আহমদ রফিক

প্রভাবিত সমাজ ও রাজনীতি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সংস্কৃতি শব্দটি তাৎপর্যে বহুমাত্রিক। সাধারণ ভাষ্যে জীবনাচরণের বহুভঙ্গিম রূপে সংস্কৃতির প্রকাশ। সেখানে শিক্ষা, সাহিত্যচর্চার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতি যেখানে জাতি ও জাতীয়তাভিত্তিক, সেখানে ভাষা তথা মাতৃভাষার একটি মৌলিক ভূমিকা থাকে, যেখান থেকে ভাষিক সংস্কৃতি বা ভাষিক জাতীয়তা কথাগুলোর সঙ্গে জাতিরাষ্ট্রের সংজ্ঞাটি যেমন অন্তর্ভুক্ত, তেমনি বিপরীত মাত্রায় জাতীয় সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলোও প্রকাশ পায়। আমরা যখন কথায় কথায় 'বাঙালি সংস্কৃতি'র উল্লেখ করি, তখন সে ক্ষেত্রে বৃহৎ বিচারে জাতিগত সংস্কৃতির কথাই প্রকাশ পায়। তাতে যুক্ত হয়ে থাকে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ভিত্তি তথা মাতৃভূমি, যে ভূমি তথা ভূপ্রকৃতিরও একটি সাংস্কৃতিক রূপ বা অস্তিত্ব থাকে। রাজনৈতিক কারণে ভূখণ্ড ও জাতি বিভাজিত হলেও সংস্কৃতির মৌল চরিত্রটির পরিচিতি বদলায় না; বহিরঙ্গে হয়তো পরিবর্তন ঘটে।জাতীয় সংস্কৃতিরই বৃহত্তর, বৃহদায়তনিক রূপ বিশ্বসংস্কৃতি, যা মানব সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতিগত ও ভাষাগত এবং সেই ধারায় সংস্কৃতিগত ভিন্নতার মধ্যেই আপন মৌলিকত্বে বিশ্বসংস্কৃতির প্রকাশ, যা মূল আদি সংস্কৃতির দান। সেখানে মানুষ, মানবিকতা বা মানবিক চেতনা নামীয় শব্দগুলোর রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা। সেখানে রয়েছে ধর্মীয় সংস্কৃতিরও প্রতিফলন। সংস্কৃতির চরিত্রগত ব্যাপকতা বোঝাতে আমরা উল্লেখ করতে পারি কৃষি সংস্কৃতি, শ্রমিক সংস্কৃতি, বিজ্ঞান সংস্কৃতি, গ্রামীণ সংস্কৃতি, নাগরিক সংস্কৃতি প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ সংস্কৃতির কথা। শ্রেণিগত সংস্কৃতি এসব হিসাব-নিকাশের বাইরে নয়।

দুই.

সংস্কৃতির বৈশ্বিক অঙ্গন থেকে জাতিগত বা জাতিরাষ্ট্রগত পর্যায়ে ক্ষুদ্র পরিসরে এসে সংস্কৃতির বিচার ব্যাখ্যা করতে চাইলে সংস্কৃতির আরেকটি বিভাজিত রূপ লক্ষ্য করা যায়। আর তা হলো মোটা দাগে, নাগরিক বা শিক্ষিত ভদ্রশ্রেণির সংস্কৃতি এবং লোকায়তিক সংস্কৃতি। দ্বিতীয়টি সময় বিচারে দীর্ঘতর এবং কিছুটা বৈশ্বিক বিচারে এর শিকড়-বাকড় ছড়িয়ে আছে দূর-অতীতে। ঐতিহাসিক ও অনৈতিহাসিক সময় স্তরে। আদিম মানবগোষ্ঠীর নৃত্যগীতবাদ্যে এই সংস্কৃতির সূচনা। কালস্রোতে প্রবহমান সংস্কৃতি তার দেশকাল জাতিভেদে ভিন্ন। যেমন বহমান জলস্রোত তার চলার পথে পথে উর্বর পলিভূমির জন্ম দিতে দিতে মহাসাগরে বিলীন হয়ে যায়। সবদিক বিচারে সংস্কৃতি সন্দেহাতীতভাবে ঐতিহ্যনির্ভর। বাংলাদেশের সংস্টৃ্কতির বিচার ব্যবস্থায় তাই অবিভাজিত বঙ্গীয় সংস্কৃতির ঐতিহাসিক চরিত্রের প্রসঙ্গ এসে পড়ে; আসে ঐতিহ্যের কথা। অগ্রজ বহু মনীষীর দানে সমৃদ্ধির কথা। যদিও তা এই ভূখণ্ডে সেই সঙ্গে কালপরিসরে আপন স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে গড়ে উঠেছে। অগ্রজ বহু মনীষীর মধ্যে আধুনিককালের অন্তত দুইজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল। বাঙালি সংস্কৃতি বিশেষভাবে তাদের দানে সমৃদ্ধ।

