বিশেষ সাক্ষাৎকার: কাদের সিদ্দিকী

আ'লীগের মুখে আলোচনায় না বসার কথা মানায় না

চলমান রাজনীতি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

শাহেদ চৌধুরী

দেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই বলে মনে করছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। তিনি বলেছেন, সুস্থ রাজনীতির পাশাপাশি দেশে শান্তি, সমৃদ্ধি, মানুষের সম্মান ও স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নিশ্চিত করতেই অর্থবহ জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। দেশবাসীর এই প্রত্যাশায় সরকার ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

সমকালের সঙ্গে বর্তমান রাজনীতি ও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বঙ্গবীর কাদের  সিদ্দিকী। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়- এটা  রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না। সরকার নানা কথা বলতেই পারে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মুখে আলোচনায় না বসার কথা মানায় না।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের মূল্যায়ন, বঙ্গবন্ধু অগ্নিকুণ্ডের ওপর বসেও ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন। তিনি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সেনাপতি নিয়াজির সঙ্গে আলোচনা করেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণের তারিখ নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে ও পরে আলোচনা করেই শান্তি স্থাপনের চেষ্টা হয়েছিল। তাই রাজনীতিতে আলোচনা অবশ্যম্ভাবী। এটাকে কোনোভাবেই বাদ দেওয়া কিংবা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আরও বলেন, মানুষ একবেলা খেতে না পেলেও সহ্য করে। কিন্তু তারা নিরাপদে ভোট দিতে চায়। তারা এখন সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে সন্দিহান। আর সামনেই সংসদ নির্বাচন। কিন্তু বর্তমান বোধহীন নির্বাচন কমিশন দিয়ে আদৌ সঠিক নির্বাচন হবে কি-না, নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি-না- এসব নিয়ে মানুষ ভীষণভাবে চিন্তিত। অথচ বর্তমান সরকারের জন্য, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

নিজে নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন- এমনটাই বিশ্বাস বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের। তিনি বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে তিনি মানুষের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করবেন। এই রাজনীতিই তার শ্বাস-প্রশ্বাস। অথচ সেই রাজনীতিই এখন মারাত্মক সংকটে পড়েছে। স্বাধীনতার এত দিন পরও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশের অবস্থাও ভালো নয়। তবুও তার প্রত্যাশা, গণতন্ত্র বাধামুক্ত হোক। সুদৃঢ় হোক। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বাধামুক্ত হোক। শান্তি প্রতিষ্ঠা পাক। এ প্রশ্নে কেউ দ্বিমত করবে না বলেও তিনি মনে করছেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনেক কথাই মানুষ আগের মতো অন্তর দিয়ে মানতে পারছেন না। পারিপার্শ্বিক অনেক ঘটনার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কিছু কথা বিশ্বাস করতে মানুষের ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।

কাদের সিদ্দিকীর দৃষ্টিতে, তিনি স্রোতের উজানে জীবন চালিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে, তাকে বিশ্বাস করে জীবনের মায়া ছেড়ে অল্প বয়সে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর এককথায় তার পায়ের সামনে লক্ষাধিক অস্ত্র বিছিয়ে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকা পর্যন্ত সম্মান ও গুরুত্ব পেয়েছেন।

নিজেকে এখন নিন্দিত মনে করছেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা এই নেতা। তিনি বলেছেন, 'আমি অপমানিত এবং অবহেলিত। আমার মায়ের মতো বোন বলেছেন, আমি নাকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খায়েশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কারও কারও উস্কানিতে ষড়যন্ত্র করেছি। আমি কেন ষড়যন্ত্র করতে যাব? আমার অতীত কর্মকাণ্ডে কখনও ষড়যন্ত্রের সামান্যতম দাগ আছে, তা কেউ অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও খুঁজে পাবে না।'

সাবেক এই গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসেই তিনি দেশকে ভালোবেসেছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার শ্বাস-প্রশ্বাস। আজ বঙ্গবন্ধু নেই। দেশ আছে। বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার মানুষ আছে। সেই মানুষের মধ্যেই তিনি এখনও বেঁচে আছেন বলে মনে করছেন কাদের সিদ্দিকী। এ কারণেই তিনি তার 'প্রিয় বোন' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথার জবাব দিতে পারেননি। তার স্পষ্ট কথা, ষড়যন্ত্র করে তিনি কারও কাছ থেকে কিছু নিতে চান না। আর বয়সে ছোট হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মায়ের মতো বড় বোনই মনে করেন। তিনি মাকে শক্ত কথা বলতে শেখেননি। তবে একটা কথা নির্দি্বধায় বলতে পারেন, 'প্রধানমন্ত্রীর ওপর কোনো অনৈতিক আঘাত এলে যৌবনের মতো না পারলেও রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।'

কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, অন্য অনেকের মতো রাজনীতির মধ্য দিয়ে তার জন্ম। তিনিও রাজনীতির বাইরে তেমন কিছু শেখেননি। একজন মুসলমানের জন্য যেমন আল্লাহ-রাসুল (সা.), হিন্দুর কাছে ভগবান-দেবদেবী- ঠিক তেমনি একজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর কাছে জনগণও একই রকমের। সাবেক এই এমপি মনে করছেন, তিনি নিষ্ঠাবান মুসলমান। একজন বাঙালিও। মানুষ হিসেবে তিনি অসাম্প্রদায়িক। নিজের ধর্মে অবিচল থেকেছেন। তাই অন্যরা তাদের ধর্মে নিষ্ঠাবান থাকবেন- এটা তার প্রত্যাশা।

মিরপুরের কালশি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান

মিরপুরের কালশি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান

রাজধানীর মিরপুরের কালশী বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। রোববার ...

ছোট ভাইকে হাতুড়িপেটা করে মারল বড় ভাই!

ছোট ভাইকে হাতুড়িপেটা করে মারল বড় ভাই!

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ছোট ভাইকে হাতুড়ি-বাটাল ...

২৬ বছরের অভিনেত্রীর সঙ্গে ৭০ বছরের মহেশ ভাটের প্রেম!

২৬ বছরের অভিনেত্রীর সঙ্গে ৭০ বছরের মহেশ ভাটের প্রেম!

এক তরুণ অভিনেত্রীর কাঁধে মাথা রেখেছেন খ্যাতিমান পরিচালক মহেশ ভাট। ...

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা: ৩ রাষ্ট্রদূতকে তলব

ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা: ৩ রাষ্ট্রদূতকে তলব

ইরাক সীমান্তের কাছে ইরানের সামরিক কুচকাওয়াজে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে শিশু ...

ফেঁসে যেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা

ফেঁসে যেতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে যার ফলে ...

বগুড়ায় রেলসেতুর মেরামত কাজ সন্ধ্যা নাগাদ শেষ হতে পারে

বগুড়ায় রেলসেতুর মেরামত কাজ সন্ধ্যা নাগাদ শেষ হতে পারে

বগুড়ায় দেবে যাওয়া রেলসেতুর মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় রোববার ...

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৬৩, ইয়াবা-ফেনসিডিল উদ্ধার

সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৬৩, ইয়াবা-ফেনসিডিল উদ্ধার

সাতক্ষীরা জেলাব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াত-শিবিরের ছয় নেতাকর্মীসহ ৬৩ জনকে ...

জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায়

জলাতঙ্ক থেকে বাঁচার উপায়

র‌্যাবিসকে বাংলায় জলাতঙ্ক বলা হয়। অর্থাৎ জলে যার আতঙ্ক। এই ...