সৌদি আরবে নিহত মজিদের বাবার আকুতি

'আমার ছেলের লাশটা এনে দাও'

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০১৮      

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সৌদি আরবের রিয়াদে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্টেম্ফারণের ঘটনায় নিহত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব এলাকার আবদুল মজিদের বাবা আওলাদ হোসেনের আকুতি- 'বাবা, তোমরা আমার মজিদের লাশটা এনে দাও।' মা জেবুন্নেছাও বারবার একই কথা বলে আহাজারি করছেন। সোমবার দুপুরে নিহত মজিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মজিদের মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে বিরাব এলাকার আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। মজিদের লাশের অপেক্ষা তার বাড়িতে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা করেছে। পরিবারের সদস্যরা প্রহর গুনছেন কখন মজিদের লাশ আসবে? মজিদের লাশ ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বাবা আওলাদ হোসেনসহ পরিবারের লোকজন।

আওলাদ হোসেন অভিযোগ করে জানান, জীবিকার তাগিদে রাজধানীর গুলশান এলাকার কুকিল ট্রাভেলসের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের রিয়াদে যায় ছেলে আবদুল মজিদ। ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে ৩ মাস আগে গেলেও কাজ পায় মাত্র ১২ দিন আগে। দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকেই ছেলের লাশটি আনার জন্য কুকিল ট্রাভেলসের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করে আসছেন। ট্রাভেলস কর্তৃপক্ষ কোনো সময় দিচ্ছে না, কবে লাশটি দেশে আসবে তাও জানেন না তারা। অসহায় পরিবারটি এখন ট্রাভেলস এজেন্সির দিকে তাকিয়ে আছে, লাশের অপেক্ষায়।

কুকিল ট্রাভেলসের কর্মকর্তা তুহিন মিয়া জানান, তারা কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হচ্ছে। লাশ শিগগিরই আনা হবে বলে আশা করছেন তারা।

জানা গেছে, কাঞ্চন পৌরসভার বিরাব লালটেক গ্রামের আওলাদ হোসেনের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে মেজো ছেলে আবদুল মজিদ খান। সাত বছর আগে পার্শ্ববর্তী শিমুলিয়া এলাকার গোলজার ভূঁইয়ার মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে আমেনা আক্তার নামে ৬ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে স্থানীয় বিরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিজের ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। একটি ছোট টিনের ঘরে পরিবার নিয়ে অভাব-অনটনের মধ্যে বসবাস করতেন আবদুল মজিদ। বিয়ের পর সংসার চালাতে স্থানীয় ইটভাটায় কাজ করতেন মজিদ। পরিবার ও নিজেকে সচ্ছল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আত্মীয়স্বজন, এনজিও এবং প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সুদের ওপর ছয় লাখ টাকা ঋণ করে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পার্শ্ববর্তী পলাশ থানার ডাঙ্গা কেন্দুয়াব এলাকার তুহিনের মাধ্যমে পাড়ি জমান সৌদি আরবের রিয়াদে। সেখানে প্রায় তিন মাস কোনো কাজ পাননি আবদুল মজিদ। রিয়াদের আল নূরা ইউনির্ভাসিটি আবাসিক এলাকায় ভবনের একটি রুমে ৭-৮ জনের সঙ্গে থাকতেন তিনি। দেশ থেকে টাকা পাঠালে পেটে খাবার জুটত তার। একপর্যায়ে ১২ দিন আগে সেখানকার ইউনিভার্সিটিতে ক্লিনারের কাজ পান মজিদ। প্রতিদিনের মতো রাতের কাজ শেষ করে শুক্রবার সকালে অন্যদের সঙ্গে রুমে ঘুমিয়ে পড়েন আবদুল মজিদ। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্টেম্ফারণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন আবদুল মজিদ খানসহ রুমের সবাই। দুপুরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একই ভবনে থাকা রাশেদ খান আবদুল মজিদের বড় ভাই বাছেদ আলীকে তার মৃত্যুর খবর জানান।
কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...