অনৈতিহাসিককালের গ্রামবাংলার কৃষি সংস্কৃতির যে অনুমাননির্ভর রূপরেখা, তার মধ্যেই রয়েছে বহুতর ভিন্নতর সংস্কৃতির একের পর এক প্রলেপ- ক্রমে তার রূপান্তর ধর্মীয় সংস্কৃতির অভিনবত্বে। পাল আমলের চর্যাপদের সমাজবাস্তবতা পার হয়ে সুলতানি আমলের বৃহদ্বঙ্গের মিশ্র সংস্কৃতি, ভিন্নতার মধ্যে ঐক্যের সহাবস্থান। এসবই সাংস্কৃতিক সত্য, সাংস্কৃতিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশের মাটিতে এমন উর্বর পলির নরম প্রলেপে গড়া লোকায়তিক সংস্কৃতিই ধীরে-সুস্থে সময়ের আবর্তনে নতুন চরিত্র অর্জন করেছে। সে নতুনত্ব ভিন্ন চরিত্রের ভিন্ন সংস্কৃতির সংযোজনে, কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত আধুনিকতায় শেষ পর্বের সূর্যাস্ত আলোর রঙে মেশা। বিদেশি শিক্ষা সংস্কৃতির সাংকর্যে মেশা সংস্কৃতির চরিত্র একাধিক ভাঁজে নতুনত্ব অর্জন করেছে।

প্রান্তিক সংস্কৃতি থেকে, গ্রামীণ পলিমাটির ভাবুক সংস্কৃতি থেকে আধুনিকতার অতি হিসেবি সংস্কৃতির বিভাজন সত্ত্বেও অগ্রজ সংস্কৃতির পূর্বসূরির তৈরি চরিত্র ও মূল্যবোধ বর্জন করা যায়নি। নৃতাত্ত্বিক সংস্টৃ্কতির বিচারে তা যায় না বলেই সংকর সংস্কৃতি শব্দটির উৎপত্তি। তাই পাকিস্তানি আমলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্যের সংস্কৃতি কি একাত্তর-উত্তর পর্বে বিলুপ্ত হয়ে গেছে? এমন প্রশ্ন অবান্তর। বরং তা সামাজিক-রাজনৈতিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়ায় কখনও দুর্বল, কখনও সবল হয়, এই যা। সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্ব (কালচারাল অ্যানথ্রোপলজি) এমন বাস্তবতাই তুলে ধরে। জ্ঞানে-অজ্ঞানে, সচেতনতায়-অসচেতনতায় সে ফল্কগ্দুধারা সমাজের অভ্যন্তরে বইতে থাকে। কখনও তার রূপান্তর ঘটে। এভাবেই আধুনিককালে জাতীয় সংস্কৃতির রূপায়ণ- মূলত শিক্ষা ও রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে।

তিন.

বর্তমান বাংলাদেশের সংস্কৃতি এভাবে বহুস্তরীয় পলিতে-বালিতে ও কাদামাটির সংযোজনে এবং আধুনিক ইটকাঠ, পাথর ও ধাতব সাংকর্যে গড়া। সামাজিক মূল্যবোধগুলোও এভাবেই বৈচিত্র্য অর্জন করে আধুনিককালে এসে পৌঁছেছে, যেখানে সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনীতির পারস্পরিকতা ইতি ও নেতির প্রভাবযুক্ত হয়ে। বাংলাদেশি সংস্কৃতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য এর ওপর প্রাকৃতিক প্রভাব, যা দীর্ঘকাল ধরে নানাভাবে মিশে আছে। মাঝেমধ্যে এর ঋতু বদল ও চরিত্র বদল ঘটেছে সেই ধারায়, এই যা।

