সেলিম রায়হান

বিস্তৃত অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

গত তিন দশকে গণনাযোগ্য সামগ্রিক ভারসাম্য (সিজিই) মডেল প্রায়োগিক অর্থনৈতিক বিশ্নেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সিজিই মডেল সমগ্র উৎপাদন কার্যক্রম, উৎপাদনের নিয়ামক ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় নিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি বা বিশেষ অঞ্চলের ওপর অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তনের সামগ্রিক প্রভাব মডেলিংয়ের একটি সমন্বিত উপায়ের ব্যবস্থা করে। এ ধরনের মডেলে অন্যান্য বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন বাজার ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপাদানগুলো (বিনিয়োগ ও সঞ্চয়, লেনদেন ভারসাম্য ও সরকারি বাজেট)।

গবেষণা পদ্ধতি :সিজিই মডেল

বাংলাদেশের সিজিই মডেলটি PEP আদর্শ নিশ্চল মডেলের ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয়েছে। এ মডেলে প্রতিটি শিল্পের প্রতিনিধিত্বশীল খামার উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে মুনাফাকে সর্বোচ্চকরণ করে থাকে। খাতভিত্তিক উৎপাদন লিওনটিফ উৎপাদন আপেক্ষক মেনে চলে। প্রত্যেক শিল্পের মূল্য সংযোজনী বিকল্পায়ন বাছাইয়ের ধ্রুব স্থিতিস্থাপকতা অনুযায়ী যৌগিক শ্রম ও যৌগিক মূলধন নিয়ে গঠিত। বিকল্পায়ন প্রযুক্তির ধ্রুব স্থিতিস্থাপকতা অনুসারে বিভিন্ন ধরনের শ্রমকে অসম্পন্ন বিকল্পায়নের সঙ্গে সংহত করা হয়। যৌগিক মূলধন হলো বিভিন্ন ধরনের মূলধন বিকল্পায়নের ধ্রুব স্থিতিস্থাপকতার সমন্বয়। অনুমান করা হয়, মধ্যবর্তী উপকরণগুলো সম্পূর্ণরূপে পরিপূরক এবং এগুলোকে লিওনটিফ উৎপাদন আপেক্ষক মেনে সংহত করা হয়।

পারিবারিক আয় বা খানা আয়ের উৎস হলো শ্রম আয়, মূলধন আয় এবং অন্যান্য উৎস থেকে গৃহীত হস্তান্তর আয়। পারিবারিক আয় থেকে প্রত্যক্ষ কর বাদ দিলে পরিবারের ব্যয়যোগ্য আয় পাওয়া যায়। পারিবারিক সঞ্চয় হচ্ছে ব্যয়যোগ্য আয়ের রৈখিক আপেক্ষক, যা গড় সঞ্চয়প্রবণতা থেকে আলাদা প্রান্তিক সঞ্চয়প্রবণতার সুযোগ সৃষ্টি করে।

সরকার পারিবারিক বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রদত্ত কর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওপর ধার্যকৃত আয়কর, পণ্য ও আমদানি শুল্ক্ক এবং উৎপাদন খাতের অন্যান্য শুল্ক্ক থেকে আয় করে থাকে। খানা বাবদ হোক আর ব্যবসা বাবদ হোক, আয়করকে সার্বিক আয়ের রৈখিক আপেক্ষক হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সরকারের চলতি বাজেট উদ্বৃত্ত বা ঘাটতি হলো (ধনাত্মক বা ঋণাত্মক সঞ্চয়) সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের পার্থক্য। ব্যয় বলতে এজেন্টদেরকে প্রদত্ত হস্তান্তর এবং পণ্য ও সেবা বাবদ চলতি ব্যয়কে বোঝায়। উৎপাদনকারীর জোগান আচরণ CET আপেক্ষক আশ্রয়ে প্রতিফলিত হয় : ঊর্ধ্ব স্তরে সাকল্য উৎপাদন স্বতন্ত্র পণ্যগুলোয় নিবদ্ধ করা হয়; নিম্ন স্তরে প্রতিটি পণ্যের জোগান অভ্যন্তরীণ বাজার ও রফতানি বাজারের মধ্যে বিভাজিত। মডেলটি ক্ষুুদ্র-দেশ অনুমিতি থেকে আলাদা। স্থানীয় কোনো উৎপাদনকারী বিশ্ববাজারে বিদ্যমান পণ্যমূল্যের (বাহ্যিক) তুলনায় পণ্যের সুবিধাজনক নতুন মূল্য নির্ধারণ করে বিশ্ববাজারে তার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে পারে। প্রতিযোগী পণ্যের তুলনায় প্রস্তাবিত পণ্যের বিকল্পায়ন মাত্রার ওপর নির্ভর করবে কত সহজে তিনি বিশ্ববাজারে তার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে পারেন। অন্য কথায়, এটা নির্ভর করবে রফতানি চাহিদার মূল্য-স্থিতিস্থাপকতার ওপর। অভ্যন্তরীণ বাজারে যেসব পণ্যের চাহিদা আছে, তা হলো যৌগিক (কম্পোজিট) পণ্য এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত পণ্য। এ দুই ধরনের পণ্যের মাঝে বিদ্যমান অসম্পূূর্ণ বিকল্পায়ন-বিকল্পায়ন সংযোগকারী আপেক্ষকের ধ্রুব স্থিতিস্থাপকতার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমদানি বাজারে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন নয় এমন পণ্যের ক্ষেত্রে যৌগিক দ্রব্যের চাহিদা হলো অভ্যন্তরীণভাবে উৎপন্ন দ্রব্যের চাহিদা। এ পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রত্যেক পণ্যের জোগান ও চাহিদার মাঝে ভারসাম্য থাকা চাই। ফ্যাক্টর বাজারের ভারসাম্য থাকা চাই। সামগ্রিক বিনিয়োগ ব্যয় অবশ্যই এজেন্টদের সঞ্চয়ের যোগফলের সমান হবে। পরিশেষে প্রতিটি পণ্যের রফতানি বাজারে জোগান হবে চাহিদার অনুরূপ বা চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

বাংলাদেশের সিজিই মডেলের সিমুলেশন ও তার ফলাফল :বাংলাদেশের সিজিই মডেল ব্যবহার করে চার ধরনের দৃশ্যকল্প পরিচালনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো (ক) ফসল উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, (খ) শ্রম নিবিড় রফতানি চাহিদা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি, (গ) পরিবারের সামাজিক সুরক্ষার বিদ্যমান বরাদ্দ দ্বিগুণ করা, এবং (ঘ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ অভিঘাতের দরুন অর্থনীতির মূলধন স্টক ৫ শতাংশ হ্রাস।

দৃশ্যকল্প-১

ফসল উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি :দৃশ্যকল্প-১ এর আওতায় সিজিই মডেলে একগুচ্ছ অনুমিতি আরোপ করা হয়েছে, যেখানে মোট ভূমি স্টক, কর হার, মোট ইনভেনটরি, সরকারি সঞ্চয় ও চলতি হিসাব ভারসাম্য হলো বাহ্যিক আর সাকল্য বিনিয়োগ ব্যয় ও সাকল্য প্রকৃত সরকারি ব্যয়লোহ অভ্যন্তরীণ। মূলধন খাতভিত্তিক বিস্তৃত। শ্রমের জোগান স্থির মজুরি হারে নমনীয়। নূ্যনতম বিনিময় হার হলো মডেলের অভিহিত মূল্য।

দেখা গেছে, শস্য খাতে এ ধরনের ধনাত্মক উৎপাদনশীলতা অভিঘাতের ফলে প্রকৃত জিডিপি ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সামগ্রিক উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ বিক্রয়ের ওপর একই ধরনের প্রভাব পড়বে। প্রকৃত বিনিময় হারে অবচয় ঘটতে পারে এবং মধ্যবর্তী উপকরণ ব্যয় ও প্রাথমিক ফ্যাক্টর পরিব্যয় হ্রাস পাবে। যার ফলে রফতানি ২ দশমিক ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু জিডিপি অবসারক (GDP deflator) ২ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পাবে।

সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে কৃষি খাতে। যেহেতু উৎপাদন ও রফতানি যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ ও ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। যা হোক, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কৃষি খাতে আমদানি ১৬ দশমিক ৬ শতাংশে হ্রাস পাবে। শিল্প ও সেবা উভয় খাতেই উৎপাদন ও রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে শিল্প খাতের উৎপাদন ও রফতানিতে। শস্য ও ফসল খাতে সর্বোচ্চ ধনাত্মক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে এ খাতে উৎপাদন ও রফতানি যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮ ও ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। খাতকেন্দ্রিক আন্তঃসংযোগ ও উৎপাদনের নিয়ামকগুলোর পুনঃবণ্টনের দরুন উপযোগ ও নির্মাণ খাত ব্যতীত অন্যান্য খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যান্য কৃষিভিত্তিক উপখাতগুলোর মধ্যে 'পশুসম্পদ ও মাংসজাত পণ্যের' ওপর বড় প্রভাব পরিলক্ষিত হবে; শিল্প উপখাতগুলোর মধ্যে 'প্রক্রিয়াজাত খাদ্য' এবং 'বস্ত্র ও পোশাক' উপখাতের উৎপাদন ২ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে; সেবাকেন্দ্রিক উপখাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ধনাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে 'পরিবহন ও যোগাযোগ' ক্ষেত্রে। এর প্রধান কারণ হলো বড় আকারের আন্তঃসংযোগ প্রভাব।

শস্য খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকরা (দক্ষ ও অদক্ষ) কৃষি খাত ছেড়ে যাবে এবং শিল্প ও সেবা খাতে যোগদান (reallocated) করবে। অর্থাৎ কৃষি খাত থেকে শিল্প ও সেবা খাতে শ্রমের স্থানান্তর ঘটবে। দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের শ্রমিকের কর্মসংস্থান যথাক্রমে ১ দশমিক ৭৫ ও ০ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বিধায় সামষ্টিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের ওপর ধনাত্মক প্রভাব পড়বে।

দৃশ্যকল্প-২

শ্রম নিবিড় রফতানি চাহিদার ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি :এই দৃশ্যকল্পে শ্রম নিবিড় রফতানি চাহিদার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি বিবেচনা করা হয়েছে। এই পটভূমিতে সিজিই মডেলে এক গুচ্ছ পর্যবসিত অনুমিতি আরোপ করা হয়েছে, যেখানে মোট ভূমি স্টক, কর হার, মোট ইনভেনটরি, সরকারি সঞ্চয় ও চলতি হিসাব ভারসাম্য হলো বাহ্যিক আর সাকল্য বিনিয়োগ ব্যয় ও সাকল্য প্রকৃত সরকারি ব্যয়লোহ অভ্যন্তরীণ। মূলধন খাতভিত্তিক বিস্তৃতি। শ্রমের জোগান স্থির মজুরি হারে নমনীয়। নূ্যনতম বিনিময় হার হলো মডেলের অভিহিত মূল্য।

এ ধরনের ইতিবাচক রফতানি চাহিদা অভিঘাতের ফলে প্রকৃত জিডিপি ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। পক্ষান্তরে সামগ্রিক উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ বিক্রয় যথাক্রমে ৮ দশমিক ৩ ও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া সামগ্রিক রফতানি বৃদ্ধি পাবে ১৩ শতাংশ। প্রকৃত বিনিময় হারের উপচয় ঘটবে এবং জিডিপি অবসারক, মধ্যবর্তী উপকরণ পরিব্যয় ও প্রাথমিক ফ্যাক্টর পরিব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

দেখা যাচ্ছে যে, উৎপাদন ও রফতানি পরিমাণের ওপর সর্বোচ্চ ধনাত্মক প্রভাব পড়বে শিল্প খাতে। তার পর পড়বে সেবা খাতে। বস্ত্র ও পোশাক খাত দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমঘন রফতানি খাত হওয়ায় এ খাতে এ ধরনের প্রভাব যুক্তিসঙ্গত।

সর্বোচ্চ ধনাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রভাব পরিলক্ষিত হবে হাল্ক্কা উৎপাদন খাতে। কৃষির অন্তর্ভুক্ত উপখাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ধনাত্মক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে পশুসম্পদ ও মাংসজাত পণ্য খাতে। রফতানি খাতের সঙ্গে বৃহৎ আন্তঃসংযোগ প্রভাবের কারণে সেবা খাতের আওতাভুক্ত উপখাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধনাত্মক প্রভাব পড়বে অন্যান্য সেবা এবং পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে।

দৃশ্যকল্প-৩

পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে সামাজিক সুরক্ষার বরাদ্দ দ্বিগুণ করা :এই দৃশ্যকল্পে পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক সুরক্ষায় বিদ্যমান বরাদ্দ দ্বিগুণ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সিজিই মডেলে এক গুচ্ছ পর্যবসিত অনুমিতি আরোপ করা হয়েছে, যেখানে মোট ভূমি স্টক, কর হার, মোট ইনভেনটরি, সরকারি সঞ্চয় ও চলতি হিসাব ভারসাম্য হলো বাহ্যিক আর সাকল্য বিনিয়োগ ব্যয় ও সাকল্য প্রকৃত সরকারি ব্যয়লোহ অভ্যন্তরীণ। মূলধন খাতভিত্তিক বিস্তৃত। শ্রমের জোগান স্থির মজুরি হারে নমনীয়। নূ্যনতম বিনিময় হার হলো মডেলের অভিহিত মূল্য।

সামাজিক সুরক্ষার অভিঘাতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব দেখানো হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষায় এরূপ বরাদ্দ বৃদ্ধিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্র্রভাবক ব্যাপক হবে না। কেননা, প্রকৃত জিডিপি, সামগ্রিক উৎপাদন, রফতানি ও অভ্যন্তরীণ বিক্রয় সামান্য বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু জিডিপি অবসারক (GDP deflator), প্রকৃত বিনিময় হার, মধ্যবর্তী উপকরণ পরিব্যয় ও প্রাথমিক ফ্যাক্টর পরিব্যয়ের ওপর কিঞ্চিৎ হতাশাব্যঞ্জক প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোর ক্ষেত্রে উৎপাদন ও রফতানির ওপর প্রভাব ইতিবাচক হলেও তা হবে সামান্য। শিল্প খাতে উৎপাদন ও রফতানির পরিমাণের ওপর সর্বোচ্চ ধনাত্মক প্রভাব পড়বে। যেহেতু সামাজিক সুরক্ষা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সেহেতু কৃষিজাত দ্রব্যের আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।

সামাজিক সুরক্ষা অভিঘাতের ফলে কিছু ইতিবাচক স্বল্পমাত্রার কর্মসংস্থানজনিত প্রভাব সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির তিনটি প্রধান খাতেই দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। দক্ষ শ্রমিকের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাবে সেবা খাতে এবং অদক্ষ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পাবে কৃষি খাতে। সব প্রতিনিধিত্বশীল পরিবারের প্রকৃত আয় বাড়বে। তবে গ্রাম ও শহরাঞ্চলের ধনী পরিবারের চেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বেশি বৃদ্ধি পাবে। এর মূল কারণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি মূলত দরিদ্র পরিবারগুলোকে উদ্দেশ করেই প্রণয়ন করা হয়েছে। গ্রাম ও শহরাঞ্চলে যথাক্রমে গ্রামীণ ভূমিহীন পরিবার ও স্বল্পশিক্ষিত পরিবারপ্রধান বিশিষ্ট পরিবারগুলোই বেশি লাভবান হবে।

