রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

পথ তৈরি হয়ে আছে

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

পৃথিবীতে চেহারায় মানুষের মধ্যে সাদা-কালো ব্যবধান থাকলেও সব মানুষের ভেতরের রঙ এক ও অভিন্ন। তবুও মানুষ জাতি-গোত্র-বর্ণভেদ, বংশকৌলীন্য ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের মানুষ পরিচয়টি সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করে ফেলে। কিন্তু সারাবিশ্বের সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক, সেই বিচারে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে মানুষ। তাই দেশে দেশে মানুষে মানুষে ধর্ম ও বর্ণের পার্ধক্য ও বিভেদ করা ঠিক নয়। সৃষ্টিতত্ত্বে মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য নেই। পৃথিবীর যে কোনো দেশের অধিবাসী হোক, মানুষের একমাত্র পরিচয়- সে মানুষ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে লিখেছেন- 'আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিষ্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।' পৃথিবী, এই বিশ্ব- সবকিছু মানুষের জন্য। গ্রহ-নক্ষত্র সবকিছু। ধর্ম, রাজনীতি, সমাজ, বিজ্ঞান, প্রেম-ভালোবাসা- সবই মানুষের জন্য। আর সব মানুষই সৃষ্টি হয়েছে শান্তির জন্য। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যে মানুষ শান্তি চায়, সেই মানুষই কিন্তু শান্তি রক্ষা করে না। মানুষের উপলব্ধি ও শ্রদ্ধাবোধ খুব কম। 'সবার উপরে মানুষ সত্য'- এটিই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মূল মন্ত্র। কিন্তু এখন মানুষ এই সত্যকে ভুলে কৃত্রিম জাতি ও ঘৃণ্য জাতিভেদ তৈরি করেছে, যা মোটেও কাম্য নয়। মানুষের ব্যক্তিগত থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একান্ত জরুরি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে সমাজ, রাষ্ট্র ও দেশের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। কাজেই জাতীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অপরিহার্য।

বাংলাদেশে আজ জাত-ধর্ম নিয়ে চলছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা; মানুষে মানুষে সৃষ্টি করছে বিভেদ। আর এখন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও নিপীড়ন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যতটুকু প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ দরকার, তা ঠিক গড়ে উঠছে না। অথচ আমাদের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হওয়ার সম্ভাবনা এখনও অপার। জাতিগতভাবে আমাদের ভেতরে যে অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা, তা এখনও আমাদের সত্তায় জেগে আছে; হারিয়ে যায়নি।

বাঙালি যে অসাম্প্রদায়িক- এই সত্য উপলব্ধি হয় পহেলা বৈশাখের উৎসবে। শুধু পহেলা বৈশাখই নয়; আমাদের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবসে শুধু ঢাকা শহরে নয়; সারাদেশের মানুষ ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এই দিনগুলোতে নারী-পুরষ-শিশুদের উৎসবের রঙে মেতে ওঠার উচ্ছ্বাস মনে করিয়ে দেয়- আমরা সবাই সমান। তারপরও কোনো এক কারণে আমরা সমান হতে পারি না। বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন- 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম; এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এখনও চলছে। বাঁচার জন্য আমরা সংগ্রাম করছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য এখনও আমাদের সংগ্রাম চলছে।

আমরা এখন আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির চেয়ে আরোপিত সংস্কৃতি নিয়ে বেশি মাতামাতি করছি। আমরা আমাদের শিকড়কে দিন দিন ভুলে যাচ্ছি, যা মোটেও ঠিক নয়। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পাড়া-মহল্লায় নানা সংগঠন ছিল। প্রায়ই সেখানে নানান আয়োজন হতো। কিন্তু এখনকার ছেলেমেয়েরা এর কিছুই পাচ্ছে না। তাদের খেলতে হয় মোবাইল ফোনে। সে কারণে তারা মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ পাচ্ছে না। সমাজের নানান আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারছে না।

