ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

তারুণ্যই আশা, শক্তি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও জনগণকে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই করতে হচ্ছে। ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো গণমাধ্যমও চাপে রয়েছে। স্বাধীনতার জন্য লড়ছে।

সমকাল ১৪ বছরে পা রেখেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর লেখায় ইতিবাচক কথা লেখা উচিত ছিল। কিন্তু দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতিতে তাতে আশা-ভরসার কথা কঠিন। সংবিধান সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এর জন্য অনেক লড়াই করতে হয়েছে। বহু মানুষের রক্তে অর্জিত এ স্বাধীনতা লুণ্ঠনের পথে। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর বৈরী পরিবেশেও প্রয়াত সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের প্রতিষ্ঠিত সমকাল 'অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস' নিয়ে আছে। পত্রিকাটি এ কারণে ধন্যবাদ পেতে পারে।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকে কর্তৃত্বপূর্ণ শাসনের যে ধারার সূচনা হয়েছে- তা দিনে দিনে কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে। বিশ্বের নতুন স্বৈরতান্ত্রিক দেশের পাঁচটির একটি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য তা-ই বলছে।

স্বৈরাচারের স্বরূপ আমরা দেখেছি, তরুণদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনে সরকারের দমন-পীড়নে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিশুদের আন্দোলনে সরকারি দলের বর্বর হামলায়। নৈরাশ্য ও নৈরাজ্যকর এমন অবস্থায় তরুণদের আন্দোলন আশার আলো দেখিয়েছে।

স্বৈরাচার আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলন তরুণদের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল। ছাত্র-যুবারা ছিল আন্দোলনের স্ম্ফুলিঙ্গ। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চালিকাশক্তিও ছিল তারুণ্য। রণাঙ্গনে কী অবিশ্বাস্য সাহসী ভূমিকা ছিল তারুণ্যের, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

কোটা সংস্কারের আন্দোলনে, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে সেই তারুণ্যকে আমরা দেখেছি- আমরা আশাবাদী। বর্তমান সরকার তাদের সঙ্গে নিষ্ঠুরতম প্রতারণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আর কোটা থাকবে না। পরে তিনি বললেন আন্দোলনের 'নৈরাজ্য' ঠেকাতে ওই ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর চেয়ে নিষ্ঠুর প্রতারণা আর কী হতে পারে!

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির নিয়োগে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কোটা রয়েছে। এ ব্যবস্থা অমানবিক। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তরুণদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সরকার। সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের ক্যাডার ও পেটোয়া বাহিনী দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। মিথ্যা মামলায় শত শত তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম বুঝতে পারছে আওয়ামী লীগ কী জিনিস! কিন্তু তরুণ প্রজন্মকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছিল দলটি। ঘরে ঘরে চাকরিসহ অন্য সব ওয়াদার মতো 'দিন বদলের' প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করেনি।

বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দল গত ১০ বছর এ অবস্থা মোকাবেলা করছে। সংবিধান সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এ মৌলিক অধিকার থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বঞ্চিত করেছে। মৌলিক মানবাধিকার অস্বীকার করছে। গ্রেফতার, গুম নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বিরোধী দলের শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার নিজ দেশের নাগরিককে গুম করতে পারে না। করলে, সেই সরকার গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

বিএনপি কয়েক দিন আগে ৪০ বছর পেরিয়েছে। অনেকে বলছেন, বিএনপি সংকটে রয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি হয়তো কঠিন সময় পার করছে; কিন্তু সংকটে নেই। দলের চেয়ারপারসনকে একটি সাজানো মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হলেও বিএনপি তার আদর্শ ও নীতি নিয়ে টিকে আছে, থাকবে। জনগণই দলটির ভিত্তি ও শক্তি। সরকার যতই দমন-পীড়ন চালাক বিএনপির জনভিত্তিকে দুর্বল করতে পারবে না। দলে ভাঙন বা বিভক্ত সৃষ্টি করতে পারবে না। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।

একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে, আইনি প্রক্রিয়ার খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। রাজপথের আন্দোলন ছাড়া হয়তো আর পথ খোলা নেই। একদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি, আর অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন করতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। একটি অবাধ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া বর্তমান নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে দেশের পরিত্রাণ সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার সর্বশেষ নজির তার বিচারে কারাগারে বিশেষ আদালত আয়োজন করা হয়েছে। কারাগারে গোপন আদালত বসানোর নজির শুধু স্বৈরশাসনেই দেখা যায়। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এমন আদালতের কথা ভাবাও যায় না। এ ধরনের ক্যামেরা ট্রায়াল বিচার সংবিধানবহির্ভূত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

