সর্বোচ্চ আদালতের অনন্য রায়

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০১৬      

শেখ হাফিজুর রহমান

বর্তমানে বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির আদলে প্রধানমন্ত্রীর নিরঙ্কুশ শাসন চলছে। একটি রাষ্ট্রের সুষ্ঠু কার্যক্রম চলার জন্য যে ভারসাম্য প্রয়োজন তা আমরা সর্বত্র দেখতে পাচ্ছি না। কেননা বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে ন্যস্ত হওয়ার ফলে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ অর্থাৎ সংসদ, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ভেতরে ভারসাম্য আরও বেসামাল হয়ে পড়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক আদালত অবমাননার জন্য দু'জন মন্ত্রীকে দণ্ড প্রদানের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের অবস্থান যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি তা রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে ভারসাম্যকে আরও বেশি স্থিতিশীল করবে।
বাংলাদেশে আদালত অবমাননার বিষয়টি খুব পরিষ্কার নয়। আদালত অবমাননার বিষয়ে যে আইন রয়েছে সেটি খুব সংক্ষিপ্ত এবং অনেক ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ আদালতের কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায় না_ কোন কাজটি বা কথায় আদালত অবমাননা হবে আর কোনটিতে হবে না। যার ফলে সাধারণ নাগরিক এবং সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। এর আগে একটি জনপ্রিয় দৈনিকের একজন কলামিস্ট হাইকোর্টের আগাম জামিন বিষয়ে একটি কলাম লেখার পর ওই বিষয়ে যে মামলা হয়েছিল তখন আদালত কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। এরপর আমরা দেখলাম আপিল বিভাগ গতকাল আদালত অবমাননায় দু'জনকে দণ্ড দিলেন।
বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ_ সংসদ, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও এখতিয়ার সম্পর্কে সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছে। তার পরও আমরা দেখি, যারা রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে ও সাংবিধানিক পদে আছেন বা থাকেন তারা প্রায়ই দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলেন। সুতরাং আজকের আপিল বিভাগের রায় চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হিসেবে কাজ করবে।
বিভিন্ন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে দেখতে পাই যে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগে ক্ষমতার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। কোনো একটি বিভাগ যদি স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে চায় তাহলে অন্য বিভাগের ক্ষমতা এবং এখতিয়ার তার ওপর চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যেসব দেশে লিখিত সংবিধান রয়েছে, সেখানে সুপ্রিম কোর্টকে সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে দেখছি, সেখানকার সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট এবং কংগ্রেসের কর্মকাণ্ড বেআইনি বলে বিবেচনা করলে সেটা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন। পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেও আমরা দেখেছি, সুপ্রিম কোর্ট সংসদ কর্তৃক পাসকৃত সংবিধানবিরোধী আইনকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন। বিচার বিভাগের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে আশা করা যায়।
বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পরে তার নানা রকম কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগে গতিশীলতা এসেছে। বিশেষ করে মামলাজট কমানোর ব্যাপারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন এবং তার কিছু ভালো ফলও পাওয়া গেছে। এ সময়কালে বিচারপতিদের ব্যক্তিগত বিরোধ সর্বোচ্চ আদালতের ইমেজকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আইনের একজন ছাত্র হিসেবে জানি যে, আদালতের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রায়ের কোনো সমালোচনা করা যায় না। তবে সরল বিশ্বাসে আইনের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে একাডেমিক আলোচনার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশে এই রায়টি একটি অনন্য ঘটনা, কারণ এর আগে আপিল বিভাগের তরফ থেকে এ ধরনের রায় আমরা দেখিনি। তবে রায়ে এটা পরিষ্কার নয় যে, ব্যক্তি প্রধান বিচারপতি এবং সর্বোচ্চ আদালত সমার্থক কি-না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় এবং বিচারপতিদের বিষয়ে কতটা আলোচনা-সমালোচনা করা যাবে_ সে বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকলে নাগরিক ও সাংবাদিকদের বোঝার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হবে। তারা বুঝতে পারবেন বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের ব্যাপারে কী বলা যাবে বা লেখা যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক
১০০ বলের ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব ইসিবির

১০০ বলের ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব ইসিবির

ক্রিকেটের নতুন সংস্করণ চালুর পরিকল্পনা করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট ...

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ...

‘তিন ছাত্রীকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে’

‘তিন ছাত্রীকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বৃহস্পতিবার গভীর ...

মাদারীপুরে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ১৫

মাদারীপুরে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ১৫

মাদারীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ...

ঘরে মোরগ ঢোকায় ৩ জনকে পিটুনি

ঘরে মোরগ ঢোকায় ৩ জনকে পিটুনি

ঘরে মোরগ প্রবেশ করায় মোরগের মালিকসহ তার পরিবারের তিন সদস্যকে ...

তমা মির্জার চার চলচ্চিত্র

তমা মির্জার চার চলচ্চিত্র

চলতি বছরে চারটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র ...

৭শ’ বছরের গাছ বাঁচাতে স্যালাইন!

৭শ’ বছরের গাছ বাঁচাতে স্যালাইন!

ভারতের হায়দরাবাদের তেলেঙ্গনাতে একটি সাতশ বছরের পুরনো বট গাছকে পোকমাকড়ের ...

হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে বিকেলে বিক্ষোভ

হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে বিকেলে বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে বৃহস্পতিবার গভীর ...