আরজ আলী মাতুব্বর

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

আরজ আলীর রচিত পাণ্ডুলিপির সংখ্যা মোট ১৫টি। এর মধ্যে তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়েছিল চারটি। এ বইগুলো হলো- 'সত্যের সন্ধান' (১৯৭৩), 'সৃষ্টি রহস্য' (১৯৭৭), 'অনুমান' (১৯৮৩) ও 'স্মরণিকা' (১৯৮৮)। আরজ আলী মাতুব্বর তার প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদও আঁকেন। বইটি লিখেছিলেন ১৯৫২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে 'সত্যের সন্ধানে' শিরোনামে।

আরজ আলী মাতুব্বর ছিলেন একজন বাংলাদেশি দার্শনিক, মানবতাবাদী, চিন্তাবিদ এবং লেখক। আরজ আলী মূলত বস্তুবাদী দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি অনেক অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন। আরজ আলীর রচনা মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দার্শনিক প্রজ্ঞায় উন্নত। মানবকল্যাণ ও বিশ্বধর্ম আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রদের জন্য বৃত্তি প্রদান, পাঠাগার স্থাপন ও রচনা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়া তিনি নিজ দেহ ও চক্ষু মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেন। মাতুব্বরের বরিশালের অধ্যাপক কাজী গোলাম কাদির, অধ্যাপক মুহাম্মদ সামসুল হকসহ অনেক সংখ্যক সাম্যবাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজমান ছিল। তার বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার কথা তিনি একাধিক গ্রন্থে প্রকাশ করেন। তার লিখিত বইয়ের মধ্যে 'সত্যের সন্ধান', 'সৃষ্টি রহস্য', 'সীজের ফুল', 'শয়তানের জবানবন্দী' অন্যতম। আরজ আলীর রচিত পাণ্ডুলিপির সংখ্যা মোট ১৫টি। এর মধ্যে তার জীবদ্দশায় প্রকাশিত হয়েছিল চারটি। এ বইগুলো হলো- 'সত্যের সন্ধান' (১৯৭৩), 'সৃষ্টি রহস্য' (১৯৭৭), 'অনুমান' (১৯৮৩) ও 'স্মরণিকা' (১৯৮৮)। আরজ আলী মাতুব্বর তার প্রথম বইয়ের প্রচ্ছদও আঁকেন। বইটি লিখেছিলেন ১৯৫২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে 'সত্যের সন্ধানে' শিরোনামে। বইটি তাকে এলাকায় 'শিক্ষিত ব্যক্তি' হিসেবে সুনাম এনে দিয়েছিল। মুখবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, 'আমি অনেক কিছুই ভাবছি, আমার মন প্রশ্নে ভরপুর; কিন্তু এলোমেলোভাবে। আমি তখন প্রশ্নের সংক্ষেপণ লিখতে থাকি, বই লেখার জন্য নয় শুধুমাত্র পরবর্তীকালে মনে করার জন্য। অসীম সমুদ্রের মতন সেই প্রশ্নগুলো আমার মনে গেঁথে আছে এবং আমি ধীরে ধীরে ধর্মীয় গণ্ডি হতে বের হতে থাকি।'

তিনি এই বইটিতে দার্শনিক প্রশ্নগুলোর ছয়টি শ্রেণিতে তার প্রশ্ন ও তাদের যৌক্তিক ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। সেগুলো হলো :

প্রথম প্রস্তাব :আত্মাবিষয়ক। এই অংশে ৮টি প্রশ্ন।

দ্বিতীয় প্রস্তাব :ঈশ্বরবিষয়ক। এই অংশে ১১টি প্রশ্ন।

তৃতীয় প্রস্তাব :পরকালবিষয়ক। এই অংশে ৭টি প্রশ্ন।

চতুর্থ প্রস্তাব :ধর্মবিষয়ক। এই অংশে ২২টি প্রশ্ন।

পঞ্চম প্রস্তাব :প্রকৃতিবিষয়ক। এই অংশে ১১টি প্রশ্ন।

ষষ্ঠ প্রস্তাব :বিবিধ। এই অংশে ৯টি প্রশ্ন।

প্রথম আটটি প্রশ্নে তিনি নিজের ভাবভঙ্গি ব্যক্ত করেন। যেমনচ্ এক. আমি কে? (নিজ) দুই. জীবন কি শরীরী বা অপার্থিব? তিন. মন এবং আত্মা কি একই জিনিস? চার. জীবনের সঙ্গে শরীর বা মনের সম্পর্ক কী? পাঁচ. আমরা কি জীবনকে চিহ্নিত করতে পারি? ছয়. আমি কি মুক্ত? সাত. মরণোত্তর আত্মা শরীরবিহীন জ্ঞান ধারণ করে? এবং সর্বশেষ আট. কীভাবে শরীরে আত্মা প্রবেশ করে ও বের হয়?

পাকিস্তান সরকার আমলে তার লেখালেখির জন্য তিনি সমালোচিত ও অভিযুক্ত হয়েছিলেন। সে সময় তার লেখালেখি নিষিদ্ধ ছিল।

এই চিন্তাবিদ মনীষী গ্রামের মক্তবে কিছুকাল পড়াশোনা করেন, যেখানে শুধু কোরআন ও অন্যান্য ইসলামিক ইতিহাসের ওপর শিক্ষা দেওয়া হতো। তিনি নিজ চেষ্টা ও সাধনায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম, দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করেন। ধর্ম, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা তার লেখায় উঠে এসেছে। তিনি তার ৮৬ বছরের জীবনকালে ৭০ বছরই লাইব্রেরিতে কাটিয়েছেন পড়াশোনা করে। জ্ঞান বিতরণের জন্য তিনি তার অর্জিত সম্পদ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'আরজ মঞ্জিল পাবলিক লাইব্রেরি'। তিনি বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্যপদ (১৯৮৫), বাংলাদেশ লেখক শিবিরের 'হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার' (১৯৭৮) ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর (বরিশাল শাখা) সম্মাননা (১৯৮২) লাভ করেন।

তিনি ১৯০০ সালের ১৭ ডিসেম্বর (বাংলা ১৩০৭ বঙ্গাব্দের ৩ পৌষ) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে বরিশাল জেলার অন্তর্গত চরবাড়িয়া ইউনিয়নের লামছড়ি গ্রামে এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আরজ আলী নিজ গ্রামের মুন্সি আবদুল করিমের মসজিদ দ্বারা পরিচালিত মক্তবে সীতানাথ বসাকের কাছে 'আদর্শলিপি' পড়তেন। এ ছাড়া তিনি মক্তবে কোরআন এবং ইসলামিক ইতিহাস বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে এক সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় তিনি স্কুলের প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের ঐকান্তিক চেষ্টায় লেখাপড়া শিখতে থাকেন। নিজের জ্ঞানের পিপাসা মেটাতে তিনি বরিশাল লাইব্রেরির সমস্ত বাংলা বই একজন মনোযোগী ছাত্রের মতো পড়েন। দর্শন ছিল তার প্রিয় বিষয়। কিন্তু পাঠাগারে পর্যাপ্ত বই ছিল না। পরে বিএম মহাবিদ্যালয়ের দর্শনের এক শিক্ষক- কাজী গোলাম কাদির তার জ্ঞানগর্ভ বিচার দেখে মোহিত হন এবং তিনি মহাবিদ্যালয় পাঠাগার থেকে বই ধার দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এভাবেই তার মানসিক আকৃতি গঠিত হয়। তিনি নিজ চেষ্টা ও সাধনায় বিজ্ঞান, ইতিহাস, ধর্ম, দর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর জ্ঞান অর্জন করেন। ধর্ম, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নানামুখী জিজ্ঞাসা তার লেখায় উঠে এসেছে।

পৈতৃক পেশা কৃষিকাজ দিয়েই তার কর্মজীবনের শুরু। কৃষিকাজের অবসরে জমি জরিপের কাজ করে তিনি আমিনি পেশার সূক্ষ্ণ গাণিতিক ও জ্যামিতিক নিয়ম সম্পর্কে অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন। শৈশবে তার মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ছবি তোলার দায়ে গ্রামের মানুষ তার মায়ের জানাজা পড়তে রাজি হয়নি। শেষে বাড়ির কয়েকজন লোক মিলে তার মায়ের সৎকার করেন। এ ঘটনা আরজ আলীর ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার বিরোধিতার এবং সত্যানুসন্ধিৎসু হয়ে ওঠার পেছনে কাজ করেছিল।

আরজ আলী মাতুব্বর ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ ৮৬ বছর বয়সে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রয়াত হন। তিনি মরণোত্তর চক্ষুদান করে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, মেডিকেলের ছাত্রদের শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে মরণোত্তর দেহদান করেন। া
সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর

সড়ক দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর

বেপরোয়া মোটরযানের কবলে পড়ে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজার ...

বাংলাদেশ দলে কয় পরিবর্তন?

বাংলাদেশ দলে কয় পরিবর্তন?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য নিয়ম রক্ষার। শ্রীলংকাকে বড় ব্যবধানে ...

অস্ত্র নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মহড়া

অস্ত্র নিয়ে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মহড়া

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ...

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার ...

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান ...

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজে কোন ফারাক দেখি না'

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজে কোন ফারাক দেখি না'

টালিউড ও বলিউডে সমানতালে কাজ করছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। বাংলাদেশেও রয়েছে ...

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের জান-মাল ...

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার ...