বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

একুশের এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন শুধু ভাষা ও জাতীয়তাবাদী আবেগের তাৎক্ষণিক তাড়না ছিল না, তা ছিল পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দেশের নিপীড়িত মানুষের দৃপ্ত প্রতিবাদের এক প্রকৃষ্ট প্রকাশ। সে জন্যই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন, বাঙালির

আর্থ-রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়...

দীর্ঘ ২০০ বছরের পরাধীনতা শেষে ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ দুটি আলাদা রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। জন্ম হয় নতুন আরেকটি দেশ পাকিস্তান। স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষা যে হিন্দি হবে, সে সিদ্ধান্ত কংগ্রেস আগেভাগেই গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কী হবে সে সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণের আগেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হলেও, ভেতরে ভেতরে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্ত চলতে থাকে। সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধেই দিনে দিনে দানা বাঁধতে থাকে ভাষা আন্দোলন। বায়ান্নতে সে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২'র ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ হয় পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা।

১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দীন করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন যে, প্রদেশের সরকারি কাজকর্মে কোন ভাষা ব্যবহূত হবে তা প্রদেশের জনগণই ঠিক করবে। কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে কেবল উর্দু। সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানে ছাত্ররা বিক্ষোভ শুরু করে। ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘট পালিত হয়। ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সভাপতি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধিদের এক সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন কাজী গোলাম মাহবুব। এ সময় সরকার আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব পেশ করে। এর বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি (একুশে ফেব্রুয়ারি) সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এসব কর্মসূচির আয়োজন চলার সময় সরকার ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে সমাবেশ-শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আবুল হাশিমের (১৯০৫-৭৪) সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভা হয়। ১৪৪ ধারা অমান্য করা হবে কি-না- এ প্রশ্নে সভায় দ্বিমত দেখা দেয়, তবে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সংকল্পে অটুট থাকে।

পরদিন বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের একাংশে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রদের সভা হয়। সভা শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকসহ উপাচার্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ না করার জন্য ছাত্রদের অনুরোধ করেন। তবে ছাত্র নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে আবদুল মতিন এবং গাজীউল হক নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। ঢাকা শহরের স্কুল-কলেজের হাজার হাজার ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত হয়। ছাত্ররা পাঁচ-সাতজন করে ছোট ছোট দলে 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগান দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এলে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে, ছাত্রীরাও এ আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছোড়া শুরু করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের সামলাতে ব্যর্থ হয়ে গণপরিষদ ভবনের দিকে অগ্রসররত মিছিলের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে রফিক উদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, আবুল বরকত নিহত হয়। বহু আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তাঁদের মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের পিয়ন আবদুস সালাম মারা যায়। অহিউল্লাহ নামে আট-নয় বছরের এক কিশোরও সেদিন নিহত হয়।

একুশের এই রক্তক্ষয়ী আন্দোলন শুধু ভাষা ও জাতীয়তাবাদী আবেগের তাৎক্ষণিক তাড়না ছিল না, তা ছিল পুঁজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে দেশের নিপীড়িত মানুষের দৃপ্ত প্রতিবাদের এক প্রকৃষ্ট প্রকাশ। সে জন্যই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন, বাঙালির আর্থ-রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়, সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়।

মুসলমানত্ব নিয়েই পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু মুসলমানত্বের দোহাই দিয়ে সেই পাকিস্তানকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা যায়নি। ভাষা ও জাতিয়তার শক্তির কাছে ধর্মীয় দোহাই দাঁড়াতে পারেনি। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে বাঙালিরা এক নতুন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন করল। ধর্মীয় মৌলবাদ পরাস্ত হলো। আর এই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সূচিত হয়েছিল ১৯৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারির সেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই। এভাবেই ভাষা আন্দোলন ইতিহাসের এক গৌরবময় অধ্যায় সৃষ্টি করে। ভাষা আন্দোলন হয়ে ওঠে বাঙালির নবজাগরণের প্রতীক। বিশ শতকের বাঙালির নতুন আত্মানুসন্ধান শুরু হয় একুশের ভাষা আন্দোলন থেকেই। া

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের ১৩ কোটি মানুষ: বিশ্ব ব্যাংক

জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশের ১৩ কোটি মানুষ: বিশ্ব ব্যাংক

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিবর্ষণে বাংলাদেশের ১৩ কোটি ...

কাঠগড়ায় শাকিব খান!

কাঠগড়ায় শাকিব খান!

শাকিব খান কাঠগড়ায়। খুনের দায়ে অভিযুক্ত শাকিবকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ...

সাঙ্গ হলো বঙ্গমেলা

সাঙ্গ হলো বঙ্গমেলা

বাংলা বইয়ের সমাগম যে মেলায় তাকে বাঙালি, বাংলাদেশ বা বঙ্গের ...

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ

কুষ্টিয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির আদেশ

কুষ্টিয়ায় গৃহবধূ শাহানারা হত্যা মামলায় স্বামী আতিয়ার রহমানকে (৩৫) ফাঁসির ...

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ'র বিচারক হতে অনীহা দুই ভাইয়ের

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ'র বিচারক হতে অনীহা দুই ভাইয়ের

'মাইলস ব্যান্ড আমাদের দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্যান্ড। আর এই ...

অ্যালকোহলের নেশায় বছরে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু

অ্যালকোহলের নেশায় বছরে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু

অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ২০১৬ সালে ৩০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ...

ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৯

ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৪৯

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ...

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মর্যাদা সমুন্নত রাখার আহ্বান ...