১৯৭১ ময়মনসিংহ :যুদ্ধময় দিনগুলো

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

১০ ডিসেম্বর, ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস। জেলার বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ১৯৭১ সালে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট ও ফুলপুরে খণ্ড খণ্ড যুদ্ধ হয়। মুক্তি সেনারা 'জয় বাংলা' ধ্বনি উচ্চারণ করে আক্রমণ শুরু করতেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী অগ্রসর হয় এবং পাকিস্তানি বাহিনী পিছু হটতে শুরু করে। এ আক্রমণের ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানি বাহিনী হালুয়াঘাট সদর, ধারা, নাগলা, সরচাপুর, ফুলপুর, তারাকান্দা, শম্ভুগঞ্জ হয়ে পিছু হটে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থান নেয়। এর মধ্যে হালুয়াঘাট ও সরচাপুরের যুদ্ধ ছিল রক্তক্ষয়ী। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর আক্রমণে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটে।

৯ ডিসেম্বর রাতে ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে মুক্তিযুদ্ধের যৌথ বাহিনী অবস্থান নিলে পাকিস্তানি বাহিনী টাঙ্গাইল ও ঢাকার দিকে পালিয়ে যায়। একাত্তরের ১০ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিত্রবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশ করে। তারা বিজয় র‌্যালি করে ময়মনসিংহ শহরে অবস্থান নেয়।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ৯ ডিসেম্বর গভীর রাতে ময়মনসিংহ শহর থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ব্র?হ্মপুত্র নদের ওপর রেলওয়ে সেতুটি ধ্বংস করে। সেতুটি ধ্বংসের সময় প্রচণ্ড শব্দে আশপাশ প্রকম্পিত হয়। এতে যৌথ বাহিনীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে যৌথ বাহিনী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পলায়নের খবর নিশ্চিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর সকালে ময়মনসিংহ শহরে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয়।

ওই দিন ময়মনসিংহ শহরের আশপাশ এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা সতর্ক অবস্থায় ছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ময়মনসিংহ শহর ত্যাগের খবর নিশ্চিত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা ১০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় ব্র?হ্মপুত্র নদের কাচারিঘাট দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন।

ময়মনসিংহে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী কয়েকটি আলোচিত যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রব। ময়মনসিংহকে হানাদার মুক্ত করার এসব যুদ্ধ নিয়ে তিনি জানান বিস্তারিত। '১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ঢালু মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে ৪টি এলএমজিসহ প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ, ডিনামাইট, পর্যাপ্ত হ্যান্ড গ্রেনেড ও ফায়ার গ্রেনেড নিয়ে আমরা মেঘালয় সীমান্তের রাস্তা দিয়ে বাসে চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করি এবং সন্ধ্যায় শিববাড়ী ইয়ুথ ক্যাম্পে পৌঁছি। শিববাড়ী ইয়ুথক্যাম্প ইনচার্জ হাতেম আলী এমপি আমাদের স্বাগত জানান এবং সেখানে আমরা রাতযাপন করি। ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে আমরা মার্চ করে নেওলাগিরি পৌঁছাই। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তফাজ্জল হোসেন চুন্নু এবং হাফেজ হাবিবুর রহমানের গেরিলা ক্যাম্প ছিল। এ ক্যাম্পে দুপুরে খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে আবার সন্ধ্যায় যাত্রা শুরু করি। সারা রাত অবিরাম হেঁটে ও নদী-নালা নৌকায় পাড়ি দিয়ে কলসিন্ধুর বাজারের পাশ দিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর সকালে মুক্তাঞ্চল গোয়াতলা বাজারে উপস্থিত হই। সেখানকার কমান্ডার এখলাছ উদ্দিন আমাদের শেল্টার দেন এবং আপ্যায়ন করান। গোয়াতলা বাজারে সারাদিন বিশ্রাম নিয়ে বিকেলে কংস নদীর পাড় দিয়ে সামনের দিকে মার্চ করি। সারারাত হেঁটে ভোর বেলায় ফুলপুরের কালিখা গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে আমরা অবস্থান নিই। ২১ সেপ্টেম্বর দিনের বেলায় সেখানে অবস্থান করে আবার সন্ধ্যার পরে পথচলা শুরু করি। সে সময় আমরা দিনের বেলায় মার্চ না করে রাতে করতাম। যাতে শত্রুপক্ষ আমাদের গতিবিধি টের না পায়। এমনিভাবে সারারাত হেঁটে সকালে সূর্য ওঠার আগেই বিসকা ইউনিয়নের নগোয়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদের বাড়ি অবস্থান নিই। আবার সন্ধ্যার পরে সেখান থেকে রওনা দিয়ে কলতাপাড়া বাজারের কাছাকাছি এসে জানতে পারি যে, কলতাপাড়া বাজারে কয়েক রাজাকার তাস খেলছে। ওই রাজাকাররা সাধারণ মানুষের গরু-ছাগল ও ধনসম্পদ লুট করে, জনগণের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালায় এবং পাকবাহিনীর কাছে মুক্তিবাহিনীর খবরাখবর আদান-প্রদান করে। তাই কলতাপাড়া বাজার ঘেরাও করে দুই রাজাকারকে ধরে ফেলি এবং কমান্ডার আবুল হাসেম ও টুআইসি আতাউদ্দিন শাহ এদের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। মুক্তিযোদ্ধা রবার্ট সরকার ও আকবর আলী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। সেখান থেকে আবার মার্চ করে ভোর বেলায় ঈশ্বরগঞ্জের নাওভাঙ্গা বাজারের পূর্ব দিকে একটি গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে শেল্টার নিই। কিন্তু সেখানে অসতর্কতাবশত আমাদের সহযোদ্ধা মুসলিম উদ্দিনের রাইফেল থেকে একটি মিস ফায়ার হয়। তাই ওই শেল্টারে অবস্থান করা নিরাপদ নয় ভেবে আরেক শেল্টারের উদ্দেশে মার্চ করি। পরবর্তী শেল্টারে পৌঁছার আগেই সূর্য উঠে যায়। তাই ২৩ সেপ্টেম্বর দিনের বেলায় নাওভাঙ্গা বাজারে আমরা অবস্থান নিই। আমাদের অবস্থান টের পেয়ে ওই এলাকার দুই কুখ্যাত দালাল শম্ভুগঞ্জ ও উচাখিলা রাজাকার ক্যাম্পে খবর দেয়- নাওভাঙ্গা বাজারে ৫-৬শ' মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প করেছে। বেলা আনুমানিক ১টার সময় শম্ভুগঞ্জ ও উচাখিলা থেকে পাকবাহিনী ও রাজাকাররা অগ্রসর হয়ে আমাদের ওপর দু'দিক থেকে আক্রমণ করে। তখন আমরা নাওভাঙ্গা গ্রামের ছেলে প্লাটুন কমান্ডার হাফিজ উদ্দিন কর্তৃক গ্রামের বিভিন্ন বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা খাবার খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। খাবার ফেলে রেখেই আমরা পাল্টা গুলিবর্ষণ করি। া
সন্তানদের জন্য দুধ কিনতে গিয়ে লাশ হলেন বাবা

সন্তানদের জন্য দুধ কিনতে গিয়ে লাশ হলেন বাবা

মাগুরায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। সোমবার ...

জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ কী

জাতীয় ঐক্যের ভবিষ্যৎ কী

বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক জোট-মহাজোট থাকার পর আবারও নতুন করে 'জাতীয় ...

তবুও জামায়াত ছাড়বে না বিএনপি

তবুও জামায়াত ছাড়বে না বিএনপি

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের দাবিতে জামায়াতকে ত্যাগ করবে না বিএনপি। ...

সাত বিভাগীয় শহরে হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল

সাত বিভাগীয় শহরে হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত ...

১৯৩ দেশই ভ্রমণ করবেন নাজমুন

১৯৩ দেশই ভ্রমণ করবেন নাজমুন

লাল-সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর পথে এখনও হেঁটে চলেছেন নারী পরিব্রাজক ...

বঞ্চনার শেষ নেই শিক্ষা ক্যাডারে

বঞ্চনার শেষ নেই শিক্ষা ক্যাডারে

মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান ১৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। ...

বেদেপল্লীর বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ

বেদেপল্লীর বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ

পিচঢালা পথের যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু বেদেপল্লীতে প্রবেশের রাস্তা। ...

শেষবেলায় আ'লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন?

শেষবেলায় আ'লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন?

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আর মাত্র তিন মাস পর একাদশ ...