শুধু বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়- এই সরকার শিশু-কিশোরদেরও নির্যাতন করতে ছাড়েনি। নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রতারণা করে তাদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছে। হামলা, মামলা, গ্রেফতার, রিমান্ড আর কারাগারে পাঠিয়ে তাদের নিষ্পেষিত করেছে। এর মাশুল একদিন সরকারকে দিতে হবে। এই প্রজন্ম আর কখনও নৌকায় ভোট দেবে না।

নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে শিশুদের ওপর হামলা লুকাতে সাংবাদিকদের ওপর নির্বিচারে হামলা হয়েছে। হেলমেট পরে অস্ত্র হাতে কারা হামলা করেছে, তা সবাই জানেন। পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা হয়েছে। মাস পেরোলেও আজ পর্যন্ত একজন হামলাকারীও শনাক্ত হয়নি। এর অর্থ, সরকার সাংবাদিক নিপীড়নের বিচার করতে আগ্রহী নয়। কারণ তারাই হামলায় জড়িত। মৌলিক মানবাধিকার হারা দেশের মানুষ আজ ক্ষুব্ধ ও হতাশ। আপামর জনগণ পরিবর্তন চায়। সব রাজনৈতিক দল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, জনগণও রাস্তা নেমে আসবে।

ভোটের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। তবে তা সহজে আসবে না। এর জন্য আন্দোলন করতে হবে। বর্তমান সরকার আরেকটি পাতানো নির্বাচন করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র করছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন তার সর্বশেষ সংযোজন। যে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা নেই, তারাই হবে ইভিএমের নিয়ন্ত্রক। তড়িঘড়ি করে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকিং করে টাকা চুরি হয়, সেখানে ইভিএমে কেন মানুষের আস্থা থাকবে? যন্ত্রগুলো আনা হবে জনগণের টাকা দিয়ে। বিদেশ থেকে ইভিএম কেনা জনগণের টাকা লুট ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজকে সারাদেশে একটা ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে, জনমত সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে, মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়ে সেই নির্বাচন হতে হবে। দ্বিতীয়ত নির্দলীয়-নিরপেক্ষ একটি সরকার থাকতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে। বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেছে, সোনা, কয়লা, পাথর, কঠিন শিলা চুরি হয়েছে। এই সরকারের অধীনে ভোটও নিরাপদ নয়।

এত নৈরাশ্যের মধ্যে আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে তারুণ্য। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশ ৩০ বছরের কম বয়সী। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সীরাও জনসংখ্যার একটি বড় অংশ। যারা কখনও ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এই তারুণ্য আগামী নির্বাচনে ভোটার। তারা স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলন করেছে। সততা ও সাহসের শক্তি দেখিয়েছে। আগামী নির্বাচনে তারাই সব ষড়যন্ত্রের নাগপাশ ছিন্ন করবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে। া

লেখক



স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও

উপ-রাষ্ট্রপতি



সুপার ফোরের সূচি বদলে ক্ষুব্ধ মাশরাফি

সুপার ফোরের সূচি বদলে ক্ষুব্ধ মাশরাফি

বাংলাদেশ এশিয়া কাপে তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে বৃহস্পতিবার ...

২০২০ সালের মধ্যে সব ইট ভাটা বন্ধ করা উচিত: পূর্তমন্ত্রী

২০২০ সালের মধ্যে সব ইট ভাটা বন্ধ করা উচিত: পূর্তমন্ত্রী

পরিবেশ রক্ষায় আগামী ২০২০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ইটভাটা বন্ধ ...

এনআরসি নিয়ে তথ্য দিতে নিষেধাজ্ঞা

এনআরসি নিয়ে তথ্য দিতে নিষেধাজ্ঞা

ভারতের আসামের জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়ার কপি কেন্দ্রকে ...

বেসরকারি শিক্ষকদের ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

বেসরকারি শিক্ষকদের ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর

নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য ৯ হাজার ৪৯৮টি আবেদন জমা হয়েছে। ...

ঘরের মধ্যে রক্তমাখা ছুরি-নূপুর, নিখোঁজ স্কুলছাত্রী

ঘরের মধ্যে রক্তমাখা ছুরি-নূপুর, নিখোঁজ স্কুলছাত্রী

ঘরের মধ্যে রক্তমাখা ছুরির পাশে নূপুরটাও পড়ে আছে, নেই শুধু ...

বিএনপি নেতা সোহেল ৫ দিনের রিমান্ডে

বিএনপি নেতা সোহেল ৫ দিনের রিমান্ডে

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী ...

শুরুতেই ২ উইকেট নেই পাকিস্তানের

শুরুতেই ২ উইকেট নেই পাকিস্তানের

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার প্রথমে টস জিতে ব্যাট করার ...

টেকনাফে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ লাখ পিস ইয়াবা ...