দৃশ্যকল্প-৪

প্রাকৃতিক দুর্যোগ অভিঘাতের দরুন অর্থনীতির মূলধন স্টকে ৫ শতাংশ হ্রাস :প্রাকৃতিক দুর্যোগ অভিঘাতের (ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগঘটিত) কারণে অর্থনীতির মূলধন স্টক ৫ শতাংশ হ্রাস পায়। এই দৃশ্যকল্পের আওতায় সিজিই মডেলে এক গুচ্ছ পর্যবসিত অনুমিতি আরোপ করা হয়েছে, যেখানে সাকল্য ভূমি স্টক, কর হার, কারিগরি পরিবর্তন, সাকল্য প্রকৃত সংরক্ষণ তালিকা, সরকারি সঞ্চয় এবং চলতি হিসাব ভারসাম্য বাহ্যিক, আর সাকল্য বিনিয়োগ ব্যয় ও সাকল্য প্রকৃত সরকারি ব্যয় অভ্যন্তরীণ বলে গণ্য করা হয়। মূলধন খাতভিত্তিক বিস্তৃত। শ্রমের জোগান স্থির মজুরি হারে নমনীয়। নূ্যনতম বিনিময় হার মডেলের অভিহিত মূল্য।

দুর্যোগ অভিঘাতজনিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব দেখানো হয়েছে। এ ধরনের প্রভাবের ফলে প্রকৃত জিডিপি ২ দশমিক ২৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। সামগ্রিক উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। প্রকৃত বিনিময় হারের ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থা বিরাজ করবে এবং জিডিপি অবসারক, মধ্যবর্তী উপকরণ পরিব্যয় ও প্রাথমিক ফ্যাক্টর পরিব্যয় বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে রফতানি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ হ্রাস পাবে।

অর্থনীতির প্রধান খাতভেদে উৎপাদন, রফতানি ও আমদানির পরিমাণের ওপর প্রভাব দেখানো হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষি খাতে, যেখানে উৎপাদন ২ দশমিক ৭ শতাংশ ও রফতানি ৫ দশমিক ২ শতাংশ হ্রাস পাবে। এর ফলে কৃষি খাতে আমদানি বৃদ্ধি পাবে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। শিল্প ও সেবা উভয় খাতের উৎপাদন ও রফতানির ওপর ঋণাত্মক প্রভাব পড়লেও সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে শিল্প খাতে।

উপসংহার :এ প্রবন্ধে চারটি দৃশ্যকল্পের আওতায় বিভিন্ন নীতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভিঘাতের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানগত প্রভাব বিশ্নেষণে গণনাযোগ্য সামগ্রিক ভারসাম্য মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। দৃশ্যকল্পগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো শস্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শ্রম নিবিড় রফতানি চাহিদা বৃদ্ধি, পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অভিঘাত। সিমুলেশন থেকে দেখা গেছে, শস্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও শ্রম নিবিড় খাতগুলোর রফতানি চাহিদা বৃদ্ধির ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো ধনী পরিবারগুলোর তুলনায় বেশি লাভবান হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও পরিবারগুলোর প্রকৃত আয় বৃদ্ধি অর্থে অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

লেখক



অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...

'প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নেবে না দুদক'

'প্রমাণ ছাড়া ব্যবস্থা নেবে না দুদক'

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া আইনী ...

'বার্সার প্রস্তাব ঘুম হারাম করে দিয়েছিল'

'বার্সার প্রস্তাব ঘুম হারাম করে দিয়েছিল'

ফ্রান্স তারকা অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান বার্সেলোনায় আসছেন বলে জোর গুঞ্জন ছিল। ...

দুর্নীতিমুক্ত সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন: রাষ্ট্রপতি

দুর্নীতিমুক্ত সৎ প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন: রাষ্ট্রপতি

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ জনবান্ধব প্রার্থীকে ভোট ...

দক্ষিণ এশিয়া থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে শুধু বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়া থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে শুধু বাংলাদেশ

আগামী বছরের ফ্রেবুয়ারিতে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ...

ইলিশ উৎপাদন এ বছর ৫ লাখ টন ছাড়াবে

ইলিশ উৎপাদন এ বছর ৫ লাখ টন ছাড়াবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেছেন, চলতি বছর ইলিশের ...

সরকারি হলো আরও ৪৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

সরকারি হলো আরও ৪৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়

দেশের বিভিন্ন উপজেলার আরও ৪৩টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারি করা ...