যুগলবন্দি পোশাক

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

জুটি বেঁধে পোশাক পরতে বেশ পছন্দ করেন আধুনিক ফ্যাশন সচেতনরা। সম্পর্কের এক জোরালো প্রকাশভঙ্গি যেন এই যুগলবন্দি পোশাক। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতে তৈরি করে বিশেষ এই কালেকশন। লিখেছেন শায়লা শারমিন ও সারাহ্‌ দীনা

জীবনে চলার পথে বিশেষ একজনের জন্য প্রচণ্ড এক মায়ার নাম সম্ভবত ভালোবাসা। বিশেষ সেই মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে সব সময়েই মন অস্থির থাকে। আর যখন সে দিনটি হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, তখন বিশেষ পরিকল্পনা থাকবেই বিশেষ মানুষটির জন্য। ভালোবাসাবাসির এই দিন নিয়ে ফ্যাশন হাউসগুলোতে রয়েছে বিশেষ আয়োজন। এই আয়োজনে বেশ কিছু ফ্যাশন হাউস তৈরি করেছে দু'জনের জন্য একই ধরনের পোশাক। জুটি বেঁধে পোশাক পরতে বেশ পছন্দ করেন আধুনিক ফ্যাশন সচেতনরা। তাদের সম্পর্কের এক জোরালো প্রকাশভঙ্গি যেন এই পোশাকে জুটি বাঁধা।

যুগল পোশাকের ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য রয়েছে সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ির পাশাপাশি কিছু কুর্তির আয়োজন। ছেলেদের জন্য আছে শার্ট, টি-শার্ট এবং পাঞ্জাবি।

বাজার ঘুরে দেখা গেল, এবারের যুগল পোশাকে আছে রঙ এবং নকশা এ দুইয়ের মেলবন্ধন। দু'জনের পোশাকে কখনও রঙবিন্যাস এক রেখে নকশায় আনা হয়েছে কিছু পরিবর্তন, আবার কখনও দেখা গেছে নকশা এক রেখে রঙের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা। রঙের ক্ষেত্রে ভিন্নতায় চোখে পড়েছে এক রঙের ভিন্ন শেডের ব্যবহার আবার কখনওবা রঙের সম্পূর্ণ বৈপরীত্য। সলিড কালারে নকশার বৈচিত্র্য এনেছেন অনেক নকশাকার। ভালোবাসার এ বিশেষ দিনে বিভিন্ন ফুলের নকশা বেশ স্থান করে নিয়েছে পোশাকে।

রঙের ক্ষেত্রে রয়েছে লাল, নীল, আকাশি, গোলাপির আয়োজন। বসন্তের বাতাস বইছে চারদিকে। ফাগুনের দ্বিতীয় দিন ভালোবাসার বিশেষ দিন হওয়ার কারণে হলুদ, বাসন্তীর শেডও রয়েছে যুগল পোশাকের আয়োজনে। উজ্জ্বল এ রঙগুলো বেশ মানিয়ে যাবে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ দু'জনকে।

যুগল পোশাক নির্বাচনে নকশাকারের যুগল করা দুটি পোশাকই যদি মনমতো না হয় কোনো ক্রেতার, তাহলে নিজেরা রঙ মিলিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন যুগল পোশাক। বাজারের একই অথবা ভিন্ন দোকান থেকেও রঙ মিলিয়ে কিনে নিলে তৈরি হয়ে যাবে আপনার যুগল পোশাক।

বিবিয়ানার নকশাকার লিপি খন্দকারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম তাদের যুগল পোশাকের আয়োজন নিয়ে। জানালেন, 'যুগল পোশাক এ সময়কার ট্রেন্ড। বিশেষ দিবসে অনেকেই পরতে চান একই ধরনের পোশাক। এ ধরনের পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে বেশি নজর রাখা হয়েছে রঙের ক্ষেত্রে। কারণ পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে রঙ নজর কাড়ে। আর মোটিফের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে দু'জনের ক্ষেত্রে সব সময় এক মোটিফ ব্যবহার করা হয় না, নিয়ে আসা হয় কিছুটা ভিন্নতা।'

ভালোবাসা অবশ্যই শুধুই দু'জনের একান্ত সম্পর্ক। তবুও একটা দিনে যদি এক রঙ অথবা এক নকশার পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানো যায় দু'জনে, যদি দেখেই বুঝে নেওয়া যায় আপনারা দু'জন শুধুই দু'জনের, তাতে ভালোবাসা বরং বেড়ে যাবে অনেকটা।

ভালোবাসা দিবসের সকাল শুরু হোক সব কিছুতে ভালোবাসার ছোঁয়া নিয়ে। দু'জন মানুষের সবকিছুতে এক হয়ে যাওয়া তো ভালোবাসারই প্রকাশ। দু'জনের সঙ্গে সঙ্গে শহর জানুক তাদের ভালোবাসার কথা। একই ভালোবাসার রঙে রাঙিয়ে দিন বিশেষ দিনটিকে।

