হাজারো পরিবার নিঃস্ব পদ্মায়

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

শরীয়তপুর, শিবচর (মাদারীপুর), রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ প্রতিনিধি

হাজারো পরিবার নিঃস্ব পদ্মায়

পদ্মার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সমকাল

পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি, ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, বাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বড় বড় স্থাপনা। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে শরীয়তপুরের নড়িয়া, মাদারীপুরের শিবচর ও রাজবাড়ীর চার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনে শিবচরের চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ী ও বন্দরখোলা ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি এবং রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি, অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। গত দুই মাসের অব্যাহত ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার মুক্তারের চর, কেদারপুর ইউনিয়ন ও নড়িয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড পুরোটাই চলে গেছে পদ্মার করাল গ্রাসে। এসব এলাকার বাসিন্দারা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্বপ্রায়। তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন সমকালকে জানিয়েছেন, তার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার সব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি জানান, স্থানীয় সাধুরবাজার ও ওয়াপদাবাজারের দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মুলফৎগঞ্জ বাজারের দুই শতাধিক দোকানপাট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দুইশ' বছরের পুরনো মুলফৎগঞ্জ বাজারের বড় একটি অংশ গত এক সপ্তাহে হারিয়ে গেছে নদীতে। উপজেলা  স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাসপাতাল মসজিদের একাংশ ইতিমধ্যে গ্রাস করে নিয়েছে নদী। এখন হাসপাতালটিও ভাঙনের মুখে।

হাসপাতালের চিকিৎসক গোলাম ফারুক বলেন, ভাঙতে ভাঙতে পদ্মা এখন নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটে। যে কোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এখানকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া তখন কঠিন হয়ে যাবে। জরুরি ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, পদ্মার ভাঙনে তারা সব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করলেও সরকারি কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না। সাহায্য যা এসেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ ছানা উল্লাহ মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কোনো তহবিল নেই। তাই কোনো সাহায্য করা যাচ্ছে না।

ইউএনও সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ইতিমধ্যে ভাঙনকবলিতদের মাঝে জেনারেল রিলিফের চাল, ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সাধুরবাজার এলাকায় ভূমিধসে আহতদের ২০টি পরিবারের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত, কাঁঠালবাড়ী, বন্দরখোলা ইউনিয়নে চারটি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে গ্রামীণফোনের টাওয়ারসহ শত শত ঘরবাড়ি, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সরেজমিন চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, ভাঙন আক্রান্তরা গবাদি পশু নিয়ে কোনোরকমে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয় স্থলে চলে যাচ্ছেন। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই যে, ঘরও রেখে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার।

শিবচরের ইউএনও ইমরান আহমেদ বলেন, গত দু-তিন দিনে শিবচরের চরাঞ্চলে পদ্মার ব্যাপক ভাঙনে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। চরজানাজাত ইউনিয়নের মাধ্যমিক স্কুল, ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, আ. মালেক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মজিদ সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্দরখোলার ৭২ নম্বর নারিকেলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে হারিয়ে গেছে।

রাজবাড়ী জেলার সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম জানান, তার ইউনিয়নের শাহ মীরপুর, পূর্ব চর আফরা, চর রামনগর গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে তার এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবারের ভিটেমাটি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ৩৭টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে পূর্ব চর আফরা জামে মসজিদ ও চর রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

পদ্মার ভাঙনে বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলসহ জমি নদীতে বিলীন হওয়ায় গোয়ালন্দ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় নুর ইসলাম, সোহাগী বেগম, নুরজাহান বিবিসহ অনেকে বলেন, গত কয়েক দিনে চর বরাট, অন্তার মোড়, দেলুনদী, তেনাপচা, দেবগ্রামসহ নদীপাড়ের জমিতে থাকা বিভিন্ন ধরনের ফসল বিলীন হয়ে গেছে। সব হারিয়ে এখন তারা নিঃস্ব।

দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, তার ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড ভেঙে শেষ হয়েছে। এই কয়েক দিনে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে ইউনিয়নটি ভাঙনের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক জানান, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। কোনো মানুষ যাতে খাবারের কষ্ট না পায় সে জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে তালিকা করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু দেবগ্রাম নয়, ভাঙনের কবলে পড়েছে সদর উপজেলার মহাদেবপুর, গোদারবাজার, উড়াকান্দা ও অন্তার মোড়, কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের সাদারচর, লস্করদিয়া, চররাজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা।


সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার ...

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান ...

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না'

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না'

টালিউড ও বলিউডে সমানতালে কাজ করছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। বাংলাদেশেও রয়েছে ...

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের জান-মাল ...

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার ...

অক্টোবরের শেষে নির্বাচনকালীন সরকার: ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরের শেষে নির্বাচনকালীন সরকার: ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী ...

সাভারে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার

সাভারে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার

সাভারে পৃথক স্থান থেকে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ ...

জামিনে মুক্ত নওয়াজ শরিফ

জামিনে মুক্ত নওয়াজ শরিফ

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জামিনে ...