পাহাড়ে সন্ত্রাস রোধে

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০১৮      

আহমদ রফিক

পার্বত্য চট্টগ্রামে রক্তাক্ত অশান্তি বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ অশান্তির ইতিহাস আজকের নয়। সে কাহিনী সবারই জানা। জাতীয় রাজনীতির অদূরদর্শিতা, শান্তিবাহিনী গঠন এবং রক্তাক্ত লড়াইয়ের ইতিহাসের অবসান ঘটাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তিকে সবাই অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। আশা করা হয়েছিল, পাহাড়ে এবার শান্তির সুবাতাস বইবে; কিন্তু সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে।

পাহাড়ে অশান্তি, রাজনৈতিক হত্যা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ডের পর পাল্টা প্রতিশোধমূলক ঘটনা অথবা শান্তিবাদীদের চেষ্টায় সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠা, সমঝোতা ইত্যাদি ঘটনার পর আবার চুক্তি ভঙ্গ, শান্তি নষ্ট ও প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের নাকের ডগায় দুর্বৃত্তদের হামলা এবং কিছু সংখ্যক মানুষের করুণ মৃত্যু।

এতে দেখা যাচ্ছে- উদ্দেশ্যমূলকভাবে, লক্ষ্য স্থির করে রাজনৈতিক 'টার্গেট কিলিং'; সেই সঙ্গে এলোপাতাড়ি সহিংসতার কারণে কিছুসংখ্যক নিরীহ মানুষের মৃত্যু। এরপর যথারীতি পুলিশের অকুস্থলে উপস্থিতি, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসমূলক ঘোষণা, দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনার অঙ্গীকার, তাদের ধরার উদ্দেশ্যে পাহাড়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা ইত্যাদি ঘটনা যেন এক ছকে বাঁধা কাহিনী। ক্রাইম থ্রিলারের কল্পকাহিনীর মতো; তবে পরিণাম বা উপসংহার এক নয়, এই যা।

আমাদের জানতে ইচ্ছা করে- ধারাবাহিক নিষ্ঠুরতায় সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ডের নায়ক দুর্বৃত্তদের ক'জন এ তাবৎ পরিচালিত যৌথ অভিযানে ধরা পড়েছে এবং শাস্তি হয়েছে? সংবাদমাধ্যমে তেমন কোনো তথ্যাদি মেলে না। অথচ এ ঘটনা আজকাল-পরশুর নয়। যতদূর মনে পড়ে, সাম্প্রতিককালের এসব খুনখারাবির সূচনা সন্তু লারমা বনাম সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদের কারণে।

দ্বিভাজিত রাজনৈতিক মতামত পূর্বোক্ত শান্তিচুক্তি নিয়ে। নমনীয় রাজনীতির প্রবক্তা সন্তু লারমাও কিন্তু আজ পর্যন্ত খুশি নন শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে। কারণ, চুক্তির সব শর্ত আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, যা নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী সময়ে বছরের পর বছর সন্তু লারমার আক্ষেপ, আবেদন, নিবেদন প্রকাশ পেয়েছে সংবাদপত্রে।

ইদানীং অর্থাৎ অতিসম্প্রতি তার খেদ-আক্ষেপ কমই শুনতে পাওয়া যায়। তিনি বুঝে গেছেন- ও জিনিসটা আর হবার নয়। পাহাড়িদের দাবি মেটাতে ও চলমান সহিংসতার ব্যাপকতা বন্ধ করতে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাহাড়ি তরুণদের একাংশ মনে হয় বুঝতে পেরেছিল ওই চুক্তির পরিণাম ও ভবিষ্যৎ। তাই তারা উগ্রপন্থায় ফিরে যায়। আশ্রয় নেয় গভীর অরণ্যে।

তাদের দাবি, পাহাড়ি আদিবাসীদের ঐতিহ্যিক অধিকার, যা নিয়ে লড়াই চলছে বিদেশি শাসনামল থেকে। তাই এবার তাদের নতুন দাবি, পাহাড়ি জনমনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং নির্ধারিত কিছু অধিকার ইত্যাদি। এ দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিস্তর, বিশেষ করে সরকারি মহলে।

তার চেয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন : পাহাড়ে পূর্ণ শান্তি স্থাপন, নিরীহ, সাধারণ মানুষ তথা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে প্রশাসনে রয়েছে গয়াগচ্ছ ভাব। পার্বত্য চট্টগ্রামের রক্তলাল অশান্তি যে শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যাই নয়, এটি জাতীয় সমস্যাও বটে এবং তা যথাসম্ভব দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাতে হবে- এমন ধারণার অভাব লক্ষ্য করার মতো, সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ মহলে।