ভালো থাকার জন্যই আসলে আমরা ভালোবাসি। আর সে জন্যই ভালোবাসার প্রিয় মানুষদের ভালো রাখতে চাই। শুধু প্রেমিক যুগল নয়, আমাদের প্রিয় মানুষদের তালিকায় আছে মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-স্বজন। কিছু সহজ সূত্র মেনে চললেই ভালো লাগার সম্পর্কটি হবে আরও মধুময়।

ষ সাফল্য অর্জনের অন্যতম উপায় হলো মানুষের সঙ্গে সহজে মেলবন্ধন তৈরি করা। ইতিবাচক সম্পর্ক আমাদের সুস্থ-সুন্দর, সুখী ও পরিতৃপ্ত জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। ভালোবাসার গভীরে আছে শ্রদ্ধা। কাজেই যাকে ভালোবাসেন, প্রথমে তাকে সম্মান করতে শিখুন। শ্রদ্ধাবোধ অনেক নেতিবাচক প্রভাব থেকে সম্পর্ককে রক্ষা করে।

ষ পৃথিবীতে আমরা সবাই স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এ সহজ সত্যটা মেনে নিতে হবে। এমনকি একই পরিবারের সব সদস্যের পছন্দ-অপছন্দেও গরমিল আছে। তাই আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি না মেলাটাই স্বাভাবিক। এটা নিয়ে মনোক্ষুণ্ণ হবেন না।

ষ কারও প্রিয়পাত্র হওয়ার অন্যতম উপায় হলো তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলে এবং বোঝার চেষ্টা করলে সেই মানুষটি প্রেরণা পায়। তাই আপনার প্রিয়জনকে মানসিক সহায়তা দিন ও তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, এতে করে তার অনুপ্রেরণা বাড়বে। সে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে, নিজেকে মূল্যবান ভাবতে শিখবে। তার কথা বলার সময় কোনো ব্যাঘাত ঘটাবেন না।

ষ এই ব্যস্ততার যুগে সময় এক সোনার হরিণ। উপরন্তু প্রযুক্তির উন্নয়ন আমাদের সম্পর্ক বিকাশের ক্ষেত্রটিকে আরও সংকুচিত করে দিয়েছে। এর ফলে আমাদের কাছের মানুষেরা দূরে চলে যাচ্ছে। আর কিছু ক্ষেত্রে অপরিচিত, অযাচিত মানুষেরা অপ্রয়োজনীয় প্রাধান্য পাচ্ছে। মনে রাখবেন, প্রিয়জনকে দেওয়া আপনার সেরা উপহার হচ্ছে সময়। সময়ের অভাবে সম্পর্ক ফিকে হয়ে যায়। যখন প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন তখন অনলাইন কানেকশন অফ করে দিন।

ষ যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি হচ্ছে সম্পর্ক উন্নয়নের আরেক ধাপ। এর মানে হলো বক্তার বক্তব্য ভালোভাবে বুঝতে পারা এবং বক্তা যা বলল না তাও আন্দাজ করতে পারা। সেই সঙ্গে নিজের বক্তব্যও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলা। আদবকায়দা বজায় রেখে কথা বলার অভ্যাস তৈরি করা, সেটা হোক টেলিফোনে বা সরাসরি কথোপকথনে। এই অনন্য গুণটি যেমন পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে প্রয়োজন, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও এর মাধ্যমে সহজে কাজ সমাধা করা যায়।

পরবর্তী খবর পড়ুন : দু'জনের ভুবন

রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেবে ঐক্যফ্রন্ট

রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে চিঠি দেবে ঐক্যফ্রন্ট

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে রাষ্ট্রপতির সহায়তা চেয়ে ...

এরশাদ কোথায়

এরশাদ কোথায়

অজ্ঞাত স্থানে 'বিশ্রাম নিচ্ছেন' জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ ...

প্রার্থীর যোগ্যতা অযোগ্যতা প্রশ্নে দ্বিধায় ইসি

প্রার্থীর যোগ্যতা অযোগ্যতা প্রশ্নে দ্বিধায় ইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার মানদণ্ড ...

নৌকায় চড়তে চান শতাধিক ব্যবসায়ী

নৌকায় চড়তে চান শতাধিক ব্যবসায়ী

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যানারে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ...

নওয়াব ফয়জুন্নেছার বাড়ি হবে উন্মুক্ত জাদুঘর

নওয়াব ফয়জুন্নেছার বাড়ি হবে উন্মুক্ত জাদুঘর

ফয়জুন্নেছা চৌধুরাণী উপমহাদেশের একমাত্র নারী নওয়াব। কুমিল্লার লাকসাম থেকে আধা ...

আসামিকে জামিন পাইয়ে দিলেন দুদক পিপি

আসামিকে জামিন পাইয়ে দিলেন দুদক পিপি

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পিপির সুপারিশে ১৩৫ কোটি টাকা ...

মৃত্যুফাঁদ থেকে সাবধান

মৃত্যুফাঁদ থেকে সাবধান

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সড়কের আশপাশে এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস পাইপলাইন ...

'মি টু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়'

'মি টু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়'

বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া যৌন নিপীড়ন বিরোধী #মি টু আন্দোলনের ঢেউ ...