মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

ধরিত্রীকে বাঁচাতে হলে

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

দেশ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু এ কথা তারা প্রায়ই ভুলে যায় যে, অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশটিও হলো বৃহত্তর ধরিত্রীরই একটি অংশ মাত্র। সেই ধরিত্রীই যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে দেশও তার সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাবে। সমগ্র মানবসমাজের জন্য যা কি-না সবচেয়ে বড় বিপদ, আজ সবার চোখের সামনে ধরিত্রীর সেই ধ্বংস প্রক্রিয়া ঘটে চলেছে। কিন্তু তা নিয়ে দুশ্চিন্তা খুব একটা দেখা যায় না। এ নিয়ে দুর্ভাবনার ক্ষমাহীন অভাব সব মহলেই লক্ষ্য করা যায়। এটি হলো খুবই আশঙ্কাজনক আরেকটি বড় বিপদের কথা।

প্রকৃতির ওপর 'মানুষের' অত্যাচার ইতিমধ্যে এমন এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, প্রকৃতি এখন 'মানুষের' বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিশোধ নিতে শুরু করেছে। উন্নয়ন ও সভ্যতার অগ্রগতিকে 'আরও বেশি বেশি বৈষয়িক উৎপাদন বৃদ্ধির' সঙ্গে এমনভাবে সমার্থক করে তোলা হয়েছে, খোদ ধরিত্রীই এখন হুমকির মুখে পড়েছে। উন্নয়নের 'ঠেলায়' বাতাসে এখন যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমন হচ্ছে, তা শোধন করার ক্ষমতা ধরিত্রীর বনাঞ্চলের নেই। এদিকে কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গমন ক্রমাগত বাড়ছে। অন্যদিকে 'উন্নয়নের' নামে বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লুরো কার্বনসহ আরও কিছু মারাত্মক ক্ষতিকর গ্যাস মজুত হয়ে 'গ্রিন হাউস' প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে যে পরিমাণে সূর্যের তাপ এখন বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে, তার সবটা বের হতে পারছে না। তাছাড়া এসব গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের বাইরের দিকে যে ওজোন গ্যাসের আবরণ আছে, তা ক্রমেই ক্ষয় হচ্ছে। উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর উপরিভাগের ওজোন আবরণে ইতিমধ্যে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়ে তা ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। ওজোন আবরণের ফলে আগে যেভাবে পৃথিবীর বুকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির আগমন বাধাগ্রস্ত হতো, এই ফাটলের ফলে এখন তার প্রবেশ সেই পরিমাণে আটকানো যাচ্ছে না।

কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি, ওজোন আবরণের ক্ষয়বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই গতিও একই সঙ্গে বাড়ছে। ফলে নাটকীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বেড়ে যাচ্ছে সমুদ্রের পানির উত্তাপ। গলে যাচ্ছে পাহাড়ের মাথার বরফ, মেরু অঞ্চলের হিমবাহ। এসবের কারণে সমুদ্রের পানির স্তর উপরে উঠতে শুরু করেছে। বাস্তব আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে যে, এর ফলে সমুদ্রের পানির স্তরের উচ্চতা বাড়তে বাড়তে সমুদ্র ও সমুদ্রের নোনা পানি উপকূল ধরে ক্রমান্বয়ে স্থলভাগের আরও ভেতরে প্রবেশ করতে থাকবে। জলোচ্ছ্বাসের প্রকোপ বাড়বে, প্লাবিত হতে থাকবে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। সমুদ্রে তলিয়ে যাবে কোটি কোটি মানুষ ও জীবজন্তুর আবাসভূমি ও বনাঞ্চল। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূমি সমুদ্রে তলিয়ে যাবে বলে গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, পরিবেশ-প্রকৃতির বিপর্যয় আজ যে মাত্রা অতিক্রম করে গেছে তার ফলে সব ধরনের চেষ্টা করেও এই বিপদ থেকে বের হয়ে আসার শেষ সুযোগও প্রায় নিঃশেষ হতে চলেছে। ফলে সহসাই চক্রাকারে চূড়ান্ত বিপর্যয় অভিমুখে পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটতে থাকবে। অনেকটাই আণবিক বোমার চেইন-রিঅ্যাকশনের মতো। কিংবা বোতল থেকে বেরিয়ে পড়া দৈত্যের মতো। একবার শুরু হলে যা থামানোর কোনো সুযোগ তখন আর থাকবে না। চক্রাকারের গতিতে অবধারিতভাবে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হতে থাকবে আমাদের চেনা-জানা ধরিত্রী।

বর্তমানে বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য প্রধানত দায়ী বিশ্বের ধনী দেশগুলো। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৪% হলেও তার কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমাণ ২৬%, মিথেনের ২০% এবং ক্লোরোফ্লুরো কার্বনের ২৫.৮%। মাথাপিছু নির্গমনের হিসাবে এই হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলোর চেয়ে এই হার অনেক বেশি। চীন, ভারত প্রভৃতি দেশের কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনও পরিমাণের দিক থেকে বেশি, কিন্তু মাথাপিছু হিসাবে সেই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম। এ কথা সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিশ্বের গ্রিন হাউস গ্যাসের সিংহভাগ উদ্‌গিরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলো। আর বিশ্বের অধিকাংশ দেশ, যেগুলো অনুন্নত ও পশ্চাৎপদ, তারা এই বিপর্যয়ের জন্য সামান্য দায়ী হওয়া সত্ত্বেও তাদেরই এর ফলে জান-মালে সবচেয়ে বেশি মাশুল দিতে হচ্ছে।

এ কথা দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও সর্বজন স্বীকৃত যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধরিত্রীর যে মহাবিপদ আজ উপস্থিত সে জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ তথাকথিত উন্নত দেশগুলোই চৌদ্দ আনা দায়ী। এই মহাবিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হলে যেসব কাজ বর্তমানে অতি জরুরি 'আপৎকালীন কর্তব্য' হয়ে উঠেছে, সেগুলো হলো :

১. বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে তাপমাত্রার বৃদ্ধি খুব বেশি হলে ১ থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা নিশ্চিত করতে হবে।

২. এ জন্য গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টিকারী কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গমনের বর্তমান হার নাটকীয়ভাবে ৪০% থেকে ৫০% পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। এই কাজে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রসহ সেসব উন্নত দেশকেই; যারা এযাবতকাল এই গ্যাসের সিংহভাগ বাতাসে ছড়ানোর জন্য দায়ী এবং এখনও তার বেশিরভাগ নির্গমন করে চলেছে।

৩. 'ওজোন আবরণে' যে ক্ষয় হয়েছে তার বৃদ্ধি রোধ করতে হবে। এ জন্য ক্লোরোফ্লুরো কার্বন গ্যাসসহ ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে রাশ টেনে ধরতে হবে। এ ধরনের গ্যাস নির্গমনও অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।

৪. জ্বালানি চাহিদা মিটানোর জন্য কয়লা ও জীবাশ্ম নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তির উৎস উদ্ভাবন ও তার অবাধ সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পরিবেশ-উদ্বাস্তু মানুষের পুনর্বাসন কাজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন দেশ বিশেষত বাংলাদেশের মতো সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশের বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। এসব দেশকে প্রযুক্তিগত অ্যাডজাস্টমেন্ট করার কাজে সহায়তা দিতে হবে। এই খরচ বহন করতে হবে, একদিকে এই ক্ষতির জন্য প্রধানত দায়ী এবং অন্যদিকে সামর্থ্যবান, উন্নত ধনী দেশগুলোকেই।

এগুলো সবই এমন কতকগুলো জরুরি কাজ যে, সেসব ক্ষেত্রে একমুহূর্ত সময় অপচয় করার অর্থ হবে ধরিত্রীকে ধ্বংসের পথে আরও এক কদম ঠেলে দেওয়া। কাজগুলো দ্রুত করতে ব্যর্থ হলে অবস্থা এমন জায়গায় এসে দাঁড়াবে যে, তখন নিশ্চিত ধ্বংস এড়াতে আর কিছুই করার সুযোগ অবশিষ্ট থাকবে না।

ধরিত্রীকে রক্ষা করার এসব প্রয়াসে লাগাতারভাবে বৈরিতা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব জনমতের চাপে বিশ্বের সব দেশসহ প্যারিসে যে চুক্তিতে সে স্বাক্ষর করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট তা থেকে তার দেশকে বের করে এনেছে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাশাপাশি সে ধরিত্রীকে আবার মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এ কথা কে না বুঝে যে, ধরিত্রী ধ্বংস হলে যুক্তরাষ্ট্রও বাঁচতে পারবে না। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র কেন জলবায়ু পরিবর্তনের ধ্বংসাত্মক আত্মঘাতী পথ থেকে এবং ধরিত্রীকে চূড়ান্ত ধ্বংস থেকে রক্ষার বিরোধিতা থেকে সরে আসছে না? এই রহস্যের জবাব খুঁজে পাওয়া যাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ ও রাষ্ট্রের বিদ্যমান পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের দিকে তাকালে।

পুঁজিবাদ এমন একটা ব্যবস্থা যার মূল প্রণোদনা হলো ব্যক্তিগত 'মুনাফা' অর্জন। মুনাফার জন্য গলাকাটা প্রতিযোগিতা দ্বারা তাড়িত হয়েই ইতিহাসের এক পর্যায়ে যে সামন্ততন্ত্রের সামাজিক শৃঙ্খল ভাঙতে, প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়ন সাধন করতে সক্ষম হয়েছিল। আরও উৎপাদন কর, শোষণের মাত্রা বৃদ্ধি কর, উদ্বৃত্ত মূল্য আরও বর্ধিত পরিমাণে আত্মসাৎ কর এবং এই ব্যবস্থাকে এপাশ-ওপাশ ও উপরমুখীভাবে বিস্তৃত কর- এসবই হলো মুনাফা-তাড়িত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অন্তর্নিহীত বৈশিষ্ট্য। শ্রেণি শোষণ ও বৈষম্য বৃদ্ধির অমানবিক ও নৈরাজ্যমূলক প্রবণতার কথা বাদ দিলেও, পুঁজিবাদের বৈষয়িক সম্পদ বৃদ্ধির এই তাগিদ আজ এমন স্তরে এসে দাঁড়িয়েছে যে, সসীম ধরিত্রীর পক্ষে এই অসীম স্টম্ফীতি ধারণ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। এবং এ অবস্থা সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ইতিহাসের এমন এক পর্যায়ে, যখন পৃথিবীর মাত্র এক-চতুর্থাংশ দেশ উন্নত পুঁজিবাদের পর্যায়ে উপনীত হতে সক্ষম হয়েছে। যদি অবশিষ্ট তিন-চতুর্থাংশ অনুন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো একই পুঁজিবাদী পথ অনুসরণ করে 'উন্নত' দেশে পরিণত হয় তাহলে পরিবেশ দূষণ, ধরিত্রীর উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি কোন মাত্রায় গিয়ে পৌঁছাবে তা হিসাব করে বোঝানোর প্রয়োজন হয় না।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় মুনাফার তাড়নাই হলো তার মূল উদ্দীপক, তার চালিকাশক্তির প্রেরণা। মুনাফা বাড়ানোর তাগিদে সে সবকিছু করতে পারে। 'এক পয়সা মুনাফা বাড়ানোর জন্য পুঁজিপতি তার নিজের মায়ের গলায় ছুরি চালাতেও দ্বিধা করবে না'। এই যখন সত্য, তখন মুনাফা ও সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ধরিত্রীর সর্বনাশ ঘটাতেই বা সে দ্বিধা করবে কেন?

পুঁজিবাদী ব্যবস্থার আরেকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, এই ব্যবস্থার অধীনে উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্রমবর্ধমান সামাজিক চরিত্র (ংড়পরধষ হধঃঁৎব ড়ভ ঢ়ৎড়ফঁপঃরড়হ) অর্জনের প্রবণতার সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে আহরণের চরিত্রের (ঢ়বৎংড়হধষ হধঃঁৎব ড়ভ ধঢ়ঢ়ৎড়ঢ়ৎরধঃরড়হ) মধ্যকার দ্বন্দ্ব। পরিবেশ-প্রকৃতকে বাঁচানোর ক্ষেত্রে পুঁজিবাদের অক্ষমতার কারণ হলো এখানেই। জলবায়ু পরিবর্তন এখন এমন এক সমস্যা হিসেবে বিরাজমান যে গোটা বিশ্ব ও সমগ্র মানবসমাজকে সম্মিলিতভাবে তা মোকাবেলা করতে হবে। সর্বোচ্চ মাত্রার সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে ধরিত্রীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রশ্নটি আজ সম্পৃক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু পুঁজিবাদ তার ব্যক্তিগত আহরণের তথা ব্যক্তিগত মুনাফা তাড়িত বৈশিষ্ট্যের কারণে সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার পথে বাধা তৈরি করে রেখেছে। পুঁজিবাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তার 'অসম বিকাশের' চরিত্র। যেসব দেশ আগেভাগে পুঁজিবাদের গাড়িতে সওয়ার হতে পেরেছে তারা তাদের বর্ধিত ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ২-৩ শতাব্দী ধরে সারা দুনিয়াকে ঔপনিবেশিক শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে অবাধে লুণ্ঠন চালিয়ে আরও সম্পদশালী হতে পেরেছে। ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার অবসান ঘটলেও তারা বহুজাতিক কোম্পানি, করপোরেট পুঁজি ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বায়নের নামে গোটা দুনিয়াকে আজ অর্থনৈতিক উপনিবেশবাদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য সাম্রাজ্যবাদ আজ মরিয়া। তার কথা হলো, "আমরা ধরিত্রীর যে ক্ষতি করেছি তা এখন বন্ধ করা হলে বিশ্বের 'উন্নতি' পিছিয়ে যাবে, 'সভ্যতা' ভেঙে পড়বে। তাই ধরিত্রীকে বাঁচানোর জন্য অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই যা কিছু করার তা করতে হবে। আমাদের দেওয়া ঋণের টাকায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নাও, ব্যবহার কর, দূষণ কমাও। কিন্তু এ আমাদের 'উন্নয়ন ধারা' বদলানোর বা শ্নথ করার জন্য আমাদের ওপর চাপ দিও না। ধরিত্রী বিপদাপন্ন- এ নিয়ে হৈচৈ হোক, আপত্তি নেই। কিন্তু সে জন্য আমাদের মুনাফার ব্যবসা বন্ধ করতে বলো না। বরং এ থেকেও আমাদের আরও অতিরিক্ত দু-পয়সা কামাই করার সুযোগ দাও।"

হায় পুঁজিবাদ! এই পথে তারও মরণ যে অবধারিত, সে চিন্তুা করার ক্ষমতাও আজ সে হারিয়ে ফেলেছে। কারণ মুনাফা বৃদ্ধির তাগিদই হলো তার 'প্রাণ'। সেই 'প্রাণ' রাখতে এখন সমস্ত ধরিত্রীর প্রাণ বিসর্জন দিতে হলেও সে তা নিয়ে নির্বিকার। এ হলো প্রাণ রক্ষায় প্রাণ বিসর্জনের মতো ঘটনা। এটিই হলো পুঁজিবাদের অমোচনীয় ও অন্তর্নিহিত অভ্যন্তরীণ বিরোধ (রহযধৎবহঃ পড়হঃৎধফরপঃরড়হ)। নিজে বিকশিত হওয়ার প্রক্রিয়াতেই পুঁজিবাদ সমান্তরালভাবে তার কবর রচনা করতে থাকে। এ কথা পরিপূর্ণ সত্য। কিন্তু বিষয়টি বর্তমানে এক ভিন্নতর বিপজ্জনক মাত্রায় উপনীত হয়েছে। বিষয়টি শুধু 'পুঁজিবাদের কবর রচনার' মধ্যে সীমিত থাকছে না। পুঁজিবাদের মুনাফা তাড়িত ব্যবস্থার কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা যেভাবে চলছে এবং সেই বিপদ নিরসনে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বাধা দিচ্ছে, তাতে গোটা ধরিত্রীরই কবর রচিত হওয়ার বিপদ সৃষ্টি হয়েছে। সেটি যদি রোধ না করা যায় তাহলে পুঁজিবাদ হোক অথবা সমাজতন্ত্র হোক- কোনো কিছুই কোনো কাজে আসবে না। 'অপারেশন সাকসেসফুল, বাট পেশেন্ট ইজ ডেড'- এরূপ পরিণতি কারোরই, বিশেষ করে সমাজতন্ত্রীদের, কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তাই শোষণমুক্তির লক্ষ্যে সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি, ধরিত্রীকে বাঁচানোর সংগ্রাম বর্তমানে সকলের জন্যই, বিশেষত বামপন্থিদের জন্য একটি ফরজ কর্তব্য হয়ে উঠেছে।

লেখক



সভাপতি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
তবুও জামায়াত ছাড়বে না বিএনপি

তবুও জামায়াত ছাড়বে না বিএনপি

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের দাবিতে জামায়াতকে ত্যাগ করবে না বিএনপি। ...

সাত বিভাগীয় শহরে হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল

সাত বিভাগীয় শহরে হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত ...

১৯৩ দেশই ভ্রমণ করবেন নাজমুন

১৯৩ দেশই ভ্রমণ করবেন নাজমুন

লাল-সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর পথে এখনও হেঁটে চলেছেন নারী পরিব্রাজক ...

বঞ্চনার শেষ নেই শিক্ষা ক্যাডারে

বঞ্চনার শেষ নেই শিক্ষা ক্যাডারে

মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান ১৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। ...

বেদেপল্লীর বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ

বেদেপল্লীর বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ

পিচঢালা পথের যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু বেদেপল্লীতে প্রবেশের রাস্তা। ...

শেষবেলায় আ'লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন?

শেষবেলায় আ'লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন?

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আর মাত্র তিন মাস পর একাদশ ...

জঙ্গিদের বোমা নিষ্ক্রিয় করবে 'যন্ত্রমানব'

জঙ্গিদের বোমা নিষ্ক্রিয় করবে 'যন্ত্রমানব'

হঠাৎ খবর এলো, জঙ্গিরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা নিয়ে আস্তানায় অবস্থান ...

শেখর-রোহিতের সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল পাকিস্তান

শেখর-রোহিতের সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল পাকিস্তান

দুবাইয়ের খবর অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়নি ভালো। আয়ের ...