সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উঠছে আজ

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

বহুল আলোচিত সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ আজ বৃহস্পতিবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে গত ৬ আগস্ট মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায় এই আইনের খসড়া। নাগরিক সমাজের দাবি, খসড়ায় যে শাস্তির বিধান রয়েছে তা যথেষ্ট নয়। অনেক অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে আইনে কিছু বলা নেই। আবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা দাবি করছেন, আইনটি কঠোর।

২০১০ সালে সড়ক পরিবহন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত আট বছরে চারবার এই আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়। গত বছরের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের পর প্রায় দেড় বছর আইন মন্ত্রণালয়ে ছিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন খাতের নেতাদের চাপে এতদিন আইনটি চূড়ান্ত রূপ পায়নি। গতকাল বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন,

আগামী রোববার সংসদে উপস্থাপন করা হবে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া। চলতি অধিবেশনেই আইনটি পাস হবে বলে তিনি আশা করেন। মন্ত্রী বলেন, সংসদে উত্থাপনের পর স্থায়ী কমিটিতে যাবে। সেখানে যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে আসবে। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, রোববার নয় আজ বৃহস্পতিবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে আইনের খসড়া। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, চলতি অধিবেশনেই সড়ক পরিবহন আইন সংসদে উপস্থাপন ও বিবেচনা করা হবে।

১৪টি অধ্যায় ও ১২৪টি ধারা রয়েছে সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায়। এক মাস আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হলেও খসড়াটি জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি সরকার। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংস্থা খসড়াটি প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।

আইনের সবচেয়ে আলোচিত ধারা ১০৩। এ ধারায় বলা হয়েছে, মোটরযান চালনাজনিত দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহত হলে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩০৪(খ) ধারা অনুযায়ী বিচার হবে। এ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি তিন বছর কারাদণ্ড। তবে ১০৩ ধারায় বলা হয়েছে, ৩০৪(খ) ধারায় যে শাস্তিই নির্ধারণ করা থাকুক না কেন, দুর্ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত বা নিহত হলে দায়ী ব্যক্তির পাঁচ বছর জেল হবে। হতে পারে অর্থদণ্ডও।

তবে এই শাস্তিকে যথেষ্ট মনে করেন না নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, অন্তত ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা উচিত ছিল। তিনি আশা করছেন, তাদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সাজা বাড়াবে।

মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদনের সময়ই আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, সড়কে মৃত্যুর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে কারও মৃত্যু হলে ৩০২ ধারায় মামলা হবে। পুলিশ তদন্ত করে দেখবে দুর্ঘটনায় মৃত্যু অনিচ্ছাকৃত না বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে হয়েছে।

এ নিয়মের বিরোধী নাগরিক সমাজ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা। জাতীয় সড়ক পরিবহন কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, দুর্ঘটনার শিকার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র। তারা বিচার পাবেন কি-না সন্দেহ রয়েছে। কারণ বেপেরোয়া গাড়ি চালিয়ে মৃত্যুর ঘটনার তদন্তকে প্রভাবিত করে দুর্ঘটনা বানানোর শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আবার বিপরীত ভয় পরিবহন শ্রমিকদের। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু বলেন, প্রকৃত দুর্ঘটনাকে তদন্তে বেপরোয়া গাড়ি চালনাজনিত মৃত্যু বলা হতে পারে। এতে শ্রমিকদের ওপর চাপ বাড়বে।

সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, আইনের খসড়ার বিভিন্ন দিক তারা খতিয়ে দেখছেন। তারা সংশোধনীর প্রস্তাব দেবেন। তিনি গতকাল সমকালকে বলেন, কয়েকটি বিষয়ে তাদের সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে। স্থায়ী কমিটি মালিক-শ্রমিকদের ডাকলে সংশোধনীর প্রস্তাব দেওয়া হবে।

সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় চালক ও তার সহকারীকে নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে নিয়োগপত্র না দিলে মালিকের কী শাস্তি হবে তা আইনে বলা নেই। চালককে অষ্টম শ্রেণি ও তার সহকারী পঞ্চম শ্রেণি পাস হতে হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতার এ শর্তের বিরোধী শ্রমিকরা। আবদুর রহিম সমকালকে বলেন, যেসব সহকারী পঞ্চম শ্রেণি পাস করে পেশায় এসেছে, গাড়ি চালানো শিখছে তারা লাইসেন্স পাবে কী করে। এতে দক্ষ চালকের সংকট আরও বাড়বে।

বিনা লাইসেন্সে গাড়ি চালালে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভূয়া লাইসেন্সে গাড়ি চালালে দুই বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়। পেশাদার চালকের সনদ পেতে ২১ বছর বয়স হতে হবে। লাইসেন্সের বিপরীতে ১২ পয়েন্ট থাকবে। বাতিল লাইসেন্সে গাড়ি চালালে তিন মাস কারাদণ্ড হবে। ৯ ধরনের অপরাধ করলে পয়েন্ট কাটা যাবে। সব পয়েন্ট কাটা গেলে লাইসেন্স বাতিল হবে। আইনে ৩৮ ধরনের অপরাধের বিবরণ ও শাস্তির বিধান রয়েছে।

আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, মোটরযানের ফিটনেস নিতে গাড়ি পরিদর্শন করা হবে। তবে তা না করলে মালিক ও বিআরটিএর কর্মকর্তাদের কী শাস্তি হবে তা আইনে বলা নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালালে তিন মাস কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চালালে তিন মাস কারাদণ্ড অথবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি ভাড়ায় খাটালে তিন মাস জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

খসড়ার ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে, যে কোনো এলাকার মোটরযানের সংখ্যা নির্ধারণ করে দিতে পারবে সরকার। গণপরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায়ে এক মাস জেল বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে না। বিলাসবহুল গাড়িতে বিশেষ ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবে বিআরটিএ। সরকার গাড়ির আয়ুস্কাল নির্ধারণ করে দিতে পারবে।

মিটারে না চললে ছয় মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। মহাসড়কে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেবে সরকার। গতিসীমা লঙ্ঘন করলে তিন মাস জেল হবে। অবৈধ পার্কিংয়ে জরিমানা হবে পাঁচ হাজার টাকা। বর্তমানে এ জরিমানা ৫০০ টাকা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা যাবে না। যাত্রীদেরও বাঁধতে হবে সিটবেল্ট। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে আহত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে চালককে। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেলে এক মাস কারাদণ্ড হবে।







নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মমতাজ বেগম (৫০) নামে এক সবজি ...

ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

ময়মনসিংহে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

ময়মনসিংহে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সুমন নামের একজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ...

আওয়ামী লীগ ছাড় দেবে সর্বোচ্চ ৭০ আসন

আওয়ামী লীগ ছাড় দেবে সর্বোচ্চ ৭০ আসন

১৪ দল ও মহাজোটের শরিকদের জন্য ৬০ থেকে ৭০টি আসন ...

একাধিক আসনে লড়তে পারেন যারা

একাধিক আসনে লড়তে পারেন যারা

রাজনীতির নানামুখী হিসাব-নিকাশের কারণে আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক আসনে ...

আক্রান্ত হয়েও জানেন না অর্ধেক মানুষ

আক্রান্ত হয়েও জানেন না অর্ধেক মানুষ

দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। নারী-পুরুষ-শিশু সব ...

ঋণখেলাপি হয়েও ব্যাংক পরিচালক

ঋণখেলাপি হয়েও ব্যাংক পরিচালক

ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক এমএনএইচ বুলু ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মিরপুর রোড ...

দণ্ড স্থগিত না হলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি

দণ্ড স্থগিত না হলে প্রার্থিতা বাতিল: ইসি

একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ...

২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন পাশের সনদ দেয় তারা

২০ হাজার টাকায় শিক্ষক নিবন্ধন পাশের সনদ দেয় তারা

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে ...