কালাপাহাড়ের পথে

প্রকাশ: ১১ মে ২০১৬      

কালাপাহাড় সিলেট তথা দেশের এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া। উচ্চতা ১১০০ ফিট। এর এক পাশে কুলাউড়া, অন্য পাশে জুড়ি উপজেলা ও ভারত সীমান্ত]
বিশ্বাস করুন নিচে একটি টি-শার্ট, ওপরে ফুলহাতা শার্ট, তার ওপর ইয়া মোটা জ্যাকেট এবং সবার ওপরে উলের কম্বল। সময়কাল কোনো এক মাঘের শেষ রাত, স্থান কুলাউড়া। এত জবড়জং পোশাক পরার পরও হাড়ে হাড়ে ঠোকাঠুকি লেগে যাচ্ছে। বাস যখন নামিয়ে দিয়ে গেল, ভোরের আজান হতে তখনও ঘণ্টাখানেক বাকি। সীমান্তবর্তী এ উপজেলা শহরের পথঘাট পুরো সুনসান, এলাকাজুড়ে শুধু হালকা কুয়াশার রাজ্য। পথের পাশে পড়ে থাকা একটি খালি হিউম্যান হলারে গুটিসুটি মেরে বসে রইলাম আমরা ক'জন। একসময় আজান হলো। পথ চলতি দু-একজনের দেখাও পাওয়া গেল। ঠাণ্ডা রীতিমতো বাড়ছে। আর তো বসে থাকা যায় না, তাপমাত্রা মাইনাস ডিগ্রির নিচে। সিদ্ধান্ত হলো এবার আসগরাবাদ চা বাগান যাওয়ার উপায় খুঁজতেই হবে। আমরা এমন এক পাহাড় চূড়ার খোঁজে যাচ্ছি, যেখানে এ পর্যন্ত শহুরে মানুষের পা পড়েছে বার দুয়েক হয়তো। আমাদের সম্বল বলতে রুটে হদিস নিয়ে দুটো কথা লেখা এক খণ্ড কাগজ। সিএনজি পাওয়া গেল। ছয়জন গাদাগাদি করে তাতে উঠে বসলাম। কুলাউড়া সদর ছাড়াতেই কুয়াশার দাপট গেল বেড়ে। শীতের ফসল শূন্য ক্ষেত শিশিরে ভিজে একাকার। ইলেকট্রিক তারে দু-একটি ঘুঘু শীতঘুম শেষে নীড়ের ওম ছেড়ে বসল মাত্র। ঠিক পাহাড় নয়, কিন্তু লাল মাটির আলাদা এক ঘ্রাণ আছে এখানে। উদাস কবির হওয়ার কোনো সুযোগ নেই অন্তত এই শীতার্ত ভোরে। বরং সিএনজির স্বল্প জায়গায় একে ওপরের গা-ঘেঁষে বসলে উষ্ণতা প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেশি। রবির বাজার ছাড়িয়ে ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আমরা পেঁৗছে গেলাম আসগরাবাদ চা বাগানে। সেখানকার এক দোকানে বসে খটখটে কেক দিয়ে নাশতা সারা হলো। এর পরের গন্তব্য বেগুনছড়া পুঞ্জি। কিন্তু পথের দিশা তো জানা নেই। দোকানি এক বাঙালি পান শ্রমিকের সঙ্গে আমাদের জুড়ে দিলেন। তিনিও যাবেন সেই খাসিয়া পল্লীতে। ভোরের সূর্য উঁকি দিতে শুরু করেছে চা বাগানের ছায়াবৃক্ষের ফাঁক গলে। চা পাতায় লেগে থাকা শিশির চিকচিক করে উঠল। এখন চায়ের মৌসুম নয়। অনেক গাছ মরে গেছে। বৃষ্টি এলেই এখান থেকে জাগবে নতুন প্রাণ। মরে আছে বাগানের মাঝে বয়ে যাওয়া পাহাড়ি ছড়া। বর্ষায় এই ছড়ায় পানির বান ডাকে। চা বাগান গলে মসৃণ মেঠোপথ, মাঝে মধ্যে ছড়া পার হওয়ার ছোট্ট সাঁকো পার হয়ে আমরা মনের আনন্দে চলেছি বেগুনছড়ার পানে। কিছুদূর যাওয়ার পরই আমাদের সঙ্গী হলো মাইকে উচ্চ স্বরে চটুল গানের সুর। আমাদের স্থানীয় সঙ্গী জানালেন পুঞ্জিতে বিয়ে হচ্ছে। এখানে খাসিয়া জাতিগোষ্ঠীর মানুষ প্রায় সবাই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী। ৪০-৪৫ মিনিট পথ হেঁটে পল্লীর মন্ত্রী বাহাদুর মশাইয়ের বাড়ি পেঁৗছলাম। আগে থেকে ফোনে তার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। তার সাদর অভ্যর্থনার সঙ্গে গরম গরম চা-বিস্কুট। প্রায় একশ' পরিবার নিয়ে সীমান্তবর্তী এ পল্লী। আশপাশে আরও বেশ ক'টি খাসিয়াপল্লী রয়েছে। এখানকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস পান চাষ। এখানে পথের পাশে সুপারি গাছে চোখে পড়বে লতানো পান গাছ। এখন কালা পাহাড়ের দিকে যেতে হবে। কিন্তু মন্ত্রীর বাড়িতে অলস বসে থাকতে হলো দুই ঘণ্টা। মন্ত্রী বলে কথা, তিনি তো আর আমাদের যার তার সঙ্গে পাঠাতে পারেন না। তার প্রহরী আসতে দেরি করাতেই আমাদের এই বসে থাকা। সকাল ১০টার পর সূর্য যখন পূর্ণোদ্যমে তাপ বিলাচ্ছে, তখন আমরা ট্রেক শুরু করলাম কালাপাহাড়ের পথে। কালাপাহাড় সিলেট তথা দেশের এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া। উচ্চতা ১১০০ ফিট। এর এক পাশে কুলাউড়া, অন্য পাশে জুড়ি উপজেলা ও ভারত সীমান্ত। পাড়া ছাড়িয়ে ছোটখাটো টিলার শিরা ধরে আমরা চলেছি কালা পাহাড় ডিঙাতে। এখানে আরোহণ ততটা কষ্টকর নয়। কিন্তু সূর্য মাথার ওপর থাকায় পথ চলতে যা একটু ক্লান্তি লাগে। শেষের কিছুটা পথ একটু খাড়া। মোটামুটি দেড় ঘণ্টার মধ্যই আমরা চূড়ায় পেঁৗছে গেলাম। এখানে আগের দুটি টিমের সামিট নোট খুঁজে পেলাম। আমরা এখানে আরোহণকারী চতুর্থ দল। চলল বিস্কুট, চকোলেট, মুড়ি খাওয়া। হালকা কুয়াশার চাদর চারপাশে ছড়িয়ে থাকায় দৃষ্টিসীমা বেশিদূর অগ্রসর হয় না। রিজ ধরে একটু নিচে নেমে খেলার মাঠের মতো একটুকরো সমতল মাঠের মতো জায়গা আছে। এখানে বসে শীতের রোদে পিঠে নিতে বেশ আরাম। শুনেছিলাম এখানে নাকি হাতি আছে। তার বিষ্ঠা দেখলাম চারপাশে ছড়িয়ে আছে। জানা গেল, ওগুলো বুনো হাতি নয়, এই এলাকায় বেশকিছু হাতি পোষা হয়। সেগুলোই খাবারের খোঁজে চষে বেড়ায় কালাপাহাড় এলাকা। সিদ্ধান্ত হলো এবার ভিন্ন পথ দিয়ে নামব। এ পথ কিন্তু বেশ খাড়া। কিছু জায়গায় একটু বেকায়দা। সাবধানে নেমে এসে ঝিরিতে নামলাম। কিন্তু একি! নিষ্প্রাণ ঝিরিতে জমে থাকা পানি বরফের চেয়েও ঠাণ্ডা। বেশিক্ষণ পা রাখা দায়। অবশ্য কিছুক্ষণ চলার পর সয়ে গেল। ঘণ্টাখানেক পর আবার মন্ত্রীর বাড়ি। তার পরের গল্প অন্য আর দশটা ট্রেকে বাড়ির ফেরার গল্পের মতোই।

