হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে সেন্টমার্টিন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

দখল-দূষণের হাত থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় রোধ করে ফিরিয়ে আনা হবে এই দ্বীপের স্বাভাবিক পরিবেশ। হারানো সৌন্দর্য ফিরে পাবে সেন্টমার্টিন।

বিশ্বের অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় সেন্টমার্টিন সৈকতের বালুকাবেলা ধীরে ধীরে বিনষ্টের উপক্রম হয়েছে। সরকারের যথাযথ তদারকি না থাকায় বিশ্বখ্যাত সেন্টমার্টিনে যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে হোটেল-মোটেল ও রেস্টুরেন্ট। গত তিন দশকে দ্বীপের সৈকতঘেঁষা কেয়াবন, ঝাউবন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস করে শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে ৬৬টি কটেজ, ১৯টি একতলা, ১৬টি দোতলা, পাঁচটি তিনতলা ও একটি চারতলা ভবন। এসব অবৈধ স্থাপনা ও ধারণক্ষমতার বেশি পর্যটক আসা-যাওয়া করায় দ্বীপটির স্বাভাবিক পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আজ রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা ডাকা হয়েছে। প্রবাল দ্বীপটি রক্ষায় সভায় মহাপরিকল্পনা গৃহীত হবে। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় নৌপরিবহনমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। সংশ্নিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে। সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য দ্বীপটি আরও আকর্ষণীয় করা হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। সার্বিকভাবে প্রবাল দ্বীপের উন্নয়নে নেওয়া হবে মহাপকিল্পনা।

মন্ত্রণালয়ের সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন ক্ষুদ্রায়তনের প্রবাল দ্বীপ হলেও এর চারদিকে সামুদ্রিক এলাকাসহ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বিরল প্রতিবেশ রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এমনটি দ্বিতীয়টি নেই। এই দ্বীপের প্রবাল, প্রবাল-সংশ্নিষ্ট উদ্ভিদ ও প্রাণী অত্যন্ত বিরল ও অনন্য। দ্বীপের স্থলভাগের পরিবেশেও রয়েছে জীববৈচিত্র্য। এ দ্বীপে ৬৮ হাজার প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাঙ্ক, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, চার প্রজাতির উভচর, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি ও ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। অথচ মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিবেশ ও পরিবেশগতভাবে অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ সেন্টমার্টিন ধ্বংসের সম্মুখীন। কিন্তু দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হলে বাংলাদেশকে হারাতে হবে বিপুল সম্ভাবনাময় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি। সেইসঙ্গে হারাতে হবে ইকো-ট্যুরিজমের জন্য সম্ভাবনাময় অমূল্য স্থান।

এরই মধ্যে দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয়ের কারণ চিহ্নিত করেছে মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেওয়া একটি কমিটি। দ্বীপের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, দ্বীপে ধারণক্ষমতার বেশি পর্যটকের যাতায়াত। শীতকালে দিনে ৮-১০টি জাহাজে ২৯ হাজার পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণে আসেন এবং রাত যাপন করেন। পর্যটকদের ব্যবহূত প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ব্যাগ, ক্যান, কনটেইনার ও অন্যান্য কঠিন-তরল বর্জ্য দ্বীপে ফেলা হয়। এ কারণে দ্বীপের মাটি ও সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পর্যটকের জন্য আবাসিক হোটেল নির্মাণ ও রান্নার কাজে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বনভূমি ও সৈকতের গাছপালা ধ্বংস করা হচ্ছে। সেন্টমার্টিন সৈকতে যেসব কচ্ছপ ডিম পাড়তে আসে, সেগুলোর জন্য প্রয়োজন অত্যন্ত শান্ত, নীরব ও অন্ধকার স্থান। কিন্তু রাতে সৈকতে পর্যটকের ভিড়, হোটেল-মোটেলের আলো ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ডিম আহরণ ও বুনো কুকুরের কারণে কচ্ছপের ডিমপাড়া ও বাচ্চা ফুটানো মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে গড়ে তোলা অবাসিক হোটেল ও রেস্টুরেন্টে প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলায় দ্বীপের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। দ্বীপে কাক ও কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও তা নিধনের ব্যবস্থা নেই। দ্বীপে স্থাপিত একমাত্র হাসপাতালের বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য খোলা পরিবেশে ফেলা হলেও অপসারণের ব্যবস্থা নেই। ভূগর্ভস্থ পানিতে মারাত্মক কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

প্রবাল, শামুক, ঝিনুক উত্তোলন ও কেয়া ফল সংগ্রহ করে পর্যটকের কাছে শৌখিন সামগ্রী হিসেবে বেচায় জীববৈচিত্র্যের উপাদানগুলো ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে সামুদ্রিক শৈবাল সংগ্রহ করায় এর প্রাপ্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। জ্বালানির জন্য প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কেয়া বন ও ম্যানগ্রোভ বা প্যারা বন নিধন এবং জোয়ার-ভাটা অঞ্চল থেকে পাথর তোলার কারণে সমুদ্রসৈকত ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে দ্বীপের আয়তন কমে যাচ্ছে। কেয়া বন ও ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে দ্বীপের ভাঙন যেমন ডেকে আনা হয়েছে, তেমনি কিছু অসাধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সৈকতে জিও-ব্যাগ বসানোর কারণে এর আশপাশে ব্যাপকভাবে ভাঙনের প্রবণতা বেড়েছে।



পরবর্তী খবর পড়ুন : আমাদের নিবেদন

ম্যানইউয়ের জয়ের দিনে হোঁচট ম্যানসিটির

ম্যানইউয়ের জয়ের দিনে হোঁচট ম্যানসিটির

প্রতিপক্ষের মাঠে যেয়ে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে মরিনহোর ...

পেনাল্টিতে জয় জুভদের, লাল কার্ড রোনালদোর

পেনাল্টিতে জয় জুভদের, লাল কার্ড রোনালদোর

স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ...

রোমাকে সহজে হারাল রিয়াল

রোমাকে সহজে হারাল রিয়াল

রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফেবারিট। রোনালদোকে নিয়ে পরপর তিনটি চ্যাম্পিয়নস ...

রোনালদোর চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু লাল কার্ডে

রোনালদোর চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু লাল কার্ডে

ঘর্মাক্ত মুখ-চোখ-কপাল। তাতে এক ফোন চোখের পানি পড়লে কি সহজে ...

নির্ভার টাইগারদের সামনে আফগান

নির্ভার টাইগারদের সামনে আফগান

হোটেল থেকে মাঠের দূরত্ব ১৩৯.৫ কিলোমিটার! ঢাকা থেকে এই দূরত্বে ...

বাস্তুচ্যুত শব্দে আপত্তি মিয়ানমারের নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ

বাস্তুচ্যুত শব্দে আপত্তি মিয়ানমারের নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ

নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর রোহিঙ্গাদের দেওয়া স্মার্টকার্ডের নাগরিক পরিচিতি কলামে ...

রক্ষা পাক জাম্বুরি পার্ক

রক্ষা পাক জাম্বুরি পার্ক

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো সাড়ে আট একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে ...

ক্ষমতার সঙ্গে থাকার দৌড়ে ধর্মভিত্তিক দলও

ক্ষমতার সঙ্গে থাকার দৌড়ে ধর্মভিত্তিক দলও

সংসদে প্রবেশের দৌড়ে নেমেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ...