রাজনীতির অঙ্গনে চেনা-অচেনা রূপ

সময়ের কথা

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

অজয় দাশগুপ্ত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'শেখ হাসিনার সরকার পতনের মহালগ্ন উপস্থিত হয়েছে।' রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি জনপ্রিয় ছাত্রনেতার এ বক্তব্যের ঢঙটি আমাদের চেনা; তবে বাস্তবের সঙ্গে প্রত্যাশার কতটা মিল রয়েছে- সেটা নিয়ে অনেকেই হয়তো প্রশ্ন তুলবেন।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান এবং বঙ্গবন্ধু সরকারের আইন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, 'দেশের পরিস্থিতি এমন হচ্ছে যে, নির্বাচন নাও হতে পারে। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।'

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা এতে ঠাঁই পেয়েছিলেন। বিএনপিকে এ মন্ত্রিসভায় যোগ দিতে শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, স্বরাষ্ট্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় তাদের দেওয়া হবে। কিন্তু তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকারে অংশ নিতে রাজি হয়নি। তাদের দাবি ছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সেটা তারা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করে নিতে পারবে- এমন দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। বাস্তবে সেটা ঘটেনি। বিএনপি তার জোটসঙ্গীদের নিয়ে নির্বাচন বর্জন করে এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকেই আবার যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে চলেছেন, তাতে বিএনপির কোনো সদস্যের থাকার সুযোগ নেই। কারণ এ সরকারে মন্ত্রী হতে হলে সংসদ সদস্য হতে হবে। ২০১৩ সালের সরকারে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।

রুহুল কবির রিজভী 'সরকার পতনের যে মহালগ্ন' উপস্থিত দেখছেন, সেটা যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে 'একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নাও হতে পারে' বলে ড. কামাল হোসেন যে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সেটা বাস্তবে রূপ নিতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে- এই মহালগ্ন যে উপস্থিত, সেটা বুঝব কী করে? ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যখন খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি এ নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়েছিল; কিন্তু দেড় মাসেরও কম সময় তিনি দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী থাকতে পেরেছিলেন। বাস্তবে সেই নির্বাচন সরকার পতনের মহালগ্ন যে উপস্থিত তার যাবতীয় লক্ষণ দেশবাসীর সামনে নিয়ে এসেছিল। রাজপথ ছিল উত্তপ্ত। হরতাল-অবরোধে জনজীবন বিপর্যস্ত। এখন সে অবস্থা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের কোটা সংস্কার ইস্যুতে কিংবা স্কুল-কলেজ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা যেন 'সরকার পতনের মহালগ্ন' উপস্থিত করে, এমন চেষ্টা হয়েছিল বৈকি। কিন্তু সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক বেশি বাস্তববাদী। তিনি সময়মতো পরিস্থিতির রাশ টেনে ধরতে পারেন, কখনও আলগা করে দিতে পারেন এবং নিজের পছন্দের পথে তা পরিচালনা করতে পারেন- এমন বিচক্ষণতা একাধিকবার দেখিয়েছেন।

বর্তমান জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন বসছে ৯ সেপ্টেম্বর। বিএনপির আশা, দেশ-বিদেশের চাপে শেখ হাসিনা এমনভাবে সংবিধান সংশোধন করবেন, যাতে তিনি আর নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন না। বরং এমন একটি সরকার গঠনের দাবি মেনে নেবেন, যে সরকার নির্বাচন পরিচালনা করবে। তারা এটাও চাইছেন যে, এ ধরনের সরকার এমন পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যাতে বিএনপি বড় মুখ নিয়ে মাঠে নেমে পড়তে পারে। ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেমন অনুকূল পরিবেশ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জন্য সৃষ্টি করেছিল, তেমনটিই করবে এ সরকার, যার ব্যবস্থা করে দেবেন শেখ হাসিনা। অর্থাৎ শেখ হাসিনা নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন কিংবা নিজে যে গাছের ডালে বসে আছেন তা কেটে দেবেন, যাতে তার দল ও জোটের সরকার ধপাস করে মাটিতে পড়ে যায় এবং হাত-পা ভাঙে। দেখা যাক, তেমনটি তিনি করেন কিনা।

২০০৬ সালেও আমরা বিরোধীদের বড় ধরনের দাবি আদায়ে সফল হতে দেখেছি। বিএনপি সংবিধান সংশোধন করেছিল এমনভাবে, যেন বিএনপির সাবেক নেতা বিচারপতি কেএম হাসান নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দল ও মহাজোট (যাতে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ, ড. কামাল হোসেন এবং ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীও শরিক ছিলেন) 'লগি-বৈঠার' আন্দোলন করে সে চেষ্টা ভণ্ডুল করে দেন। এরপর বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সংবিধানের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের কারণে তিনিও নির্বাচন পরিচালনা করতে পারেননি। এ দায় বর্তায় ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বিশেষ ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর, যার পরিণতিতে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসে।

সরকারবিরোধী পক্ষ সরকারকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করতে যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তার কিছু লক্ষণ নানাভাবে প্রকাশ পায়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টিতে মরিয়া ছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। তারা নিযমিত হরতাল-অবরোধ ডাকছিল। বোমাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ছিল ব্যাপক। ২০১৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে ফোন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনার আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব ছিল, টানা হরতাল প্রত্যাহার করে গণভবনে চলে আসুন সদলবলে। কিন্তু খালেদা জিয়া হরতাল প্রত্যাহারে রাজি হননি। তিনি হয়তো প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাবকে ফাঁদ পাতা জাতীয় কিছু মনে করেছিলেন। এ ধরনের আস্থাহীনতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতার মনোভাব আমাদের কাছে আসার অনেক ভালো সুযোগ নষ্ট করে দেয় বৈকি।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী এখন যুক্তফ্রন্টের প্রেসিডেন্ট ও বিকল্পধারা, বাংলাদেশ-এর সভাপতি। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আ স ম আবদুর রব, ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ কয়েকজন সুপরিচিত রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তি কয়েকদিন আগে বৈঠক করে সাত দফা প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন। তারা সুষ্ঠু নির্বাচন ও সুশাসন চাইছেন এবং এ জন্য রাজপথে নামবেন বলে জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এ ইস্যুতে খুশি হওয়ার কথা নয়। তবে তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধী দল বাদ দিয়ে সব সমমনা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলগুলোকে এক করা। যুক্তফ্রন্টের তরফে এ ধরনের দাবি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে নতুন, যথেষ্টই অচেনা। আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতির যে ধারা আমরা গত সাড়ে চার দশক ধরে দেখছি, তার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন তার মহাসচিব। বিএনপি সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিসর্জন দিয়েছিল। ভারতকেই বাংলাদেশের যাবতীয় সমস্যার জন্য দায়ী করছিল। এটা যথার্থ অবস্থান ছিল না এবং এর দায় তো তিনি এড়াতে পারেন না। আ স ম আবদুর রব ১৯৭২ সালের অক্টোবরে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ গঠন করেন। তখন থেকেই এ দলটিও ভারত-বিরোধিতাকে জনগণকে পাশে পাওয়ার হাতিয়ার করেছিল। ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমান তার রাজনৈতিক ক্ষমতা সংহত করার জন্য জাসদকে ব্যবহার করেছিলেন। ক্ষমতা সংহত করে তিনি জাসদকে শায়েস্তা করেন দমন-পীড়ন চালিয়ে। একই সঙ্গে তিনি ভারত-বিরোধিতাকেই রাজনীতির অঙ্গনে টিকে থাকার অন্যতম মূলধন করেন।

'জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য স্বাধীনতাবিরোধী দল বাদ দিয়ে সব সমমনা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলগুলোকে এক করার' যে ঘোষণা যুক্তফ্রন্ট দিয়েছে, আওয়ামী লীগ ও তাদের জোটসঙ্গীরা তাকে স্বাগত জানাতেই পারে। কারণ, তারাও একই কথা বলছেন। তবে তারা উদ্বিগ্ন হতে পারেন এটা ভেবে যে, এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সর্বপর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রয়াস পাচ্ছেন কিনা। বিশ্বব্যাপী ইসলামী মৌলবাদ সক্রিয়। আল কায়দা, আইএস, তালেবান তাদের একেকটি ফ্রন্ট। বাংলাদেশকে তারা কব্জায় নিতে চায়। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে তারা স্বাভাবিক মিত্র মনে করে। আরও কয়েকটি ধর্মান্ধ চরমপন্থি জোটকে তারা বন্ধু মনে করে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা এই শক্তির কাছে অগ্রহণযোগ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ও নরেন্দ্র মোদির ভারতের কাছে ইসলামী চরমপন্থার সমর্থক দলগুলো তেমন গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের বিজেপি ও কংগ্রেসের সুসম্পর্ক রয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি ধরে নিয়েছিল, আওয়ামী লীগ আর দিল্লির সমর্থন পাবে না। কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটেনি। বিএনপি এখন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইছে। যদিও দু'পক্ষের মধ্যে এখন পর্যন্ত আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র খালাস করা হয়েছিল ভারতের আসাম এলাকায় বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় গোষ্ঠী উলফার জন্য। এ গোষ্ঠীর পাশে ছিল পাকিস্তানের ধর্মান্ধ শক্তি এবং গোয়েন্দা বিভাগ। এই অস্ত্র নির্বিঘ্নে ভারতের বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছে দিতে বিএনপি সরকার পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছিল, এমনই অভিযোগ ভারতের। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী যে ধর্মান্ধ গোষ্ঠী সক্রিয় (যাদের একটি অংশ ভারতের ইসলামী চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে কাজ করছে বলে দিল্লি মনে করে), তাদের সঙ্গে বিএনপির বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বিএনপি এ ধারণা দূর করতে সচেষ্ট রয়েছে, এমন লক্ষণ স্পষ্ট। সম্প্রতি এ দলের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে এসেছে। তারা ক্ষমতায় এলে ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে আর যুক্ত থাকবে না, এমন আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা যায়। ড. কামাল হোসেন ও বদরুদ্দোজা চৌধুরীও কি এমন আশ্বাস দিতে চাইছেন? তারা কি মনে করছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে 'অসাম্প্রদায়িক' অবস্থান গ্রহণ করলে ভারতের কাছে অধিকতর কদর মিলবে এবং ভারত আওয়ামী লীগকে সরিয়ে বিএনপিকে নয়, তাদেরকেই ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করবে? আর যেহেতু এ অঞ্চলের বিষয়ে যে কোনো বড় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে বিশেষ গুরুত্ব দেবে, তাই সাত দফার প্রথম দফার টার্গেট স্পষ্ট- দিল্লির কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তোলা? আমরা এটাও মনে করতে পারি যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের বাসভবনে দাওয়াত খেতে গিয়ে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদপুরের একদল কর্মীর হামলার মুখে পড়েছিলেন। বিশ্বের প্রধান সামরিক শক্তিধর দেশটির রাষ্ট্রদূতের প্রতি এহেন আচরণ কী পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সে বিষয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীরই হয়তো ধারণা নেই। এ ঘটনা বিএনপিকে খুশি করেছে। আওয়ামী লীগবিরোধী আরও কিছু শক্তিও খুশি হয়েছে। দেখা যাক, এ ধরনের অবিমৃষ্যকারী আচরণের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার মতো কঠোর অবস্থানে যায় কিনা। তবে তারা একা চললেই তো হবে না। তাদের পাশে পেতে হবে বিশেষভাবে ভারতকে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে। যুক্তফ্রন্ট নেতারা হয়তো ভাবছেন, 'অসাম্প্রদায়িক' অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র্র ও ভারত গ্রহণ করলে তাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়তেও পারে!

রাজনীতির অঙ্গনে চেনা-অচেনা রূপ নিয়ে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। এর কোনোটা বুঝতে পারি, কোনোটা পারি না। সামনের কয়েকটি মাসেও তা অব্যাহত থাকবে, তাতে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন পূরণ যারা করতে চাইছেন, তারা নিশ্চয়ই পরিস্থিতির প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখবেন।

সাংবাদিক
ajoydg@gmail.com

নিয়ম রক্ষার ম্যাচে বিকেলে মুখোমুখি ভারত-আফগানিস্তান

নিয়ম রক্ষার ম্যাচে বিকেলে মুখোমুখি ভারত-আফগানিস্তান

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে ভারত-আফগানিস্তানের আজ মঙ্গলবারের ম্যাচটি শুধুই নিয়ম ...

গভীর সমুদ্রে ৪৯ দিন ভেসে থেকে বেঁচে ফিরলেন যিনি

গভীর সমুদ্রে ৪৯ দিন ভেসে থেকে বেঁচে ফিরলেন যিনি

গভীর সমুদ্রে টানা ৪৯ দিন ভেসে ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার আলদি নোভেল ...

ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ মডরিচ

ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ মডরিচ

রোনালদো ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যান নি। তাতেই ...

ঐক্যের চাপে বিএনপি

ঐক্যের চাপে বিএনপি

সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে 'বৃহত্তর জাতীয় ...

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...