এ জাতীয় চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে, পাহাড়ে রক্ত ঝরা বন্ধের স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করা না হলে এ অঞ্চলে রক্তের হোলি খেলা দেখা বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিভাজক চরিত্রের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে পাহাড়েও নতুন নতুন উগ্র-অনুগ্র রাজনীতির সংগঠন গড়ে উঠছে।

বলা বাহুল্য, এর পরিণাম শুভ নয়, পাহাড়ি জনগণের জন্য মঙ্গলদায়কও নয়। পাহাড়ি তারুণ্যের রক্তাক্ত রাজনীতির নেশা বন্ধ করতে পাহাড়ি সমাজের প্রতিরোধমূলক মানসিকতাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার ব্যবস্থা। সামাজিক সমর্থন ছাড়া উগ্রপন্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না- এ দেশে বিদেশি শাসনে উগ্র বিপ্লবিয়ানা ও গুপ্তহত্যা রাজনীতির অবশেষ পরিণাম তার প্রমাণ।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে অবস্থা কিছুটা ভিন্ন। এখানে রয়েছে বিশাল গভীর অরণ্য, যেখানে সহজেই আশ্রয় নেওয়া, লুকিয়ে থাকা যায় এক দফা সহিংসতার দাবি নিয়ে। কিন্তু অরণ্য তো দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে পারে না। তাই অরণ্যাশ্রয়ীদেরও সাময়িক ফিরতে হয় সমাজে, সংগোপনে। পাহাড়ি সমাজ এদিক থেকে একই রকম রাজনৈতিক ধারায় বিভাজিত তাদের সমর্থন ও বিরোধিতা নিয়ে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সমাজ হত্যাকাণ্ড বন্ধে একাত্ম হতে পারছে না। যে কারণে লাশ পড়ছে থেকে থেকে, তাদেরই ভাইবোনদের তাদেরই হাতে।

দুই.

বাস্তবিক চট্টগ্রাম পাহাড়ে শান্তির স্বপ্ন এখন পর্যন্ত অধরাই রয়ে গেছে। শান্তিবাহিনীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনাসাপেক্ষে বিদেশভূমি থেকে তাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবর্তন এবং শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশে জীবনযাপনের প্রত্যাশায় কোনো ভুল ছিল না। ওরা তো জানত না সেই আউলিয়া বাক্যের বাস্তবতা :হনুজ শান্তি দূরঅস্ত। শান্ত উপত্যকা আর শান্তির উপত্যকা নয়। রাজনীতির টানাপড়েনে অশান্তি হয়ে থাকছে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী।

জাতীয় রাজনীতির যেমন তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে না, তেমনি তাদের এক দফার রাজনীতি হবে বহুধাবিভক্ত। তাও আবার শান্তিপূর্ণ, রক্তাক্ত অশান্তিপূর্ণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ অবস্থায় শান্তির পায়রা কীভাবে উড়বে আকাশে? আঞ্চলিক রাজনীতির পাশাপাশি রয়েছে জাতীয় রাজনীতি, যার ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশ্নবিদ্ধ।

তাই পাহাড় ভাঙছে, মানুষ মরছে, রাজনৈতিক ভিন্ন মতের অসহিষুষ্ণতায় সহিংসতার আগুন জ্বলছে, লাশ পড়ছে বুলেট-ঝাঁঝরা হয়ে, রক্তে ভাসছে পাহাড়ি জনপদ। এ অবস্থার অবসান দরকার। কিন্তু থেকে থেকে হিংসা-প্রতিক্রিয়ায় অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়ি জনপদ। হিংসা-প্রতিহিংসার লড়াই বন্ধ হচ্ছে না। পাহাড়ের পাথুরে মাটি রক্ত শুকে নিচ্ছে না, বরং প্রতিহিংসার রক্ত ছাপ এঁকে চলেছে। এখানে চাই শান্তি ও অহিংসার বার্তা।

দেশের একাংশে নিয়মিত হিংসার রক্তছাপ ও লাশ পড়তে থাকার ঘটনা বন্ধ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রের এগিয়ে আসা দরকার ওখানকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। এ পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রয়েছে শান্তির জন্য প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা। অর্থাৎ স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির দফাভিত্তিক বাস্তবায়ন। এ বিষয়ে সরকারি সদিচ্ছা যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পরবর্তী পর্যায়ে পাহাড়ে বিবদমান দলগুলোকে নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক অপরিহার্য, একাধিকবার বৈঠক, যতক্ষণ পর্যন্ত শান্তির নতুন সমঝোতামূলক বাতাবরণ তৈরি না হয়। সরকার এমন ভাবতে পারে, আঞ্চলিক রাজনীতির দলাদলি, অন্তর্কলহে তারা নাক গলাতে যাবে কেন? এ প্রশ্নের যৌক্তিকতা এখানে শেষ হয়ে যায় না এ কারণে যে, দেশের একটি অংশে ক্রমাগত রক্ত ঝরতে থাকবে, তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে, তাতে মুক্তির সায় মেলে না।

দেশের নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও প্রাণরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রযন্ত্রের বলেই সে সহিংসতার অবসানে তাদের হস্তক্ষেপ বাঞ্ছিত। সে হস্তক্ষেপ অবশ্য হতে হবে উদার মানবিক চেতনার অভিভাবকের মতো। সেনাবাহিনী মোতায়েনে, পাল্টা ব্রাশফায়ারে হত্যা সমস্যার সঠিক সমাধান নয়। একটি হত্যা আরেকটি পাল্টা হত্যার যুক্তি তৈরি করে।

অভিভাবকের দায়িত্ব পাল্টা সহিংসতার ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এসে একটি সার্বজনীন শান্তির লক্ষ্যে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করা। উগ্রপন্থি পাহাড়ি তরুণদের দাবি-দাওয়ার যুক্তিসঙ্গত অংশ বিবেচনায় নেওয়া দরকার, লক্ষ্য সহিংসতার জেরে রক্তপাত বন্ধ করা। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, আঞ্চলিক রাজনীতির বিভাজন-বিরোধিতা ইত্যাদি সমস্যা সমাধানের দায় সংশ্নিষ্টদেরই। এ কথায় যুক্তি আছে। আবার এ কথাও প্রবাদ বাক্যের ভাষ্যে ঠিক যে, বিরোধ মেটাতে অভিভাবকের যুক্তিপূর্ণ উপস্থিতি অপরিহার্য।

আমরা চাই না, দেশবাসী কেউ চাইবে না- দেশের অঞ্চলবিশেষে অবিরাম রক্ত ঝরুক, লাশ পড়ূক, মায়ের বুক খালি হোক, গৃহিণী সঙ্গীহারা হোক, সন্তান পিতৃহারা হোক। সভ্য সমাজে এমনটিই কাম্য। আর এ কারণেই আমাদের আহ্বান : পাহাড়ে রক্তপাত বন্ধের স্থায়ী ব্যবস্থায় সরকার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসুক, বৈঠকে বসুক, স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালায়।

এ বিষয়ে আমাদের প্রধান কথা হলো- সমাধানটি হবে রাজনৈতিক; অস্ত্রের মুখে নয়। কোনো কল্পনা চাকমা গুম হওয়ার মধ্যে সমাধান নেই। এসব ক্ষেত্রে কোনো সামরিক ব্যবস্থা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। একবিন্দু রক্ত স্রোত তৈরি করতে পারে। যেমন ভিন্ন অর্থে একটি স্ম্ফুলিঙ্গ দাবানল তৈরি করতে পারে। সত্যি বলতে কি- যুক্তি, সহিষুষ্ণতা ও সমঝোতার বিকল্প নেই।

শেষ কথা হলো, পাহাড়ে সন্ত্রাস ও হত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সমন্বিত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করব, সরকার সমস্যা সমাধানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবে।

ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র গবেষক

পরবর্তী খবর পড়ুন : আমার ভাষা আমার দায়িত্ব

ইলিশ উৎপাদন এ বছর ৫ লাখ টন ছাড়াবে

ইলিশ উৎপাদন এ বছর ৫ লাখ টন ছাড়াবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেছেন, চলতি বছর ইলিশের ...

গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হেফাজত নেতা

গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হেফাজত নেতা

ফটিকছড়ির নাজিরহাট পৌরসভা সদরে এহসান সোসাইটি নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ...

সরকারি হলো আরও ৪৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সরকারি হলো আরও ৪৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

দেশের বিভিন্ন উপজেলার আরও ৪৩টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা ...

বাংলা ভাষা ও বই কখনও অস্তমিত হবে না, লন্ডন বইমেলায় বক্তারা

বাংলা ভাষা ও বই কখনও অস্তমিত হবে না, লন্ডন বইমেলায় বক্তারা

যা শোভাবর্ধন করে তাকেই বলা হয় অলংকার। শরীরকে চাকচিক্যময় রাখতে ...

কালাইয়ে সমকাল প্রতিনিধির ওপর হামলা

কালাইয়ে সমকাল প্রতিনিধির ওপর হামলা

দৈনিক সমকালের জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলা প্রতিনিধি শাহারুল আলমের ওপর ...

অবশেষে প্রেমের জয়

অবশেষে প্রেমের জয়

গত কয়েক দিনের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জয় হলো ...

জয়টা জীবনের সেরা মুহূর্ত: মুস্তাফিজ

জয়টা জীবনের সেরা মুহূর্ত: মুস্তাফিজ

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে 'সুপার ওভারের' মতো ...

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ডিএসসিসি

গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ডিএসসিসি

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি দিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়েছে ঢাকা ...