সৌদিতে নতুন জিহাদ

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

আসিফ আহমেদ

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বয়স মাত্রই ৩২ বছর। কিন্তু ক্ষমতা অপরিসীম। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন, এমনটিই বলা হচ্ছে। কেবল কথায় নয়, কাজেও তার প্রমাণ রাখছেন। তেল বিক্রি করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া দেশটিতে গণতন্ত্রের নাম-নিশানা নেই। সব ক্ষমতা রাজপরিবারের গুটিকয় সদস্যের। বাদশাহের পরিবারের পুরুষ সদস্যরা একেকজন প্রিন্স। তাদের ব্যবসা আছে, ক্ষমতা আছে। জীবন কাটে বিলাস-ব্যসনে। তারা দেশে আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে থাকেন। বিদেশের জীবন আরও জৌলুসপূর্ণ। মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজের দায়িত্ব পাওয়ার পর এ দেশটিতে আমরা লক্ষণীয় কিছু পরিবর্তন দেখছি। যেমন নারীদের অধিকার বেড়েছে। সম্প্রতি একজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ঘোষণা করেছেন, নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক নয়। তাদের শালীন পোশাক পরলেই চলবে- আপাদমস্তক ঢেকে রাখার দরকার নেই। সেখানে এখন নারীরা মাঠে গিয়ে খেলা দেখতে পারে, গাড়ি চালাতে পারে। পরিবারের ভেতরে ও বাইরে আরও কিছু অধিকার তারা পেতে চলেছে। তবে সৌদি যুবরাজ বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে দুর্নীতিবিরোধী জিহাদের জন্য। কিছুদিন আগে গোটা বিশ্ব আকস্মিভাবে শুনতে পেল যে, রাজপরিবারের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যকে একটি নামিদামি হোটেলে রাখা হয়েছে- ফুর্তি করার জন্য নয় মোটেই, বরং এ অবস্থান গ্রেফতারের সমতুল্য। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার হবে কিনা, বিচার হলে কী ধরনের দণ্ড হবে- এসব প্রশ্ন বিশ্বব্যাপী আলোচনা হয়েছে। তবে সর্বশেষ জানা গেছে, এসব ধনবান সৌদি প্রিন্সরা অর্থদণ্ড দিয়েই খালাস পেয়েছেন। তারা দেশে থাকতে পারবেন কিনা, নিজেদের মতপ্রকাশের অবাধ সুযোগ পাবেন কিনা, সৌদি বাদশাহ কিংবা যুবরাজের কাছে 'ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত' হিসেবে বিবেচিত হয় এমন কর্মকাণ্ড চালাতে পারবেন কিনা- এ ধরনের কত প্রশ্ন। তবে আপাতত আমরা জানতে পারছি যে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে দশ হাজার কোটি ডলারের বেশি অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে। বিনিময়ে আটকদের মিলেছে মুক্তি। যারা এ পরিমাণ অর্থদণ্ড হিসেবে দিতে পারে, তাদের কাছে আরও কত অর্থ আছে কে জানে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, 'দুর্নীতিবাজদের' হাতে অন্তত ৮০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে। এ অর্থের বড় অংশই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশে, যেখানে বিনিয়োগ থেকে তারা নিয়মিত মুনাফা পায়। ১০ হাজার ডলারে রফা হওয়ার পর বাদবাকি অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা থেমে যায় কিনা, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

১০ হাজার ডলার বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ লাখ কোটি টাকা। আমাদের চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের আকার চার লাখ কোটি টাকার মতো। সৌদি প্রিন্স ও অন্য দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে যে অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায় করা হয়েছে তা দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান বছরের দুটি বাজেট বাস্তবায়ন করা যায়। এসব ব্যক্তির হাতে অন্তত উদ্ধার হওয়া অর্থের আটগুণ সম্পদ রয়েছে, যা আদায় করা গেলে বাংলাদেশের বর্তমান আকারের অন্তত ১৬টি বাজেট বাস্তবায়ন হতে পারে। এ অর্থ আদায়ের কোনো চেষ্টা ভবিষ্যতে হয় কিনা, সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকা ছাড়া উপায় নেই।

যুবরাজের যে কোনো পদক্ষেপে রাজনীতি থাকা স্বাভাবিক। অনেকে বলছেন, দুর্নীতিবিরোধী জিহাদের ঘোষণা দিলেও তার মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল এবং নিজের ক্ষমতা সংহত করা। দেখা যাক, থলেতে তার আর কী কী আছে। তবে চূড়ান্ত অভিলাষ যাই থাকুক, দুর্নীতির লাগাম টানতে পারলে মন্দ কী!
নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৩ জনের মৃত্যু

নওগাঁয় ট্রাকচাপায় ৩ জনের মৃত্যু

নওগাঁয় ট্রাকচাপায় মটরসাইকেলের দুই আরোহীসহ তিন জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপর: সু চি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে বাংলাদেশের ওপর: সু চি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে সেটি বাংলাদেশের ওপরই নির্ভর করছে ...

এই প্রথম নিজের টাকায় কোরবানি দিচ্ছি: বুবলী

এই প্রথম নিজের টাকায় কোরবানি দিচ্ছি: বুবলী

ঢাকাই ছবির বর্তমান সময়ের আলোচিত নায়িকা শবনম বুবলী। চলচ্চিত্রের অনেকে ...

জন্মদিনে পূজাকে কী উপহার দিলেন জাজের কর্ণধার?

জন্মদিনে পূজাকে কী উপহার দিলেন জাজের কর্ণধার?

এই প্রজন্মের নায়িকা পূজা চেরির জন্মদিন ছিল সোমবার। বিশেষ দিনটি ...

সিধু সম্পর্কে যা বললেন ইমরান

সিধু সম্পর্কে যা বললেন ইমরান

সিধুকে নিয়ে যখন সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় তখন তার পাশে এসে ...

জামিন পেলেন অভিনেত্রী নওশাবা

জামিন পেলেন অভিনেত্রী নওশাবা

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদকে ...

গাছে বাসের ধাক্কা, প্রাণ গেল যাত্রীর

গাছে বাসের ধাক্কা, প্রাণ গেল যাত্রীর

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি ...

কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে রকেট হামলা

কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে রকেট হামলা

তালেবানদের ছোড়া একাধিক রকেটের মধ্যে একটি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ...