'দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা :চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায়' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০১৮      

দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার শিকার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ত্রাণ চায় না, তারা এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চায়। প্রতি বছর গড়ে সাত-আট মাস জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করতে হয় ওই অঞ্চলের মানুষকে। এর প্রভাবে তাদের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। দিনে দিনে তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা : চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায় শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজক যৌথভাবে সমকাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, নারী কনসোর্টিয়াম (১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার একটি জোট) ও ওয়াটার লগিং অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (ডব্লিউএলএপি)



মো. মোহসীন

চলতি বছর বন্যার পানি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশিদিন ছিল। এ পরিস্থিতির কারণ খুঁজে বের করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শুধু সরকারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন অসম্ভব। তাই এ কাজে সবাইকে যুক্ত হতে হবে। তা না হলে কার্যকর কোনো কাজ হবে না। বর্তমান সময়ে অনেক ভালো কাজ হওয়ার পাশাপাশি অনেক সংস্থা এ কাজে যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যা করছে, তা অকল্পনীয়। মাঠ পর্যায় থেকে তারা যে তথ্য তুলে আনে, তা প্রকৃত অর্থেই মাঠের বাস্তব চিত্র, যা আগে কখনোই জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এত স্পষ্ট করে পাওয়া যেত না। বেসরকারি সংস্থাগুলোও ভালো কাজ করছে। সব কাজের মধ্যে অবশ্যই নেগেটিভ কিছু থাকবে। তাই বলে এটা দেখিয়ে পিছিয়ে গেলে হবে না। সরকার প্রতিনিয়ত নানান প্রকল্প গ্রহণ করছে। প্রান্তিক মানুষের সুবিধা-অসুবিধা চিন্তা করেই এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে সবকিছুর পাশাপাশি সরকারের সীমাবদ্ধতাও দেখতে হবে।


ড. মাহবুবা নাসরিন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যারা বাস করে, তারা প্রায় সময়ই জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করে। ওই অঞ্চলের মানুষ আগে জলাবদ্ধতাকে তেমন সমস্যা মনে না করলেও গত ৮-৯ বছর ধরে সমস্যা হিসেবেই দেখছে। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ জীবন নিশ্চিতের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে বেশ কয়েকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছে। তাই প্রাথমিকভাবে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করতে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর উপজেলা এবং সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া ও আশাশুনি উপজেলার মানুষদের মধ্যে এক গবেষণা পরিচালনা করা হয়। তাতে দেখা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে ওইসব অঞ্চলের মানুষের মধ্যে জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্র নষ্ট হয়ে গেছে, সম্পদের ক্ষতি হয়েছে; আয় নেই। আগে জলাবদ্ধতায় টিকে থাকার জন্য যা করত, সেটাও এখন করতে পারছে না। সনাতনী পেশা বা বংশপরম্পরায় যা করে আসছিল, তাও পারছে না। দিন দিন তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়ে যাচ্ছে। যে কৃষক ছিল, এখন সে বাঁচার তাগিদে পেশা পরিবর্তন করে রিকশা চালাচ্ছে। অর্থাৎ তারা সামাজিক মর্যাদাও হারিয়েছে। ৭৪ শতাংশ নারী পানি সংগ্রহ করে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে তাই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। যশোরে নিজের টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করত ৩৬ শতাংশের বেশি মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে এখন মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ পানি সংগ্রহ করতে পারছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার আগে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করত ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ জলাবদ্ধতার পর ২৫ শতাংশ মানুষ বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।


মুস্তাফিজ শফি
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। আলোচনার মাধ্যমেই এ ব্যাপারে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ প্রয়োজন। সংশ্নিষ্ট এলাকায় জরিপে রাজনৈতিক স্বার্থে ও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে ভূমির ব্যবহার এবং তার জন্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টির তথ্য উঠে এসেছে। আঞ্চলিক যেসব রাজনৈতিক দুর্বৃত্তের কারণে পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের ব্যাপারেও তথ্য দিতে হবে। সংবাদপত্র সব সময় সাধারণ মানুষের পক্ষের শক্তি হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রের সাহায্য নিতে হবে। আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে- আমরা মূলত সমস্যার মুখোমুখি হলেই সমাধানের পথ খুঁজি। অথচ শুস্ক মৌসুম হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণের আসল সময়। সময়ের কাজ আমাদের সময়েই করতে হবে।


মুনীরুল ইসলাম
যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিয়ে নারী কনসোর্টিয়াম বিগত কয়েক বছর ধরেই কাজ করছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা জনগোষ্ঠীর একীভূত দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিকরণ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত করেছে। ইকোর সুপারিশক্রমে নারী কনসোর্টিয়ামের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ৪৬টি এনজিও ওয়াটার লগিং বিষয় নিয়ে কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটির জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে ৮১টি ইউনিয়নে প্রকল্পের আওতায় কাজ করেছে এবং মানুষ এর সুফল পাচ্ছে। এসব কাজের আওতায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারও প্রচুর কাজ করছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণও করা হয়। স্থানীয়রা এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান চায়। তারা এখন আর ত্রাণ চায় না; চায় এ সমস্যার পরিত্রাণ। এ ছাড়াও ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১০টি 'অগ্রাধিকার খাত' চিহ্নিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন ও উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এসব খাত নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এই ১০টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে অন্যতম হলো 'টাইগার রিভার ম্যানেজমেন্ট' (টিআরএম), ল্যান্ড জোনিং, সুষ্ঠু নদী ব্যবস্থাপনা, অবৈধ্য স্থাপনা অপসারণ, জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে নিবিড় পরিবীক্ষণের জন্য একটি কমিশন বা বোর্ড গঠন। ওখানকার জনগণ জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বলেছে, 'আমরা ত্রাণ চাই না; আমরা চিরতরে জলাবদ্ধতা নির্মূল চাই।' জলাবদ্ধতার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চায় ওই অঞ্চলের জনগণ।


মো. শফিকুল ইসলাম
জলাবদ্ধতার শিকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ত্রাণ চায় না। তারা এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চায়। প্রতি বছর গড়ে সাত-আট মাস জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করতে হয় ওই অঞ্চলের মানুষকে। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনে। তাদের জীবিকা অর্জনের জায়গা নষ্ট হচ্ছে। সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, আয় নেই। আগে জলাবদ্ধতায় টিকে থাকার জন্য যা করত, সেটাও এখন করতে পারছে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে সনাতনী পেশা ছাড়ছে। দিন দিন তারা দরিদ্র থেকে দরিদ্রতর হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের নারীদের নিয়ে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিশু ও বয়স্কদের নিয়েও কাজ করতে হবে। কারণ যে কোনো সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত।


কাজী মো. ফজলুল হক
জলাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাপে কাটা বেড়ে গেছে। তবে সাপ কিন্তু সহজেই মানুষকে ছোবল দেয় না, যদি না সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তাই আমাদের এই হ্যাভিট্যাট রক্ষা করতে হবে। এক দশক আগেও জলাবদ্ধতা ছিল না। যেসব এলাকায় আগে জলাবদ্ধতা হতো না, সেসব এলাকায়ও এখন জলাবদ্ধতা হচ্ছে। নদী-খালের নির্মল প্রবাহ ছিল, তা বন্ধ করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে এগোতে পারলে অনেকাংশে সমাধান করা সম্ভব।


আবদুল্লাহ আল মামুন
আমরা মূলত প্রান্তিক ও ভূমিহীন পরিবার নিয়ে কাজ করে থাকি। সাতক্ষীরা অঞ্চলে ৪২ শতাংশ পরিবারের মানুষ ভূমিহীন। যদি প্রান্তিক কৃষকদের যোগ দিই, তাহলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮-৬০ শতাংশ। জলাবদ্ধতা দূর করতে আশু সমাধান কীভাবে আশা করতে পারি, তা বলতে পারি না। কিন্তু সেসব অঞ্চলের মানুষের চাওয়া হলো 'পরিত্রাণ'। কিন্তু আজও পরিত্রাণের পথ দেখা যাচ্ছে না। কারণ সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এসব অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন সম্ভব হলেও মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যেই কোনো সংযোগ নেই। জেলা প্রশাসক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও 'ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড'-এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। তাই নিত্যদিন এসব অঞ্চলের মানুষকে পানির সঙ্গে বসবাস করতে হয় ইকো সাপোর্ট নিয়ে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কোনো কাজ করেনি। জলাবদ্ধতার দুই-একটি ইতিবাচক দিকের মধ্যে মাছ চাষ অন্যতম। কিন্তু মাছ চাষ করে সুবিধা নেয় মুষ্টিমেয় জনগোষ্ঠী। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। মৎস্য ও কৃষি উৎপাদনের মূল ভিত্তি হচ্ছে মাটি ও পানি।


শুক্লা ঠাকুর
জলাবদ্ধতার সময়ে শিশুদের শারীরিক কার্যক্রম কম; বলতে গেলে বন্ধই থাকে। এতে তাদের দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য জলাবদ্ধপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ওই এলাকায় খাবার পানি সংগ্রহের দায়িত্ব নারী ও কিশোরীদের ওপর থাকায় এ কাজে তাদের অনেক বেশি শ্রম দিতে হয়। অন্যদিকে কৃষিকাজেও নদী-খাল থেকে কলস ভরে পানি সংগ্রহে নারী ও কিশোরীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এতে তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। কিশোরীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। তাই পানির উৎস বাড়াতে হবে। পরিকল্পনামাফিক খাল-বিল খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে হবে।


খাদেমুল রাশেদ
জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় কমিউনিটিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ও সহনশীল জীবিকায়ন কার্যক্রম সম্পর্কে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি এসব এলাকার মানুষের দাবি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে আলাদা কমিশন বা বোর্ড গঠন করে এ সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে এবং সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় স্থানীয় প্রতিনিধির অংশগ্রহণে জলাবদ্ধতা সমাধানে স্থানীয় জনগণের ভূমিকা চিহ্নিত করার জন্য আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে।

আমিরুল ইসলাম
জলাবদ্ধতা নিরসনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করা অসম্ভব কাজ। তবে সরকার এ বিষয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর সুফল পেতে হলে স্থানীয়দের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। কাছাকাছি সময়ে কপোতাক্ষ নদ খনন করা হয়েছে। স্থানীয়রা এর সুফল পাচ্ছে। তবে তাদের অসহযোগিতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পই ভেস্তে যেতে বসে। নদী-খাল খনন করলে এর মাটি কোথায় ফেলা হবে- এ নিয়েও বড় সংকটে পড়তে হয়। সার্বিকভাবে বললে স্থানীয়দের বাধাসহ কিছু সংকট অনেক সময় অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে একটি নদী খনন করে তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দুদকের মামলায় পড়েছেন। সাধারণত দুর্নীতি নিয়ে বড় হেডলাইন হলেই নানা হয়রানিতে পড়তে হয়।

মো. মনোয়ার হোসেন
ইউরোপের দেশগুলোতে সোসাইটি ভালনারেবল মানুষদের জন্য কাজ করে। রাস্তাগুলোতে কোনো বাচ্চা পড়ে গেলে ব্যথাও পায় না। কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদি কাজ করেছে। বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। আমরা মূলত স্বল্প সময়ের জন্য চিন্তা করে স্বল্প সময়ের জন্যই কাজ করি। কিন্তু অর্থনীতির গতি উন্নয়নের দিকে আছে। এ সময়ে শিল্প-কারখানার একটা চাপ থাকে। বাংলাদেশ একটি ভালনারেবল কান্ট্রি। তাই রিস্কগুলো নিয়েও আলোচনা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চল নিয়ে কাজ করতে হবে। পরিকল্পনা করতে হবে। ভবিষ্যতে পরিকল্পনা করতে হলে অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা খুব প্রয়োজন।

পলাশ মণ্ডল
জলাবদ্ধতার সময় পুরুষ জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র চলে গেলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিজ এলাকায় থেকে যেতে হয়। ওই সময়ে তাদের নানা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের যৌন হয়রানি হতে হয়। সামাজিক কুৎসার ভয়ে অনেকে শিশুকন্যাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। কিশোরীদের স্কুল ড্রপ হয়। স্থানীয়ভাবে রাজনীতিতে প্রভাবশালীদের কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ পায় না। প্রভাবশালীরা বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণেও জলাবদ্ধতা বেড়ে যায়।

