ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল

নারীপক্ষ'র ৩৫ বছর

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০১৮      

সাজিদা ইসলাম পারুল

১৯৮৩ সালের ১৩ মে। দিন গড়িয়ে মধ্য বিকেল। চাকরিজীবীরা কাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন। ঠিক সে সময়ই ৩০-৩৫ জন নারী উন্নয়নকর্মী একত্র হন রাজধানীর ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ৯/এ নম্বর সড়কের ৫১ নম্বর বাড়িতে। উন্নয়নকর্মী শিরিন এ হকের মায়ের বাড়ি এটি। ক্লান্ত দেহে তখন তারা ক্ষান্ত হননি। বরং নতুন উদ্যমে একসঙ্গে মিলেছিলেন। রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে দেশের নারীদের অবস্থা ও অবস্থানের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সেদিনই তাদের প্রচেষ্টায় সাংগঠনিক রূপ পায় 'নারীপক্ষ'। সেই থেকে আজ অবধি নারীর অধিকার রক্ষায় কাজ করে চলেছে সংগঠনটি।

নারীদের অগ্রযাত্রায় পুরনো এই সংগঠনের পথচলার ৩৫ বছর উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার থেকে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন। 'ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল : নারীপক্ষর স্বপ্ন ও ৩৫ বছরের পথচলা' শীর্ষক এই সম্মেলন বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন নিয়ে কথা হয় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফজিলা বানুর সঙ্গে। তিনি জানান, ওই বছরের মে মাসে সাংগঠনিক রূপ

পেলেও এপ্রিলে নারীপক্ষর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন ছিল মঙ্গলবার। এরপর থেকে টানা ৩৫ বছর ধরে প্রতি মঙ্গলবারেই নারীপক্ষর সদস্যরা একত্র হন। তিনি বলেন, প্র্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতি মঙ্গলবার সদস্যরা মিলিত হন- এই মঙ্গলবারের সভাই হচ্ছে নারীপক্ষর সব তৎপরতা ও আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল। মঙ্গলবার ঝড়বৃষ্টি কোনো কিছুই তাদের আটকাতে পারে না। যদি কোনো ছুটির দিন হয় তাহলেই কোনো কোনো মঙ্গলবার তাদের বসা হয়নি।

নারীকে পরিবারে, সমাজে ও রাষ্ট্রে অধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও মর্যাদাপূর্ণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নারীপক্ষ আন্দোলন সংগ্রামের পথে ৩৫ বছর পেরিয়ে এসেছে। কালের পরিক্রমায় দীর্ঘদিনের কাজের মাধ্যমে এই সংগঠনটি যেমন পূর্ণ করেছে সফলতার ভাণ্ডার, তেমনি বিফলতা থেকেও পেয়েছে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ।

সংগঠনটির প্রকল্প পরিচালক সামিয়া আফরিন সমকালকে বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি পদক্ষেপেই নারীকে যুদ্ধ করতে হয়। আন্দোলন করেই টিকে থাকতে হয় ঘরেবাইরে, সমাজে, কর্মস্থলে ও রাষ্ট্রীয় সকল কর্মকাণ্ডে। তবে এই যুদ্ধ বা আন্দোলন নারীর মুক্তির জন্য, নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা আনার জন্য, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা জন্য। নারী-পুরুষের সমতা সৃষ্টির জন্য নারীপক্ষ বিভিন্ন কর্মশালা, প্রশিক্ষণ, আলোচনা সভা ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক নীতি তৈরি করার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে।

সাংগঠনিক কাজের বাইরেও নারীপক্ষর আদর্শ, উদ্দেশ্য ও অবস্থান সারাদেশে প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে নারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক দুর্বার গঠন করেছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলা এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে সারাদেশে একসঙ্গে আন্দোলন করছে দুর্বার।

