জামিলুর রেজা চৌধুরী

তথ্যপ্রযুক্তির পথরেখা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

একসময় যা ছিল অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তি-কম্পিউটিং, ইলেকট্রনিক টাইপরাইটার, যোগাযোগের মাধ্যম, অডিও, ভিডিও- এসব কিছুই এখন কম্পিউটার প্রযুক্তির কল্যাণে এক যন্ত্রের মধ্যে চলে এসেছে। বিশালাকার কম্পিউটার যন্ত্র এখন চলে এসেছে আমাদের হাতের মুঠোয়। এখন আর আলাদা বিল্ডিং বা রুমের দরকার নেই। টেবিলের এক কোনাতে রেখেই এই যন্ত্রের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ রাখতে পারছি পৃথিবীর নানা প্রান্তে। এর ব্যবহারের মাধ্যমে জীবন যেমনটা স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে উঠছে; একই সঙ্গে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা। এই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বদৌলতেই আজ লাসভেগাসের ভিন দেশিরাও বাংলাদেশকে চেনে। না, ত্রাণ গ্রহীতা বা যে দেশের মানুষ শ্রম বেচতে সাগর পাড়ি দেয় সে হিসেবে নয়। অনেকেই এখন বাংলাদেশকে চেনে আউটসোর্সিংয়ের দেশ হিসেবে। অনেককে আবার এটাও বলতে শুনেছি, ওহ্‌ যেই দেশের ছেলেরা সফটওয়্যার লেখে!

স্বাধীনতা অর্জনের বিলম্বে হলেও আমরা কিন্তু এখন একটি অনন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পেরেছি। আর তা হচ্ছে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'। ২০২১ সালের মধ্যে মেধা-নির্ভর সমাজ বিনির্মাণের মাধ্যমে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ে তোলার যে রূপরেখা ১৯৯৬-এর এপ্রিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল তা পরবর্তীকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' স্লোগানে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খুব ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। আজ সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রয়াসে তরুণ প্রজন্মকে এই ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত করায় আমরা কিন্তু যথেষ্ট ভালো করছি। ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকেই জন তথ্যসেবা মিলছে। জমির পরচা তুলতে এখন আর জেলা ভূমি অফিসে যেতে হচ্ছে না। শতভাগ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে কম্পিউটার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব অবশ্য রয়েছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিশ্বে বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করা দরকার। তা হলেই লক্ষ্য ছোঁয়া কঠিন হবে না।

আমার মনে পড়ছে, আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র তখন পত্রিকায় প্রকাশিত হলো, কম্পিউটার নামে একটি যন্ত্র আবিস্কৃত হয়েছে, যা খুব দ্রুত হিসাব করতে পারে। তখন থেকেই কম্পিউটারের প্রতি আমার আগ্রহ। কিন্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তখন কোনো কম্পিউটার ছিল না। ১৯৬৪ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আমি যুক্তরাজ্যে যাই। ওখানে যাওয়ার পরের দিনই ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সেন্টারে গেলাম। তখন কম্পিউটার সেন্টারগুলো ছিল বিরাট বিরাট একেকটা বিল্ডিং, বিশালাকার কম্পিউটার, সেই সাথে আনুষাঙ্গিক বহু যন্ত্রপাতি আর প্রয়োজনীয় তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। কম্পিউটার সেন্টারে গিয়ে দেখি, এটা তারা সবাইকে ব্যবহার করতে দেয় না। যদিও আমার পড়াশোনা আর গবেষণার মূল বিষয় ছিল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, তবু রেজিস্ট্রেশন করে কয়েকদিনের মধ্যেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শিখলাম। সেও আজ থেকে প্রায় ৪৭ বছর আগের কথা।

১৯৬৮ সালে দেশে ফিরে আমি যোগ দিই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রভাষক হিসেবে। ততদিনে দেশে কয়েকটি কম্পিউটার এসেছে। ঢাকায় প্রথম কম্পিউটারটি আসে ১৯৬৪ সালে, পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে। এটা ছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার। তখনকার সময়ে এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত গতির কম্পিউটার ছিল। এরপর একটি ব্যাংকসহ দুটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দেশে কম্পিউটার আনে। ষাটের দশক থেকেই গ্যাস ও পানির বিল তৈরি হতো এই কম্পিউটারেই। কিন্তু বুয়েটে তখনও কম্পিউটারের কোনো কোর্স ছিল না। ফলে ছাত্রছাত্রীদের কম্পিউটার সম্বন্ধে ধারণা দেওয়ার জন্য প্রায়ই তাদের নিয়ে পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে যেতাম। এটা ছিল ছাত্র-শিক্ষকদের গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বললাম, এখন থেকে কম্পিউটার পড়াতে হবে। '৭১ সালে ব্যুরো অব স্ট্যাটেস্টিক ও বুয়েটে আইবিএম মেইন ফ্রেম কম্পিউটার কেনা হয়। এরপরই বুয়েটে প্রোগ্রামিং শেখানো শুরু হলো।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে দেশে আনা মেইন ফ্রেম কম্পিউটারগুলো রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইবিএম এবং ব্রিটিশ কোম্পানি আইসিএল যুদ্ধের সময় দেশ ছেড়ে চলে যায়। স্বাধীনতা পর '৭২ সালের শেষ দিকে আইবিএম আবার ফিরে আসে। অন্যগুলো আর ফিরে আসেনি। ততোদিনে মিনি কম্পিউটার দেশে আসতে শুরু করে। কিন্তু এটা ছিল খুবই ধীরগতির। টাকা-পয়সার অভাবে আমরা '৬৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় কম্পিউটার যুগ শুরুর যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম তা ওই সময়ে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আশির দশকের মাঝিমাঝি ডেস্কটপ কম্পিউটার আসে। এটার দামও ছিল বেশি। তখন দেশে চলছিল সামরিক শাসন। কম্পিউটার কিনতে গেলেও সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। ন্যাশনাল কম্পিউটার কমিটি ছিল যাদের কাছে কেন এই কম্পিউটার কেনা হবে সে বিষয়ে জবাবদিহি করতে হতো। ফলে ওই সময় অনেকেই ভয়েই কম্পিউটার কিনতে যেত না। আমি আসলে এসব কথা বললাম, তথ্যপ্রযুক্তিতে এই দেশটা কীভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে সেটি বোঝাতে।

বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি যখন খুব দ্রুত এগিয়ে চলছিল, তখন নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে আসে ইন্টারনেট। আমরাও তখন এই ইন্টারনেট কীভাবে আনা যায় তা নিয়ে উদ্যোগ নিলাম। কিন্তু খুব একটা এগোনো যাচ্ছিল না। তখন টিঅ্যান্ডটি বোর্ড 'দেশের তথ্য বিদেশে চলে যাবে' বলায় আমরা বিনা পয়সার সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হতে পারলাম না। ততদিনে সফটওয়্যার রফতানি শুরু হয়ে যায়। ভারত কিছু কিছু কাজ শুরু করে। আমাদের কিছু প্রতিষ্ঠান ডেটা এন্ট্রির কাজ শুরু করে। ফ্লপি ডিস্কে করে তা ক্লায়েন্টকে পাঠাত। কিন্তু এটাও সরকার দিচ্ছিল না। ইন্টারনেটের সংযোগ নেই, ডাটা অ্যান্ট্রিরও সুযোগ হারাচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে ১৯৯৬-এর এপ্রিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে আমরা যখন শপথ নিলাম, তখন একটাই চিন্তা ছিল- প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথে বাধাগুলো কীভাবে অতিক্রম করা যায়। যদিও আমি টেলিকম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম না। তখন শপথ নেওয়ার আগেই উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূস মিলে ঠিক করলাম তিন মাসে কী কী করা যায়। শুরুতেই টিঅ্যান্ডটি বোর্ডের আপত্তি; ভিস্যাট প্রতিবন্ধকতা দূর করার সিদ্ধান্ত নিলাম। মঞ্জুর এলাহী সাহেব সফল হলেন। যার ফলে ১৯৯৬-এর ৬ জুন 'বাংলানেট'-এর মাধ্যমে আমরা প্রথম সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ পাই। এর আগে দুটি প্রতিষ্ঠান অনেকটা অফলাইনে ইন্টারনেট সেবা দিত। তখন ই-মেইল করতে হলে টিঅ্যান্ডটির মডেমের মাধ্যমে ওদের সার্ভারে গিয়ে করতে হতো। দিনে এক-দুইবার স্যাটেলাইট যখন বাংলাদেশের আকাশসীমায় আসত তখন আপলোড করে দিতে হতো। দৃক ও প্রদেষ্টা এই সেবা দিত। বেসরকারি আইএসপিদের আগে প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো এবং এর সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। ওই সময় আমার এক লেকচারে আমি তৎকালীন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সামনে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরি। সফটওয়্যার রফতানি, আইটি এনাবেল সার্ভিসেস বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করি। ততোদিনে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর সিলিকন ভ্যালির পথে হাঁটতে শুরু করেছে। মন্ত্রী তখন জানতে চাইলেন কী করা দরকার। আমাকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হলো টাস্কফোর্স কমিটি। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, বুয়েট, কম্পিউটার সোসাইটি, এফবিসিসি মিলে আমরা তিন মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দিই। প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট ৪৫টি সুপারিশ দেওয়া হয়। এর প্রথম সুপারিশ ছিল কম্পিউটারকে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে। সে সময়ে আমদানি শুল্ক্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর মিলে শতকরা ১০০ ভাগ খরচ হতো কম্পিউটার কিনতে। কম্পিউটারকে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে শুল্ক্ক ও কর অব্যাহতি চাওয়া হয়। তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত এসএম কিবরিয়া। তাকে বোঝাতে বেশ সময় লেগে যায়। সফটওয়্যার যেহেতু ডাউনলোড করা যায়, এটা কন্ট্রোল করা সম্ভব নয় এমন যুক্তিতে তিনি কিছুটা বুঝতে পারেন। অবশেষে ১৯৯৮ সালে এসআরওতে সফটওয়্যার থেকে শুল্ক্ক রেয়াত দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর হার্ডওয়্যার খাত থেকে ওই সময় মাত্র ৩৪ কোটি টাকা কর এসেছে আর এটা কয়েক বছর ছাড় দিলে ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও বাড়বে। একপর্যায়ে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকে ১৯৯৮-৯৯ বাজেটে কম্পিউটার আমদানির ওপর শুল্ক্ক প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়। শহরে কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের ভিড় বাড়ল। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ছিল ভারতীয়। এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি পাওয়া যাবে, আমেরিকান ভিসাপ্রাপ্তিতে সহায়ক হবে এমন নানা প্রচারণায় ওই সময় কিছু তরুণ অবশ্য বিভ্রান্ত হয়েছে। তবে দেশজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিল। বিশ্ববিদ্যায়গুলোতে প্রযুক্তি বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ল। কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দিল। ২০০৪-০৫ সালে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে পড়ার উৎসাহে ভাট পড়ে। এর আগে ২০০০ সালে তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হয়। ২০০১ সালে আমরা মন্ত্রিসভা এটি অনুমোদন দিই। কিন্তু কিছু সংশোধনী দেওয়া হয়। এ সময় বিএনপি সরকার এসে সেটি চালু করে। এরপর ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগের নীতিমালা বাস্তবায়নসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের জন্য আবার আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তখন প্রযুক্তির পরিবর্তনের নিরিখে আগের নীতি বাদ দিয়ে নতুন করে নীতিমালা তৈরি করা হয়। তখন ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তিকে মূল চালিকাশক্তি ধরা হয়। সেখানে আমরা দেশে নলেজবেসড সোসাইটি গড়ে তুলে ২০৩১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার জন্য একটি নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। ২০০৮ সালে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ৩০৮টি স্বাতন্ত্র্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়। বৈঠকে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নীতিমালাটি অনুমোদনের বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেয়। সে সময় ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ইশতেহারে এই পরিকল্পনার আদলে টার্গেটভিত্তিক 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' রূপকল্প ঘোষণা করে। এরপর থেকেই এই নীতিমালার আলোকে কম্পিউটার প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে এমন বেশকিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমাদের হয়েছে।

অবশ্য জনসচেতনতার অভাবে শুরুতেই হোঁচট খেতে হয়েছে। ফলে সামার টাইম ঘোষণা করার সময় আমাদের অনেকেই এটাকে 'ডিজিটাল টাইম' বলে ভর্ৎসনা করা হয়। তবে তা সরকারের নানা উদ্যোগে তার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন ঘরে বসে কাজ আর আয়ের সুযোগ অনেক বেড়ে গেছে। যার মধ্যে একটি হলো আউটসোর্সিং। এর মাধ্যমে বিশ্বের অনেক দেশের আগেই রয়েছে ঢাকার নাম। আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের যে, আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। আশা করা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা হয়তো প্রথম অবস্থানে পৌঁছে যেতে পারব। এই অবস্থানটা কিন্তু তৈরি করেছে দেশের তরুণ জনশক্তি। তরুণরা সবসময় অদম্য, তারা দুর্গম পথেরও শেষ দেখতে চায়। তাদের এই শক্তিটাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অনেক সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। ভারতের ব্যাঙ্গালুরুকে বলা হয় আইসিটির 'ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড'। কিন্তু আউটসোর্সিংয়ে ব্যাঙ্গালুরুর অবস্থান এখন চতুর্থ। বিশ্বজুড়ে বড় বড় কোম্পানি যারা বিভিন্ন জায়গায় এসব কাজ জোগাড় করে দেয়, তাদেরই র‌্যাংকিং এটি। আর আউটসোর্সিংয়ের এ কাজটি গ্রামে বা শহরে যে কোনো স্থানে বসেই করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং, এলআইসিটির মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি যা প্রয়োজন তা হলো, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সরকারের ভেতরে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। স্কুল পর্যায়ে প্রযুক্তি সপ্তাহ পালন করা দরকার। মোবাইল টেলিকমের মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লেও এখনও পরিপূর্ণ থ্রিজি সেবা পাচ্ছি না। ফলে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে হবে। সরকারি দপ্তরগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। অনেক মন্ত্রণালয়েই এখনও কম্পিউটারে চিঠি তৈরি করা হলে তা প্রিন্ট করে পিওন দিয়ে ডেলিভারি দেওয়া হয়। জাতীয় কানেক্টিভিটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দেওয়া হলেও দেখা যায় তা শিক্ষকই বোঝেননি। অনেক ক্ষেত্রেই অধ্যয়নে মনোযোগের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আবার প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও ডিজিটাল বাংলাদেশের এই ধারায় সংযুক্ত করতে হবে। তাহলে আমরা দেশের বাইরে থেকে আরও বেশি কাজ পাবো। এ ক্ষেত্রে দেশি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিপর্যায়ে যারা আউটসোর্সিং করছেন তাদের আরও পেশাদার করে তুলতে হবে। যা না পড়ে তা আগেভাগেই বলে দিতে হবে। তা না হলে দেশের ভাবমর্যাদায় নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে। সর্বোপরি বিশ্ব দরবারে বিশেষ করে আমেরিকা, ইউরোপ, বাংলাদেশকে মার্কেটিং করার সময় এসেছে। বাংলাদেশকে এখন ব্র্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, এটি বিশ্ববাসীকে জানানো জরুরি প্রয়োজন। তা না হলে বাংলাদেশ বলতে বোঝাবে যারা নৌকায় করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে।

লেখক



প্রাবন্ধিক

শিক্ষাবিদ

পরবর্তী খবর পড়ুন : সংবাদ সংক্ষেপ

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে মহাসংকটে ...

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চলকে শহরের সুবিধায় আনতে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ...

প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে না

প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে না

বহুল প্রতীক্ষিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে না। ...

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ঘাতক ব্যাধি ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ...

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

'লোকগানের কথায় রয়েছে জীবনের দিকনির্দেশনা। এর ঐন্দ্রজালিক সুর অদ্ভুত এক ...

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দক্ষ রাজমিস্ত্রি হিসেবেই মিরপুর, ভাসানটেক ও কাফরুল এলাকার মানুষজন চিনতেন ...

নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন: সচিব

নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন: সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি নিয়ে নির্বাচন ...

ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা আ. লীগের

ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা আ. লীগের

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও পেছানোর বিরোধিতা করেছে আওয়ামী ...