১৯৭১ খুলনা 'শিরোমনি ট্যাঙ্কযুদ্ধ'

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি তার সেনাবাহিনী নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করেন এবং ঠিক ওই সময় ব্রিগেডিয়ার হায়াত খানের নেতৃত্বে চার সহস্রাধিক সৈন্যের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনারা 'শিরোমনি ট্যাঙ্কযুদ্ধ' নামে বৃহৎ প্রতিরোধযুদ্ধে মুখোমুখি হয়। এ যুদ্ধের কৌশল ভারত, পোল্যান্ডসহ ৩৫টি দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা কলেজে পড়ানো হয়। বিশ্বের সেরা কিছু ট্যাঙ্কযুদ্ধের মধ্যে শিরোমনি ট্যাঙ্কযুদ্ধ একটি এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ যুদ্ধক্ষেত্র এই শিরোমনি। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর শতাধিক সেনা নিহত ও বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

পাকিস্তানি বাহিনীকে হটাতে শিরোমনিতে মিত্রবাহিনীর পাঁচ দিনব্যাপী ভয়াবহ ট্যাঙ্কযুদ্ধ চলে। যুদ্ধ শুরু হয় ১১ ডিসেম্বর রাতে, শেষ হয় ১৬ ডিসেম্বর রাতে। এই যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারাও অংশ নেন। পাকিস্তানি সেনা ও দোসর রাজাকারদের শেষ ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীকে ভীষণ বেগ পেতে হয়েছিল।

১১ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর একটি দল যশোর-খুলনা সড়ক বরাবর খুলনার দিকে এগোচ্ছিল। ফুলতলার কাছে পিপরাইলে পাকিস্তানি সেনারা তাদের বাধা দেয়। স্থানটি ছিল পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহের উত্তর দিকে অগ্রবর্তী অংশ। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি। মিত্রবাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানিদের হটাতে কামানের ব্যবহার শুরু হয়। পরদিন ১২ ডিসেম্বর মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর যৌথ দলের আরও একটি বহর সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকা থেকে সাতক্ষীরা, চুকনগর, কেশবপুর, মনিরামপুর, রাজারহাট, নওয়াপাড়া হয়ে পিপরাইল এলাকায় যোগ দেয়। আর একটি অংশ চুকনগর, খর্নিয়া, শাহপুর, দৌলতপুর সড়ক ধরে এগোতে থাকে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা আক্রমণের জেরে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এখানে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের ১২ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।

১৩ ডিসেম্বর অপরাহেপ্ত মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর ৩০-৩৫টি গাড়ির বহর নিয়ে এক বিরাট বাহিনী মেজর গণি ও মেজর মহেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে যশোর রোড হয়ে পিপরাইলের প্রথম বাধা পরাস্ত করে শিরোমনির দিকে এগোতে থাকে। তাদের ধারণা ছিল, পাকিস্তানি সেনারা খুলনা শহরের দিকে চলে গেছে। কিন্তু তাদের তথ্য ভুল ছিল। পাকিস্তানি সেনাদের আচমকা এ আক্রমণে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর এ বহর কার্যত কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। এই আক্রমণে ২৫০ থেকে ৩০০ জনের মতো ভারতীয় সেনার মৃত্যু হয়। এ লড়াইয়ে বেয়নেট যুদ্ধ এবং হাতাহাতি লড়াইও চলে।

১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর এই দু'দিন এখানে ছিল শুধু বিস্ম্ফোরণের শব্দ। কামানের গোলা, মেশিনগানের গুলি, বিমান থেকে বোমাবর্ষণ প্রভৃতিতে গোটা এলাকা ছিল প্রকম্পিত। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় হানাদার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আত্মসমর্পণ করলেও খুলনায় তারা আত্মসমর্পণে রাজি হয়নি। ১৬ ডিসেম্বর রাতে মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর সম্মিলিত দল পাকিস্তানি সেনাদের সর্বশেষ অবস্থানগুলোর ওপর আবারও গোলাবর্ষণ শুরু করে। অবশেষে পাকিস্তানি সেনারা আত্মসমর্পণে রাজি হয়। ১৭ ডিসেম্বর সকালে তারা শিরোমনি নসু খানের ইটভাটার কাছে মিত্রবাহিনী-মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। খুলনা মুক্ত হয় একদিন পর, অর্থাৎ ১৭ ডিসেম্বর।

১৭ ডিসেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের পর সার্কিট হাউস মাঠে লিখিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মিত্রবাহিনীর মেজর জেনারেল দলবীর সিং, ৮ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর মঞ্জুর ও ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার হায়াত খানের বেল্ট ও ব্যাজ খুলে নিয়ে আত্মসমর্পণের প্রমাণাদিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। া

পরবর্তী খবর পড়ুন : মুনীর চৌধুরী

ভারতের শ্বাস রুদ্ধ করে ’টাই’ আফগানদের

ভারতের শ্বাস রুদ্ধ করে ’টাই’ আফগানদের

ভারত 'বধ' করেই ফেলেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত টাই ...

পল্টন-সোহরাওয়ার্দী কোনোটাই পাচ্ছে না বিএনপি

পল্টন-সোহরাওয়ার্দী কোনোটাই পাচ্ছে না বিএনপি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথমে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ওইদিন ...

শীর্ষ চার রুশ ব্লগার বাংলাদেশে

শীর্ষ চার রুশ ব্লগার বাংলাদেশে

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে রাশিয়ার জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং দ্বিপক্ষীয় ...

ভূমিহীনের জন্য বরাদ্দ জমিতে বড়লোকের পুকুর

ভূমিহীনের জন্য বরাদ্দ জমিতে বড়লোকের পুকুর

মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে তা বিক্রি করে সংসার চলতো ভূমিহীন ...

জাতীয় ঐক্যকে চাপে রাখবে আ'লীগ ও ১৪ দলীয় জোট

জাতীয় ঐক্যকে চাপে রাখবে আ'লীগ ও ১৪ দলীয় জোট

শুরুতে স্বাগত জানালেও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন এবং সরকারবিরোধীদের নিয়ে ...

জিততেই হবে আজ

জিততেই হবে আজ

অতীতের ভুল তারা কখনোই স্বীকার করে না। মানতে চায় না ...

প্রশাসনে নির্বাচনী রদবদল

প্রশাসনে নির্বাচনী রদবদল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ...

বিএনপির সমাবেশের পর ঐক্যের লিয়াজো কমিটি

বিএনপির সমাবেশের পর ঐক্যের লিয়াজো কমিটি

আগামী শনিবার বিএনপির সমাবেশের পর 'বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের' লিয়াজো কমিটি ...