সংসদে প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করা হয়নি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপিপ্রধান খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে বন্দি করা হয়নি। এতিমের টাকা চুরির অপরাধে আদালতের বিচারে তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার এই কর্মকাণ্ড নারী জাতির জন্য কলঙ্ক।

গতকাল বুধবার সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংরক্ষিত আসনের নুরজাহান বেগমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার করতে চাইলে খালেদা জিয়াকে আরও আগেই গ্রেফতার করা যেত। এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে কারাগারে খালেদা জিয়া বন্দি। আর তা হয়েছে আদালতের রায়ে। রাজনৈতিকভাবে সরকার তাকে গ্রেফতার করেনি। তা করলে ২০১৪ বা ২০১৫ সালে করা যেত।

খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলা প্রসঙ্গে সংসদ নেতা আরও বলেন, একজন নারী হয়ে এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করার কথা তো কখনও চিন্তাও করা যায় না। সামান্য কয়টা টাকা এতিমরা পাবে। এই টাকা নিয়ে দশ বছর মামলা চলল, এখন কারাগারে বন্দি। দশ বছর মামলায় লড়লেন বিএনপির জাঁদরেল আইনজীবী ও ব্যারিস্টার। তারা কেউ প্রমাণ করতে পারেননি তিনি নির্দোষ। উল্টো মামলার রায় বের হওয়ার আগে তারা দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দুর্নীতিবাজকে দলের নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দিল। এর অর্থ তারা জানেন খালেদা জিয়া অপরাধী। এজন্য রায়ের আগেই এটা সংশোধন করা হয়েছে। এটা নারী জাতির জন্য লজ্জার। কারণ, একজন নারী মানে একজন মা। একজন মা হয়ে এতিমের টাকা কী করে চুরি করে বা অপব্যবহার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সুষ্ঠু ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। ২০১৪ সালে তিনি ক্ষমতায় ক্ষমতায় আসতে পেরেছেন বলেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রাখতে পেরেছেন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক সেটাই তারা চান।

বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলন, বর্তমান সরকারের সময়ে ছয় হাজারের ওপর নির্বাচন হয়েছে। কেউ তো কোনো নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বিএনপির আমলের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা সবার মনে আছে। ২০০৬ সালে তারা যখন নির্বাচন করার প্রচেষ্টা করেছিল তখনও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে কতজনকে নির্বাচিত ঘোষণাও দিয়েছিল।

এর আগে সংরক্ষিত আসনের নূরজাহান বেগমের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে এক কোটি ৮৫ লাখ ৪০ হাজার ৫৯ ছাত্রীকে তিন হাজার ৪৪৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উপবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। একই সদস্যের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ক্ষেত্রসহ সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নারী উন্নয়নে সরকারের এই কার্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় এলে সরকার কী কী মেগা প্রকল্প গ্রহণ করবে- জাতীয় পার্টির সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়নের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়। প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তর করা হবে। নাগরিক সুবিধা গ্রামের মানুষ সম্পূর্ণভাবে পাবে। সেইভাবে গ্রামকে তৈরি করা হবে যাতে গ্রামের মানুষকে শহরে ছুটে আসতে না হয়। এছাড়াও বর্তমান সরকারের নতুন মেয়াদে গভীর সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর তৈরি, এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযুক্তি হওয়াসহ পুরো নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন মেয়াদে ক্ষমতায় এলে দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সেই পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এজন্য দক্ষিণে জায়গা খোঁজা হচ্ছে। সেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক চর রয়েছে। সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সংরক্ষিত আসনের নাসিমা ফেরদৌসীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, মহাকাশে নিজেদের অবস্থান সমুন্নত রাখতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আয়ুস্কাল শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বার্ষিক ১৪ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে জানান তিনি।

তরীকত ফেডারেশনের সদস্য এম এ আউয়ালের প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান বলেন, সব ধরনের সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত ১৮ মে থেকে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং এগুলো পরিবহনের বাহন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। এ সময়ে ১৫ হাজার ৩৩৩টি মামলা করা হয়েছে। ২০ হাজার ৭৬৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করে বিচারে সোপর্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক হাজার ২৮৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।



কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...