রবীন্দ্রসংস্কৃতির যে বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের বর্তমান সংস্কৃতির অন্তরাত্মায় মেশা, তার অন্যতম দিক স্থানীয় প্রাকৃত সৌন্দর্যে রূপরস গন্ধ, লোকসংস্কৃতির গীতবাদ্য ও উদাসীন বাউল প্রকৃতি, সেই সঙ্গে বিশ্বযোগে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মননশীলতাও বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাংস্কৃর্য। ভাববাদ ও বস্তুবাদ তথা জীবনধর্মের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এই সংস্কৃতি। সেখানে জাতীয়তা থেকে আন্তর্জাতিকতার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। তাই যেখানে ধর্মীয় সংস্কৃতির তুলনায় মানব প্রকৃতি, মানবধর্ম ও মানব সম্বন্ধের প্রাধান্য; প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের নয়। এক কথায় তা রাবীন্দ্রিক ভাষ্যে মানবধর্ম, আধুনিক সংজ্ঞায় যা মানবতাবাদ নামে পরিচিত। সমাজ-সংস্কৃতির মূল্যবোধের ক্ষেত্রে প্রাচীন ভারতীয় ও আদি বঙ্গীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশ্রণ ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব-ইরানি ও রেনেসাঁসদীপ্ত পাশ্চাত্য সংস্কৃতি মূলত ইংরেজ শাসন শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে। এতেও রয়েছে রবীন্দ্রসংস্কৃতির প্রতিফলন। রয়েছে আউলবাউল, ঔপনিষদিক ও সুফি সংস্কৃতির প্রভাব। পারসিক সুফিবাদ ও স্থানীয় বৈষ্ণব ভক্তিবাদ বাউল চেতনার সঙ্গে মিশে রাবীন্দ্রিক সংস্কৃতির ভিত তৈরি করেছে।

রবীন্দ্রনাথ একদিকে মাতৃভাষা বাংলা ও বঙ্গীয় সংস্কৃতির প্রবক্তা, এর লোকায়ত চরিত্রসহ; অন্যদিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিসহ রেনেসাঁসীয় পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রবক্তা। এ দুই ধারার মিশ্রণে রবীন্দ্রসংস্কৃতি বঙ্গীয় সংস্কৃতির ভিত তৈরি করেছে। পূর্ববঙ্গীয় শ্রাবণধারাসহ বাসন্তী ঋতুবৈচিত্র্য তার অনুভব-উপলব্ধিজাত সৃষ্টিকর্মের প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রধানত গানে, অংশত কবিতায় ও ছোটগল্পের গীতিমাধুর্যে।

এর সঙ্গে মিশেছে নজরুলের শ্যামল-শোভন স্থানীয় সংস্কৃতির সেক্যুলার মাটির গন্ধে ভরা চরিত্র, সেই সঙ্গে সুফি ঘরানার ইরানি গজলের অধ্যাত্মবাদ ও সৌন্দর্য মহিমা, যা বাংলার মাটিতে নররূপের উর্বরতায় বাঙালি গোলাপের রূপলাবণ্য পরিস্ম্ফুট করে তুলেছে। জবা ও গোলাপ পাশাপাশি তাদের রঙের বাহার ও ইন্দ্রিয় আচ্ছন্ন করা সৌগন্ধের প্রকাশ ঘটিয়েছে।

রবীন্দ্র সংস্কৃতিতে যেমন স্থানিক জাতীয় চেতনায় গভীর প্রগতি চেতনার পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মিশ্রণ, তেমনি নজরুলের জাতীয়তার সংস্কৃতি গভীরভাবে স্থানিক মাটির সজল শ্যামল চরিত্রের, সেই সঙ্গে আরবি-ইরানি সংস্কৃতির মিশেল- এ দুইয়ের মিশ্রণে মূল বঙ্গীয় সংস্কৃতির ভিত, যা পাকিস্তানি আমলে ভাষা আন্দোলন এবং সেই ধারাবাহিকতায় ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতির মূলধারা গড়ে তোলে রাজনীতিকদের ৬ দফায়, ছাত্রদের ১১ দফায়; তার আগে পঞ্চাশের দশকে বহু কথিত ২১ দফায়।

