খবর-অখবর

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০১৮      

আহসান হাবিব

এক সাংবাদিক বন্ধুর কাছে শুনেছিলাম তার প্রথম দিনের নিউজ ডেস্কের অভিজ্ঞতা। তাকে একটি দুর্ঘটনার খবর অনুবাদ করতে বলা হয়েছিল। সূত্র ছিল দুটি বার্তা সংস্থার প্রতিবেদন- একটিতে বলা হয় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আরেকটিতে মৃত্যু ৮ জন। তিনি ডেস্ক প্রধানকে জিজ্ঞেস করেন- 'কোনটি লিখব?' সঙ্গে সঙ্গে উত্তর আসে- যেটা বেশি, সেটাই লিখবেন।

নেতিবাচক খবরই কি সংবাদমাধ্যমে বেশি গুরুত্ব পায়, এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা আছে। বাংলাদেশের কোথাও চালের মূল্য প্রতি কেজি ৬০ টাকা, কোথাও ৫৮ টাকা। কিন্তু খবরের শিরোনাম বেশিরভাগ পত্রিকায় করা হবে ৬০ টাকাকে ভিত্তি ধরে। ১৯৯৪ সালের দিকে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায় উঠেছিল। তখন একটি পত্রিকা শিরোনাম করেছিল- 'আপেল-পেঁয়াজের এক দর!' সে সময় এক ব্যবসায়ী বলেছিলেন, 'আমি পেঁয়াজ বিক্রি করছিলাম প্রতি কেজি ৩৫ টাকায়। কিন্তু পত্রিকায় দেখি পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকা। তখন পর্যন্ত পাইকারি বাজারে ৪০ টাকা দর ওঠেনি। পত্রিকায় দেখে আমরা কয়েকজন ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে কথা বলি এবং দাম বাড়িয়ে দিই। দেখা গেল, ক্রেতারাও ৪০ টাকা দরে কিনতে আর আপত্তি করছে না। পরে ৪৫ টাকা দর হাঁকলে তাতেও আপত্তি ছিল না।'

বাংলাদেশে বোরো মৌসুমে ইরি জাতের ধান চাষের জন্য প্রচুর রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়। সেচের জন্য দরকার পড়ে বিদ্যুৎ ও ডিজেল। সারের বাজার যখন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সার ব্যবসায়ীরা যখন কৃষকদের কাছে চড়া দাম আদায় করতে থাকে, তখন পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টেলিভিশনে থাকে বিশেষ প্রতিবেদন। কিন্তু যখন বাজার থাকে স্বাভাবিক তখন কেউ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে না। এখন বোরো মৌসুম চলছে। হাওর এলাকায় ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় সবুজ গাছ ক্রমে সোনালি হতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ক্ষতির খবর দিয়েছে সংবাদপত্র কিংবা টেলিভিশন। কিন্তু সাধারণভাবে যে খবর মিলছে তাতে বলা যায়, এবার বোরো মৌসুমে কৃষকের ঘরে ধান উঠবে প্রচুর। এ ধানের জমি চাষের সময় কয়েকটি পর্যায়ে পানি ও সার দিতে হয়। বলতে পারি, এ পর্যন্ত ডিজেলের চড়া দাম কিংবা বিদ্যুতের অভাবে সেচযন্ত্র চালাতে সমস্যা হয়েছে বলে খবর দেখিনি। বোরো ধানের জমিতে সার প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সার প্রাপ্তিতেও কোনো সমস্যা হয়েছে বলে জানা নেই। গত দুই মাসে পত্রিকায় 'সার' শব্দটি কেউ দেখেছে বলেও মনে হয় না। নিশ্চিত করে বলতে পারি, যদি দেশের কোথাও সার প্রাপ্তিতে সামান্য সংকটও দেখা যেত, সেটা সংবাদপত্রে আসতই। বাংলাদেশের শহর ও গ্রাম সর্বত্র এখন বিভিন্ন পত্রিকা কিংবা টেলিভিশনের সাংবাদিক রয়েছেন। সমাজের কোথাও মন্দ কিছু ঘটলে তাদের নজর এড়ায় না। ক্ষমতায় যারা থাকেন তারা বলেন, সামান্য ভুল হলে সেটা বড় করে আসে। কিন্তু সরকার তো অনেক ভালো কাজ করে, সেটা কেন উপেক্ষা করা হয়? প্রকৃতপক্ষে এমন প্রশ্ন বিশ্বের সর্বত্রই উঠে থাকে। গণমাধ্যমের তরফে বলা হয়, অসঙ্গতি তুলে ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। আর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশ ও দশের মঙ্গলে কাজ করে যাওয়া। তারা যদি সঠিক পথে চলেন সেটা খবর নয়। কারণ জনগণ তাদের এ ম্যান্ডেটই দিয়েছে। যখন তারা বিচ্যুত হবেন, সেটাই সামনে নিয়ে আসে গণমাধ্যম, যাতে সরকার সঠিক পথে ফিরে আসে। জনগণও সংবাদপত্র এবং টেলিভিশনের কাছে এটাই আশা করে। ক্ষমতাসীনরা এ বাস্তবতা উপলব্ধি করলেই দেশের কল্যাণ।

পরবর্তী খবর পড়ুন : কৃষকের স্বার্থে চাই আইন

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...