লেখা : রিয়াসাদ সানভী
ছবি : নির্ঝর শাফি
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়াগামী শ্যামলীসহ বেশ কয়েকটি বাস রয়েছে। কুলাউড়া নেমে আসগরাবাদ চা বাগানগামী সিএনজিতে চড়ে বসুন। লোকাল গেলে চলি্লশ টাকার মতো খরচ পড়বে। রিজার্ভ করলে ২২০ টাকা। আসগরাবাদ গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই বেগুনছড়া পুঞ্জির পথ দেখিয়ে দেবে। খাসিয়াপল্লী পেঁৗছে স্থানীয় কাউকে নিয়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টার পাহাড়ি ট্রেইল ধরে পেঁৗছে যাবেন কালা পাহাড়ের চূড়ায়।
তাইজুল ফেরালেন রাজাকে

তাইজুল ফেরালেন রাজাকে

মিরপুর টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন ব্যাট করছে জিম্বাবুয়ে। বৃহস্পতিবার ...

মেলানিয়ার সঙ্গে ঝামেলায় পদচ্যুত ট্রাম্পের উপদেষ্টা

মেলানিয়ার সঙ্গে ঝামেলায় পদচ্যুত ট্রাম্পের উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ঝামেলার পর ...

নয়াপল্টনে সংঘর্ষ: ৩ মামলায় গ্রেফতার ৫০

নয়াপল্টনে সংঘর্ষ: ৩ মামলায় গ্রেফতার ৫০

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় দলের স্থায়ী কমিটির ...

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে মহাসংকটে ...

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চলকে শহরের সুবিধায় আনতে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ...

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ঘাতক ব্যাধি ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ...

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

'লোকগানের কথায় রয়েছে জীবনের দিকনির্দেশনা। এর ঐন্দ্রজালিক সুর অদ্ভুত এক ...

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দক্ষ রাজমিস্ত্রি হিসেবেই মিরপুর, ভাসানটেক ও কাফরুল এলাকার মানুষজন চিনতেন ...