মুনীর চৌধুরী

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

ছাত্রাবস্থাতেই এক অঙ্কের নাটক 'রাজার জন্মদিনে' লিখেছিলেন, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ মঞ্চস্থ করেছিল। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যে প্রথম ছাত্রসভা হয়, তাতে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী। তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের ধাক্কা

খেয়ে পড়ে যান...

মুনীর চৌধুরী। পুরো নাম আবু নয়ীম মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী- ছিলেন বাংলাদেশের অসামান্য প্রতিভাধর একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক, ভাষাবিজ্ঞানী। তার সৃজনশীল ও মননধর্মী সাহিত্য নির্মাণ এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিল্পমানস গঠনে সক্রিয় ছিল পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থ-সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও বৈশ্বিক স্তরবহুল ঘটনাপ্রবাহ। সমকাল, ইতিহাস, ঐতিহ্য, পুরাণ ও মিথাশ্রয়ী জীবন ভাবনা তাকে করেছে অসাম্প্রদায়িক, উদার, মানবিক ও বস্তুবাদী শিল্পস্রষ্টা। তীক্ষষ্ট মননের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সূক্ষ্ণ রসবোধ, যা তার সাহিত্যকর্মকে করেছে প্রাণবন্ত ও ভিন্নমাত্রিক। তিনি এদেশের আধুনিক নাট্যকার, সফল অনুবাদক, বিজ্ঞ গবেষক, প্রাবন্ধিক ও নিপুণ গল্পকার। তবে শেষোক্ত পরিচয়কে খানিকটা আড়াল করে অধিক সমুজ্জ্বল হয়েছে তার নাট্যচর্চা সম্পর্কিত কার্যক্রম। তিনি একই সঙ্গে নাট্যকার, অভিনেতা, নাট্য নির্দেশক ও নাট্য সংগঠক।

ছাত্রাবস্থাতেই এক অঙ্কের নাটক 'রাজার জন্মদিনে' লিখেছিলেন, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ মঞ্চস্থ করেছিল। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যে প্রথম ছাত্রসভা হয়, তাতে বক্তৃতা দিয়েছিলেন মুনীর চৌধুরী। তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে গিয়ে পুলিশের ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। ২৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষকদের প্রতিবাদ সভা আহ্বান করতে গিয়ে গ্রেফতার হন ও তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ সময় প্রায় দুই বছর তিনি দিনাজপুর ও ঢাকা জেলে বন্দি জীবনযাপন করেন। তিনি কারাগারের যে কক্ষে বন্দি ছিলেন সেখানে অন্য রাজবন্দিদের মধ্যে ছিলেন মোজাফ্‌ফর আহমদ, অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, অজিত গুহ, মওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান। অন্য কক্ষে ছিলেন রণেশ দাশগুপ্তসহ ষাট-সত্তর জন কমিউনিস্ট নেতা। আর তাদের মাঝে বসেই তিনি নিজেকে করে তোলেন আরও সাহসী ও সংগ্রামী।

বন্দি অবস্থায় ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দিদের অভিনয়ের জন্য লেখেন 'কবর' নামের বিখ্যাত নাটক। এটি তার শ্রেষ্ঠ নাটক হিসেবে খ্যাত এবং এর প্রথম মঞ্চায়ন হয় জেলখানার অভ্যন্তরে, যাতে কারাবন্দিরাই বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

'কবর' ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত। ১৯৫৩ সালের ১৭ জানুয়ারি নাটকটি রচিত হয়; তখন তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দি। জানা যায়, আরেক রাজবন্দী রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীর কাছে চিঠি লিখেছিলেন জেলখানায় মঞ্চস্থ করা যায় এমন একটি নাটক লিখে দেওয়ার জন্য। যেখানে দেশপ্রেম থাকবে, এক আলো-আঁধারের পরিবেশ থাকবে এবং নারী চরিত্র এমনভাবে থাকবে, যাতে পুরুষ অভিনয় করতে পারে। মুনীর চৌধুরী রণেশ দাশগুপ্তের অনুরোধ মাথায় রেখেই 'কবর' নাটিকাটি রচনা করেছিলেন। তিনি তার স্মৃতিচারণে বলেছেন, 'জেলখানাতে নাটক রচনার অসুবিধা অবশ্যই ছিল। এ অসুবিধাটুকু সামনে ছিল বলেই তো 'কবর' নাটকটির আঙ্গিকে নতুনত্ব আনতে হয়েছে। আট-দশটি হারিকেন দিয়ে সাজাতে হবে, সে কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই 'কবর' নাটকটিতে আলো-আঁধারি রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।' নাটকটি সর্বপ্রথম ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জেলখানাতে মঞ্চস্থ হয়েছিল।

আরেক সঙ্গী কারাবন্দি অধ্যাপক অজিত গুহের কাছ থেকে তিনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পাঠ গ্রহণ করেন। কারাগারে থেকেই ১৯৫৩ সালে বাংলায় প্রাথমিক এমএ পরীক্ষা দিয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির অস্থায়ী প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরের বছর যোগ দেন বাংলা বিভাগে। ১৯৫৬ সালের শেষদিকে রকফেলার বৃত্তি নিয়ে তিনি যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৯৫৮ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাষাতত্ত্বে আরও একটি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। সে বছর সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন।

মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কি-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যেটি আজও মুনীর অপ্‌টিমা নামে পরিচিত।

তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য নাটক। রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। তার অনুবাদ নাটকগুলোর মধ্যে জর্জ বার্নার্ড শ-র ণড়ঁ হবাবৎ পধহ :বষষ-এর বাংলা অনুবাদ 'কেউ কিছু বলতে পারে না', জন গলজ্‌ওয়র্দি-র ঞযব ঝরষাবৎ ইড়ী থেকে বাংলা 'রূপার কৌটা', উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়রের ঞধসরহম ড়ভ :যব ঝযৎব-িএর বাংলা 'মুখরা রমণী বশীকরণ'।

প্রবন্ধ গ্রন্- 'ড্রাইডেন ও ডি.এল. রায়', 'মীর মানস'; সৈয়দ শামসুল হক ও রফিকুল ইসলামের সাথে একত্রে 'রণাঙ্গন', 'বাংলা গদ্যরীতি'।

মুনীর চৌধুরী ১৯৭১ সালের মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসার কিছুকাল পরই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তার কিশোর ছেলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চলে যায়। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আদেশে মে-জুন মাসে ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে এবং জুলাই মাস থেকে কলা অনুষদের ডিন হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুনীর চৌধুরীকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী আলবদর বাহিনী তার বাবার বাড়ি থেকে অপহরণ করে ও সম্ভবত ওই দিনই তাকে হত্যা করে।

মুনীর চৌধুরী বলেছিলেন, আমরা সেই নাটক চাই, যে নাটক আমাদের নাড়াতে পারে, বাড়াতে পারে। আজ শহিদ মুনীর চৌধুরী আমাদের মাঝে নেই; আছে তার অবিনাশী নাট্যকর্ম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার নাট্যকর্মকে লালন করে নিজেদের বিকশিত করতে সমর্থ হবে। া
ভরসার প্রতীক সেই নৌকা-ধানের শীষ

ভরসার প্রতীক সেই নৌকা-ধানের শীষ

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নিজের প্রতীক ছেড়ে আওয়ামী লীগের নৌকা ...

রংপুর বিভাগের ১১ আসনে আ'লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

রংপুর বিভাগের ১১ আসনে আ'লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ...

চট্টগ্রামে জাপা শরিকদের স্বপ্নভঙ্গ

চট্টগ্রামে জাপা শরিকদের স্বপ্নভঙ্গ

বিএনপি ভোটে না এলে ১০০ আসন ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ- ...

ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নতুন নয়। বিশেষত উপমহাদেশে এই ...

সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো

সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো

'সঙ্গীতের আলাদা কোনো ভাষা নেই। কোনো মানচিত্রের মধ্যেও একে বন্দি ...

কুলাউড়ার সাবেক তিন এমপির ডিগবাজি

কুলাউড়ার সাবেক তিন এমপির ডিগবাজি

নির্বাচন দুয়ারে। মনোনয়ন নিশ্চিতে চলছে দল ও জোট বদলের মৌসুম। ...

হৃদয় ছুঁয়েছে 'হাসিনা :অ্যা ডটার'স টেল'

হৃদয় ছুঁয়েছে 'হাসিনা :অ্যা ডটার'স টেল'

কেউ রাজনীতি পছন্দ করুক, আর না করুক- 'হাসিনা :অ্যা ডটার'স ...

ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া গ্রেফতার করবে না পুলিশ: মনিরুল

ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া গ্রেফতার করবে না পুলিশ: মনিরুল

ফৌজদারি অপরাধে জড়িত না হলে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউকে পুলিশ ...