হৃতগৌরব ফিরছে সোনালি আঁশের

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

আলতাব হোসেন

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পরও অনেক বছর জনগণের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আমদানি করে খাদ্য চাহিদা মেটাতে হতো তখন। এখন দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, কমেছে আবাদি জমির পরিমাণ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও বৈরী প্রকৃতি ছোবল হানছে বার বার- তারপরও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় চার কোটি টন খাদ্যশস্য উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। হারানো গৌরব ফিরে পেয়েছে পাট। আবারও 'সোনালি আঁশ' বা 'গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ' পরিচিতি ফিরে পেতে চলেছে এ দেশ। কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। এ সাফল্য এসেছে দেশের পরিশ্রমী কৃষক ও দেশপ্রেমী কৃষি গবেষকদের যৌথ প্রয়াসে। কৃষিবান্ধব বর্তমান সরকারের নীতি-কৌশল অনুযায়ী কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করায় উৎপাদন বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন চাল, মাছ, ফল ও সবজি রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। আগে সারের দাবিতে কৃষককে জীবন দিতে হয়েছে। অথচ এখন চাহিদা মেটানোর পরও গুদামে সার গড়াগড়ি খাচ্ছে। কৃষি উপকরণ ও কৃষি সহায়তা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা চালু করেছে সরকার। ফলে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন কৃষকরা।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে ধানের তিন গুণেরও বেশি, গমের দ্বিগুণ, সবজির পাঁচগুণ এবং ভুট্টার ১০ গুণ উৎপাদন বেড়েছে। ধান, গম ও ভুট্টার ক্ষেত্রে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন সবজি উৎপাদনে তৃতীয় আর মাছ উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও দুর্যোগসহিষ্ণু শস্যের জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশের নাম। কৃষির এ সাফল্য সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে দুই টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হচ্ছে চার টনেরও বেশি। ধানের হিসাবে এ উৎপাদনের পরিমাণ ছয় টন। হেক্টরপ্রতি ধান উৎপাদনের দিক থেকেও অধিকাংশ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বে নতুন উদাহরণ।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কৃষি তথ্যের প্রচলন প্রকল্পের মাধ্যমে মোবাইল ফোন, রেডিও, টিভি, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সিনেমা সবই কৃষক তথ্যসেবার কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। সরকারিভাবে কমিউনিটি রেডিও চালু হয়েছে। কৃষি গবেষণায় ব্যবহার করা হচ্ছে অক্টো-কপ্টার। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা সমাধানের সেবা পাচ্ছেন কৃষক। সরাসরি ১৬১২৩ এবং ৬৭৬৭ নম্বরের মাধ্যমে এ সমাধান মিলছে। দেশের স্বল্পশিক্ষিত এমনকি নিরক্ষর কৃষকরাও ব্যবহার করছেন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। সরকার কৃষিকে এগিয়ে নিতে যান্ত্রিকীকরণে গুরুত্ব ও ভর্তুকি দিচ্ছে।

পাট মানেই বাংলাদেশ :বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে পাটের জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্সিং) উন্মোচনের পর পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা তোশা ও দেশীয় পাটের উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেন। পাটের ছত্রাক রোগপ্রতিরোধী জাতও উদ্ভাবন করেছেন তারা। বাংলাদেশের ফসল হিসেবে পাট আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতিসংঘের এসডিজি অর্জনে পাট উৎপাদন দ্বিগুণ করার জাত উদ্ভাবনে গবেষণা চলছে বাংলাদেশে। পাশাপাশি পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে পাটপণ্য উৎপাদন নিয়েও বিস্তর গবেষণা হচ্ছে। আবারও পাট বিশ্বদরবারে সমাদৃত হচ্ছে এ দেশের সোনালি আঁশ বা 'গোল্ডেন ফাইবার অব বাংলাদেশ' নামে।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের পাট বিশ্বের দামি গাড়ির বডির ৩৭ শতাংশ অংশে ব্যবহূত হচ্ছে। পাট দিয়ে এখন সুতা ছাড়াও কাপড়, ফিল্ম, কাগজ, জিন্স, জুতা ইত্যাদি উৎপাদনে ব্যবহূত হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে এবং বিমান থেকে খাদ্যদ্রব্য নিচে ফেলতে পাটের বস্তা খুবই টেকসই। অটোমোবাইলে ইনটেরিয়র স্পেয়ারস বা হোস পাইপ, পাটের লেদার ও পরিবেশবান্ধব পাটের প্লাস্টিকও তৈরি হচ্ছে। পলিথিন বন্ধের পর পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ ও ছালার ব্যবহার বেড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কৃষিবিদ হামিদুর রহমান সমকালকে বলেন, পাটকাঠি হার্ডবোর্ড তৈরিতে ব্যবহার হয়। পাটকাঠির ছাই কমপিউটার প্রিন্টারের দামি কালি হিসেবে কাজে লাগছে। দেশে বছরে তিন হাজার টন পাটকাঠি তৈরি হয়- যা জ্বালানি কাজে লাগে। কাগজশিল্পে পাটের ব্যবহার বাড়ছে। কাগজশিল্পের জন্য একটি গাছ থেকে কাঠ পেতে সময় লাগে আট থেকে দশ বছর। অথচ মাত্র এক মাস বয়সী পাটগাছ দিয়েই কাগজ তৈরি সম্ভব। এটি যেমন ব্যয়সাশ্রয়ী, তেমনি সহজলভ্য। তিনি বলেন, পাট দিয়ে কাগজ তৈরি করলে গাছ রক্ষা পাবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে। পাটের পাতা শাক ও স্যুপ হিসেবেও জনপ্রিয়। তাই পাটপাতা রফতানির সুযোগ রয়েছে। থাইল্যান্ড, চীন ও জাপানে এ স্যুপের বেশ কদর রয়েছে।

