১৯৭১ :বরিশাল মুক্ত হবার সময়

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল ছিল শত্রুমুক্ত। বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলা সরকারের প্রথম সচিবালয়। আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের অন্য রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ওই সচিবালয় গঠন করা হয়। এ সচিবালয় থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করা হতো। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অন্তুর্ভুক্তি ও ভারতে প্রশিক্ষণের জন্য প্রেরণের ব্যবস্থা করা হতো। বেসামরিক সচিবালয় গঠনের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ গোটা প্রশাসন স্বাধীন বাংলাদেশের আনুগত্য স্বীকার করে নেয়। পুলিশ লাইনে থাকা সব অস্ত্র ও গুলি চলে আসে বেসামরিক সচিবালয়ে। ১৮ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদাররা আকাশপথে বরিশালে প্রথম হামলা চালায়। পরে ২৬ এপ্রিল তারা জল-স্থল- আকাশপথে দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। স্থলপথে অবশ্য বরিশাল আসার পথে গৌরনদীতে বাধা পায়। টরকীর কটকস্থলে পাকিস্তানি বাহিনীকে মাত্র ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা গুটিকয়েক রাইফেল নিয়ে বাধা দেয়। কিন্তু সুসজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে হেরে যায়। এটি বরিশালের মুক্তিযুদ্ধের লড়াই পর্বে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ।

সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা ক্যাপ্টেন শাহজাহানকে বরিশালের সাব-সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একদল মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি উজিরপুর থানার বরাকোঠার দরগাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সাব-সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। অন্যদিকে একই সময়ে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নেতৃত্বে মুজিববাহিনী গঠিত হয়। নভেম্বর মাস থেকে মুক্তিযোদ্ধারা থানাগুলোতে হামলা চালাতে শুরু করে। তখন থানাগুলোয় পুলিশ ছাড়াও মিলিশিয়া রাজাকার বাহিনী অবস্থান করত।

মুক্তিযুদ্ধের নৌ-কমান্ডার সৈয়দ আবুল বাশারসহ ৬০ জনের নৌ-কমান্ডো দল ভারতে প্রশিক্ষণ শেষে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় তারা সাতক্ষীরার গাবুরা গ্রামে পৌঁছলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। ১২ নভেম্বর তার নেতৃত্বে ৪ নৌ-কমান্ডো মাইন চার্জ করে রূপাতলীর একটি ব্রিজ ধ্বংস করে। দ্বিতীয় অভিযান চালায় ২৯ নভেম্বর। ওই দিন ত্রিশগোডাউন সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতে একটি খাদ্যবাহী জাহাজ ও একটি তেলের ট্যাংকারে বোম্বিং করে নিমজ্জিত করে।

৬ ডিসেম্বর বেজ কমান্ডার সুলতান মাস্টার ও কমান্ডার আবদুল মজিদ তালুকদারসহ ৮৫-৯০ জনের মুক্তিযোদ্ধার একটি দল বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলার সীমান্তবর্তী গাবখান নদীতীরের পাকিস্তানি সেনাদের ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। সেখানে বহু পাকিস্তানি সেনা হতাহত হয়।

৭ ডিসেম্বর ১৯৭১। বেলা সাড়ে ১১টায় পুরনো কালেক্টরেট ভবনের দ্বিতীয় তলায় মাত্র ২০ মিনিটের সভা করে পাকিস্তানি সেনারা। রাজাকার, আলবদর, দালাল ও শান্তি (পিস) কমিটির সদস্যদের নিয়ে করা ওই সভা শেষে পাকিস্তানি সেনারা দুপুর থেকে মাইকিং করে শহরে কারফিউ জারি করে। পাকিস্তানি সেনাদের আকস্মিক এ ঘোষণায় শহরবাসী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে এবং যে যার মতো নিরাপদ স্থানে যেতে ছোটাছুটি শুরু করে। তবে পাকিস্তানি সেনাদের ওই সভা ও কারফিউ জারির আড়ালে ছিল গোপনে পালিয়ে যাওয়ার কৌশল।

৮ ডিসেম্বর প্রত্যুষে বরিশালের পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে অবস্থানরত পাকিস্তানি বাহিনী পাঁচটি কাঠ বডির লঞ্চ ও একটি স্টিমারে করে বরিশাল থেকে পালিয়ে যায়। তখনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে কিছু পাকিস্তানি সৈন্য অবস্থান করছিল। এদিকে বাবুগঞ্জের দোয়ারিকা-শিকারপুর ও গৌরনদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পে থাকা পাকিস্তানি শতাধিক সৈন্য মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাদের বরিশালে এনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্যাম্পে রাখা হয়। ৮ ডিসেম্বর সকালেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্প ও টর্চার সেলগুলো ঘেরাও করে ফেলে মুক্তিযোদ্ধারা। একই সময় শহরতলির চরকাউয়ায় আবদুল মান্নান তার বাহিনী নিয়ে অবস্থান করছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনী পালানোর সংবাদ শুনতে পেয়ে আবদুল মান্নান তার বাহিনী নিয়ে শহরে প্রবেশ করেন। ৮ ডিসেম্বর ২২৫ দিনের পাকিস্তানি হানাদার দখলদারিত্বের হাত থেকে মুক্ত হয় বরিশাল।

পরবর্তী খবর পড়ুন : আপন অন্ধকারে

যশোর ও বান্দরবানে ‌'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২

যশোর ও বান্দরবানে ‌'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ২

যশোর ও বান্দরবানে পৃথক ‌'বন্দুকযুদ্ধে' দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার গভীর ...

নাটোরে নির্মাণাধীন ড্রেনে আবারও মিললো গ্রেনেড

নাটোরে নির্মাণাধীন ড্রেনে আবারও মিললো গ্রেনেড

নাটোর শহরে নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে আরও একটি গ্রেনেড উদ্ধার করা ...

ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ঢাকার ধামরাইয়ের রামদাইল গ্রামে বিষাক্ত সাপের দংশনে দেলোয়ার হোসেন সোহাগ ...

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সড়কযাত্রা শুরু

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সড়কযাত্রা শুরু

সড়কযাত্রার মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলো আওয়ামী ...

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। ...

ভারতের কাছেও বড় হার বাংলাদেশের

ভারতের কাছেও বড় হার বাংলাদেশের

পরপর দুই ম্যাচে বড় হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ...

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে ...

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

ড্রেসিংরুম থেকেই জরুরি তলব ঢাকায়-ওপেনিংয়ে কিছুই হচ্ছে না। সৌম্য সরকারকে ...