ফারুক মঈনউদ্দীন

আমাদের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির উচ্চশির

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

অতি সম্প্রতি পাকিস্তানের কোনো এক টিভির টক শোতে পাকিস্তানের খ্যাতনামা উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ জাইঘাম খান নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কাছে আর্জি রেখেছেন, তারা পাকিস্তানকে পাঁচ বছরের মধ্যে সুইডেন বানানোর স্বপ্ন দেখেন না। তারা চান ১০ বছরের মধ্যে যেন পাকিস্তানকে বাংলাদেশ বানিয়ে দেওয়া হয়। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওতে পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের ভেতরকার উপলব্ধি দেখে এক সময় যারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, তাদের মনে এক অনির্বচনীয় তৃপ্তি আসে। এটিকে একজন ইমরানবিরোধীর ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য বলে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই। তিনি সঠিক তথ্য-পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেই তার মন্তব্য পেশ করেছেন। শুধু এই উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ নন; বাঘা বাঘা বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত নিবন্ধগুলোও বাংলাদেশের এই অনুকরণীয়, অবিশ্বাস্য প্রবৃদ্ধির কথা ঘটা করে প্রকাশ করে আসছে।

৪৭ বছর আগে পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ যখন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, তখন সদ্যোজাত দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ছিল চরম সংশয়। আজ থেকে আরও আট বছর আগে ওয়াল স্ট্রিট জর্নালের এক নিবন্ধে বলা হয়, প্রায় ৪০ বছর আগে শুধু বেপরোয়া আশাবাদীরাই অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ পাকিস্তানের বদলে বন্যাকবলিত, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ওপর বাজি ধরত। কিন্তু উচ্চ প্রবৃদ্ধি, নিম্ন জন্মহার এবং আন্তর্জাতিকভাবে অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি নিয়ে সেদিনকার বাস্কেট কেসটি এখন শেষ হাসি হাসতে পারে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে 'দ্য ইকোনমিস্ট' এক নিবন্ধে মন্তব্য করে, বাংলাদেশের 'গড় প্রবৃদ্ধি বিগত ১০ বছর ধরে ৬ শতাংশ এবং গত দুই বছর ধরে ৭ শতাংশের ওপর। জিডিপিতে শিল্পের অবদান ২৯ শতাংশ। যে দেশে একদা গায়ে চড়ানো কাপড়ের অভাব ছিল, সেই দেশটি এখন ভারত ও পাকিস্তান যুক্তভাবে যা করে, তার চেয়ে বেশি তৈরি পোশাক রফতানি করে।'

এ বছরের মে মাসে প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জর্ডান টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং করনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কৌশিক বসু এক নিবন্ধে লিখেছেন, 'একদা পাকিস্তানের দরিদ্রতম অঞ্চলগুলোর একটি, দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বহু বছর পর্যন্ত ছিল অপ্রতিকার্য (বাস্কেট কেস) এক অর্থনৈতিক দুরবস্থায়। বস্তুত ২০০৬ সালে অবস্থা এতটাই হতাশাব্যঞ্জক ছিল যে, যখন বাংলাদেশ পাকিস্তানের তুলনায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করে, এটাকে হঠাৎ পাওয়া কিছু বলে সবাই উড়িয়ে দিয়েছিল।

সে বছরটিই বাঁক নেওয়ার সময় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল। তখন থেকে বাংলাদেশের জিডিপির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি পাকিস্তানকে বছরে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিক্রম করতে থাকে। এবং এ বছর এই প্রবৃদ্ধি ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, যদিও এটা প্রাথমিকভাবে ভারতের আর্থিক মন্দারই প্রতিফলন . . .।'

ভারতের টাইমস অভ ইন্ডিয়া তো আরেকটু এগিয়ে বাংলাদেশের পাকিস্তান অতিক্রম করাকে ভারতের জন্য শিক্ষণীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, 'এটা একটা ঐতিহাসিক মাইলফলক, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তুলনীয়। একদা দারিদ্র্যপীড়িত ব্রিটিশ উপনিবেশটি তার উপনিবেশকর্তা দেশটিকে সমৃদ্ধির বিচারে আড়াল করে দিয়েছে। পাকিস্তানিরা এক সময় বাংলাদেশকে তাদের দরিদ্র জ্ঞাতিভাই হিসেবে বিবেচনা করে তাদেরকে নির্মভাবে শোষণ করেছে।' নিবন্ধটিতে বলা হয়, মনে হয়, বাংলাদেশ যেন পেছন থেকে উল্ক্কার মতো ছুটে এসেছে। দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ১৫৩৮ ডলার, অথচ পাকিস্তানের ১৪৭০ ডলার। বস্ত্রশিল্প খাতে বাংলাদেশের সস্তা শ্রমের নিয়োগ নিয়ে পত্রিকাটি মন্তব্য করে, এই অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান দিয়েই দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল। অথচ ভারত এই সুযোগ হাতছাড়া করেছে।

জেনেভাভিত্তিক সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান 'ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম' তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে মন্তব্য করেছে, দারিদ্র্যের বেড়া ডিঙিয়ে এশিয়ার বাঘ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে দেশটি ভারতের চেয়ে সুদৃঢ় প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে আশা করা যায়, আর ২০২০ সাল নাগাদ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ মানুষ ছিল চরম দারিদ্র্যে, অথচ ২০১৭ সালে দৈনিক ২ ডলারের কম আয়ের শ্রেণিতে রয়েছে দেশটির মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ।