জলবায়ুসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনেও শীর্ষে বাংলাদেশ :ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সফলতাও বাড়ছে। ১৯৭০ সাল থেকে দেশি জাতকে উন্নত করে উচ্চফলনশীল (উফশী) জাত উদ্ভাবনের পথে যাত্রা করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ৬৭টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। ব্রি এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা সংস্থার (বিনা) বিজ্ঞানীরা মোট ১৩টি জলবায়ুসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে লবণসহিষ্ণু নয়টি, খরাসহিষ্ণু দুটি ও বন্যাসহিষ্ণু চারটি ধানের জাত। বিশ্বে প্রথমবারের মতো জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশের কৃষি গবেষকরা। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এতগুলো প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবনের দিক থেকেও বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষে অবস্থান করছে।

সবজি উৎপাদনে তৃতীয় :দেশে সবজিবিপ্লব ঘটে গেছে গত এক যুগে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য মতে, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে। একসময় দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যশোরেই কেবল সবজির চাষ হতো। এখন দেশের প্রায় সব এলাকায় সারা বছরই সবজির চাষ হচ্ছে। এখন দেশে ৬০ ধরনের ও ২০০টি জাতের সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাবে ২০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে দেশে মাথাপিছু দৈনিক সবজি খাওয়া বা ভোগের পরিমাণ ছিল ৪২ গ্রাম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) হিসাবে, গত বছর দেশে মাথাপিছু সবজি ভোগের পরিমাণ ৮০ গ্রাম।

মাছ উৎপাদনে পঞ্চম :জাতিসংেঘর খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান গত এক দশক ধরে কখনও চতুর্থ আবার কখনও পঞ্চম স্থানে রয়েছে। শুধু চিংড়ি বা ইলিশ নয়, মিঠা পানির মাছও এখন রফতানি করছে বাংলাদেশ। কয়েক বছরেই মাছ রফতানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রতিবেশ ব্যবস্থা মিঠাপানির মাছ চাষের জন্য বিশ্বে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ।

আম উৎপাদনে সপ্তম :আম উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন সপ্তম। প্রতিবছর প্রায় এক মিলিয়ন টন আম উৎপাদিত হয় এখানে।

আলু উৎপাদনে শীর্ষ দশে :আলু উৎপাদন বাংলাদেশের সাফল্যের আরেকটি উদাহরণ। এক দশক আগেও এর উৎপাদন ছিল অর্ধলক্ষ টনের নিচে। এখন বছরে ৮৫ লাখ টন আলু উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। এখন তা এগোচ্ছে কোটি টনের দিকে। আলু এখন দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমও হয়ে উঠেছে। রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে আলু রফতানি হচ্ছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আজ ১২ রবিউল আউয়াল বুধবার, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। প্রায় ...

দিবালা-ইর্কাদির গোলে আর্জেন্টিনার জয়

দিবালা-ইর্কাদির গোলে আর্জেন্টিনার জয়

আন্তর্জাতিক ম্যাচে দীর্ঘ গোল খরা কাটল আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের দুই তারকা ...

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

সশস্ত্র বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ...

কারওয়ান বাজারে কাঁচাবাজারের আড়তে অগ্নিকাণ্ড

কারওয়ান বাজারে কাঁচাবাজারের আড়তে অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কাঁচাবাজারের আড়তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোর ...

ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‍্যাবের অভিযান

ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে র‍্যাবের অভিযান

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালুহাটি গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে ...

খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মারুফের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মারুফের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক গাজী আবদুল হালিম হত্যা ...

রির্কালিসনের গোলে ক্যামেরুনকে হারাল ব্রাজিল

রির্কালিসনের গোলে ক্যামেরুনকে হারাল ব্রাজিল

ম্যাচের ৪৫ মিনিটের মাথায় এভারটনের তরুণ তারকা রির্কালিসনের গোলে জয় ...

ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন নেইমার

ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লেন নেইমার

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্যামেরুনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে বড় দুঃসংবাদ পেয়েছে ব্রাজিল ...