শহিদুল ইসলাম
আশির দশকের পর থেকেই যশোর-সাতক্ষীরা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা শুরু হয়। প্রথমে উত্তর দিক থেকে অর্থাৎ যশোর এলাকায় শুরু হয়। ধীরে ধীরে জলাবদ্ধতা দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে ৮-১০টি উপজেলায় জলাবদ্ধতা হয়। শুধু তাই নয়; ক্রমান্বয়ে তা সুন্দরবনের দিকে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলাবদ্ধতা কবলিত এলাকায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ বাস করে। প্রত্যক্ষভাবে ১০-১৫ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে শুধু কৃষিজমি বা মালপত্রই নষ্ট হয়নি; বহু মানুষ, বিশেষ করে হতদরিদ্র মানুষ এলাকা ছেড়ে দেশের অন্যত্র অভিবাসিত হয়েছে। সমাধানযোগ্য সমস্যার ইতিহাসও আছে। ষাটের দশকে যখন উপকূলীয় বাঁধ নির্মিত হয়, তখন আষ্টমাসি বাঁধ দিত। আমন ধান ওঠানোর পরে মানুষ বাঁধ ভেঙে দিত। এ ছাড়া ওই অঞ্চলের নদীগুলো জোয়ার-ভাটার। জোয়ারে পানি আসে, ভাটায় নেমে যায়। ওই ব্যবস্থাপনাও জনগণ করত। ফসলের সময় ওই পানি আটকাত। ফসল ওঠানোর সময় বাঁধ খুলে দিলে ওই পানি জমিতে ঢুুকত। তখন জোয়ার বাহিত পলি অবক্ষিপ্ত না হয়ে জোয়ার-ভাটার পল্গাবন ভূমিতে জমা হতো। এভাবে জমিগুলো উঁচু হচ্ছিল। পাশাপাশি নদীর নাব্যও বজায় থাকত। এটা ছিল 'ট্র্যাডিশনাল প্র্যাকটিস'। এই 'ট্র্যাডিশনাল প্র্যাকটিস' বন্ধ হলো ষাটের দশকে। যখন উপকূলীয় বাঁধ হয়ে ওই অঞ্চলে প্রথম ৩৭টা, পরে ৩৯টা পোল্ডার তৈরি করা হয় এবং ১৬৫ কিলোমিটার বাঁধ তৈরি করা হয়। ২৩৮ বা তারও বেশি স্লুইস গেট তৈরি করা হয়। অর্থাৎ মৌসুমি বৃষ্টির পানি বের করে দিতে যে ফ্ল্যাশ গেট তৈরি করে দেওয়া হয়। জোয়ার বাহিত পলি আগে অবক্ষিপ্ত হতো পল্গাবন ভূমিতে। বাঁধ দেওয়ার কারণে জমির ওপরে না হয়ে নদীর মাঝখানে অবক্ষিপ্ত হওয়া শুরু করে। নদীর মৃত প্রান্ত সীমানা সেখান থেকে প্রথম অবক্ষেপণ শুরু করে। কারণ জোয়ারে নদীর পলি চার কিলোমিটার পর্যন্ত গতি রাখত বলেই নদীর ওপর পলি অবক্ষিপ্ত হতো। কিন্তু পরে নদী ভরাট হতে শুরু করল। ওইসব নদী জোয়ার-ভাটা অধ্যুষিত লবণ পানি এলাকা। ফলে কিছু মানুষ ধীরে ধীরে মাছের চাষ শুরু করে। ওই অঞ্চলের জনগণ স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা দূর করতে সরকারের প্রতি সমাধানের দাবি জানিয়েছে।


মনিশংকর সরকার
আমরা পরিকল্পনা করছি আজ ও আগামীকালের জন্য। কিন্তু পরশু দিনের দিকে তাকাব, দেখব জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা। আমার কাছে ইনভেস্টমেন্ট টোটালি করা উচিত শিশুদের বিষয় মাথা রেখেই। বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নয়নের ১২টা সূচক রয়েছে। সম্ভাবনাগুলো যেহেতু আগে থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তাই সমাধান নিয়ে ভাবতে হবে এখনই। উন্নয়নের অনেক সূচক রয়েছে। ক্যাপিটালগুলো যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়। অমর্ত্য সেন দেখিয়েছেন, উন্নয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের ফ্রিডম বৃদ্ধি করা। অর্থাৎ শিশুটা যা হতে চেয়েছিল, সে পরিবেশ যেন আমরা আজই তৈরি করতে পারি। হিউম্যান, ন্যাচারাল ক্যাপিটাল রয়েছে। ডেভেলপমেন্ট হয়েছে কন্টিনিউয়াস জার্নি।


আবদুল লতিফ খান
হাওর অঞ্চলে এখনও পানি জমে আছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায় নোয়াখালী-চাঁদপুর এলাকায়ও। ষাটের দশকে 'পোল্ডার' তৈরির পর থেকে ধীরে ধীরে নদীর পানি নাব্য হারায়। শুরু হয় জলাবদ্ধতা। যদিও তখন উদ্দেশ্য ছিল জমিতে অধিক ফসল ফলানো। কিন্তু আশির দশক থেকে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। বর্তমানে জলাবদ্ধতা সারা বছর লেগেই থাকে। তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে কাজ করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথি

মো. মোহসীন

অতিরিক্ত সচিব
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

আলোচক
ড. মাহবুবা নাসরিন
পরিচালক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


মুনীরুল ইসলাম
কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার
নারী কনসোর্টিয়াম ও ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড

মো. শফিকুল ইসলাম
ডেপুটি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর
হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল

কাজী মো. ফজলুল হক
সিনিয়র প্ল্যানার
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর

আবদুলল্গাহ আল মামুন
কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার
দিশারী কনসোর্টিয়াম, বাংলাদেশ

শুক্লা ঠাকুর
ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার
সেভ দ্য চিলড্রেন

খাদেমুল রাশেদ
প্রোগ্রাম অফিসার
ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ

মো. মনোয়ার হোসেন
সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি
বিজিএমইএ

পলাশ মণ্ডল
কো-অর্ডিনেটর
রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কেয়ার বাংলাদেশ

শহিদুল ইসলাম
পরিচালক, উত্তরণ

আমিরুল ইসলাম
সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড

মনিশংকর সরকার
প্রভাষক
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


আবদুল লতিফ খান
বিশেষজ্ঞ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

সঞ্চালনায়
মুস্তাফিজ শফি
নির্বাহী সম্পাদক, সমকাল

অনুলিখন
নাহিদ তন্ময়
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

সাজিদা ইসলাম পারুল
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

ইভেন্ট ব্যাবস্থাপনায়
ইউনিকোড লিমিটেড

পুজদেমনকে খুঁজতে গার্দিওলার বিমান তল্লাশি

পুজদেমনকে খুঁজতে গার্দিওলার বিমান তল্লাশি

স্পেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে পেপ গার্দিওলার সমর্থন ...

চাঁদাবাজির মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেফতার

চাঁদাবাজির মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেফতার

কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার ...

 মহাধুমধামে লিলিয়ার সঙ্গে গোলাপের বিয়ে

মহাধুমধামে লিলিয়ার সঙ্গে গোলাপের বিয়ে

ঘটা করে বরযাত্রী নিয়ে বাদ্য বাজিয়ে পালকিতে চড়ে বর গোলাপ ...

 বাবা-মাকে খুঁজে পাবে সুরাইয়া?

বাবা-মাকে খুঁজে পাবে সুরাইয়া?

মেয়েটির নাম সুমাইয়া আক্তার সুরাইয়া (১৮)। বাবার নাম সলেমান মীর, ...

জনপ্রিয়তা বাড়লে খালেদা জিয়াকে জেলেই রাখুন: তোফায়েল

জনপ্রিয়তা বাড়লে খালেদা জিয়াকে জেলেই রাখুন: তোফায়েল

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ...

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি রোববার

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি রোববার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ...

নোবেলজয়ী দুই নারী ঢাকায়

নোবেলজয়ী দুই নারী ঢাকায়

নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশে এসেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াক্কল ...

কোচের দোষ দেখছেন না তাসকিন

কোচের দোষ দেখছেন না তাসকিন

সাম্প্রতিক ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না তাসকিন আহমেদের। তবে কোর্টনি ওয়ালশের ...