪      

গওহার নঈম ওয়ারা

ব্রিটিশরা রেল, বরফ, চা, জেলখানা প্রভৃতি সভ্যতার নিদর্শন আমাদের উপহার দেওয়ার পাশাপাশি জন্ম আর মৃত্যুর হিসাব রাখার জন্য একটা আইনও উপহার দেয় ১৮৭৩ সালে। সব আইনের সঙ্গে সঙ্গে তার বিধিও জারি করতে হয়। ব্রিটিশরা এসব ব্যাপারে খুবই কেতাদুরস্ত। আইন পাস করে কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় যাওয়া দূরে থাক, ছোটখাটো একটা হাই নেওয়ারও ফুরসত দেয় না। তবে আমাদের বেলায় সব সময় বিধি বাম। আইন করতে দাতা কর্ণ আর বিধির বেলায় করুণের ধন।
ব্রিটিশদের আইনের খোলনালচে পাল্টে যুগোপযোগী করা হয় ২০০৪ সালে। উদ্দেশ্য জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়াটাকে সৎ , সহজ ও নিরাপদ করা। এ দেশের প্রায় সব স্কুল পাস ভদ্রলোকের বয়স নিয়ে ভেজাল আছে। বয়স জিজ্ঞেস করলেই প্রশ্ন করে, উত্তর দেয় না। যেমন আলু-পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলে বিক্রেতা পাল্টা প্রশ্ন করেন_ নেবেন কতটুকু। বেশি নিলে এক রকম দাম, কম নিলে অন্য ব্যবস্থা। জন্ম তারিখ জানতে চাইলে পাস করা মানুষ তেমনিভাবে পাইকারিটা বলবে না, খুচরা দিয়ে কাজ সারবে।
সার্টিফিকেটের, না আসল_ কোনটা বলবে। জন্ম আষাঢ়-শ্রাবণ যে মাসেই হোক, ক্লাস নাইনে বোর্ড রেজিস্ট্রেশনের সময় ক্লাসটিচার (কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক) ছাত্রের মেধা, শরীরের গড়ন, বাপের পেশা, সামাজিক প্রতিপত্তি ইত্যাদি বিবেচনায় জন্ম সন ঠিক করে দিতেন। তবে মাসের ক্ষেত্রে মাঘ মাস অর্থাৎ জানুয়ারি তাদের খুবই পছন্দের ছিল। সেসব কারণে এ দেশের বড় একটা জনগোষ্ঠীর কাগজে-কলমে জন্ম জানুয়ারি মাসে। প্রায় পাইকারি হারেই তাই।
এসব অনাচার দূর করে সবার জন্য এক নিয়মের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ২০০৪ সালে জন্ম নিবন্ধন আইন ও ২০০৬-এর বিধি প্রণয়ন করা হয়। ২০১০ সালে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন পদ্ধতির বদলে ক্রমশ অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়। বিধিমালা জারি হওয়ায় এবং স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় জন্ম নিবন্ধনের সনদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করায় চারদিকে বেশ সাজ সাজ রব পড়ে যায়। কাজ বেড়ে যায় ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রের।
অনলাইন জন্ম নিবন্ধন করলে সেটা আর পরিবর্তন করা যায় না। ফলে বয়স কমানো বা বাড়ানোর কলমটি যখন খুশি তখন আর নাড়ানো যাবে না। তবে একেবারেই যে যাবে না বা যাচ্ছে না তা কিন্তু নয়। সুজলা-সুফলা এই দেশে যেমন গাছার চেয়ে আগাছা বাড়ে দ্রুত তেমনি বুদ্ধির চেয়ে কুবুদ্ধি গজায় চটজলদি।
১৮ বছর না হলে মেয়ের বিয়ে দেওয়া আইনসিদ্ধ নয়। অতএব ১৫ বছরের মেয়ের বয়স বাড়িয়ে আরেকটা জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে বের করা যায়? মেয়ে পালিয়ে গেছে তার প্রেমিকের সঙ্গে। তার আঠারো বছর হওয়ার পর স্বামী বাছাই করা তার হক। সে সেটা জেনেই আঠারো বছর পর পালিয়েছে। দাম্ভিক পিতার কাছে এটা ইজ্জতের ব্যাপার। কাজেই তার বয়স কম দেখিয়ে আরেকটা জন্ম সনদ না আনলে ছেলে পক্ষকে কাবু করা যাবে না, কাজেই আরেকটা সনদ দরকার।
আবার শিক্ষা নীতির ভুল ব্যাখ্যা করে বয়স ছয় না পেরোলে ক্লাস ওয়ানে বা প্রথম শ্রেণীতে কাউকে ভর্তি করা হচ্ছে না। অর্থাৎ পাঁচ বছর এগারো মাস হলেও ভর্তি হবে না_ অসহায় বাবা-মা তখন ছয় বছরের কিছু বেশি দেখিয়ে ভর্তি কাজ সেরে ফেলছে। তবে বাবা-মার সঙ্গে শিশুটি আবার হোঁচট খাচ্ছে এসএসসির দ্বারপ্রান্তে এসে। পরিপত্রে এসএসসির নূ্যনতম বয়স বলা হয়েছে ১৫। এক বছর বাড়িয়ে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া শিশুটির বাবা-মার জন্ম সংশোধনের সুযোগ নেওয়ার ইচ্ছা হতেই পারে। অতএব সেও এসে দাঁড়াচ্ছে আরেকটা সংশোধিত সার্টিফিকেটের আবেদনের লম্বা লাইনে।
বিদেশের শ্রমবাজারে যোগ দিতে ১৮ বছরের ছেলেকে ২৪ বছর বানিয়ে রফতানি করা হচ্ছে, আবার গৃহকর্মীর কাজে ৪০ বছরের সকিনা যাচ্ছে ২৮ বছরের কর্মী হয়ে। তাদের সবারই এক সময় প্রয়োজন পড়ছে সংশোধিত নতুন একটা জন্ম নিবন্ধন সনদ। কীভাবে পাওয়া যাবে সেটা? পথ বের করে ফেলতে সময় লাগছে না। ঠিকানা পরিবর্তন, বাবা-মার নাম কিছুটা পরিবর্তন, রহমানকে রেহমান করলেই লেঠা চুকে যাচ্ছে।
সব ফুটা বা ছেঁড়ার সেলাই বা তালি চলে না। তবে এই ছ্যাদাগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। কী ব্যবস্থা নিতে হবে সে জবাব খোঁজার আগে পরিপত্র জারি আর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। যেখানে ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে সেখানে ত্বরিত ব্যবস্থা নিতে হবে। বলতে হবে, ছয় বছর না পেরোলেও যে কোনো শিশু এটা-এটা পারলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হতে পারে। জন্ম নিবন্ধন জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই করতে হবে। যে কোনো পরিবর্তন যেন সহজ না হয়, সস্তা না হয়। মেশিন যেন আমাদের সঙ্গে মিশে চারশ' বিশ হয়ে না যায়, অন্যথায় বিষে নীল হয়ে যাবে দেশ।
স গবেষক

পরবর্তী খবর পড়ুন : সম্পর্কের সেতুবন্ধ

হতাশা ঝেড়ে সামনে চোখ তামিমের

হতাশা ঝেড়ে সামনে চোখ তামিমের

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরেছেন তামিম। সঙ্গী হতাশা আর ...

রোহিঙ্গাদের চাপে ঝুঁকিতে উখিয়া ও টেকনাফ

রোহিঙ্গাদের চাপে ঝুঁকিতে উখিয়া ও টেকনাফ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ...

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আইনজীবীরা

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আইনজীবীরা

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তার ...

প্রতারক চক্র থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

প্রতারক চক্র থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত করা, স্বীকৃতি, বিষয় খোলা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ...

'সংসদ না ভেঙে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না'

'সংসদ না ভেঙে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না'

গণফোরাম সভাপতি ও যুক্তফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন সরকারের সমালোচনা ...

হংকংকে ২৮৬ রানের লক্ষ্য দিল ভারত

হংকংকে ২৮৬ রানের লক্ষ্য দিল ভারত

এশিয়া কাপে গ্রুপ ‘এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংয়ের সামনে বেশ বড় ...

জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন হাসিনা-মোদি

জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন হাসিনা-মোদি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরস্পরকে ...

ভোটচোর প্রতিহতের ডাক এরশাদের

ভোটচোর প্রতিহতের ডাক এরশাদের

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটচোর প্রতিহত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নিতে ...