'বাংলাদেশি শিশুদের শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের মুগ্ধ করে চলছে'

প্রকাশ: ২৪ মে ২০১৫     আপডেট: ২৪ মে ২০১৫      

মারভিন ডি ক্যাবেরেরা


নিউইয়র্কের বাসিন্দা মারভিন ডি ক্যাবেরেরা তার উদ্যোগ 'আর্ট ইন আ সুটকেস'-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের চিত্র ও হস্তশিল্পবিষয়ক সেতুবন্ধ গড়ে তুলছেন। প্রথমে শখের বশে কাজটি শুরু করলেও এখন তিনি পূর্ণকালীন হয়েছেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্কভিত্তিক 'আই হ্যাভ এ ড্রিম' ফাউন্ডেশনে এবং ডাবল ডিসকভারি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার শিক্ষাজীবন কেটেছে কানেকটিকাটের ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটি, নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল ও লা সালে একাডেমিতে। অনলাইনে তার সঙ্গে কথা বলেছেন সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকন



 সমকাল: শুক্রবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত 'আর্ট ইন আ সুটকেস :অ্যান একজিবিশন বাই বাংলাদেশি চিলড্রেন' প্রদর্শনীতে আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ছোট্ট সোনামণিদের আঁকাআঁকি দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। আপনার এই উদ্যোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলবেন?

মারভিন ক্যাবেরেরা: আপনার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। আর্ট ইন আ সুটকেস আসলে একটি বৈশ্বিক শিক্ষামূলক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুরা শিল্পের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হয়ে থাকে।



সমকাল: এর নাম 'আর্ট ইন আ সুটকেস' হলো কেন?

মারভিন ক্যাবেরেরা: এই নামটি এসেছে আমাদের প্রথম বৈশ্বিক মিথস্ক্রিয়া থেকে। আমার পুত্রের স্কুল 'ইথিক্যাল কালচার ফিল্ডস্টোন' থেকে প্রতিবেশবান্ধব উপকরণ সংগ্রহের মাধ্যমে শিল্পচর্চা হয়, যা বাংলাদেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা চর্চা করে না। আমরা সেখান থেকে এক সুটকেসভর্তি উপকরণ সংগ্রহ করতে চেয়েছিলাম। সেগুলো বাংলাদেশে এনে আমরা কিছু স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে বিলি করেছিলাম। তারা এগুলো দিয়ে হস্তশিল্প তৈরি করে ও ছবি এঁকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিল।



সমকাল: এই উদ্যোগের ধারণা আপনার মাথায় দানা বাঁধতে থাকে কখন থেকে?

মারভিন ক্যাবেরেরা: এই ধারণা পাকাপোক্ত হয় ২০১১ সালে। কমবেশি ১৭ বছর একজন শিক্ষক হিসেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রজন্ম ও নিম্ন আয়ের শিশুদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় গাইড করে আমি চেয়েছিলাম শিশুদের নিয়ে আরও বৃহত্তর পরিসরে কাজ করতে। আমার স্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে গভীর আলোচনা করে শিশুদের জন্য ও শিল্পের জন্য আমার হৃদয়ের গভীরের ভালোবাসা, শিক্ষার গুরুত্ব একত্রে কাজে লাগাতে উদ্যোগী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম যে বিষয়টি সম্পর্কে জীবন দিয়ে বোঝা এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীর মধ্যে সে অনুযায়ী সেতুবন্ধ গড়ে তোলার মাধ্যমে খুব সম্ভবত আমার জীবনের অর্থপূর্ণ উৎসর্গীকরণ সম্ভব হবে।



সমকাল: তারপর শুরু করলেন কীভাবে?

মারভিন ক্যাবেরেরা: 'আর্ট ইন আ সুটকেস' ধারণাটি পোক্ত হওয়ার সময়ই আমি নয়াকৃষি আন্দোলন সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম। তাদের দুটি বিদ্যালয়ের একটি টাঙ্গাইলে অবস্থিত। আমার মনে হয়েছিল, টাঙ্গাইলের বিদ্যালয়টি সব দিক থেকে উপযুক্ত হবে। কর্তৃপক্ষ সম্মত হওয়ার পর আমি নিউইয়র্কে আমার পুত্রের স্কুলে যাই এবং বিশেষ করে একজন সেকেন্ড গ্রেড শিক্ষকের সঙ্গে ধারণাটি বিনিময় করি। তিনি খুবই আগ্রহী ছিলেন এবং শিল্প উপকরণ সংগ্রহ ও বিনিময়ের মাধ্যমে বিশ্বের দুটি দেশের শিশুদের পরস্পরকে জানাশোনার প্রথম উদ্যোগটি সূচিত হয়।



সমকাল: এখন কী ধরনের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন?

মারভিন ক্যাবেরেরা: চলতি বছরের প্রথম থেকে আমি বাংলাদেশে থেকে আর্ট ইন আ সুটকেস প্রকল্পটি গড়ে তুলছি। ইথিক্যাল কালচার ফিল্ডস্টোন এবং টাঙ্গাইলের নয়াকৃষি বিদ্যালয়ের মধ্যে গত দুই বছরে দুই দফা শিল্প বিনিময়ের পর এখন সময় এসেছে উদ্যোগটিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামো ও স্থায়িত্ব দেওয়ার। যুক্তরাষ্ট্রে আগেরবার ফিরে গিয়ে আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সহায়তায় একটি সফল ফান্ডরেইজিং ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমি বৈশ্বিক শিল্প বিনিময় প্রক্রিয়া চালানোর জন্য তিনজন শিক্ষাকর্মী নিয়োগের মতো যথেষ্ট অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। এর আগে শিল্পীদের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে, বেশ কিছু আর্ট গ্যালারিও পরিদর্শন করেছি আমি। আমি এর সম্ভাবনা দেখি। কারণ নয়াকৃষি আন্দোলনের ঈশ্বরদী বিদ্যালয়ের শিশুদের সঙ্গে এক সপ্তাহ হেসেখেলে কাটানোর পর দেখেছি, তারা দীর্ঘকালীন শিল্প ক্লাসের জন্য খুবই আগ্রহী। দেখেছি যে, শিল্প হচ্ছে শিশুদের আত্মার খোরাক। এখন আমরা টাঙ্গাইল, ঈশ্বরদী ছাড়াও ঢাকার খিলক্ষেতের শারাফ পাঠশালার সঙ্গে কাজ করছি। প্রথম দুটিতে কৃষক, তাঁতি ও জেলেদের সন্তানরা পড়াশোনা করে, তৃতীয়টিতে শহরের গার্মেন্ট শ্রমিকদের সন্তানরা পড়াশোনা করে। বাংলাদেশি এসব শিশুর শিল্পকর্ম যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের মুগ্ধ করে চলছে। দুই পক্ষই খুবই আনন্দ ও আগ্রহ নিয়ে শিল্প বিনিময়ে যুক্ত হচ্ছে।



সমকাল: এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জগুলো কী দেখেছেন?



মারভিন ক্যাবেরেরা: একটি চ্যালেঞ্জ অবশ্যই উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া। যিনি শিল্প সম্পর্কে গভীর জীবনবোধ ধারণ করেন। যিনি শিশুদের অন্তর্গত আগ্রহ ও প্রতিভা জাগিয়ে তুলতে পারবেন। শিল্পের ক্ষেত্রে কোনো ভুল থাকে না, শিক্ষকদের কাজ হচ্ছে শিশুদের ভেতরের শিল্পকে উসকে দেওয়া ও লালন করা। আরেকটি চ্যালেঞ্জ অবশ্যই তহবিল সংগ্রহ। প্রথমটি জয় করতে পারলে, দ্বিতীয়টি বড় কোনো বিষয় নয় অবশ্য।


পরবর্তী খবর পড়ুন : ফেসবুক থেকে

ব্রাজিলের জয় উদযাপন করতে গিয়ে সমর্থকের মৃত্যু

ব্রাজিলের জয় উদযাপন করতে গিয়ে সমর্থকের মৃত্যু

বিশ্বকাপ ফুটবলে কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জয় উদযাপন করতে গিয়ে উল্লাপাড়ায় ...

কোচিং বন্ধে মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

কোচিং বন্ধে মনিটরিং কমিটির কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কোচিং বন্ধে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং ...

'আর্জেন্টিনার জালে গোল দেওয়া কঠিন না'

'আর্জেন্টিনার জালে গোল দেওয়া কঠিন না'

ব্রাজিলে ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সঙ্গে নাইজেরিয়ার ম্যাচের কথা মনে আছে? ...

জনগণের মন জয় করেই ভোটে জিততে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের মন জয় করেই ভোটে জিততে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জনগণের মন জয় করেই আগামী নির্বাচনে জয়লাভের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ...

সেই ভারতীয় নারীর স্বামী আটক

সেই ভারতীয় নারীর স্বামী আটক

কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে থানার বাথরুমে সন্তান প্রসব করা ভারতের নাগরিক ...

চান্দিমালের পরিবর্তে লঙ্কান অধিনায়ক সুরাঙ্গা লাকমল

চান্দিমালের পরিবর্তে লঙ্কান অধিনায়ক সুরাঙ্গা লাকমল

বল বিকৃতি কাণ্ডে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছেন শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ ...

'আর্জেন্টিনার স্বার্থে অবসরে যাওয়া উচিত মেসির'

'আর্জেন্টিনার স্বার্থে অবসরে যাওয়া উচিত মেসির'

ব্রাজিল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার মেসি। কিন্তু রাশিয়া বিশ্বকাপে ...

গাজীপুরের নির্বাচন খুলনা স্টাইলে হলে পরিণতি ভয়াবহ: মওদুদ

গাজীপুরের নির্বাচন খুলনা স্টাইলে হলে পরিণতি ভয়াবহ: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ...