বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

বাঙালির স্বাধীনতার মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সহস্র বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত হয়। তিনি অকুতোভয় অসামান্য নেতৃত্বের গুণাবলীতে পরিপূর্ণ দুঃসাহসী এক মানুষ- যিনি সামনে থেকে সাড়ে সাত কোটি বাঙালিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন চিরদাসত্ব থেকে

মুক্তির জন্যে...

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অভ্যুদয়ের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান [১৯২০-১৯৭৫]। বাঙালির হাজার বছরের শোষিত-অত্যাচারিত হবার ইতিহাস ভেঙে চূড়ান্ত মুক্তিসংগ্রামে তাঁর মহান নেতৃত্ব বাঙালিকে শ্রেষ্ঠ বিজয় এনে দিয়েছে। তাই তিনি বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্কুলজীবন থেকেই মুজিবের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ঘটে। তিনি যখন গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলের ছাত্র সে সময় একবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক ওই স্কুল পরিদর্শনে আসেন (১৯৩৯)। শোনা যায়, ওই অঞ্চলের অনুন্নত অবস্থার প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তরুণ মুজিব বিক্ষোভ সংগঠিত করেন।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অধ্যয়নের জন্য ভর্তি হন। তবে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। কারণ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঔদাসীন্যের বিরুদ্ধে তাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে ১৯৪৯ সালের প্রথমদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।

১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন শেখ মুজিব। ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন। দলকে ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র দেওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে মুজিবের উদ্যোগে দলের নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। ১৯৪৭ সালের পর রাজনীতিতে তাঁর যে ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির উন্মেষ ঘটেছিল এ ছিল তারই প্রতিফলন।

শেখ মুজিব ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দিদের একজন (১১ মার্চ ১৯৪৮)। ১৯৫৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার প্রশ্নে তাঁর প্রদত্ত ভাষণ ছিল উল্লেখযোগ্য। মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখার অধিকার দাবি করে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, 'আমরা এখানে বাংলায় কথা বলতে চাই। আমরা অন্য কোনো ভাষা জানি কি জানি না তাতে কিছুই যায় আসে না। যদি মনে হয় আমরা বাংলাতে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারি তাহলে ইংরেজিতে কথা বলতে পারা সত্ত্বেও আমরা সবসময় বাংলাতেই কথা বলব। যদি বাংলায় কথা বলতে দেওয়া না হয় তাহলে আমরা পরিষদ থেকে বেরিয়ে যাবো। কিন্তু পরিষদে বাংলায় কথা বলতে দিতে হবে। এটাই আমাদের দাবি।'

১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট গণপরিষদে প্রদত্ত আরেক ভাষণে শেখ মুজিব পূর্ববঙ্গের নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান রাখার প্রতিবাদে যে বক্তব্য রাখেন তাও সমভাবে প্রাসঙ্গিক- "স্যার, আপনি লক্ষ্য করে থাকবেন যে, তারা পূর্ববঙ্গের স্থলে 'পূর্ব পাকিস্তান' বসাতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়ে এসেছি যে, [পূর্ব] পাকিস্তানের পরিবর্তে আপনাদের পূর্ব [বঙ্গ] ব্যবহার করতে হবে। 'বঙ্গ' শব্দটির একটি ইতিহাস আছে, আছে নিজস্ব একটি ঐতিহ্য...।"

বিশ শতকের ষাটের দশকের প্রথমদিকে শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতিতে প্রাধান্য লাভ করেন। অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতার দ্বারা শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে আন্তঃদলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করে দলের মূল স্রোত থেকে কিছু কিছু উপদলের বেরিয়ে যাওয়া রোধ করতে সক্ষম হন। সম্মোহনী শক্তিসম্পন্ন সংগঠক শেখ মুজিব দলের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব স্থাপন করতে পেরেছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং এই ছয় দফাকে আখ্যায়িত করেন 'আমাদের (বাঙালিদের) মুক্তি সনদ' রূপে।

শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা কর্মসূচির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পর আইয়ুব সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করে। শেখ মুজিব এবং আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। সরকারিভাবে এ মামলাটির নাম দেওয়া হয় 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।

শেখ মুজিবের মুক্তির পরবর্তী দিন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) শেখ মুজিবের সম্মানে গণসংবর্ধনার আয়োজন করে। এ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদই শেখ মুজিবকে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানে সরকারকে বাধ্য করার ব্যাপারে সবচেয়ে কার্যকর রাজনৈতিক এবং সামাজিক শক্তি বলে প্রমাণিত হয়। সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে পরিষদের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করেন। মুজিবের মধ্যে তারা এমন একজন ত্যাগী নেতার প্রতিফলন দেখতে পান যিনি ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসনামলের প্রায় ১২ বছর জেলে কাটিয়েছেন। ১২ বছর জেলে এবং ১০ বছর কড়া নজরদারিতে থাকার কারণে শেখ মুজিবের কাছে পাকিস্তানকে নিজের স্বাধীন বাসভূমির পরিবর্তে বরং কারাগার বলেই মনে হতো।

১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে আবির্ভূত হন। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে (মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত সাতটি আসনসহ) জয়লাভ করে। আপামর জনগণ তাঁকে ছয় দফা মতবাদের পক্ষে নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট প্রদান করে। ছয় দফা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের সব প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রমনা রেসকোর্সে একটি ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন এবং শপথ নেন যে, পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের সময় তারা কখনও ছয় দফা থেকে বিচ্যুত হবেন না।

এ পরিস্থিতিতে জেনারেল ইয়াহিয়ার সামরিক জান্তা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের নির্বাচিত নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে না দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ১০ লাখ মানুষের বিশাল জমায়েতে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে যুগ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে। মুজিব তাঁর ভাষণে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে ব্যর্থ সামরিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আনেন। বক্তৃতার শেষে মুজিব ঘোষণা করেন : 'প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে ... মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর রাষ্ট্রের প্রধান নেতা হিসেবে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে শত প্রতিকূলতার মধ্যে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে নেন। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কালো থাবা অসীম সাহসী মহানায়ককে চিরদিনের জন্য স্তব্ধ করে দেয়। একদল উচ্চাভিলাষী সেনা সদস্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার ...

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান ...

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না'

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না'

টালিউড ও বলিউডে সমানতালে কাজ করছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। বাংলাদেশেও রয়েছে ...

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের জান-মাল ...

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার ...

অক্টোবরের শেষে নির্বাচনকালীন সরকার: ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরের শেষে নির্বাচনকালীন সরকার: ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী ...

সাভারে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার

সাভারে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার

সাভারে পৃথক স্থান থেকে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ ...

জামিনে মুক্ত নওয়াজ শরিফ

জামিনে মুক্ত নওয়াজ শরিফ

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জামিনে ...