বে-টার্মিনাল প্রকল্পের জট খুলল

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম

অবশেষে জট খুলল ১৭ হাজার কোটি টাকার বে-টার্মিনাল প্রকল্পের। ৬৭ একর ভূমির সহস্রাধিক মালিককে ৩৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েই এ জট খুলেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল মঙ্গলবার ভূমি অধিগ্রহণের এ টাকা আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে তারা। জেলা প্রশাসন এ টাকা বণ্টন করবে অধিগ্রহণকৃত ভূমি মালিকদের কাছে। ব্যক্তি মালিকানাধীন এ ৬৭ একর ভূমি প্রাপ্তির মাধ্যমে বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেখবে আলোর মুখ। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকলেও নানা আইনি জটিলতায় ভূমি অধিগ্রহণ করতেই লেগে গেছে ছয় বছর। অথচ জরুরি এ প্রকল্প আরও আগে বাস্তবায়ন করা গেলে বাড়ত চট্টগ্রাম বন্দরের গতি। কমত জাহাজের অপেক্ষমাণ সময়। কমত পণ্যের আমদানি-রফতানি ব্যয়ও।

ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন এ টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১২ সালে। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই বছরই নৌ মন্ত্রণালয় থেকে মেলে এটির অনুমোদন। তার পরও ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে লেগে থাকে জটিলতা। প্রকল্পের জায়গায় ব্যক্তি ও সরকারি মালিকানাধীন দুই ধরনের জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তি মালিকানায় আছে ৬৭ একর। আর সরকারি মালিকানায় আছে ৮৪০ একর। সরকারি মালিকানায় থাকা জায়গা নামমাত্র মূল্যে বন্দোবস্ত নিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা বুঝে নিতে দিচ্ছে ৩৫২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে বন্দরের কাছে এ চাহিদাপত্র দিয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অধিগ্রহণের টাকা বণ্টন করে ভূমি বন্দোবস্ত করে দেবে জেলা প্রশাসন।

এ প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন, 'বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প সম্ভাবনাময় হলেও ভূমি নিয়ে অনেক জটিলতা ছিল। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিতে ব্যয় হয়েছে অনেক সময়। দেরিতে হলেও আমরা খুলতে পেরেছি এ প্রকল্পের জট। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০৭ একর ভূমির মধ্যে প্রথমে বুঝে পাচ্ছি ব্যক্তি মালিকানাধীন ৬৭ একর জমি। অবশিষ্ট জমি বুঝে নেব সরকার থেকে। এ জন্য প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে। প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ে।'

বন্দরের ডেপুটি এস্টেট অফিসার জিল্লুর রহমান বলেন, 'জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালট্যান্ট ফার্ম ফিজিবিলিটি স্টাডি করে এ প্রকল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মতামত দিয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে দুই বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি অর্থে যা প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। তারা বলেছে, ক্রমবর্ধমান সমুদ্র বাণিজ্য সামাল দেওয়া গেলে ১১ বছরের মধ্যেই ফেরত আসবে বিনিয়োগকৃত এ টাকা।'

বন্দরের ধারণা, বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এখন শুরু করা গেলে ২০২১ সালের মধ্যে অন্তত এক হাজার ৭৫০ মিটার

দৈর্ঘ্যের মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং এক হাজার ২৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে এখনকার জেটিতে শুধু দিনের জোয়ারের সময় সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ মিটার গভীরতা এবং সর্বোচ্চ ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ নোঙর করতে পারে। আবার শীত মৌসুমে এ গভীরতায় জেটিতে ভিড়তে পারে না জাহাজ। কিন্তু প্রস্তাবিত বে-টার্মিনাল মোহনার কাছাকাছি স্থানে হওয়ায় সেখানে দিন-রাত জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ থাকবে। আবার বর্তমানের চেয়ে বেশি গভীরতা ও দৈর্ঘ্যের জাহাজও পাবে নোঙরের সুযোগ। এ জন্য ২০১৬ সালে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিও শেষ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফিজিবিলিটির ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয় কনসালট্যান্সি ফার্ম। তার পরও ভূমি অধিগ্রহণের মতো একটি ধাপ শেষ করতে লাগল ছয় বছর।

এ প্রকল্পের জন্য অনাপত্তি চেয়ে ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বন্দর চিঠি পাঠালেও চউকের কাছ থেকে অনাপত্তি পেতে লেগে যায় প্রায় ১৮ মাস। ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ১২ শর্তে বন্দরের কাছে বে-টার্মিনাল প্রকল্পের অনাপত্তিপত্র হস্তান্তর করে চউক। এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থার অনুমতি পেতে লেগে যায় আরও নয় মাস। এভাবে দুই বছর সময়ক্ষেপণ হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের কাছে ভূমি অধিগ্রহণ ও খাস জমি বন্দোবস্তের আবেদন করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের শুনানির পর তা ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা। কিন্তু এ প্রকল্পের জন্য নতুন করে আবার নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র চাওয়া হয়। এখানে কেটে গেছে ছয় মাস। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের অনুমতি আদায় করতে কেটে গেছে আরও এক বছর। চলতি বছরের শুরুতে ৯০৭ একর ভূমির মধ্যে ব্যক্তি মালিকানায় থাকা ৬৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের অনুমতি মেলে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে তা চূড়ান্ত করতে জেলা প্রশাসনের লেগেছে আরও ছয় মাস। এখন সরকারি মালিকানাধীন অবশিষ্ট ভূমির বন্দোবস্ত পেলে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করতে পারবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান ও চিটাগাং চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহাবুবুল আলম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বে-টার্মিনালের জট আরও আগে খোলা উচিত ছিল। ভূমির বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা গেলে সুফল পাবে সবাই। এখন বন্দরে আসা জাহাজকে নাব্য সংকটের কারণে দিনের পর দিন পণ্য নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এ জন্য প্রতি জাহাজের একদিনে ক্ষতি হয় আট লাখ টাকারও বেশি।'
সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে মহাসংকটে ...

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চলকে শহরের সুবিধায় আনতে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ...

প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে না

প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে না

বহুল প্রতীক্ষিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে না। ...

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ঘাতক ব্যাধি ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ...

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

'লোকগানের কথায় রয়েছে জীবনের দিকনির্দেশনা। এর ঐন্দ্রজালিক সুর অদ্ভুত এক ...

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দক্ষ রাজমিস্ত্রি হিসেবেই মিরপুর, ভাসানটেক ও কাফরুল এলাকার মানুষজন চিনতেন ...

নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন: সচিব

নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন: সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি নিয়ে নির্বাচন ...

ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা আ. লীগের

ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা আ. লীগের

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও পেছানোর বিরোধিতা করেছে আওয়ামী ...