যেন বাগানজুড়ে একঝাঁক তারা

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

গোবিন্দ আচার্য্য, সাভার

সাভারে গোলাপের পাশাপাশি বাড়ছে জারবেরা ফুলের চাষ। লাভজনক হওয়ায় চাষিরা জারবেরা চাষেই আগ্রহী হচ্ছেন বেশি। এক সময় কেবল যশোরে এ ফুলের চাষ হতো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাষ হচ্ছে। রানী প্রিন্ট, হলুদ, সাদা, লাইট প্রিন্ট, কমলা, ফিরোজা, মিষ্টি গোলাপি, খয়েরি, গোলাপিসহ বিভিন্ন রঙের ১১ প্রজাতির জারবেরার চাষ হয়ে থাকে। এ ফুল দেখতে অনেকটা সূর্যমুখী ফুলের মতো। কিন্তু আকারে অনেক ছোট। দেখলে মনে হবে বাগানে সূর্য নয়, একঝাঁক তারা ফুটে রয়েছে। সাধারণত ফুলের তোড়া তৈরি ও বিয়েবাড়ি সাজানোর কাজে জারবেরার ব্যবহার বেশি হয়।

রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ ধরে কিছুদূর এগোলেই সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ছোট্ট একটি গ্রাম আইঠর। লাল মাটির উর্বর এ

গ্রামটিতে এক সময় সবজি বাগানে ভরপুর ছিল। সময়ের পালাবদলে জমি কমে যাওয়ায় এখন অল্প জমিতেই কম পরিশ্রমে বেশি লাভের আশায় সবজিচাষিরা ফুলবাগান করছেন।

আইঠর গ্রামের ফুলচাষি বিল্লাল হোসেন বলেন, দুই বছর আগে থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে জারবেরার চারা এনে বাগানে রোপণ করেন। প্রথমে ৪ বিঘা জমিতে চাষ করেন। লাভজনক হওয়ায় এখন ১০ বিঘা জমিতে জারবেরা চাষ করছেন। প্রতিদিন ফুল কেটে বিক্রি করা হয় রাজধানীর আগারগাঁও ও শাহবাগে। তিনি জানান, প্রতিটি জারবেরা পাইকারি বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং খুচরা ফুলের দোকানে বিক্রি হয় ২০ থেকে ৫০ টাকায়। নিজের বাগান থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেন বলে জানান তিনি।

শুধু বিল্লাল হোসেন নন, ওই গ্রামে তার দেখাদেখি নাসির হোসেন, আশরাফ, কামাল, ফারুকসহ অনেকেই জারবেরার চাষ করছেন।

নাসির হোসেনের বাগানের ব্যবস্থাপক রিপন বলেন, প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ বিঘা জমিতে জারবেরা চাষের জন্য সিমেন্টের খুঁটি, বাঁশ ও পলিথিন দিয়ে শেড তৈরি করেন তারা। এরপর ৯০ টাকা দরে ভারত থেকে জারবেরা চারা এনে বাগানে রোপণ করা হয়। তিন মাস পর থেকে ফলন শুরু হয়। ভালো ফলন হওয়ায় নিয়মিত জারবেরা বিক্রি করে গত এক বছরে খরচের টাকা প্রায় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, প্রথমে এককালীন বেশি টাকা বিনিয়োগ করতে হলেও প্রতিটি জারবেরা গাছ পাঁচ বছর পর্যন্ত ধারাবাহিক ফলন দেওয়ায় এটি খুবই লাভজনক।

ওই এলাকায় নিজের জমি থাকায় অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী মনিরুজ্জামানও জারবেরা চাষ করছেন। তিনি বলেন, নিয়মিত এ এলাকায় এসে অনেককেই জারবেরা ফুলের চাষ করতে দেখে উদ্বুদ্ধ হন।

আরেক বাগানের মালিক আওলাদ হোসেন জানান, সাধারণত সারা বছর ধরে ফুল ফুটলেও এপ্রিল-মে মাসে বেশি ফোটে। তাই বাংলাদেশে শীতকালে এবং শীতের শেষের দিকে এর চাষ বেশি হয়। পোকামাকড় ছাড়া জারবেরার তেমন কোনো রোগ-বালাই নেই।

সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মফিদুল ইসলাম জানান, সাভার উপজেলার প্রায় ১০ একর জমিতে জারবেরা চাষ হচ্ছে। লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষি জারবেরা চাষের জন্য পরামর্শ নিতে আসছেন। চাহিদা অনুযায়ী কার্যালয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চাষিদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেবে ঐক্যফ্রন্ট

রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেবে ঐক্যফ্রন্ট

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে ...

এরশাদ কোথায়

এরশাদ কোথায়

অজ্ঞাত স্থানে 'বিশ্রাম নিচ্ছেন' জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ ...

প্রার্থীর যোগ্যতা অযোগ্যতা প্রশ্নে দ্বিধায় ইসি

প্রার্থীর যোগ্যতা অযোগ্যতা প্রশ্নে দ্বিধায় ইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড ...

নৌকায় চড়তে চান শতাধিক ব্যবসায়ী

নৌকায় চড়তে চান শতাধিক ব্যবসায়ী

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যানারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ...

নওয়াব ফয়জুন্নেছার বাড়ি হবে উন্মুক্ত জাদুঘর

নওয়াব ফয়জুন্নেছার বাড়ি হবে উন্মুক্ত জাদুঘর

ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী উপমহাদেশের একমাত্র নারী নওয়াব। কুমিল্লার লাকসাম থেকে আধা ...

আসামিকে জামিন পাইয়ে দিলেন দুদক পিপি

আসামিকে জামিন পাইয়ে দিলেন দুদক পিপি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পিপির সুপারিশে ১৩৫ কোটি টাকা ...

মৃত্যুফাঁদ থেকে সাবধান

মৃত্যুফাঁদ থেকে সাবধান

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়কের আশপাশে এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস পাইপলাইন ...

'মি টু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়'

'মি টু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়'

বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া যৌন নিপীড়ন বিরোধী #মি টু আন্দোলনের ঢেউ ...