বাঙালিরা না খেয়ে বাঁচতে পারে, কিন্তু গান না শুনে থাকতে পারে না! এ দেশের মানুষ এতটাই গানপাগল। এ দেশের ভাণ্ডারে হরেক রকম গান আছে। ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি, সারি, মুর্শিদি, ভাণ্ডারি, লালনগীতিসহ অসংখ্য ধারার গান। ফকির লালন সাঁই, হাছন রাজা, রাধারমণ, আবদুল আলীম, আব্বাসউদ্দীন, দুরবীন শাহ, আরকুম শাহ, শাহ আবদুল করিম আমাদের সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। গান গাওয়া এখন সম্মানজনক একটি পেশা। অভিভাবকরাও তাদের ছেলেমেয়েদের গানের প্রতি উৎসাহ দিচ্ছেন। কিন্তু এখন যুগটাই কেমন যেন অস্থির। আগে গানগুলো কালোত্তীর্ণ হয়ে যেত। এখন আমরা সে ধরনের গান পাচ্ছি না। সেখানে আমাদেরও দুর্বলতা আছে। যারা মিউজিশিয়ান, তাদের দুর্বলতা আছে। হয়তো আমরা ভালো কিছু দিতে পারছি না। আমি শ্রোতাদের দোষ দিচ্ছি না। তাদেরও কিন্তু চাওয়া-পাওয়া আছে। আমরা সেটা দিতে পারছি না। তবে আমি আশাবাদী, ইন্ডাস্ট্রিতে আবার সুদিন আসবে। আমাদের অনেক মেধাবী মিউজিশিয়ান আছেন। এখানেই রবীন্দ্রনাথের মতো বলতে হয়-

'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,

জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর...

আমাদের তরুণরা সব নিয়ম ভেঙে নতুন নিয়ম গড়বে- এটাই স্বাভাবিক। আজও স্বপ্ন দেখি, যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, সেই স্বপ্ন একদিন পূরণ হবেই। সে জন্য আমাদের সবাইকে সামনের দিকে তাকাতে হবে। সামনে তাকানোর বিকল্প আমাদের নেই। কিন্তু এ জন্য পেছনটাকে ভুললে চলবে না। আগামীর সম্ভাবনার দিকে আমাদের যেতে হবে। এই সামনের যাত্রাটা হবে ভিন্ন; অনেক চ্যালেঞ্জের কিন্তু অনিশ্চিতির নয়। কারণ অনেক খণ্ড খণ্ড অন্ধকার আর অনিশ্চয়তা কাটিয়েই কিন্তু ভোরের লাল সূর্যটা ওঠে। আর সম্ভাবনার পথ তৈরি হয়ে আছে।

লেখক



সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব
ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ জানুয়ারি

ব্যারিস্টার মইনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ১০ জানুয়ারি

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১০ জানুয়ারি ...

প্রথম ইনিংস বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংস বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন মুমিনুল হক। ...

পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব: ইসি সচিব

পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব: ইসি সচিব

পুলিশ বাহিনীর আন্তরিক প্রচেষ্ঠা থাকলে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান ...

বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের কারাগারে

বিএনপি নেতা গিয়াস কাদের কারাগারে

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ ...

'রবিন হুড' ঢাকায়

'রবিন হুড' ঢাকায়

‘রবিন হুড’ রূপকথার এক নায়ক। বীর হিসেবে তার পরিচিত বিশ্বব্যাপী। ...

যে কারণে শীতে নিয়মিত মিষ্টি আলু খাবেন

যে কারণে শীতে নিয়মিত মিষ্টি আলু খাবেন

প্রকৃতিতে শীতের আগমন অনুভূত হচ্ছে একটু একটু করে। এই সময় ...

ট্যানারি শিল্পাঞ্চল হবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে: প্রধানমন্ত্রী

ট্যানারি শিল্পাঞ্চল হবে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার পুনরায় নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম ...

ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে যা করণীয়

ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে যা করণীয়

প্রত্যেকের শরীরেই নির্দিষ্ট পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড থাকে ।যদি কিডনি থেকে ...