এই তিন বিশেষ দফাভিত্তিক ধারার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি স্থানিক সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে গড়ে উঠেছে। এই ভাষিক জাতীয়তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে জনসাধারণের সংশ্নিষ্টতা নিশ্চিত করেছে সভা-সমিতি, মিছিল-স্লোগান, রাজপথ ও মাঠে-ময়দানে। এ রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট, উল্লিখিত ভাষিক জাতীয় সংস্কৃতি পাকিস্তানি শাসনামলে গভীর প্রতিবাদী প্রভাব রেখেছে স্থানিক রাজনীতির চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্যের ওপর।

এমন কথাও তথ্যসম্মত যে, এদেশে রাজনীতির সূচনালগ্ন, বিশেষ করে পঞ্চাশের দশক থেকে দমননীতির মুখে গণতন্ত্রী প্রতিবাদী রাজনীতির উত্থান ভাষিক সংস্কৃতির সমর্থনে, ১৯৫২'র একুশে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ভাষিক চেতনার প্রভাবে দুর্বৃত্ত মুসলিম লীগ রাজনীতির পরাজয় (১৯৫৪) একুশ দফার যুক্তফ্রন্টের অভাবিত বিজয়ের চাপে।

একে অন্যায়ভাবে বাতিল করে সামরিক রাজনীতি প্রভাবিত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসন। কিন্তু ভাষিক জাতীয়তার ধারাবাহিকতায় অনুরূপ রাজনীতির প্রকাশ ষাটের দশকে, যে কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যায় চাপের মুখে এর দুর্দমনীয় প্রকাশ ১৯৬৯-এর গণজাগরণে এবং চাপিয়ে দেওয়া একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে। ৬ দফা পরিণত হয় এক দফায় অর্থাৎ স্বাধীনতার দাবিতে।

আর সে লড়াকু মানসিকতাকে উদ্দীপ্ত করেছে সাংস্কৃতিক শক্তি- কবিতা, গান আর স্লোগান। বিশেষ করে এ পর্বে ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে লিখিত কাব্যপঙ্‌ক্তি ও স্লোগান- রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও জীবনানন্দ দাশের- যার মূলকথা ভাষিক বাংলা, জননী জন্মভূমি। নেপথ্যে ঐতিহাসিক সমর্থনে ১৭ শতকের চট্টগ্রামবাসী কবি আবদুল হাকিমের 'যে সবে বঙ্গেত জন্মি'... ইত্যাদি পঙ্‌ক্তি।

উদ্দীপ্ত তরুণ সমাজ, শিক্ষিত পেশাজীবী শ্রেণি আর সেইসব কবিতা-গান-স্লোগানের পাশাপাশি নবরচিত দেশাত্মবোধক গান আত্মদানের প্রেরণা জোগায় তরুণ গেরিলা যোদ্ধার মনে। ছুটে যেতে হয় প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পার হয়ে। শেষ লক্ষ্য রণাঙ্গন, যেখানে অপেক্ষা করে আছে মৃত্যুর বিনিময়ে বিজয়। অর্জিত হয় বিজয় লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে। অভ্যুদয় স্বাধীন বাংলাদেশের- সংস্কৃতি প্রভাবিত স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে।

চার.

কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশি সমাজের, এই সাংস্কৃতিক প্রভাব সত্ত্বেও রাজনীতির শাসনে সমাজবদল যেমন ঘটেনি, তেমনি সমাজে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থ মূল্যবোধ আকাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অনেক ফারাক থেকে গেল রাজনীতির আচরণে, শাসনকার্যের বৈশিষ্ট্যে ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুস্থ মূল্যবোধের প্রকাশে।

অতি সংক্ষিপ্ত বয়ানে বর্তমান সমাজ ও রাজনীতির চরিত্র চিত্রণে, যা প্রধানত পরিস্ম্ফুট তা হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধবিরোধী অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, হিংসা-প্রতিহিংসার প্রকাশ, সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক দুর্নীতি আর দূষণ, শ্রেণিগত বিচারে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য, অতিদ্রুত ন্যায়-অন্যায় পথে বিশাল মাত্রায় নব্য ধনিক শ্রেণির আবির্ভাব, তাদের অপরিমিত বিত্তবৈভব ও অনুরূপ মাত্রায় অপচয়ের জীবনযাপন এবং সেখানে অপসংস্কৃতির গভীর প্রভাব।

