মোহাম্মদ নাসিম

অন্ধকার নয়; আলোর পথে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

জাতীয় দৈনিক সমকালের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে অভিনন্দন। আজকে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে এই কারণে যে, সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি ছিলেন আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব। সারওয়ার ভাই যখন ইত্তেফাকে কাজ শুরু করেন, তখন থেকে তাকে চিনতাম ও জানতাম। উদার মনের একজন সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। মরহুম তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর আহমেদ চৌধুরী ও আব্দুস সালামের পরম্পরা বহন করে সারওয়ার ভাই ছিলেন সাংবাদিকতা জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার হাত ধরেই আজকের সমকালের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

সমকাল আজ বাংলাদেশের পাঠকের মন জয় করেছে অসাম্প্রদায়িক মুক্ত চেতনার দৈনিক হিসেবে। সমকাল সাধারণ মানুষের কথা বলে, সরকারের ভালো কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করে এবং ভুল কাজের কঠোর সমালোচনাও করে। এটি সমকালের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে সব সময় আমি সমকালের সহযোগিতা পেয়েছি; সেটা কখনও প্রশংসার মাধ্যমে, কখনও সমালোচনার মাধ্যমে। সারওয়ার ভাইয়ের সহকর্মীরা, যারা এই পত্রিকায় বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন, তারাও অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের অঙ্গীকার আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আজকের বাংলাদেশ এমন একটি স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। বিগত প্রায় দশ বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছে। শক্ত হাতে ভয়াবহ জঙ্গি উত্থান থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। দেশে এখন একটি শান্তি ও স্বস্তির রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। জনগণ জাতীয় নির্বাচনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের নিজেদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে চায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য হচ্ছে, যখনই দেশে জনগণের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ আসে, তখনই একটি মুখচেনা মহল ওই শন্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে মাঠে নামে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেসব ব্যক্তি বা দলের ক্ষমতায় আসার সাধ্য নেই; সেই সব জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি বা মহল সবসময় চক্রান্তের ঘোট পাকায়।

নানা অজুহাতে নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নির্বাচনকে বানচাল করার অশুভ তৎপরতা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন হবে বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে। অধিকাংশ দলও নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমরা সবাই স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি- আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। জনগণ তার মনমতো সরকার গঠনের সুযোগ পাবে। অতীতে সবগুলো স্থানীয় সরকার বা সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনের অধিকাংশই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। অনেক জায়গায় আমরা হেরেছি; অনেক জায়গায় জয়লাভ করেছি। এসব নির্বাচন নিয়ে বড় কোনো অভিযোগ কেউ করতে পারেনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য- যে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, সে লক্ষ্য অর্জন যাতে বাংলাদেশ করতে না পারে তার বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী একটি শক্তি পঁচাত্তর-পরবর্তীকাল থেকে বারবার চক্রান্ত করে আসছে। অনেক সময় তারা সফল হয়েছে, অনেক সময় তারা ব্যর্থ হয়েছে।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একাত্তর ও পঁচাত্তরের ঘাতকদের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। একুশে আগস্টের মতো মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হওয়ার পথে। দেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী সরকারের নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। এমন সময় শেখ হাসিনাকে ঠেকাতে সর্বোপরি বাংলাদেশকে ঠেকানোর দুরভিসন্ধিতে বিএনপি-জামায়াত জোট এবং ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরী গং এবং তথাকথিত কিছু বাম দল ও তাদের সমর্থিত বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জোটবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে। কিন্তু এবার সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল এবং দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি এই নির্বাচনের মাঠে ওদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা হবে।

নির্বাচনের বিষয়ে বলতে গেলে- যে কোনো খেলায় কিছু নিয়মনীতি থাকে। সেই নিয়মনীতি কথায় কথায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কে জয়ী হবে আর কে পরাজিত হবে- এটা সামনে রেখে কোনো নিয়ম পরিবর্তন করা বাস্তবসম্মত বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সামনে যে নির্বাচন আসছে তা সংবিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান মোতাবেক নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং করবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচিত সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। ওই তিন মাস একই সরকার দায়িত্বে থাকবে। সেই সরকারই দেশ পরিচালনা করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ সরকার তার কাজ সীমাবদ্ধ রাখবে। কোনো নীতিনির্ধারণী বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তারা সম্পৃক্ত হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে- এর বেশি কিছু না। সামরিক -বেসামরিক সব প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে। তার নির্দেশেই প্রতিটি পদক্ষেপ সরকারের তরফে নেওয়া হবে। সরকারের সামান্যতম হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। যারা জনগণের ওপর আস্থা রাখে, তারাই নির্বাচনের মাঠে আসবে। যারা চক্রান্ত ষড়যন্ত্রে বিশ্বাস করে তারাই পেছনের দরজা দিয়ে অসাংবিধানিক সরকার আনতে চায়। এই দুঃস্বপ্ন তাদের কোনোদিন বাংলাদেশে আর বাস্তবে রূপ নেবে না।

দৈনিক সমকালের মাধ্যমে এই বার্তাটি রাখতে চাই- আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুধু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিজয় নয়, গণতন্ত্রের বিজয় হবে। দেশের গণতন্ত্র সমুন্নত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি দমন করেছেন, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছেন জনগণের দোরগোড়ায়। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উপমহাদেশের অনেক দেশকে আমরা ছাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছি। পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় অবকাঠামো নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। বিলম্বিত ও প্রলম্বিত অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচারসম্পন্ন হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিপ্লব করেছে। শিল্পায়নের উদ্যোগ চলছে। দুনিয়ার কাছে বাংলাদেশের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছে। সে কারণে আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণ কোনোদিনও আর এই স্বস্তি ও শান্তির বাংলাদেশের পরিবর্তে জঙ্গি বা হাওয়া ভবনের সেই পুরনো ইতিহাস ফিরিয়ে আনবে না। বাংলাদেশের জনগণ কোনোদিন ভুল করেনি, এবারও ইনশা আল্লাহ ভুল করবে না। আমাদের যে কোনো ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা দেশ পরিচালনা করছি। ভুল-ত্রুটি স্বীকার করা বা সংশোধনের সাহস আমাদের আছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্ত্রীকে যেমন ছাড় দেননি, কোনো এমপিকেও ছাড় দেননি। অনেকের সাজা ভোগ করতে হয়েছে। তাই আমি বিশ্বাস করি- আমাদের ছোটখাটো ভুলের জন্য দেশবাসী যেন বড় ভুল না করে। যে ভুলের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার সেই অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের দল। তৃণমূলের প্রাণশক্তিই আমাদের সত্যিকার শক্তির উৎস। এই দল কখনই জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়নি, দাঁড়ায় না। আওয়ামী লীগের জনভিত্তির সঙ্গে মিলিটারি ব্যারাকে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলের তুলনা না করাই ভালো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশ তৈরিতে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে যোগ্য রাজনৈতিক দল- আগামী নির্বাচনে, আমার বিশ্বাস জনগণ আবারও একই রায় দেবে। দেশকে যদি মৌলবাদ, অন্ধকার জিঘাংসার হাত থেকে বাঁচাতে হয়; যদি বাংলাদেশকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই আমরা, তাহলে এর আর কোনো বিকল্প নেই।

আমি বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আবারও জনগণের সমর্থন পাবে। া

লেখক



স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী, বাংলাদেশ সরকার এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য

আফগানিস্তানে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা

আফগানিস্তানে নির্বাচন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা

আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। শনিবার অনুষ্ঠিত ...

স্বামী-সন্তানের সামনেই লাশ হলেন রুমা

স্বামী-সন্তানের সামনেই লাশ হলেন রুমা

রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ার বাসা থেকে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে ...

মহাকাশে 'নকল চাঁদ' বসাবে চীনা কোম্পানি

মহাকাশে 'নকল চাঁদ' বসাবে চীনা কোম্পানি

রাতের আকাশের উজ্জ্বলতা বাড়াতে মহাকাশে একটি ফেক মুন বা নকল ...

সংসদের শেষ অধিবেশন শুরু রোববার

সংসদের শেষ অধিবেশন শুরু রোববার

দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরু হচ্ছে রোববার। স্পিকার ড. ...

ইয়াবা বহনের অভিযোগে সোহাগ পরিবহনের বাসচালক গ্রেফতার

ইয়াবা বহনের অভিযোগে সোহাগ পরিবহনের বাসচালক গ্রেফতার

রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের চালককে গ্রেফতার ...

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রুখতে হবে: মোস্তাফা জব্বার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রুখতে হবে: মোস্তাফা জব্বার

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আসন্ন জাতীয় ...

লেভান্তেও হারিয়ে দিল রিয়ালকে

লেভান্তেও হারিয়ে দিল রিয়ালকে

রিয়াল মাদ্রিদের নতুন কোচ হুলেন লোপেতেগুইয়ের চাকরির পাশে প্রশ্ন চিহ্নটা ...

মায়ের পাশেই চির নিদ্রায় আইয়ুব বাচ্চু

মায়ের পাশেই চির নিদ্রায় আইয়ুব বাচ্চু

‘এই রূপালি গিটার ফেলে একদিন চলে যাবো দূরে বহুদূরে’ নিজের ...