১৯৭১ কিশোরগঞ্জ :চারদিকে জয় বাংলা ধ্বনি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

যে মুহূর্তে অকুতোভয় বীর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে নতজানু পরাজয়ে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় মেনে নেয়, ঠিক সেই মুহূর্তে কিশোরগঞ্জে বশংবদ রাজাকার আর আলবদর বাহিনী অলীক দম্ভে পুরো জনপদকে অবরুদ্ধ করে রাখে। শুধু অবরুদ্ধই নয়, পা-চাটা বশংবদরা রীতিমতো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তখনও অব্যাহত রেখেছে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। এ যেন দেশের ভেতরে আরেক দেশ। কুলাঙ্গার রাজাকার-আলবদরদের মূল নিয়ামক শক্তি পাকিস্তানি সেনা সদস্যরা আত্মসমর্পণ করলেও কিশোরগঞ্জের রাজাকাররা তথাকথিত পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার হাস্যকর যুদ্ধে এ জেলায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রাখে।

১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে বিজয়ের পতাকা উড়লেও কিশোরগঞ্জের মানুষ বিজয়ের স্বাদ নিতে পারেনি। এই স্বাদ উপভোগের জন্য এ জনপদের মানুষকে তিনদিন অতিরিক্ত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। প্রায় ৩০ ঘণ্টার মরণপণ যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর, স্থানীয় শীর্ষ দালাল মাওলানা আতাহার আলীর নমনীয়তায় অবশেষে রাজাকার-আলবদররা ১৭ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে তাদের দখলদারিত্ব গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। হাজারো জনতার বাঁধভাঙা জোয়ারে মুহুর্মুহু জয়বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে কিশোরগঞ্জের আকাশ-বাতাস। জেলার অন্যতম প্রধান উপজেলা নদীবন্দর হিসেবে খ্যাত ভৈরব হানাদারমুক্ত হয় আরও দু'দিন পর ১৯ ডিসেম্বর।

কিশোরগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর সীমান্তের ওপার থেকে একে একে ফিরতে থাকেন প্রবাসী সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, কিশোরগঞ্জের কীর্তিমান রাজনীতিক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এমএনএ মো. জিল্লুর রহমান (সাবেক রাষ্ট্রপতি), মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এমএনএ মো. আবদুল হামিদ (বর্তমান রাষ্ট্রপতি), মনোরঞ্জন ধর, এমপিএ আবদুস সাত্তার, এমপিএ আবদুল কুদ্দুছ, এমপিএ মোস্তাফিজুর রহমান খান চুন্নু মিয়া, এমপিএ একেএম শামসুল হক গোলাপ মিয়া, এমপিএ আবদুল কাদিরসহ আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সমমনা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। তাদের আগমনে কিশোরগঞ্জের জনমনে নতুন উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা তৈরি হয় এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে এসব নেতার মধ্যস্থতায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের অস্ত্র জমা দিতে শুরু করেন। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কবিরউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে করিমগঞ্জের দিক থেকে সর্বপ্রথম বীর মুক্তিযোদ্ধারা কিশোরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে দোসর বাহিনীর সব অস্ত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পর্যায়ক্রমে নিকলীর দিক থেকে কমান্ডার মতিয়র রহমান বীরবিক্রমের নেতৃত্বে কোবরা কোম্পানির একদল মুক্তিযোদ্ধা, মহিউদ্দিন ও কফিলউদ্দিনের আহমদের নেতৃত্বে আরও দুটি পৃথক গ্রুপ কিশোরগঞ্জে আগমন করে। অন্যদিকে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর চৌকস সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন চৌহান ও কাটাবাড়িয়ার আবদুল বারী খানের নেতৃত্বে এক প্লাটুন ভারতীয় সৈন্য ও শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে শহরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া পাকুন্দিয়ার কালিয়াচাপড়ার দিক থেকে ক্যাপ্টেন হামিদ (শিমুলিয়ার পীর খ্যাত মতিউর রহমান), আবদুল হান্নান মোল্লা, মফিজউদ্দিন মাস্টার, সাইদুর রহমান রতন, হযরত আলী মাস্টার, গচিহাটার ধুলদিয়া এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রহিম (কবি আবিদ আনোয়ার) এবং হোসেনপুরের দিক থেকে শুকুর আলী কমান্ডারের নেতৃত্বে শত শত মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনতা কিশোরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে।

ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কবিরউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে করিমগঞ্জের দিক থেকে সর্বপ্রথম বীর মুক্তিযোদ্ধারা কিশোরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে দোসর বাহিনীর সব অস্ত্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। পর্যায়ক্রমে নিকলীর দিক থেকে কমান্ডার মতিয়র রহমান বীরবিক্রমের নেতৃত্বে কোবরা কোম্পানির একদল মুক্তিযোদ্ধা, মহিউদ্দিন ও কফিলউদ্দিনের আহমদের নেতৃত্বে আরও দুটি পৃথক গ্রুপ কিশোরগঞ্জে আগমন করে। অন্যদিকে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর চৌকস সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন চৌহান ও কাটাবাড়িয়ার আবদুল বারী খানের নেতৃত্বে এক প্লাটুন ভারতীয় সৈন্য ও শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ধরে শহরে প্রবেশ করে।

মহকুমা প্রশাসন বলতে কার্যত তখন কিছুই ছিল না। সমগ্র জনপদে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনে ক্যাপ্টেন হামিদের ওপর অর্পিত হয় প্রশাসনের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব। কিছুদিন দায়িত্ব পালনের পর লেফটেনেন্ট সাদেক নামক আরেক সেনা কর্মকর্তা এ দায়িত্ব লাভ করেন। মাস খানেকের মধ্যে ক্যাপ্টেন হামিদের টু-আই-সি বীর মুক্তিযাদ্ধা আবদুর রহিমের (কবি আবিদ আনোয়ার) ওপর মহকুমা প্রশাসনের তথা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সার্বিক দায়িত্ব অর্পিত হয়। স্বাধীন বাংলার মুক্ত বাতাসে বিজয়ের পতাকা পত পত করে বাঙালির বিজয়ের উল্লাস প্রকাশ করলেও ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের মানুষ সঘন বেদনায় বারবার স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে। তাদের চোখের আয়নায় বারবার ভেসে ওঠে ১৯ এপ্রিলের ভয়াবহ দিনটির কথা। সেদিন পাঞ্জাব রেজিমেন্টের মেজর সারোয়ার খান ও ক্যাপ্টেন বোখারির নেতৃত্বে দেড় শতাধিক পাঞ্জাব মিলিশিয়া ও পাকিস্তানি সৈন্য সর্বপ্রথম কিশোরগঞ্জে প্রবেশ করে। শহরে ঢুকেই নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ আর নৃশংস গণহত্যায় মেতে ওঠে হানাদার বাহিনী। ওইদিন তাদের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত নয়জন নিরীহ নাগরিক। এরপর শহরের কয়েকশ' বাড়িঘর তারা আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। লুণ্ঠন করে বাজারের বড় বড় গদিঘর ও ধনাঢ্য বাড়িতে। আর নয় মাসে তারা কত মানুষকে ধরে এনে যে হত্যা করেছে এর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

এই প্রাণহানির উপযুক্ত বদলা নেওয়ার জন্য নিরীহ বাঙালিরা মুখিয়ে ছিল। ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ মুক্ত হওয়ার দিন বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ শহরের কুখ্যাত কয়েকজন বাঙালি ও অবাঙালি রাজাকার এবং দালালকে ধরে বেদম পিটুনির পর প্রকাশ্যে হত্যা করে তাদের পাপের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছে। া

পরবর্তী খবর পড়ুন : জয়নুল আবেদিন

শ্রীনগরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

শ্রীনগরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. তাজেল (৩৫) নামে এক ...

খাঁটি দুধ চেনার ঘরোয়া উপায়

খাঁটি দুধ চেনার ঘরোয়া উপায়

ভেজাল দুধের ভিড়ে খাঁটি দুধ চেনা যেন দুষ্কর। কোথাও দুধে ...

নেইমারের গোলে উরুগুয়েকে হারাল ব্রাজিল

নেইমারের গোলে উরুগুয়েকে হারাল ব্রাজিল

ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে পেনাল্টি। না হলে আসল ব্যবধান ব্রাজিলের ...

মেক্সিকোর বিপক্ষে সহজ জয় আর্জেন্টিনার

মেক্সিকোর বিপক্ষে সহজ জয় আর্জেন্টিনার

ম্যাচের তখন দুই মিনিট। বার কাঁপানো এক শট নেয় মেক্সিকো। ...

ভরসার প্রতীক সেই নৌকা-ধানের শীষ

ভরসার প্রতীক সেই নৌকা-ধানের শীষ

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নিজের প্রতীক ছেড়ে আওয়ামী লীগের নৌকা ...

রংপুর বিভাগের ১১ আসনে আ'লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

রংপুর বিভাগের ১১ আসনে আ'লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ...

চট্টগ্রামে জাপা শরিকদের স্বপ্নভঙ্গ

চট্টগ্রামে জাপা শরিকদের স্বপ্নভঙ্গ

বিএনপি ভোটে না এলে ১০০ আসন ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ- ...

ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নতুন নয়। বিশেষত উপমহাদেশে এই ...