৩৫ বছরে সাফল্যের গল্প :নারীপক্ষ ১৯৯১ সালে ৪৮টি সংগঠনকে নিয়ে গঠন করেছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন কমিটি। এই কমিটির মাধ্যমে ২০০৯ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে নারী দিবস উদযাপন শুরু হয়েছে। ১৯৯০ সালে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার যৌনপল্লী উচ্ছেদের হুমকিকে কেন্দ্র করে যৌনকর্মীরা নারীপক্ষর আন্দোলনে যুক্ত হয়। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মিছিল-সমাবেশে তারাও অংশ নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এই সংগ্রাম আরও জোরদার হয় কান্দুপট্টি, নিমতলী ও টানবাজার যৌনপল্লী উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে। গঠন করা হয় উল্ক্কা, দুর্জয়সহ যৌনকর্মীদের আরও সংগঠন। নারীপক্ষ এতে সহায়তা করে এবং ১৯৯৯ সালের দিকে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য সংহতি নামে একটি মানবাধিকার মোর্চা তৈরি হয়। যৌনপল্লী উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ওই সময় নারী ও মানবাধিকার সংগঠনের সমন্বয়ে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করা এবং মাত্র ৫টি কর্মদিবসে বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত রায় প্রদান করেন। এই রায় যৌনকর্মীদের আইনগত লড়াইয়ের ক্ষেত্রে শুধু নয়, বরং দেশের মানবাধিকার আন্দোলনের জন্যও একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ১৯৮৫ সালে শবমেহেরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন সংগঠন হিসেবে নারীপক্ষ প্রতিবাদ করে। এমনকি সেই আন্দোলন থেকে বের হয়ে আসার মতো সাহসিকতাও দেখায়। 'নারী নির্যাতন রুখবো সবে, হাত আছে হাতিয়ার হবে'- এই স্লোগানে আজও নারীপক্ষ নারীর ওপর সহিংসতা বন্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ১৯৯৭ সালে এসিড আক্রমণের শিকার নারীদের নিয়ে প্রথম কর্মশালা শুরু করে এই সংগঠন। পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন (এএসএফ) গঠন করা হয়। এই আন্দোলন নারীর মর্যাদা রক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারী-পুরুষের মধ্যে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও চলমান। ১৯৮৯ সালের এপ্রিলে শারমীন রীমা হত্যাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন বেগবান হয়। রীমার স্বামী মুনীর হোসেনকে এ হত্যার জন্য অভিযুক্ত করা হয়। হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নারীপক্ষ সে সময় আন্দোলন করেছিল। নারীস্বাস্থ্য ও প্রজনন অধিকার রক্ষায় ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মতো 'শরীর আমার সিদ্ধান্ত আমার' বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের মাধ্যমে। এ ছাড়া, নারীপক্ষ আর একটি বিষয়কে শুরু থেকেই বিরোধিতা করেছে। তা হলো- ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে তার এবং তার পরিবারের ইজ্জত, সম্মান, সল্ফ্ভ্রমহানির বিষয়টি যুক্ত করা।

আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া সম্মেলনে নারী সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামীতে করণীয়সহ সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনের সমন্বয়ক রীতা দাশ রায় জানান, 'দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে ঢাকাসহ দেশের প্রায় ৫৬টি জেলা থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেবেন।'
সাগরিকায় আজ সিরিজ জয়ের ম্যাচ

সাগরিকায় আজ সিরিজ জয়ের ম্যাচ

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই বছর ...

নির্বাচন বানচালের জন্যই ৭ দফা ও সংলাপের দাবি

নির্বাচন বানচালের জন্যই ৭ দফা ও সংলাপের দাবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ...

৪১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দিচ্ছে

৪১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদক চার্জশিট দিচ্ছে

আগ্নেয়াস্ত্রের ভুয়া লাইসেন্স দেওয়া-নেওয়ার অভিযোগে ৪১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছে ...

তফসিলের আগেই সংলাপে বসার আহ্বান জানাবে ঐক্যফ্রন্ট

তফসিলের আগেই সংলাপে বসার আহ্বান জানাবে ঐক্যফ্রন্ট

অবশেষে আজ বুধবার সিলেটে জনসভা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একাদশ জাতীয় ...

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই যত অভিযোগ

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকেই যত অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মহাসড়কের পাশ থেকে চার যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ...

অতিথি পাখিতে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার আশঙ্কা

অতিথি পাখিতে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার আশঙ্কা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ...

এক মঞ্চে রংপুরের ১৬২ রাজনৈতিক নেতা

এক মঞ্চে রংপুরের ১৬২ রাজনৈতিক নেতা

একই মঞ্চে শান্তিপূর্ণ ও অহিংস নির্বাচনের শপথ নিয়েছেন রংপুর বিভাগের ...

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ফার্মাসিউটিক্যালস সিলগালা

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ফার্মাসিউটিক্যালস সিলগালা

সাভারের নবীনগর এলাকার মির্জানগরে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ...