১৯৭১ কুষ্টিয়া :মুক্তির মিছিল

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একাধিক দল কুষ্টিয়া জিলা স্কুল, পুলিশ লাইন্স ও ওয়্যারলেস অফিসে ঘাঁটি গাড়ে। টহল দিতে থাকে পুরো শহরে। ৩০ ঘণ্টার জন্য সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। কুষ্টিয়াকে হানাদারমুক্ত করতে ইপিআরের [বর্তমানে বিজিবি] সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৩০ মার্চ একযোগে সিপাহি-জনতা পাকিস্তানি আস্তানায় আক্রমণ করে। সারাদিন যুদ্ধ চলার পর রাতে ক্যাম্প গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী। রাতেই কুষ্টিয়া প্রথম দফা হানাদারমুক্ত হয়।

এর মধ্যে রাজশাহী থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি দল পাবনার ঈশ্বরদী দিয়ে ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ হয়ে ফের কুষ্টিয়া প্রবেশ করে। ভেড়ামারায় প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। সে সময় প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র না থাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে পেরে ওঠা অসম্ভব ছিল। শ'খানেক লোক একসঙ্গে বর্ডার পার হয়ে ১৭ এপ্রিল করিমপুরে গিয়ে ওঠে। ৪৫ দিন বিহার প্রদেশের চাকুলিয়ায় অবস্থান করে তারা। ট্রেনিং শেষে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কৃষ্ণনগরে। সবার মধ্য থেকে চৌকস ৩০ জন যুবককে বেছে নেন ব্রিগেডিয়ার আরকি সিং, মেজর বলবি সিং ও মেজর সিদ্ধ। নভেম্বর মাসে আমরা সীমান্ত মহকুমা চুয়াডাঙ্গায় অবস্থান নিয়ে নিয়মিত টহল কাজ চালাতে থাকে দলটি। সে সময় তাদের অবস্থানও দৃঢ় হয়। হাতে মজুদ থাকে অনেক অস্ত্র ও গোলাবারুদ। ৮ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত হয়, দলটি চুয়াডাঙ্গা থেকে কুষ্টিয়া অভিমুখে রওনা হবে। ১০ ডিসেম্বর দলটি কুষ্টিয়া থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে পোড়াদহ এসে পৌঁছে। ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতায় বটতৈল এলাকায় গিয়ে অবস্থান করে। সেখান থেকে শহরের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। রাজাকারদের একটি দল বাংলাদেশের পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে বটতৈল এলাকায় অবস্থানকারী মিত্রবাহিনীকে খবর দেয়, কুষ্টিয়া শহর হানাদারমুক্ত হয়েছে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে মিত্রবাহিনীর একটি দল চৌড়হাস এলাকা দিয়ে শহরের দিকে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। ১০ ডিসেম্বর সকালে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে বিটিসি তামাক ক্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন চৌড়হাসের কাছে ব্রিজের উত্তর পাশে মেইন রাস্তার ওপর পাকিস্তানি সৈন্যের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। এখানে মিত্রবাহিনীর শতাধিক সদস্য শহীদ হন। ৩টি ট্যাঙ্ক ও বিমান বিধ্বস্ত হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা

শক্তি সঞ্চয় করে সমন্বিত আক্রমণ করে পাকিস্তানি অবস্থানে। তুমুল আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য ভেড়ামারার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পাবনার দিকে চলে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের একটি গার্ডার বোমা মেড়ে উড়িয়ে দেয়। ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলার সব এলাকা স্বাধীন ও শত্রুমুক্ত হয়।

আমাদের দলটি রাতেই শহরে অবস্থান গ্রহণ করে। পরদিন সকালে দেখা গেল চারদিক শুধু লাশ আর লাশ। এ এক অন্য শহর। ১১ ডিসেম্বর পুরো জেলাকে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। া

পরবর্তী খবর পড়ুন : জাহানারা ইমাম

নাটোরে নির্মাণাধীন ড্রেনে আবারও মিললো গ্রেনেড

নাটোরে নির্মাণাধীন ড্রেনে আবারও মিললো গ্রেনেড

নাটোর শহরে নির্মাণাধীন ড্রেন থেকে আরও একটি গ্রেনেড উদ্ধার করা ...

ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ঢাকায় সাপের দংশনে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

ঢাকার ধামরাইয়ের রামদাইল গ্রামে বিষাক্ত সাপের দংশনে দেলোয়ার হোসেন সোহাগ ...

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। ...

ভারতের কাছেও বড় হার বাংলাদেশের

ভারতের কাছেও বড় হার বাংলাদেশের

পরপর দুই ম্যাচে বড় হারের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ...

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে ...

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

ড্রেসিংরুম থেকেই জরুরি তলব ঢাকায়-ওপেনিংয়ে কিছুই হচ্ছে না। সৌম্য সরকারকে ...

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ...

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পি ও নবাগতা অধরা খান জুটির ...