রাজনৈতিক শাসন দল নির্বিশেষে শুধু এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তাই নয়; তাতে অন্যায্য সমর্থন জুগিয়ে চলেছে। পরিণামে সমাজে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের নির্মম নিষ্ঠুরতা, বিরামহীন রক্তপাত, সমাজে সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব, দূষিত ও বিনষ্ট- পূর্বে উল্লিখিত ঐতিহ্য ধারার ঐতিহাসিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ।

যে পশ্চিমা মননশীলতার অনুসরণে পূর্বোক্ত শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ, তার প্রায় অপমৃত্যু ঘটতে চলেছে সমাজে ও রাজনীতিতে। সমাজে নারী নির্যাতন, গুম, খুন ও চরম স্বার্থপরতার প্রকাশ প্রধান হয়ে উঠেছে। পূর্বোক্ত সুস্থ সাংস্কৃতিক প্রভাব এ অশুভ শক্তিকে সামলে উঠতে পারছে না। সমাজের সর্বস্তরে কমবেশি এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতিতে তাদের ঘরোয়া স্তরে যে সহিষুষ্ণতা (যেমন নির্বাচন) ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রকাশ, তা আর অনুসরণযোগ্য হয়ে উঠছে না বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতিতে। বহু কথিত চতুর্থ স্টেট গণমাধ্যমে সত্যপ্রকাশের সংস্কৃতি সমাজে কোনো কার্যকর সুপ্রভাব রাখতে পারছে না।

সামাজিক নৈরাজ্য ও তারুণ্যের উচ্ছৃঙ্খলতা, বয়সীদের অপরিণামদর্শী আচরণ, পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা এবং সবকিছুর পরিণামে তরুণ সমাজের একাংশে অপসংস্কৃতি ও অপরাজনীতির; এমনকি আরও ক্ষুদ্র অংশে ধর্মীয় মৌলবাদ-প্রভাবিত জঙ্গিবাদের অশুভ প্রভাব হয়ে উঠেছে বাস্তব সত্য। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত-অশিক্ষিতের মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই।

অবস্থাদৃষ্টে, এককথায় সমাজ ও রাজনীতি থেকে এ অশুভ প্রভাব দূর করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সে লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য পূর্বোক্ত সুস্থ সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিষ্ঠা জীবনাচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে, শহরে-গ্রামে, তারুণ্যে ও বয়স্ক মননে। উল্লিখিত মননশীলতার চর্চায় এক মননশীল শক্তির উদ্ভব ঘটানোরও কোনো বিকল্প আছে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশে আজ তাই দরকার সমাজে ও রাজনীতিতে সুস্থ মূল্যবোধসম্পন্ন সাংস্কৃতিক শক্তির ঐতিহ্যবাহী প্রভাব বিস্তার। এর কার্যকর সুপ্রকাশ। সূচনায় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে এবং ব্যক্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে অগ্রচারীর ভূমিকা পালন করতে হবে। না হলে সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে না।

লেখক
ভাষাসৈনিক প্রাবন্ধিক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণে বিমানের ফ্লাইট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সরকারি অর্থে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ব্যবহার ...

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির আহ্বান ...

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না'

'কলকাতা আর ঢাকায় কাজের মধ্যে কোন ফারাক দেখি না'

টালিউড ও বলিউডে সমানতালে কাজ করছেন অভিনেতা ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। বাংলাদেশেও রয়েছে ...

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের জান-মাল ...

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভারত সফর নয়: অলি আহমদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার ...

অক্টোবরের শেষে নির্বাচনকালীন সরকার: ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরের শেষে নির্বাচনকালীন সরকার: ওবায়দুল কাদের

অক্টোবরের শেষ দিকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী ...

সাভারে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার

সাভারে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার

সাভারে পৃথক স্থান থেকে ২ কিশোরী ও ১ গৃহবধূর মৃতদেহ ...

জামিনে মুক্ত নওয়াজ শরিফ

জামিনে মুক্ত নওয়াজ শরিফ

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ জামিনে ...