পুরো রাজধানী যেন ইফতারি বাজার

প্রকাশ: ২০ জুন ২০১৫      

সমকাল প্রতিবেদক

পুরো রাজধানী যেন ইফতারি বাজার

রমজানের প্রথম দিনে শুক্রবার চকবাজারে সাজানো ইফতারির পসরা সমকাল

এসেছে সিয়াম সাধনার মাস রমজান। বদলে গেছে জীবনধারা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সুবেহ সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত আছেন রোজাদাররা। আত্মশুদ্ধি অর্জনে আচার-ব্যবহারে নমনীয় সবাই। মানুষ যেমন বদলে গেছে, তেমন বদলে গেছে রাজধানীর নিত্যদিনের চেহারাও। হোটেল-রেস্তোরাঁ, মসজিদ, বিপণিবিতান, বাজারগুলোর পথের ধার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার ফুটপাতসহ পুরো শহরই পরিণত হয়েছে ইফতারি বাজারে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, চকবাজার আর বেইলি রোডে ছিল ইফতারির সবচেয়ে বড় আয়োজন। তবে বরাবরের মতো এবারও এমন কোনো মোড়, গলি, সড়ক নেই যেখানে বসেনি ইফতারির বাজার। ফুটপাতের সস্তার ভাতের দোকান থেকে শুরু করে পাঁচতারকা হোটেল_ সর্বত্র ইফতারির আয়োজন। তবে এবার ইফতারির মূল কেন্দ্র চকবাজারে ভিড় ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় কম। মাসের মাঝখানে রোজা শুরু হওয়ায় এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন বিক্রেতারা। তবে উচ্চমূল্যের কারণে ভিড় কম বলে মনে করেন ক্রেতারা।
রোজার প্রথম দিনে জুমার নামাজের পর থেকেই দোকানে দোকানে শুরু হয়ে যায় ইফতারি তৈরির প্রস্তুতি। চুলায় টগবগ করে ফুটছে তেল। ডুবোতেলে ভাজা চলছে বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ, জিলাপিসহ কত পদের খাবার! পাশেই টেবিল পেতে বিক্রি। দোকানের সংখ্যা যেমন অগণন, ক্রেতাও তেমনই।
চকবাজার শাহি মসজিদের সামনের রাস্তায় বরাবরের মতো যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বসেছে রাজধানীর সবচেয়ে বড় ইফতারির বাজার। বড় বাপের পোলায় খায়, শিক কাবাব, সুতি কাবাব, ছোপা রুস্তম, মুঠিয়া,
বটি কাবাব, জালি কাবাব, রেশমি কাবাব, পাখির রোস্ট, মুরগির রোস্ট, মুরগ মোসাল্লাম, সমুচা, শিঙ্গাড়া, ঘুগনি, ছোলা, পেঁয়াজু, জিলাপি_ শত পদের সমাহার চকে।
প্রায় দেড়শ' বছরের পুরনো বাজারে দুপুর থেকেই ক্রেতা আসেন। বিকেলে পা ফেলা দায় হলেও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভিড় হালকা হয়ে যায়। চকের চরিত্রই এমন। দুপুরের পর জমে ওঠে সন্ধ্যার আগেই শূন্য। চকবাজারে ৪৪ বছর ধরে সুতি কাবাব বিক্রি করেন আলী হোসেন। তিনিই জানালেন সে কথা। গত কয়েক বছরে পত্রিকা-টিভিতে সাক্ষাৎকার দিয়ে দিয়ে তিনি এখন তারকা কাবাব বিক্রেতা। দোকানের সামনে ঝুলিয়ে রেখেছেন তার কাবাব নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের লেমিনেটেড কপি। চকের প্রায় সব দোকানই এমন বয়েসী। ঐতিহ্যের স্মারক।
চকে ইফতার করবেন বলে ছয় বন্ধু এসেছেন কেরানীগঞ্জের শাক্তা থেকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লালবাগ থানার বিপরীতে মার্কেটের ছাদে গোল হয়ে ইফতারি মাখানোতে ব্যস্ত। তাদের একজন মুস্তাফা জামান। চকের ইফতারির খ্যাতিই তাকে টেনে এনেছে।
এবারও প্রথম ইফতারের স্যাটেলাইট টিভির ক্যামেরার ভিড় চকে। ক্রেতা-বিক্রেতারা লাইভ মতামত দিলেন, 'বিশেষজ্ঞ' অভিমতও জানালেন। উচ্চমূল্যের ক্ষোভ বিক্রেতাদের ওপর না ঝেড়ে সাংবাদিকদের ওপর ঝাড়লেন ক্রেতারা। দাম কেন নিয়ন্ত্রণহীন_ তার কারণ জানতে চাইলেন সাংবাদিকদের কাছে।
বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, চকের বেশিরভাগই খাবারই মাংসের তৈরি। ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়ায় গরুর মাংসের দাম চড়া। তাই দাম বেড়েছে খাবারের। কিন্তু সব দোকানে দাম কিন্তু এক রকম নয়। যেমন সুতি কাবাব আলী হোসেনের দোকানে ৪০০ টাকা কেজি। আবার সেলিম বাবুর্চির দোকানে ৭০০ টাকা। ১০ কদম ব্যবধানে ৩০০ টাকা কেন পার্থক্য_ সেলিম বাবুর্চির জবাব, গত এক বছরে মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫০ টাকা। তা তো মানলাম কিন্তু দুই দোকানে দুই দাম কেন? এ প্রশ্নে সবার উত্তর একটাই_ আমারটাই সেরা, তাই দাম বেশি।
জুম্মন বেপারী ৩২ বছর ধরে চকে বিক্রি করছেন কাবাব, রোস্ট, 'বড় বাপের পোলায় খায়'। সবই মাংসের খাবার। বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা, হাঁসের রোস্ট ৩০০ টাকা, মুরগি ২০০ টাকা, কোয়েল পাখির রোস্ট ৬০ টাকা। খাসির কাবাব ৮০০ টাকা, খাসির পায়া ৪০০ টাকা। গতবারের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি। আলাউদ্দিন সুইটসের কিমা পরোটার দাম দ্বিগুণ হয়ে ৫০ টাকা হয়েছে এক বছরে। এখানেও কারণ দেখানো হচ্ছে মাংসের দাম বৃদ্ধি।
দইবড়া বাটিভেদে দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা। রহমানিয়া রেস্টুরেন্টে ফিরনি ১৫ থেকে ৬০, বোরহানি ১০০ টাকা লিটার। আনন্দ রেস্টুরেন্টের নার্গিস কাবাব ১৫ টাকা। হালিম প্রকারভেদে ৩০০ থেকেট ৫০০ টাকা। জিলাপি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। শাহি জিলাপি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকায়।
ইফতারিতে শরবতে বিখ্যাত পুরান ঢাকার শতবর্ষী নূরানী কোল্ড ড্রিংকস ও বিউটি। আম, বেল, কাশ্মীরি শরবত, লাবাংয়ের চাহিদা বেশি। আর ফালুদা তো চকের সব দোকানেই আছে।
বেইলি রোডে অবশ্য ভিড় আগের মতোই। সবচেয়ে বড় আয়োজন ফখরুদ্দিন ফুডসের। ধানম ির স্টারসহ অন্যান্য রেস্তোরাঁতেও ছিল ইফতারির বিশাল সমাহার। শুধু চক আর বেইলি রোড নয়; পুরান ঢাকার হোটেল আল-রাজ্জাক, হোটেল স্টার, আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি, নান্নার মোরগ-পোলাও, ঝুন্নুর মোরগ-পোলাও, মোহাম্মদপুরের মোস্তাকিনের চাপ, কলাবাগানের মামা হালিমও সাজিয়েছে ইফতারির পসরা।




পরবর্তী খবর পড়ুন : পেঁয়াজে ঝাঁজ মরিচে ঝাল

'আর কারও সন্তান যেন জঙ্গি না হয়'

'আর কারও সন্তান যেন জঙ্গি না হয়'

'আমি হতভাগ্য পিতা, আবার হতভাগ্য দাদাও। জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প আমার সন্তান ...

১২ অস্ত্রধারী চিহ্নিত

১২ অস্ত্রধারী চিহ্নিত

নারায়ণগঞ্জে হকার ইস্যুতে গত মঙ্গলবারের সহিংস ঘটনায় ১২ অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত ...

আবাসন কোম্পানির কব্জায় সরকারি সম্পত্তি

আবাসন কোম্পানির কব্জায় সরকারি সম্পত্তি

সাভারে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, অবাধে দখল হচ্ছে সরকারি জমিও। ...

 দুর্গাসাগরে এসেই ফিরে গেল অতিথি পাখিরা

দুর্গাসাগরে এসেই ফিরে গেল অতিথি পাখিরা

দীর্ঘ এক দশক পর দুর্গাসাগরে এসেছিল একঝাঁক অতিথি পাখি। তবে ...

 নির্ভার আওয়ামী লীগ বিএনপিতে দুশ্চিন্তা

নির্ভার আওয়ামী লীগ বিএনপিতে দুশ্চিন্তা

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে বর্তমান এমপি ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ...

সেই রশিদ তবুও মন্ত্রণালয়ের সুনজরে

সেই রশিদ তবুও মন্ত্রণালয়ের সুনজরে

কুষ্টিয়ার গুদামগুলোতে ধারণ ক্ষমতা না থাকলেও নতুন করে এখানে আমন ...

জিতলেই ফাইনালে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলংকার টিকে থাকার লড়াই

জিতলেই ফাইনালে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলংকার টিকে থাকার লড়াই

ঢাকায় নামার পরদিন চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে এক গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করেছিলেন, গত ...

এ সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হতে পারে

এ সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হতে পারে

চলতি সপ্তাহে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। কে হচ্ছেন ...