দুর্নীতির আখড়া পাসপোর্ট অফিস

কেরানীগঞ্জে যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

মোহাম্মদ রায়হান খান, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে (যাত্রাবাড়ী) আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাসপোর্ট অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে গড়ে উঠেছে ১০-১৫টি খুপরি ঘর। এসব ঘরে বসে দালালরা লেনদেন করে থাকে। পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তা দালাল রূপে কাজ করছে। দালালদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কিছু কর্মকর্তা। উপপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বদলি হলেও তিনি এখনও কাজ করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী পরিচালক আফজাউল আলম।

গত বুধবার দুপুরে শাহ মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু দিনের মধ্যে হেড অফিসে যোগদান করব। প্রতিদিন শত শত লোকজন পাসপোর্ট করতে আসেন। কারও একটু সমস্যা হলে অভিযোগ তো দিতে পারেন। অফিসের মধ্যে কোনো দালাল নেই। অফিসের বাইরে দালাল থাকতে পারে। অফিসটি দালালমুক্ত করার জন্য অনেকের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দালালদের সঙ্গে আনসার সদস্যদের যোগাযোগ থাকতে পারে। কিছু দিন আগে দুই আনসারকে বদলি করা হয়েছে। উপপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহর সামনে প্রদীপ সরকার নামে এক ব্যক্তি আনসার সদস্য জিয়াউল হকের বিরূদ্ধে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জিয়াউল হক নামে অফিসে কোনো কর্মকর্তা নেই। পাসপোর্ট করতে আসা আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, পাসপোর্ট করতে তিন হাজার ৪৫০ টাকা লাগে। পাসপোর্ট অফিসের লোকজন দালালদের একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাসহ ৩০-৩৫ তালিকাভুক্ত দালাল রয়েছে। পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ তদন্তেও রয়েছে দুর্নীতি। ডিএসবি পুলিশ পাসপোর্ট তদন্তে গিয়ে লোকজনকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। পজেটিভ রিপোর্ট পেতে হলে তাদের দেড় থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। দালালরা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছিলেন। ওই সময় দালাল চক্রের সদস্যরা পাসপোর্ট অফিস থেকে বের হয়ে গেলে তাদের আটক করতে সক্ষম হননি দুদক কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে উপপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ ও সহকারী পরিচালক আফজাউল আলম বলেন, পাসপোর্ট অফিসের বাইরে দালাল রয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের নিয়ন্ত্রণে কোনো দালাল নেই। দালালদের মাধ্যমে আমরা কোনো অর্থ নিচ্ছি না। পাসপোর্ট অফিসটি আমরা দালালমুক্ত করতে চাই।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসটি তেঘরিয়া ইউনিয়নের ঝিলমিল আবাসন এলাকায়। সকাল ৯টা থেকে পাসপোর্ট অফিসের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে। এ সময় অফিসের কিছু কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে লাইন অমান্য করে পাসপোর্ট জমা দেন বলে অভিযোগ করেন একাধিক ভুক্তভোগী। পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে রয়েছে একাধিক খুপরি ঘর। সেখানে দেখা গেছে, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার কাগজে চেয়ারম্যানদের সত্যায়িত করা সিল। চেয়ারম্যানদের সিল বানিয়ে কাগজ সত্যায়িত করতে দেখা গেছে দালালদের। এ কারণে অনেক অপরাধী সহজেই পাসপোর্ট পাচ্ছে। এর ফলে ইউপি চেয়ারম্যানরা বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে তেঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ জজ মিয়া বলেন, পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট করতে আসা আসমা বেগম নামে এক নারী বলেন, আমি ও আমার ছেলের জন্য পাসপোর্ট করতে এসে নানা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। দালালরা বেশি হয়রানি করছে। দালালদের টাকা ছাড়াও তদন্তের জন্য পুলিশকে টাকা দিতে হচ্ছে।

মো. আলী হোসেন নামে এক গার্মেন্ট ব্যবসায়ী জানান, তিনি কেরানীগঞ্জের যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এসেছেন পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে যখন তার আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ হলো, তখন তিনি জানতে পারেন তার আবেদন সত্যায়িত করা হয়নি। দালালদের কাছে গিয়ে এক হাজার টাকার বিনিময়ে সত্যায়িত করে জমা দেওয়া হয়েছে। এ চিত্র কেরানীগঞ্জের যাত্রাবাড়ী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিত্যদিনের। পাসপোর্ট অফিসের বাইরের এসব দালালদের নেতৃত্ব দিচ্ছে তেঘরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নূরনবী হোসেন। তার নেতৃত্বে পাসপোর্ট অফিসে কাজ করে দেলোয়ার, সেতু, রাশেদ, সেলিম, রওশনসহ প্রায় ৩০-৩৫ দালাল। এ ব্যাপারে নূরনবী হোসেন বলেন, একসময় পাসপোর্ট অফিসে যেতাম। এখন আর যাই না। আমার নেতৃত্বে কোনো দালাল থাকার কথা সত্য নয়। এ ছাড়া পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে এ দালালদের নেতৃত্ব দেন অফিসের চতুর্থ তলার ৪০২ কক্ষে ডেসপাস শাখার কর্মকর্তা মো. মামুন-উর-রশীদ। অভিযোগ রয়েছে, মামুন বহিরাগত দালালদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জয় ও মনির নামে নিজস্ব দুই দালাল নিয়োগ দিয়েছে। এদিকে পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জুয়েল, সিহাব ও জিয়াউল হক দালালির সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। মামুন-উর-রশীদ বলেন, আমি অফিসের দায়িত্ব ছাড়া বাইরের কোনো কাজ করছি না। আমার নিয়ন্ত্রণে কোনো দালাল নেই।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টোবর

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টোবর

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ...

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

নারায়ণগঞ্জে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফরিদ মিয়া ওরফে ফেন্সি ফরিদ ...

টাঙ্গাইলে ড্রাম থেকে যুবকের দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে ড্রাম থেকে যুবকের দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হেলাল মিয়া (৩০) নামের এক যুবকের দ্বিখণ্ডিত লাশ ...

সালাহ-ফিরমিনোয় হার নেইমার-এমবাপ্পেদের

সালাহ-ফিরমিনোয় হার নেইমার-এমবাপ্পেদের

সালাহ-সাদিও মানে-ফিরমিনো বনাম নেইমার-এমবাপ্পে-কাভানি! কিংবা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক দুই কোচ ...

মুশফিক বিশ্রামে খেলবেন মুমিনুল

মুশফিক বিশ্রামে খেলবেন মুমিনুল

রুটি সেঁকতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত না আবার হাতটাই পুড়ে যায়- ...

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, সন্দেহ যাচ্ছে না ছাত্রনেতাদের

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, সন্দেহ যাচ্ছে না ছাত্রনেতাদের

সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশাবাদী। তবে কিছুটা সন্দেহ আর সংশয়ে আছে ক্যাম্পাসে ...

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাড়ছে গড় আয়ু

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাড়ছে গড় আয়ু

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ক্রমশই বাড়ছে। ১০ বছর আগে ২০০৮ ...

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

চলমান রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। আওয়ামী ...