একদা দরিদ্র, অনুন্নত নিম্ন-আয়ের দেশ বলে পরিচিত বাংলাদেশকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেন বিশ্বের মানুষের কাছে অপরিচিত ঠেকছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে উন্নয়ন অর্থনীতিতে আমাদের নির্দিষ্ট কিছু দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস পড়তে হয়েছে। সে সময় এশিয়ার ব্যাঘ্রচতুষ্টয় ছিল আমাদের মনোযোগের লক্ষ্যবস্তু। হংকং, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান নামের এই চার বাঘ কীভাবে ১৯৬০-এর দশক থেকে শিল্পায়নের সড়কে উঠে দ্রুত উন্নয়নের রথে চড়েছে, সেই সাফল্যগাথা পড়ে আমাদের উন্নয়ন অর্থনীতির জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে হয়েছে এবং শিখতে হয়েছে কোন কৌশলে একটি দেশের অর্থনীতিকে চালিত করলে দেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আজ বিশ্বসভার বিভিন্ন অঙ্গনে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের দৃষ্টান্ত হিসেবে বাংলাদেশের উদাহরণ টানা হওয়া শুরু হয়েছে বোধ হয়। এখন মনে হয়, দরিদ্র কোনো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন অর্থনীতির পাঠ্যসূচিতে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা পড়তে হবে সে দেশের শিক্ষার্থীদের। যদিও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আজও বিদেশের মাটিতে আমাদের নানান বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। বিদেশের বিমানবন্দরে নামলে আজও আমাদের দিকে তাকানো হয় নীচু চোখে। একদা যেসব দেশে যাওয়ার জন্য আগাম ভিসা দরকার পড়ত না, সেসব দেশের দুয়ার আমাদের জন্য আর অবারিত নেই। সেই দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়ানোর একটা সুযোগ হয়েছে হয়তো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বিদেশিরা আমাদের জানত শেখ মুজিবের মতো মহান নেতার দেশের লোক বলে। মাত্র গত বছর কলম্বোতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ট্যুরিস্ট শিকারি এক অটো ড্রাইভার আমাকে তার গাড়িতে তুলতে না পেরে জিগ্যেস করে- আমি কোন দেশের লোক? আমার দ্রাবিড় গাত্রবর্ণ এবং চেহারা দেখে তার বোঝা উচিত ছিল- আমি কোনো ধনাঢ্য দেশের শ্বেতবর্ণ ট্যুরিস্ট নই। বাংলাদেশের ট্যুরিস্ট বলার পর সেই অটোওয়ালা আমাকে অবাক করে দিয়ে বলে, ওহ, বঙ্গবন্ধু, মানে বঙ্গবন্ধু। শেখ মুজিব এখনও আমাদের এভাবেই পরিচিত করেন। এ রকম যখন বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা ওঠে তখন বিশ্বের তাবৎ বিখ্যাত গণমাধ্যম একবাক্যে স্বীকার করে- বাংলাদেশ সত্যিই এক অসাধ্য সাধন করে ফেলেছে। তারা তাদের এক সময়ের শাসক পাকিস্তানি প্রভুদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- সে সময়ের উপনিবেশটি এখন তাদের পথপ্রদর্শক, যেমনটি ঘটেছে আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের বেলায়। ঠিক এ বিষয়টি একজন গড়পড়তা বাংলাদেশির কাছে কতখানি সম্মান ও মর্যাদার, সেটি বোঝানো কঠিন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসের ২৩ এপ্রিল, ২০১২ সংখ্যার একটা মন্তব্য এখানে উদ্ধৃত করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না- 'বাংলাদেশের ক্ষীণ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বৎসরে ১০০ কোটি ডলার, যা আলবেনিয়া বা বেলারুশের চাইতেও কম, আর থাইল্যান্ড কিংবা মালয়েশিয়ার তুলনায় প্রায় ১০ ভাগের এক ভাগ। অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো, রাজনৈতিক অন্তর্কলহ, আমলাতান্ত্রিকতা, দুর্নীতি এবং একটা দক্ষ জনশক্তির অভাব এখানে বিনিয়োগ পরিবেশকে দুরূহ করে তুলছে। এতদসত্ত্বেও, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার গত দশকের বেশিরভাগ সময় ধরে ৬ শতাংশের ওপর অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।' অথচ এই পত্রিকাটিই এই রিপোর্ট ছাপা হওয়ার ৪১ বছর আগে (৮ অক্টোবর, ১৯৭২) এক সম্পাদকীয় নিবন্ধে মন্তব্য করেছিল 'বাংলাদেশ যে একটা আন্তর্জাতিক অপ্রতিকার্য অবস্থায় (বাস্কেট কেস) পতিত হবে, গত বছর একজন মার্কিন কূটনীতিবিদের এমন কথিত পূর্বাভাস অন্ততপক্ষে আপাত সত্যে পরিণত হয়েছে।'

মুদ্রাস্টম্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার একটানা পড়ে থাকা ৬-এর ঘর থেকে ৭-এর ঘরে উত্তরণ একটা উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে ধরা যায়। একটি কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে শিল্পভিত্তিক উন্নয়নের পথে চালিত করে কৃষি খাতের ছদ্ম বেকারত্বের ক্রম অবলুপ্তি আমাদের প্রবৃদ্ধির পেছনের মূল শক্তি। জিডিপিতে শিল্প খাতের ক্রমবর্ধমান অবদান ৩০ শতাংশের ঘর পার হতে পেরেছে মাত্র, তবু শিল্প ও সেবা খাতের মিলিত অবদান বেকারত্বের চক্রকে কিছুমাত্রায় ভাঙতে সক্ষম হয়েছে। যার প্রমাণ মেলে মানুষের বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতার মধ্য দিয়ে। এসব ইতিবাচক দিক ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিশ্নেষক মহলের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনগুলোই একটা বিশাল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। এশিয়া আর আফ্রিকার যে গুটিকয়েক দেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এগিয়ে গেছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশও একটি। এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, সর্বোপরি নারীর ক্ষমতায়ন।

