এক যুগে বাজেট বাস্তবায়ন কমেছে ২৮ শতাংশ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮      

আবদুল্লাহ আল মামুন, চট্টগ্রাম

প্রতিবছর বাজেটের আকার বাড়লেও ক্রমে তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা কমছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। অর্থবছরজুড়ে বাজেটের একাংশ বাস্তবায়ন করতেই তাদের ঘাম ছুটে যায়। গত এক যুগের তুলনায় বাজেট বাস্তবায়ন কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এক যুগ আগেও যা ছিল ৬৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত অর্থবছরে বাজেটের অর্ধেক বাস্তবায়ন করতে না পারলেও চলতি অর্থবছরে আরও ৯৮ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রেখে বাজেট ঘোষণা করেছে সিটি করপোরেশন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই হাজার ৪২৫ কোটি ৪২ লাখ ৮২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিশাল বাজেট কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

গত এক যুগের বাজেট বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, প্রতিবছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বকেয়া ও হালকর আদায় করতে না পারা, প্রত্যাশিত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। ফলে নগর উন্নয়নে আসছে না কাঙ্ক্ষিত গতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটের আকার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সক্ষমতা ও সরকারের সহায়তাও বাড়াতে হবে। না হলে বড় বড় বাজেট দিয়ে কোনো লাভ হবে না।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, 'প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হয়নি এবং সরকারের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত অনুদানও পাওয়া যায়নি। ফলে শতভাগ বাজেট বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা যোগাযোগ করেছি। আর ব্যক্তিগত খাতের বকেয়া কর আদায়ে উদ্যোগ নিয়ে ফল পেয়েছি। আশা করি, কর আদায় বাড়বে।'

সরকারি উন্নয়ন অনুদান প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন, 'এর মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প শুধু একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। কয়েকটি প্রকল্প অর্থছাড়ের অপেক্ষায় আছে। এটা নির্বাচনী বছর। অর্থছাড় বাড়বে। গতবারের তুলনায় এবার অনেক বেশি টাকা পাব। এর বাইরে সিটি গভর্নমেন্ট প্রকল্প এবং জাইকার প্রকল্প থেকেও টাকা পাব। কাজেই বাস্তবধর্মী এ বাজেট নগরবাসীর সহায়তায় বাস্তবায়ন সম্ভব।'

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই হাজার ৩২৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল সিটি করপোরেশন। এ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট ছিল ৮৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ২০০৫-০৬ অর্থবছরের বাজেট ছিল ৩৮৭ কোটি ৫৩ লাখ ২২ হাজার টাকা। বাস্তবায়ন হয়েছিল ২৫৪ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত এক যুগে বাজেট বাস্তবায়ন কমেছে ২৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে তিন ধরনের কর থেকে আয় ধরা হয়েছিল  ৮০৭ কোটি ৬৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু চসিক আয় করতে পেরেছে মাত্র ২৪৩ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি আয় ধরা হয়েছিল হালকর ও অভিকর খাতে- ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় হয়েছে মাত্র ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বকেয়া কর ও অভিকর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অন্যান্য কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৬ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আদায় হয়েছে ১১০ কোটি ৮৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

গত অর্থবছরের বাজেটে নগর উন্নয়ন খাতে এক হাজার ২৯০ কোটি টাকা সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল চসিক। এর মধ্যে পেয়েছিল মাত্র ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারের কাছ থেকে থোক বরাদ্দ প্রত্যাশা ছিল ৩২৫ কোটি টাকা। বিপরীতে পেয়েছে মাত্র ৪৭ কোটি টাকা। বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের জন্য ১৮০ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশা করলেও গত অর্থবছরে কোনো অর্থই ছাড় হয়নি। গত মঙ্গলবার ঘোষিত বাজেটে উন্নয়ন অনুদান খাতে এক হাজার ৬৮০ কোটি টাকা সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেছে চসিক।

এ প্রসঙ্গে ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সিকান্দার খান সমকালকে বলেন, সক্ষমতা না বাড়িয়ে বছর বছর বাজেটের আকার বাড়ালে কোনো সুফল মিলবে না। দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। সরকারি উন্নয়ন অনুদানও বাড়াতে হবে। তাহলে বাজেটের শতভাগ বাস্তবায়ন আশা করা যায়।
কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...