কিন্তু সাফল্যের এই ধারায় অবগাহন করে আমাদের আত্মসন্তুষ্টির সুযোগ নেই। আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক ২০২০ সালের মধ্যে প্রবৃদ্ধির হার যদি ৮-এর ঘরে নিয়ে যেতে হয় তাহলে আমাদের শুধু বস্ত্রশিল্প খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রফতানি পণ্যকে বহুমুখী করতে হবে। আমাদের ইলেক্ট্রনিকস, ওষুধ, চামড়া শিল্পে যে অপার সম্ভাবনা রয়ে গেছে, তাকে যথাযথ কাজে লাগানো না গেলে এই প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন টেকসই হবে না।

আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বর্তমান প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে এটিকে সর্বাত্মক অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে না গেলে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের সাফল্য ধরে রাখা কিংবা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের সিঁড়িতে পা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ অধরা থেকে যাবে যদি বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করা সম্ভব না হয়। অতি সম্প্রতি বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থানের অবনতি আমাদের বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঢাকা শহরের যানজটে মোট ক্ষতির পরিমাণ অনুমিত হয়েছে বছরে এক হাজার কোটি ডলার। এ ছাড়াও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমির যে মারাত্মক অভাব দেখা দিয়েছে, সে কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকবে না আমাদের প্রতি।

আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরের দুর্বলতা ও অব্যবস্থার কারণে বিনিয়োগ মন্থর থেকে নিশ্চল হয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে শিগগিরই কিছু ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যেতে পারে।

আমাদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে আরেকটি বিষয় আমরা প্রায় বিস্মৃত হতে বসেছি। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় যে বিকৃতি ঘটছে, বিভিন্ন নিম্নমানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে হাজার হাজার ডিগ্রিধারী তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে প্রতি বছর, তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব না হলে দেখা দিতে পারে সামাজিক বিশৃঙ্খলা। বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করা না গেলে এই 'উচ্চশিক্ষিত' তরুণ জনবল নিয়ে আমরা বেশি দূর যেতে পারব না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের পাঠ্যসূচি প্রবর্তন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। সর্বোপরি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাব আমাদের প্রবৃদ্ধির পথে আর এক বিরাট অন্তরায়। এটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মানুষের মধ্যে সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিবর্তন আনা।

এই নিবন্ধের শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং অর্থনৈতিক বিশ্নেষকদের যে প্রশংসার ফিরিস্তি দেওয়া হয়েছে, ওপরের গুটিকয় দুর্বলতা, অব্যবস্থা ও ঘাটতি আমাদের সব অর্জন, প্রশংসাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।

আমাদের চিত্ত আছে ভয়শূন্য, উচ্চ আছে শির; কিন্তু সামনের বাধা ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে সেই উচ্চশির অচিরেই নত হয়ে যাবে। া





লেখক



প্রাবন্ধিক

কথাসাহিত্যিক
'মি টু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়'

'মি টু আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়'

বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া যৌন নিপীড়ন বিরোধী #মি টু আন্দোলনের ঢেউ ...

বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আওয়ামী লীগের

বিএনপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগ আওয়ামী লীগের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ...

নির্বাচনে দায়িত্ব পেলে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

নির্বাচনে দায়িত্ব পেলে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, 'আগামী মাসে একাদশ জাতীয় ...

ইসিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ

ইসিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ

দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ...

সেই সোহাগ 'আটক'

সেই সোহাগ 'আটক'

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের সময় ভাংচুর ...

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ঢাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ঢাকায়

বাংলাদেশে নতুন নিয়োগ পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার ঢাকায় ...

যুক্তরাজ্যে কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর মৃত্যু

যুক্তরাজ্যে কবি দেলোয়ার হোসেন মঞ্জুর মৃত্যু

যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি ও কথা সাহিত্যিক দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু আর ...

মির্জা আব্বাস দম্পতির আগাম জামিন হাইকোর্টে

মির্জা আব্বাস দম্পতির আগাম জামিন হাইকোর্টে

রাজধানীর নয়াপল্টনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা তিন মামলায় বিএনপির ...